উদ্দীপকের মামুন প্রচলিত ব্যবস্থায় পরিচালিত অর্থাৎ সুদভিত্তিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন। যে ব্যাংকের আমানত সংগ্রহ এবং ঋণ প্রদান বা বিনিয়োগ তথা সামগ্রিক কর্মকাণ্ড পূর্বনির্ধারিত সুদের ভিত্তিতে পরিচালিত হয় তাকে সুদভিত্তিক ব্যাংক বলে। এ ধরনের ব্যাংক ইসলামি শরিয়তের বিধানের পরিবর্তে প্রচলিত অর্থব্যবস্থার আলোকে পরিচালিত হয়, যা মামুনের ঋণ নেওয়া ব্যাংকের ক্ষেত্রে লক্ষণীয়। উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে, মামুন তার পৈত্রিক সম্পত্তি চাষাবাদ করতে একটি গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য প্রচলিত ব্যবস্থায় পরিচালিত একটি ব্যাংক থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছেন। এ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, মামুন সুদভিত্তিক ব্যাংক থেকেই ঋণ নিয়েছেন। প্রচলিত বা সুদভিত্তিক ব্যাংকব্যবস্থা মানবিক চিন্তার ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়। সুদ হলো শোষণের হাতিয়ার। সুদভিত্তিক ব্যাংকব্যবস্থায় বৈধ-অবৈধের কোনো বালাই নেই। মুনাফাই এখানে মুখ্য বিষয়। সুদি ব্যাংকিং ব্যবস্থা সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য সৃষ্টি করে। এটি ধনীকে আরও ধনী এবং দরিদ্রকে আরও দরিদ্র করে। এজন্য ইসলামি শরিয়তে সুদভিত্তিক ব্যাংকিং বা সুদি কার্যক্রমকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কেননা সুদ সম্পূর্ণরূপে ইসলামি চেতনা ও মানবতাবিরোধী। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন- 'হে মুমিনগণ, তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেয়ো না এবং আল্লাহকে ভয় করো' (সুরা আলে ইমরান: ১৩০)।
Related Question
View Allআল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদতের জন্য ।
দ্বিতীয় স্তরের তাকওয়া অনুশীলনকারী ব্যক্তিকে বলা হয় সুলাহা।
তাকওয়ার দ্বিতীয় সোপান হলো এমন হালাল কথা, কাজ, বিষয় ও বস্তু বর্জনের স্তর, যে হালালের হালাল হওয়া সম্পর্কে সন্দেহ রয়েছে। কেননা, সন্দেহযুক্ত হালাল বর্জন না করলে সন্দেহাতীতভাবে হারাম থেকে মুক্ত থাকা যায় না। রাসুলুল্লাহ (স) যা সন্দেহযুক্ত তা বর্জন করতে এবং যা সন্দেহযুক্ত নয় তা গ্রহণ করার কথা বলেছেন।
অর্থনীতিবিদ রফিকুল ইসলামের আলোচনায় ইসলামি অর্থব্যবস্থার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ইসলামি অর্থব্যবস্থা হলো কুরআন-সুন্নাহর আলোকে মানুষের সম্পদ উপার্জন, বণ্টন ও ব্যয়ের নির্দেশনা। এটি একটি মানবকল্যাণময় ও প্রগতিশীল অর্থব্যবস্থা। জাকাত, হালাল উপার্জন ও ইসলামি শরিয়তের অনুসরণ এ অর্থব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য, যা রফিকুল ইসলামের আলোচনায় ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের রফিকুল ইসলাম এমন একটি অর্থব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, যেখানে হালাল উপার্জন এবং জাকাতের বিষয়টি বাধ্যতামূলক। তার আলোচিত অর্থব্যবস্থার সাথে ইসলামি অর্থব্যবস্থার মিল রয়েছে। ইসলামি অর্থব্যবস্থা একটি আদর্শিক