ওয়ারেন হেস্টিংস পাঁচসালা বন্দোবস্ত চালু করেন।
ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট দিনে সূর্যাস্তের পূর্বে রাজস্ব পরিশোধের যে বিধান প্রণীত হয়, তা সূযাস্ত আইন নামে পরিচিত।
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থায় রাজস্ব কিস্তি নির্দিষ্ট দিনে সূর্যাস্তের পূর্বে পরিশোধ করতে হতো। কোনো জমিদার নির্দিষ্ট দিনে রাজস্ব দিতে ব্যর্থ হলে, তার জমি নিলামে বিক্রি করে রাজস্ব আদায় করা হতো।
উদ্দীপক-১ এ ইরার দেখা কাহিনি পলাশি যুদ্ধের ইঙ্গিত বহন করে। উক্ত যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার পেছনে বিবিধ কারণ দায়ী ছিল।
১৭৫৬ সালে নবাব সিরাজউদ্দৌলা মাত্র ২২ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ইংরেজরা সিরাজউদ্দৌলাকে বাংলার সিংহাসনে বসার পর কোনো উপঢৌকন পাঠায়নি এবং কোনো সৌজন্যমূলক সাক্ষাত করেননি। ইংরেজদের এ বেয়াদবিতে নবাব ক্ষুদ্ধ হন। নবাবের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইংরেজরা কলকাতায় দুর্গ নির্মাণ অব্যাহত রাখলে নবাব অসন্তুষ্ট হন। ইংরেজ কোম্পানি নবাবের আদেশ অমান্য করে দস্তকের অপব্যবহার করলে দেশীয় বণিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। পাশাপাশি আলীবর্দি খানের সঙ্গে চুক্তির শর্তভঙ্গ করে ইংরেজরা নবাবকে কর দিতে অস্বীকৃতি জানায়। শুধু তাই নয় জনগণকে নির্যাতন করার মতো ধৃষ্টতাও তারা দেখাতে থাকে। সর্বোপরি রাজা রাজবল্লভের পুত্র কৃষ্ণদাস তার পরিবারের সদস্যদেরসহ প্রচুর ধনসম্পদ নিয়ে কোলকাতায় ইংরেজদের কাছে আশ্রয় নিলে তাকে ফেরত দেওয়ার জন্য নবাব ইংরেজদের নিকট দূত পাঠান। কিন্তু ইংরেজ গভর্নর নবাবের দূতকে অপমান করে তাড়িয়ে দেয়। এতে নবাব ক্ষুব্ধ হন এবং যার শেষ পরিণতি হয় পলাশির যুদ্ধ।
উদ্দীপক-১ এ ইরা হিস্ট্রি চ্যানেলে বাংলার রাজার সাথে এক বিদেশি শক্তির যুদ্ধের কাহিনি দেখছিল। নদী তীরের এই যুদ্ধ ক্ষেত্রে বাংলার রাজার পক্ষে তার বিশ্বস্ত সেনাবাহিনী ও এক বিদেশি সেনাপতি যুদ্ধ করলেও রাজার এক প্রধান সেনাপতির বিশ্বাসঘাতকতার কারণে তিনি পরাজিত হন। পলাশির যুদ্ধেও অনুরূপভাবে নবাবের পক্ষে মীর মদন, মোহনলাল ও ফরাসী সেনাপতি সিন ফ্রে প্রাণপণ যুদ্ধ করেন কিন্তু মীর জাফরের অসহযোগিতার কারণে যুদ্ধে পরাজিত হন। তাই বলা যায়, উদ্দীপক-১ এ ইরার দেখা কাহিনি পলাশি যুদ্ধেরই ইঙ্গিতবহ।
উদ্দীপক-২ এ বাংলায় সংঘটিত ১৭৭০ সালের দুর্ভিক্ষকে নির্দেশ করা হয়েছে। বিথীর দাদার মন্তব্য অনুযায়ী এ দুর্ভিক্ষের কারণ হলো অদ্ভুত এক শাসন ব্যবস্থা অর্থাৎ দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা যার সাথে আমি একমত পোষণ করি।
রবার্ট ক্লাইভ দেওয়ানি সনদের নামে বাংলার সম্পদ লুণ্ঠনের একচেটিয়া ক্ষমতা লাভ করে। দিল্লি কর্তৃক বিদেশি বণিক কোম্পানিকে এই অভাবিত ক্ষমতা প্রদানের ফলে সৃষ্টি হয় দ্বৈত শাসনের। যাতে কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা এবং নবাব পরিণত হন ক্ষমতাহীন শাসকে। ফলে বাংলায় এক অভূতপূর্ব প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়, যার চরম মূল্য দিতে হয় এদেশের সাধারণ জনগোষ্ঠীকে।
এরই ধারাবাহিকতায় ১৭৬৫-৭০ সালে বাৎসরিক রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ যা ছিল, দুর্ভিক্ষের বছরও তার আদায় ছিল প্রায় কাছাকাছি। ফলে চরম শোষণ ও নির্যাতনে বাংলার মানুষ হয়ে পড়ে অসহায় ও হতদরিদ্র। এমতাবস্থায় দ্বৈত শাসনের কারণে নবাবের হাতে অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় তিনি সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হন। ফলে সারাদেশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা। এসব কারণেই ১৭৭০ সালে (১১৭৬ বঙ্গাব্দে) গ্রীষ্মকালে দেখা দেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ যা স্মরণকালের ইতিহাসে ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত। এই দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ মৃত্যুর মুখে পতিত হয়।
