"উদ্দীপকে বর্ণিত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর 'M' রাষ্ট্রের আচরণ মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন"- উক্তিটি যথার্থ। উদ্দীপকের 'M' রাষ্ট্রে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে অমানবিক নির্যাতন ও অত্যাচার করছে তা প্রকৃত অর্থে মানবাধিকারবহির্ভূত আচরণ।
যেখানে মানুষের অস্তিত্ব রক্ষারই উপায় নেই তার সহজাত ক্ষমতার সৃজনশীল বিকাশ এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবন তো দূরের কথা। জাতিসংঘের ঘোষণায় মানবাধিকারের সংজ্ঞার পাশাপাশি আরও বলা হয়েছে, "মানবাধিকার ভোগের বেলায় জাতি-ধর্ম-বর্ণ, ধনী-নির্ধন, সামাজিক মর্যাদা এবং নাগরিকতা নির্বিশেষে সকলেই সমান এবং এক্ষেত্রে কোনো রকম পার্থক্য বা ভেদাভেদ করা হবে না। অথচ উদ্দীপকের 'M' রাষ্ট্রে রোহিঙ্গারা সংখ্যালঘু মুসলিম বলেই তাদের ওপর ওই রাষ্ট্রের পরাক্রান্ত বৌদ্ধ সম্প্রদায় তাদের ওপর অত্যাচার ও নির্যাতন চালিয়েছে, খুন, হত্যা, ধর্ষণ করেছে। রোহিঙ্গারা তাই আত্মরক্ষার্থে অন্যদেশে পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় চাইছে। রোহিঙ্গাদের ওপর 'M' রাষ্ট্রের এই অত্যাচার সুস্পষ্টভাবে মানবাধিকারের লঙ্ঘন। ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা গৃহীত হয়। এতে কিছু মানবাধিকারের উল্লেখ রয়েছে, 'M' রাষ্ট্র যার পরিপন্থী কাজ করছে।
জাতিসংঘের ঘোষণায় মানুষের জন্মগতভাবে সমমর্যাদা লাভের কথা থাকলেও 'M' রাষ্ট্রে তার বিপরীত চিত্র পরিলক্ষিত হয়। জাতিসংঘের ঘোষণায় অধিকারের কথা বলা হয়েছে, নির্যাতিত না হওয়ার অধিকার, নিষ্ঠুরতার শিকার না হওয়ার অধিকার, অমানুষিক বা অবমাননাকর আচরণের শিকার না হওয়ার অধিকার ও ধর্মের স্বাধীনতার অধিকারের কথা বলা হয়েছে। জাতিসংঘের ঘোষণায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির প্রতি অমানুষিক নির্যাতন, অত্যাচার, উৎপীড়ন, মর্যাদা হানিকর ব্যবহার ও অযথা শাস্তি প্রদান করা যাবে না। উদ্দীপকের 'M' রাষ্ট্রে জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকারের এতটুকুও রক্ষিত হয়নি। বরং উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। সেখানে রোহিঙ্গারা সংখ্যালঘু মুসলিম বলে তাদের সাথে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে, তাদেরকে ধর্মের অধিকার, এমনকি ন্যূনতম বাঁচার অধিকারটুকু পর্যন্ত দেয়নি, নির্বিচারে হত্যা ধর্ষণ এবং অবর্ণনীয় অত্যাচার চালিয়েছে। তারা জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হয়েছে। সুতরাং বলা যায়, "উদ্দীপকে বর্ণিত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর 'M' রাষ্ট্রের আচরণ মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন" উক্তিটি প্রকৃত অর্থেই যথার্থ।
Related Question
View Allপ্রত্যেক রাষ্ট্রই এর প্রদত্ত অধিকারসমূহ দ্বারা পরিচিতি লাভকরে"- উক্তিটি করেছেন অধ্যাপক লাঙ্কি।
'মানুষ' হিসেবে প্রতিটি মানুষ যে অধিকার ভোগ করতে জন্মগতভাবে প্রত্যাশী তাই মানবাধিকার। মানুষের মূল্য ও মর্যাদার সাথে সংশ্লিষ্ট এ অধিকারগুলো মানুষ জন্মগতভাবে লাভ করে থাকে। অর্থাৎ আমরা মানুষ হিসেবে বাঁচতে প্রকৃতিগত ও সহজাত যে অধিকার প্রত্যাশা করি, তাই হলো মানবাধিকার। যেমন- জীবন ধারণের অধিকার, নিরাপত্তা লাভের অধিকার, নিষ্ঠুরতার শিকার না হওয়ার অধিকার, ন্যায়বিচার লাভের অধিকার ইত্যাদি।
