মনার নকশা পদ্ধতিটি হলো টাই-ডাই।
টাই ডাই পদ্ধতিতে প্রথমে বস্তুটি প্রস্তুত করে নিতে হয়। এক্ষেত্রে সাবান ও সোডার সাহায্যে প্রথমে বস্তুটিকে পরিষ্কার করে মাড়মুক্ত করতে হয়।
এরপর বস্ত্রটিকে ধুয়ে শুকিয়ে ইস্ত্রি করে নিতে হয়। সাধারণত সুতি, লিনেন, সিল্ক, রেয়ন এবং নানাপ্রকার মিশ্র সুতার কাপড়ে এ নকশা করা যায়।
যে কাপড়ে টাই ডাই করা হবে সেটি নকশা বা ডিজাইন অনুযায়ী সেলাই করতে বা বাঁধতে হবে। সেলাই করা বা বাঁধা বস্তুটি কমপক্ষে এক ঘণ্টা ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। একটি পাত্রে পরিমাণমতো ফুটন্ত গরম পানিতে রং, হাইড্রোজ ও কস্টিক সোডা ভালোভাবে গুলে নিয়ে ঐ রঙের পানিতে কাপড়টি ৫ থেকে ১০ মিনিট সেদ্ধ করলেই রং হয়ে যাবে। অতঃপর ভালোভাবে ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে ছায়ায় শুকাতে হবে। ২৪ ঘণ্টা পর ফুটন্ত গরম পানিতে সাবানের ১/৪ অংশ কেটে দিতে হবে, সাবান গলে গেলে কাপড়টি ঐ পানিতে ১০ মিনিট সেদ্ধ করতে হবে। তারপর ধুয়ে ছায়ায় শুকাতে হবে। যদি চুন্দ্রী প্রিন্টে রং করা হয় তবে দেয়াশলাইয়ের কাঠি বা মসুরের ডাল ভেতরে ঢুকিয়ে বেঁধে নিয়ে রং করতে হয়।
Related Question
View Allউদ্ভিজ্জ রংকে প্রাকৃতিক রং বলে। গাছের বাকল, ফুল, লতা-পাতা, ফল ইত্যাদি থেকে উদ্ভিজ্জ রং পাওয়া যায়।
উইলিয়াম হেনরী পারকিন নামে এক ব্যক্তি কৃত্রিম উপায়ে কুইনাইন তৈরি করতে গিয়ে একটি কৃত্রিম রং আবিষ্কার করেন।
কৃত্রিম রং আবিষ্কারের ফলে বস্ত্র রঞ্জনের ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত হয়। এরপর বস্ত্র রঞ্জনের জন্য কৃত্রিম রংই ব্যবহৃত হয়। প্রাকৃতিক রঙের চেয়ে কৃত্রিম রং অনেক বেশি স্থায়ী এবং অনেক প্রকারের হয়। যেমন- অ্যাসিড ডাই, বেসিক ভাই, ভ্যাট রং, মরড্যান্ট রং, বিকশিত রং, এজোইক রং।
আইরিন যে পদ্ধতিতে বস্ত্র ছাপার কাজ করেছে তা হলো ব্লক ছাপা।
ব্লক ছাপা সবচেয়ে প্রাচীন পদ্ধতি। কাঠের উপর নকশা খোদাই করে ব্লক তৈরি করা হয়। ব্লকে রং লাগিয়ে বস্ত্রে যে ছাপা দেওয়া হয় তাকে ব্লক প্রিন্ট বলে। সে ব্লক ছাপার ব্লকগুলো নিজেই তৈরি করে। ব্লক তৈরির জন্য প্রথমে কাঠে, রাবারে পছন্দমতো নকশা এঁকে নিতে হয়। এরপর ধারালো ছুরি বা ব্লেড দিয়ে রাবার বা বাটালি দিয়ে কাঠ খোদাই করে নিতে হয়। নকশার জায়গাটি উঁচু রেখে বাকি অংশ কেটে নিতে হয়। কাঠের ব্লক হলে খোদাই করার পর শিরিষ কাগজ দিয়ে ঘষে ওপরের অংশ মসৃণকরে নিতে হয়। রাবার হলে ছুরি কিংবা এন্টিকাটার দিয়ে কেটে সহজে ব্লক তৈরি করা যায়। আলু, গাজর, ঢেঁড়স, শাপলা প্রভৃতির সাহায্যেও ব্লক ছাপা দেয়া যায়।ব্লক তৈরির পর রং তৈরি করে টেবিল তৈরি করে নিতে হয়। এরপর যে কাপড়ে ব্লক করা হবে সেটিকে ভালো করে ধুয়ে মাড় ফেলে নিয়ে টেবিলের ওপর টানটান করে বিছাতে হয়। স্ট্যান্ড বা পাশে ছোট টেবিলের ওপর কালার ট্রে রাখতে হয়। কালার ট্রের মধ্যে ফোমের ওপর ব্রাশ বা চা চামচ দিয়ে রং মাখাতে হয়। ব্লকটি ফোমের ওপর রেখে চাল দিয়ে ব্লকে রং ভরাতে হয়। এরপর রং ভরানো ব্লকটি কাপড়ের ওপর চাপ দিলে কাপড়ে ব্লকের ছাপা হয়ে যায়। একাধিক রঙের নকশা ছাপাতে একাধিক ব্লক প্রয়োজন। সেই সাথে একাধিক কালার ট্রে ও একাধিক ব্রাশ দরকার হয়। নাবিলা এভাবেই ব্লক তৈরি করে ব্লক ছাপায় মাধ্যমে পোশাকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।
