হ্যাঁ, উদ্দীপকে বর্ণিত বাহাদুর শাহ পার্ক ছাড়াও বাংলাদেশে আরও প্রত্নসম্পদ রয়েছে- উক্তিটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।
বাংলাদেশ বিভিন্ন প্রত্নসম্পদে পরিপূর্ণ। ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে চমৎকার সব স্থাপত্যশৈলী রয়েছে। আঠারো-উনিশ শতকে ঢাকা শহরে তৈরি হয় বেশ কয়েকটি গির্জা। এর মধ্যে সবচেয়ে পুরনো হলো আর্মেনিয়ান গির্জা। এটি তৈরি হয় আরমানিটোলায় ১৭৮১ সালে। ঢাকার প্রাচীন স্থাপত্যকীর্তির আরেকটি বিখ্যাত নিদর্শন হলো বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ঢাকার নওয়াবদের প্রাসাদ আহসান মঞ্জিল। এছাড়া জমিদার ও বণিকদের তৈরি পুরনো ঢাকার রূপলাল হাউজ এবং রোজ গার্ডেনও চমৎকার স্থাপত্যকর্মের নিদর্শন। অফিস বাড়ি হিসেবে ঢাকার যেসব ভবন তৈরি হয়েছিল তার মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর হচ্ছে কার্জন হল। ইংরেজ আমলে তৈরি এ ভবনটি বহুকাল ধরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের অংশ ছিল। উদ্দীপকের জনাব 'প' শিক্ষাসফরে গিয়ে এসব প্রত্ননিদর্শন দেখতে যান। এছাড়াও ঢাকার বাইরে নারায়ণগঞ্জে রয়েছে সুলতানি আমলের রাজধানী হিসেবে পরিচিত সোনারগাঁও। পানাম নগর ও লোকশিল্প জাদুঘরের জন্য এটি বিখ্যাত। মসলিন কাপড়ের জন্য বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে এটি প্রসিদ্ধ ছিল। এছাড়াও রয়েছে ময়মনসিংহের শশীলজ যা মুক্তাগাছার জমিদাররা তৈরি করেছিলেন। রংপুরের তাজহাট, নাটোরের দিঘাপতিয়ার জমিদার প্রাসাদ চমৎকার স্থাপত্যকর্মের জন্য সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সকল প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনই আমাদের ইতিহাসের সাক্ষী বহন করছে।
পরিশেষে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি সঠিক হয়েছে।
Related Question
View All'প্রত্ন' শব্দের অর্থ হলো পুরানো। প্রত্নসম্প বলতে পুরানো স্থাপত্য ও শিল্পকর্মা, মূর্তি বা ভাস্কর্য, অলঙ্কার, প্রাচীন আমলের মুদ্রা ইত্যাদিকে বোঝায়। এসব প্রত্ননিদর্শনের মধ্য দিয়ে সেকালের মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থা, জীবনযাত্রা, বিশ্বাস-সংস্কার, রুচি বা দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়।
ঢাকার মসজিদগুলোতে মোগল স্থাপত্যশৈলীর প্রাধান্য দেখা যায়। তবে এর সঙ্গে কিছুটা ইউরোপীয় স্থাপত্যশৈলীর মিশেলও রয়েছে। এসব মসজিদের নির্মাণশৈলী এবং কারুকাজ অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক। এসব মসজিদ ঢাকার ঐতিহ্যের পরিচায়ক।
লালবাগ মসজিদ ও সিতারা বেগম মসজিদ মোগল স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত। এগুলোর গঠনশৈলী চমৎকার এবং কারুকাজ অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন। এই মসজিদগুলোতে মোগল শাসনামলের ঐতিহ্য ফুটে ওঠে।
শিয়াদের ইমামবাড়া এবং হোসেনি দালান শিয়া সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান। এখানে মহররমের সময় নানা ধর্মীয় কার্যক্রম পালিত হয়। ইমামবাড়া ঢাকার ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় সংস্কৃতির প্রতীক। এগুলো ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ইংরেজ শাসনামলে এগুলো পুনর্নির্মাণ করা হয়।
ঢাকার প্রাচীন মন্দিরগুলোর মধ্যে ঢাকেশ্বরী মন্দির ও রমনা কালীমন্দির বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ঢাকেশ্বরী মন্দির অনেক পুরনো এবং এটি ঢাকার ঐতিহ্যের পরিচায়ক। রমনা কালীমন্দির ঔপনিবেশিক আমলে পুনর্নির্মাণ করা হয়। এই মন্দিরগুলো ঢাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ঢাকার আর্মেনিয়ান গির্জা ১৭৮১ সালে আরমানিটোলায় নির্মিত হয়। এটি ঢাকার সবচেয়ে পুরানো গির্জা এবং আর্মেনীয় সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ঐতিহ্যের নিদর্শন। গির্জাটির স্থাপত্যশৈলী চমৎকার এবং এটি বর্তমানে ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!