উদ্দীপকে অধিকার ও কর্তব্যের মধ্যকার সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এগুলোর পারস্পরিক নির্ভরশীলতার কথা বলা হয়েছে।
অধিকার ও কর্তব্য নাগরিকতার দুটি দিক। নাগরিকদের যেমন অধিকার আছে, তেমনি কর্তব্যও পালন করতে হয়। অধিকার ও কর্তব্য পরস্পর পরিপূরক। এ দুটি যেন একই মুদ্রার দুটি দিকের ন্যায়। সামাজিক সচেতনতা থেকে এদের সৃষ্টি এবং সমাজের মধ্যেই এরা অর্থপূর্ণ হয়ে ওঠে। নাগরিকগণ নিজ নিজ অধিকারের বিনিময়ে রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্য পালন করে থাকে। এজন্যই লাস্কি বলেন, "আমার নিরাপদে থাকার অধিকার থাকলে অন্যের কর্তব্য হলো আমাকে অন্যায়ভাবে আক্রমণ না করা।" অধিকার বলতে যেমন কতকগুলো শর্তকে বুঝানো হয়, তেমনি তা পালনও দায়িত্ব। যেমন-ভোটদানের অধিকার বলতে ভোটাধিকার প্রয়োগের দায়িত্বকেও বোঝায়। কারও অধিকার বলতে যেমন তার কর্তব্যকেও বোঝায়, তেননি একজনের অধিকার বলতে অন্যের কর্তব্যকেও বোঝানো হয়। আমার সম্পত্তির ভোগের অধিকার আছে, এর অর্থ অন্যের সম্পত্তিতে অন্যায় হস্তক্ষেপ না করাও আমার দায়িত্ব।
কারও অধিকার বলতে যেমন তার কর্তব্যকে বোঝায়, তেমনি একজনের অধিকার বলতে অন্যের কর্তব্যকে বোঝায়। একজনের অধিকার ভোগ করা অন্যের কর্তব্য পালনের ওপর নির্ভরশীল। এজন্যই বলা হয়, অধিকারের মধ্যেই কর্তব্য নিহিত। যেমন- আমার বেঁচে থাকার যদি অধিকার থেকে থাকে, তবে আমার কর্তব্য হলো
অন্যের বেঁচে থাকার পথে কোনো বাধার সৃষ্টি না করা। অনুরূপভাবে অন্যের কর্তব্যও হলো আমাকে হত্যা না করা। অধিকার ও কর্তব্য একটি ছাড়া অন্যটি কল্পনা করা যায় না। সমাজের একজনের অধিকারের পরিধি অন্য সকলের কর্তব্যবোধ দ্বারা সীমাবদ্ধ। কারণ অধিকার যদি অবাধ ও সীমাহীন হয় তবে এ থেকে স্বেচ্ছাচারিতার জন্ম হবে। এতে সবল ব্যক্তি অধিকার ভোগ করবে; কিন্তু দুর্বল তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।
রাষ্ট্র নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করবে। বিনিময়ে নাগরিকগণ রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালন করবে। নাগরিকের যা দায়িত্ব রাষ্ট্রের তা অধিকার আর রাষ্ট্রের যা দায়িত্ব নাগরিকের তা অধিকার। রাষ্ট্র নাগরিকের অধিকার উপভোগের নিশ্চয়তা দেয়। ফলে রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হয়। অর্থাৎ বলা যায়, অধিকার ও কর্তব্য নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত। কার্ল মার্কস বলেছেন, "কর্তব্য ছাড়া কোনো অধিকার নেই আর অধিকার ছাড়া কোনো কর্তব্য নেই।” সুতরাং বলা যায়, অধিকারের মধ্যেই কর্তব্য নিহিত থাকে
বাংলাদেশে ২০০৯ সালের ৫ এপ্রিল তথ্য অধিকার আইন প্রণীত হয়
সাধারণভাবে যেকোনো বস্তু বা বিষয় সম্পর্কে জানার জন বিবরণকে তথ্য বলা হয়। তথ্য অধিকার আইনে তথ্যকে সুনির্দিষ্টভাে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো কর্তৃপক্ষের গঠন কাঠামো ও দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত যে কোনো স্মারক, বই, নকশ মানচিত্র, চুক্তি, তথ্য- উপাত্ত, আদেশ, বিজ্ঞপ্তি, দলিল, আলোকচিত্র অডিও, ভিডিও, যান্ত্রিকভাবে পঠনযোগ্য দলিলাদি এবং বৈশিষ্ট নির্বিশেষে যেকোনো তথ্যবহ বস্তু ইত্যাদিকে তথ্য বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!