অনি টাইডাই এবং বাটিক প্রিন্ট দুইটি পদ্ধতি ব্যবহার করে বস্তু রঞ্জন করেছে।
টাইডাই এবং বাটিক প্রিন্ট বস্তু রঞ্জনের দুইটি পদ্ধতি। টাইডাই পদ্ধতিতে যখন রং করা হয় তখন ঐ স্থানগুলোতে যেন রং প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য কাপড়টির বিভিন্ন জায়গায় বাঁধা হয়। আর বাটিক প্রিন্ট পদ্ধতিতে কাপড়ের উপর নকশা একে ঐ স্থানে মোম দিয়ে ঢেকে, অন্যস্থানে রং লাগিয়ে নকশা করা হয়। যে কাপড়ে টাই ডাই করা হবে সেটিতে নকশা বা ডিজাইন অনুযায়ী সেলাই বা বন্ধন করতে হবে। বন্ধনকৃত বস্তুটি কমপক্ষে একঘণ্টা ঠাণ্ডা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। একটি পাত্রে পরিমাণমতো ফুটন্ত গরম পানিতে রং, হাইড্রোজ ও কস্টিক সোডা ভালোভাবে গুলে নিয়ে ঐ রঙের পানিতে কাপড়টিকে ৫ থেকে ১০ মিনিট সিদ্ধ করলেই রং হয়ে যাবে। তারপর ভালোভাবে ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে ছায়ায় শুকাতে হবে। ২৪ ঘণ্টা পর ফুটন্ত গরম পানিতে সাবানের ১/৪ অংশ কেটে দিতে হবে। সাবান গলে গেলে কাপড়টি ঐ পানিতে ১০ মিনিট সিদ্ধ করতে হবে। তারপর ধুয়ে ছায়ায় শুকাতে হবে।
যে কাপড়ে বাটিক করা হবে তা প্রথমে নিয়ম অনুযায়ী ধুয়ে নকশা এঁকে নিতে হবে। তারপর ব্রাশের সাহায্যে কাপড়ের উভয়পিঠে নকশার প্রয়োজনীয় অংশ গলিত মোম দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। সাধারণত কাপড়ে মোম লাগাবার ২৪ ঘণ্টা পর কাপড়ে রং করতে হয়। রং করার ৩০ মিনিট আগে কাপড় ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর এক কাপ কুসুম গরম পানিতে পরিমাণমতো রং গুলিয়ে পরিমাণমতো ঠান্ডা পানির সাথে মিশিয়ে কাপড়টি গুলানো রঙের মধ্যে ১৫ মিনিট - নাড়াচাড়া করে রং থেকে উঠাতে হবে। তারপর ঐ রঙের সাথে - পরিমাণমতো লবণ মিশিয়ে ৩০ মিনিট নাড়াচাড়া করতে হবে। ঐ রঙের মধ্যে কাপড় কাঁচার সোডা মিশিয়ে আরও ৩০ মিনিট নাড়াচাড়া করে ঠান্ডা পানিতে চার পাঁচ বার ধুয়ে ছায়ায় শুকাতে হবে। কাপড় রং করার ২৪ ঘণ্টা পর মোম ছাড়াতে হয়। মোম ছাড়াবার আগে ৩০ মিনিট ঠান্ডা পানিতে কাপড় ভিজিয়ে রাখতে হবে। একটি হাড়িতে ৩/৪ লিটার ফুটন্ত
দেহের মাপ অনুযায়ী পোশাক কাটার পূর্বে বাদামি রঙের সমতল কাগজের উপর পোশাকের যে নকশা তৈরি করা হয় তাকে ড্রাফটিং বলে।
যেসব রং অন্য রঙের মিশ্রণে তৈরি হয় না বরং এদের মিশ্রণের ফলে অন্যান্য রঙের সৃষ্টি হয় সেগুলোকে মৌলিক রং বলে। মৌলিক রংকে প্রাথমিক বা বিশুদ্ধ রংও বলা হয়। লাল, হলুদ ও নীল এই তিনটি মৌলিক রং।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!