উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানের লোকসান কমানোর ক্ষেত্রে ব্যবসায় সহায়ক কাজ হিসেবে গুদামজাতকরণ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখত বলে আমি মনে করি।
উৎপাদন ও ভোগের মধ্যবর্তী সময়ে বিনষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষার জন্য ব্যবসায়িগণ পণ্য সংরক্ষণের যে ব্যবস্থা গড়ে তোলে তাকে গুদামজাতকরণ বলে। পণ্যসামগ্রী উৎপাদনের পর হতে ভোগের সময় পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে তা সংরক্ষণের প্রয়োজন পড়ে। পণ্য উৎপাদন হয় এক সময়ে কিন্তু ভোগ হয় তার পরবর্তী অন্য আরেকটি সময়ে। এই যে, সময়ের পার্থক্য এটি ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে কালগত বাধার সৃষ্টি করে। গুদামজাতকরণের মাধ্যমে এ কালগত বাধা দূরীভূত হয়।
উদ্দীপকের চট্টগ্রামের আলম ট্রেডার্স শীত মৌসুমের শুরুতে আমেরিকার 'রিকার্ড' ট্রেডার্স এর নিকট ৫০ লক্ষ টাকার শীতবস্ত্র ক্রয়ের জন্য ফরমায়েশ দেন। যাত্রাপথে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও জাহাজের যান্ত্রিক ত্রুটিজনিত কারণে ফরমায়েশকৃত পণ্য ২৩ দিন বিলম্বে চট্টগ্রামে বন্দরে পৌঁছে। শীত মৌসুম প্রায় শেষ হওয়ায় ফরমায়েশকৃত পণ্য কমদামে অন্যদেশে বিক্রি করে দেওয়া হয়। ফলে প্রতিষ্ঠানটির ৫ লক্ষ টাকা লোকসান হয়। প্রতিষ্ঠানটি যদি পণ্য শীত মৌসুমের পূর্বেই সরবরাহ করে গুদামজাতকরণ করে রাখত তাহলে যথাসময়ের মধ্যে পণ্য বিক্রয় করতে পারত। ফলে উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠান লোকসান হতে পরিত্রাণ পেত।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানের লোকসান কমানোর ক্ষেত্রে ব্যবসায় সহায়ক কাজ হিসেবে গুদামজাতকরণ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখত বলে আমি মনে করি।
Related Question
View Allমুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে পরিচালিত বিভিন্ন ধরনের উৎপাদন ও বন্টন সহ সকল, ঝুঁকিবহুল, ধারাবাহিক এবং বৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ব্যবসা বলে।
মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পেশাজীবী গ্রাহকদের প্রয়োজন পূরণের সামর্থ্য কোন কাজ বা সুবিধা প্রদানকে প্রত্যক্ষ সেবা বলে।
সামাজিক ব্যবসায় হল নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস প্রবর্তিত একশ্রেণীর অর্থনৈতিক প্রকল্প যার মূল লক্ষ্য মুনাফার পরিবর্তে মানবকল্যাণ। যে কোন সাধারণ ব্যাবসায় প্রতিষ্ঠানের মতোই এই সকল প্রকল্প পরিচালিত হয় ; কেবল লক্ষ্য থাকে মানুষের কল্যাণ—বিশেষ করে দারিদ্র ও আয়বৈষম্য দূর করা। মুহাম্মদ ইউনূস ১৯৭০ দশক থেকে শুরু করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যাংকিং, টেলিকম, সৌরশক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি, টেক্সটাইল, তাঁত, বিপণন প্রভৃতি খাতে অনেকগুলো কোম্পানী স্থাপন করেছেন যেগুলোর মৌলিক উদ্দেশ্য মুনাফা ম্যাক্সিমাইজ করা নয় ; অন্যদিকে এগুলোর কোনটিই ব্যক্তিগত মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত হয় নি। এই উদ্যোগগুলো কার্যত সামাজিক সমস্যা সমাধানের জন্য স্থাপিত ব্যবসায়িক প্রকল্প। এ ধরনের ব্যবসায়িক পুজিঁলগ্নির কথা ঐতিহ্যগত অর্থশাস্ত্রে নেই। এই পরিপ্রেক্ষিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দের শেষভাগে "সামাজিক ব্যবসায়" ধারনাটি প্রবর্তন করেন।সামাজিক ব্যবসায়ের সঙ্গে সনাতন ব্যবসায়ের পার্থক্য কেবল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের মধ্যে: সনাতন ব্যবসায় মুনাফামুখী এবং সামাজিক ব্যবসায় কোম্পানি মুনাফা করবে নিশ্চয়ই, কিন্তু মালিক মুনাফা নেবে না, মালিক কেবল মূলধন ফেরত নিতে পারবে।
যে ব্যবসায় গঠন করতে উদ্যোক্তা বা বিনিয়োগকারী মূলধন সরবরাহ করেন কিন্তু তার প্রধান উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন নয় বরং সমাজের কল্যাণ সাধন করা তাকে সামাজিক ব্যবসায় বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!