আমি মনে করি নারী শিক্ষার বিস্তারে রোকসানার মতো আরো অনেকেরই এগিয়ে আসা উচিত।
আমাদের দেশের নারীরা এখনও শিক্ষাক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে আছে। কারণ এ দেশের অনেক মানুষই মনে করেন মেয়েরা ঘরে থেকে সংসার সামলাবে, সন্তান লালন-পালন করবে। তাদের পড়াশোনার কোনো প্রয়োজন নেই। আবার অনেকে মনে করেন মেয়েদের বিয়ে দিলে অন্যের বাড়ি চলে যাবে। তাই তাদেরকে বেশি পড়াশোনা শিখিয়ে লাভ নেই। এসব ভ্রান্ত ধারণার কারণে আমাদের দেশের মেয়েরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়।
ফলে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিকসহ সকল ক্ষেত্রে এ দেশের নারীদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম। জনসংখ্যার অর্ধেক অংশ যদি উন্নয়নমূলক কাজে অংশগ্রহণ না করে তাহলে দেশও পিছিয়ে পড়বে। এর জন্য নারী শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে হবে। আর এ কাজের জন্য উদ্দীপকের রোকসানার মতো সমাজের সচেতন অংশকে এগিয়ে আসতে হবে।
উদ্দীপকে রোকসানা ক্ষুদ্র পরিসরে নিজস্ব উদ্যোগে মেয়েদের জন্য শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে তার প্রচেস্টায় একটি স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করে মেয়েরা উচ্চ শিক্ষার জন্য শহরে যায়। রোকসানার মতো সমাজের সচেতন ব্যক্তিদের উচিত নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহারের নারী শিক্ষা বিস্তারে কাজ করা। এছাড়া নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে। পরিবার ও সমাজের লোকদের নারী শিক্ষার বিস্তারে এগিয়ে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে। পত্র-পত্রিকা, রেডিও, টেলিভিশনে নারী শিক্ষা সম্পর্কে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম প্রকাশ বাড়াতে হবে। নারী শিক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন সভা-সেমিনারের আয়োজন করতে হবে। এভাবে নারী-শিক্ষার প্রসারে গৃহীত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা একসময় দেশের নারী উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
পরিশেষে বলা যায়, নারী শিক্ষার প্রসারে সমাজের সকল মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কর্মসূচি গ্রহণ করে নারীদের শিক্ষা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
Related Question
View Allসমাজকর্মের বিকাশের ধারা দুই ভাগে বিভক্ত।
আপদকালীন সময়ে আর্তদের বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ করার ব্যবস্থার নাম লঙ্গরখানা।
লজ্জার শব্দটি ফার্সি শব্দ। এর অর্থ সমাজের দুস্থ ও নিঃস্বদের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। সমাজের যেকোনো শ্রেণির মানুষের জন্যই লঙ্গরখানার খাবারের ব্যবস্থা উন্মুক্ত থাকে।
উদ্দীপকে সমাজকর্মের পরিধিভুক্ত নারীকল্যাণ সাধন, তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা মোকাবিলার কথা বলা হয়েছে।
সমাজকর্মের পরিধিভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো নারীদের উন্নয়ন সাধন, সমাজে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও স্বার্থ সংরক্ষণ করা। এ লক্ষ্যে সমাজকর্ম কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে। পাশাপাশি মেয়েদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেয়। সমাজে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণেও সমাজকর্ম বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলেছে। এক্ষেত্রে সমাজকর্ম বিভিন্ন সামাজিক আইনের প্রয়োগ করে। আবার, সমাজে উদ্ভূত বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা যেমন- জনসংখ্যা সমস্যা, বেকারত্ব, কিশোর অপরাধ, নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, যৌতুকপ্রথা, মাদকাসক্তি, সন্ত্রাস প্রভৃতি সমস্যা সমাধানেও বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
উদ্দীপকে স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্কের সদস্যরা কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য অধিকার ও সেবা সহজলভ্য করা, দক্ষতা বৃদ্ধি, বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, নারীর ক্ষমতায়ন, বাল্যবিবাহ বন্ধ করা, যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ, যৌতুক প্রথার অবসান প্রভৃতিনিয়ে কাজ করে। আর এ কার্যক্রম সমাজকর্মের পরিধিভুত্ব নারীকল্যাণ সাধন, তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক সমস্যা দূরীকরণের অন্তর্ভুক্ত।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্কের কর্মকাণ্ড সামাজিক আন্দোলনের সাথে সংশ্লিস্ট।
সমাজের বিভিন্ন প্রথা, প্রতিষ্ঠান, রীতিনীতি, আইন, সামাজিক মূল্যবোধ ও আদর্শ যেগুলো সমাজের জন্য ক্ষতিকর সেগুলো দূর করার জন্য জনগণের সুসংগঠিত ও সমন্বিত প্রচেষ্টাকে সামাজিক আন্দোলন বলা হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সব ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়ন ও অংশগ্রহণের সমান সুযোগ সৃষ্টি এবং সমাজ থেকে বাল্যবিবাহ যৌতুক প্রভৃতি দূর করতে জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা হলো সামাজিক আন্দোলন। উদ্দীপকের স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্কের কর্মকাণ্ডেও তাই ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্ক কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা ও তাদের জীবনমানের উন্নয়নের পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে কাজ করে যাচ্ছে। সেই সাথে সমাজ থেকে বাল্যবিবাহ, যৌন নিপীড়ন ও যৌতুক প্রথা প্রভৃতি সমস্যা সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজ থেকে এগুলো দূর করতে ভূমিকা পালন করছে। কারণ এই সমস্যাগুলো সমাজের জন্য ক্ষতিকর আর এগুলো দূর করার জন্য জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরি। আর সমাজের জন্য ক্ষতিকর রীতিনীতি দূর করতে জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই হলো সামাজিক আন্দোলন। স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্ক সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণকে সুসংগঠিত করে এসব সমস্যা দূর করতে কাজ করছে।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্কের কর্মকাণ্ড সামাজিক আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট।
সমাজকর্ম পেশাগত সম্পর্ক স্থাপনে বিশ্বাসী।
সমাজকর্মের পরিধি বলতে মূলত এর ব্যবহারিক দিকের প্রয়োগক্ষেত্র বা প্রয়োগ উপযোগিতাকে বোঝানো হয়।
সমাজকলা পূর্ববজেতাদের অশ্রণির জনগণের সামাজিক সমস্যা মোকাবিলাপূর্বক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সম্ভাব্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে প্রচেষ্টা চালায়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে গোটা সমাজই সমাজকর্মের পরিধি বা ক্ষেত্রের আওতাভুক্ত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!