উদ্দীপক-২ এ বিথীর দাদা বললেন, 'অদ্ভূত এক শাসন ব্যবস্থার কারণে বাংলায় দুর্ভিক্ষ আঘাত হানে'। ফলে বাংলার অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙ্গে যায়। বিথীর দাদার বলা এ অদ্ভুত শাসন ব্যবস্থার সাথে উপরে আলোচিত দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার মিল রয়েছে। তাই বলা যায়, ১৭৭০ সালে সংঘটিত দুর্ভিক্ষের কারণ ছিলো দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তন।
Related Question
View Allভাস্কো-ডা-গামা পর্তুগালের নাবিক ছিলেন।
প্রাচীনকালে বাংলা সম্পদে সমৃদ্ধ ও স্বয়সম্পূর্ণ ছিল বলে অনেকেই বাণিজ্য করতে এসছিল।
প্রাচীন বাংলার গ্রামের স্বয়ংসম্পূর্ণ কৃষকদের ক্ষেত ভরা ফসল, গোলাভরা ধান, পুকুরভরা মাছ থাকত। এদেশের তাঁতিদের হাতে বোনা কাপড় ইউরোপের কাপড়ের চেয়েও উন্নতমানের ছিল। এ অঞ্চলের নানা ধরনের বাণিজ্যিক পণ্য ও মসলার বেশ খ্যাতি ছিল। এসব পণ্যের আকর্ষণেই এদেশের সঙ্গে বাণিজ্য করতে এসেছে অনেকেই।
উদ্দীপকের ক্ষমতা ভাগাভাগির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের দ্বৈত শাসনের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
রবার্ট ক্লাইভ ১৭৬৫ সালের দেওয়ানি সনদের নামে বাংলার সম্পদ লুণ্ঠনের একচেটিয়া ক্ষমতা লাভ করে। দিল্লি কর্তৃক বিদেশি বণিক কোম্পানিকে এই অভাবনীয় ক্ষমতা প্রদানে সৃষ্টি হয় দ্বৈত শাসনের। এর মাধ্যমে কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা, আর নবাব পরিণত হয় ক্ষমতাহীন শাসকে। অথচ নবাবের দায়িত্ব থেকে যায় ষোলআনা। ফলে বাংলায় এক অভূতপূর্ব প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মামুন ও কামালের মাঝে পারিবারিক গার্মেন্টস ও সংসারের দায়িত্ব বণ্টন হয়। এতে মামুন কামালকে উপযুক্ত অর্থ প্রদান না করায় সংসারে জটিলতা দেখা দেয়। এই বিষয়টির সাথে দ্বৈত শাসনের মিল রয়েছে।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, উক্ত ঘটনা বাংলার অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিল।
দ্বৈত শাসনের ফলে বাংলার সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার দ্বারা প্রশাসনে চরম দুর্নীতি শুরু হয়েছিল। নামে বেনামে অর্থ ইংল্যান্ডে পাচার হয়েছিল। ফলে বাংলার রাজকোষ শূন্য হয়ে পড়ে। এর ফলে জনগণের ওপর অতিরিক্ত করারোপ করা হয়। এছাড়াও অনাবৃষ্টির কারণে ঐ সময় (১৭৭০ সাল) দেখা দেয় দুর্ভিক্ষ যা ইতিহাসে 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' নামে পরিচিত। এই দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুমুখে পতিত হয়। এই দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতা এমন ছিল যে, মানুষ মৃত মানুষের মাংস খেতে বাধ্য হয়েছিল। আর এই দুর্ভিক্ষেও রাজস্ব না কমিয়ে তা অব্যাহত রাখা হয়। ফলে চরম শোষণ-নির্যাতনে বাংলার মানুষ হতদরিদ্র ও অসহায় হয়ে পড়ে। তাছাড়াও কোম্পানির কর্মচারীদের দুর্নীতি বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশীয় বণিকশ্রেণি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তাই বলা যায় যে, দ্বৈত শাসনের ফলে বাংলার অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভেঙে পড়েছিল।
ভাগিরথী নদীর তীরে পলাশির যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
ইংরেজ বন্দি হলওয়েল বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে নবাবকে হেয় করার জন্য এক মিথ্যা কাহিনীর প্রচারণা চালায় যা ইতিহাসে অন্ধকূপ হত্যা নামে পরিচিত।
এতে বলা হয় যে, ১৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৪.১০ ফুট প্রশস্ত ছোট একটি ঘরে ১৪৬ জন ইংরেজকে বন্দি করে রাখা হয়। এতে প্রচণ্ড গরমে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ১২৩ জনের মৃত্যু হয়। এই মিথ্যা প্রচার মাদ্রাজ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আর এই মিথ্যা প্রচারই হলো 'অন্ধকূপ হত্যা'।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!