ঘরেদওয়ান ও রিয়াদ উদ্দীপকের সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী দুটি চরিত্র। নিচে তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য পরিণতিসহ আলোকপাত করা হলো-
রেদওয়ান: উদ্দীপকটি পাঠ করে আমরা রেয়ানকে একজন প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত করতে পারি। কারণ সে ভালোমানের চালের সাথে খারাপ মানের চাল মিশিয়ে বিক্রি করেছে। আমরা জানি, প্রতারণা ইসলামের দৃষ্টিতে মানবতাবিরোধী অতি গর্হিত কাজ। প্রতারণা মিথ্যারই শামিল। মিথ্যা যেমন ঘৃণ্য, প্রতারণাও তেমনি ঘৃণ্য। এটি একটি সমাজদ্রোহী পাপ। এ সম্বন্দ্বে মহানবি (স.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি প্রতারণা করে, সে আমার উম্মত নয়।" ইসলাম সুস্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছে, জীবনে যা কিছু করবে তার মধ্যে ফাঁকি ও প্রতারণার স্থান নেই। ইসলাম সত্যের সাথে মিথ্যার মিশ্রণকে-কোনোমতেই সমর্থন করে না। প্রকৃতপক্ষে প্রতারণা দ্বারা অর্জিত জীবিকা হারাম। আর যে দেহ হারাম বুযি দ্বারা পরিপুষ্ট তার স্থান জাহান্নামে। অতএব, রেদোয়ানকে ইহকাল ও পরকালে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
রিয়াদ: উদ্দীপকটি পাঠ করে আমরা রিয়াদকে একজন নিষ্ঠাবান এবং আল্লাহভীরু হিসেবে চিহ্নিত করতে পারি। আমরা জানি, ইসলামি জীবন দর্শনে আল্লাহ ভীরুতা বা তাকওয়াই সব সদগুণের মূল। তাকওয়া একটি মহৎ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। মানুষের চরিত্র গঠনে তাকওয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে, মহান আল্লাহ সবকিছু জানেন, শোনেন ও দেখেন, তিনি মানুষের অন্তরের গোপন খবরও জানেন, তাঁর কাছে মন্দ কাজের জবাবদিহি করতে হবে, সে ব্যক্তি কোনো রকম পাপ চিন্তা করতে বা পাপকর্মে লিপ্ত হতে পারে না। কারণ সে জানে যে, অন্য সবাইকে ফাঁকি দেওয়া গেলেও আল্লাহ তায়ালাকে ফাঁকি দেওয়া যায় না। আল্লাহর কাছে তাকওয়ার মূল্য সর্বাধিক। আল্লাহ বলেন, "তোমাদের মধ্যে যার সবচেয়ে বেশি তাকওয়া আছে সে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি সম্মানিত।” (সূরা আল-হুজুরাত: ১৩).
Related Question
View Allকআচার-আচরণে, কথাবার্তায়, বেশ-ভূষায় ও চালচলনে মার্জিত পন্থা অবলম্বন করাই শালীনতা।
প্রতারণা একটি সামাজিক অপরাধ। কারণ এর ফলে মানুষ দুঃখ কষ্ট ভোগ করে। সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়। সমাজের মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। প্রতারণাকারী খাঁটি মুসলমান নয়। প্রতারণা মুনাফিকের কাজ। এর শাস্তি বড় কঠিন। আর এ প্রসঙ্গেই হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে।
জামিল সাহেবের আচরণে আমরা ক্ষমা গুণের বহিঃপ্রকাশ দেখতে পাই।
মহান আল্লাহর অন্যতম গুণ ক্ষমা। সুন্দর সমাজ গঠনের জন্য মানুষের এ গুণটি থাকা খুবই প্রয়োজন। ক্ষমার ব্যাপারে মহান রাব্বুল আলামিনের নীতি ও আদর্শ আমাদের অনুসরণ করা আবশ্যক। মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়, কোনো কাজে বা কথায় তার ভুলত্রুটি হয়ে যেতে পারে। অতএব অন্যের ভুলভ্রান্তি, ত্রুটিবিচ্যুতিসমূহ ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে আমাদের দেখা উচিত।
মানুষকে ক্ষমা করলে আল্লাহ খুশি হন এবং যে ক্ষমা করে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,
وَإِنْ تَعْفُوا وَتَصْفَحُوا وَتَغْفِرُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
অর্থ: "আর যদি তুমি তাদের মার্জনা কর, তাদের দোষত্রুটি উপেক্ষা কর এবং ক্ষমা কর তবে জেনে রেখ আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।" (সূরা তাগাবুন: ১৪)
শিল্পপতি জামিল সাহেবের কর্মচারী জনাব মাযহার আলি পোশাক তৈরিতে কাপড় কম দিয়ে ব্যবসায়ের ক্ষতি করেছেন। মাযহার আলির এরূপ কর্মকাণ্ড প্রতারণার পর্যায়ে পড়ে।
প্রতারণা একটি সামাজিক অপরাধ। কারণ এর ফলে মানুষ দুঃখকষ্ট ভোগ করে। সামাজিক শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়। সমাজের মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। প্রতারণাকারী খাঁটি মুসলমান নয়। আমাদের নবি (স.) এ প্রসঙ্গে বলেন, "যে ব্যক্তি প্রতারণা করে সে আমার উম্মত নয়।” (মুসলিম)
প্রতারণা মুনাফিকের কাজ। এর শাস্তি বড় কঠিন। সত্যিকার ইমানদার ব্যক্তি কখনই প্রতারণার আশ্রয় নেয় না। মানুষকে ধোঁকা দেয় না। অঙ্গীকার ভঙ্গ করে না।
অন্যের প্রয়োজনে বা উপকারে আসার নামই হলো পরোপকার।
এমন কিছু আচরণ বা কাজ যা মানুষকে হীন, নিচু ও নিন্দনীয় করে তোলে সেগুলোকে আখলাকে যামিমা বা নিন্দনীয় আচরণ বলে। নিন্দনীয় আচরণগুলো হচ্ছে হিংসা, ক্রোধ, লোভ, প্রতারণা, - পিতামাতার অবাধ্য হওয়া, ইভটিজিং, ছিনতাই প্রভৃতি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!