অর্থব্যবস্থা। এ অর্থব্যবস্থায় সম্পদের প্রকৃত মালিক মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। মানুষ তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে তা ব্যবহার করেন। ইসলামি অর্থব্যবস্থায় যা খুশি এব উৎপাদন করা যায় না, যেভাবে খুশি উপার্জনও করা যায় না। এ অর্থব্যবস্থায় হালাল পন্থায় উপার্জন বাধ্যতামূলক। এ ব্যবস্থায় সম্পদের সুষম ও ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টননীতি অনুসরণ করা হয়। এ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো- হালাল-হারাম নির্ধারণ। সম্পদ উপার্জন, ব্যয় ও ভোগের ক্ষেত্রে হালাল-হারামের নির্ধারিত সীমা- পরিসীমা মেনে চলা অত্যাবশ্যক। এ অর্থব্যবস্থার অন্যতম উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো- জাকাতভিত্তিক ও সুদমুক্ত। এ অর্থব্যবস্থায় ধনীদের সম্পদে গরিবদের জন্য নির্ধারিত অংশ রয়েছে। ইসলামের বিধান অনুযায়ী সঠিকভাবে জাকাত প্রদানের মাধ্যমে ধনী-গরিবের মধ্যকার বৈষম্য কমে আসে।
ইবাদত কবুলের জন্য আমাদের হালাল উপার্জন করতে হবে এবং হারাম উপার্জন থেকে বিরত থাকতে হবে- মাওলানা মুহিবুর রহমানের উক্তিটি ইসলামের আলোকে যথার্থ। ইসলামি শরিয়তে যেসব বিষয়ের অনুমতি রয়েছে এবং যা সম্পর্কে কোনো নিষেধ বাণী নেই তাকে হালাল বা বৈধ বলে। আর শরিয়তে যেসব বিষয় নিষেধ করা হয়েছে তা হারাম বা অবৈধ। জীবনের সবক্ষেত্রে হালাল জিনিস গ্রহণ ও হারাম জিনিস বর্জন করা ইসলামের বিধান। ইসলামি জীবনব্যবস্থায় এ বিধানটি মেনে চলার গুরুত্ব অপরিসীম। হালাল উপার্জন একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। এটি ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত। মানুষ যদি হালাল উপার্জন করে এবং হালাল জীবিকা গ্রহণ করে, তাহলে তার ইবাদত আল্লাহর কাছে কবুল হবে। আর যদি হারাম উপায়ে উপার্জন ও হারাম জীবিকা গ্রহণ করে, তাহলে তার ইবাদত আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। হালাল জিনিস গ্রহণ ও হারাম জিনিস বর্জন করা একজন মুমিনের জন্য অত্যাবশ্যক। হালাল- হারামের বিধান মেনে চলার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ পালন করা হয়। হালাল উপার্জনকারীর ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হন আর হারাম উপার্জনকারীর প্রতি অসন্তুষ্ট হন।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন ও ইবাদত কবুলের জন্য ইসলামি শরিয়তের আলোকে হালাল-হারামের বিধান মেনে চলা মুসলিমদের জন্য অত্যাবশ্যক। তাই মাওলানা মুহিবুর রহমানের উক্তিটি ইসলামের দৃষ্টিতে যথার্থ।
ইসলাম পাঁচটি বুনিয়াদের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
স্বত্ব ত্যাগ করে কাউকে বিশেষ করে অভাবগ্রস্ত ও নিঃস্ব লোকদের কিছু দান করাকে সাদাকাত বলে। সাদাকাত অর্থ হলো দান। এটি দুই প্রকার। যথা- ১. নফল বা ঐচ্ছিক সাদাকাত এবং ২. ওয়াজিব বা বাধ্যতামূলক সাদাকাত। অর্থাৎ বাধ্যবাধকতা ছাড়া অথবা বিশেষ শর্তসাপেক্ষে বাধ্যতামূলকভাবে যে দান করা হয় তাই ওয়াজিব সাদাকাত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!