উদ্দীপক-১: একাত্তরের সে রাত্রি, ভয়ংকর কালো ঘন,
রক্তে ভিজে উঠেছিল পবিত্র আমার ধন।
পাক বাহিনীর জুলুমে কেঁপেছিল গ্রাম শহর
জ্বলে উঠেছিল মা-বোনের ক্রন্দন তরুণ

উদ্দীপক-২ : উদয়ের পথে শুনি কার বাণী,
"ভয় নাই ওরে ভয় নাই
নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান
ক্ষয় নাই, তার ক্ষয় নাই।"

Updated: 2 months ago
উত্তরঃ

পলকহীন চোখজোড়া দিয়ে অশ্রুর ফোয়ারা নেমেছিল বাংলার জননীর।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

তপুকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নির্মমভাবে হত্যা করায় রাহাত গভীর শোক ও হতাশায় এই কথাটি বলেছিল। ছোট ভাই হিসেবে তপুকে রক্ষা করতে না পারার অক্ষমতা ও অপরাধবোধ তাকে গ্রাস করেছিল এবং তার কাছে নিজের জীবন তুচ্ছ মনে হয়েছিল।

এ উক্তির মাধ্যমে রাহাতের ভাতৃত্ববোধ, গভীর ভালোবাসা এবং পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতার শিকার হয়ে অসংখ্য পরিবারের যে বেদনা ও আত্মত্যাগ করতে হয়েছিল, তা প্রকাশ পেয়েছে। এটি মুক্তিযুদ্ধের সময় সাধারণ মানুষের উপর নেমে আসা মানবিক বিপর্যয়ের একটি মর্মস্পর্শী দিক তুলে ধরে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

উদ্দীপক-১ এ 'একুশের গল্প' এর যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা হলো জাতিসত্তা ও স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ধারাবাহিকতা। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতি আত্মপরিচয়ের যে বীজ বপন করেছিল, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাক বাহিনীর বর্বরতার মধ্য দিয়ে তা পূর্ণাঙ্গ রূপ ধারণ করে।

'একুশের গল্প' মূলত ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত একটি কালজয়ী সংগ্রাম যা বাঙালি জাতির আত্মপরিচয়ের ভিত্তি স্থাপন করে। এই আন্দোলন ছিল স্বকীয় ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতিসত্তা রক্ষার এক ঐতিহাসিক লড়াই। ভাষার দাবিতে বাঙালির বুকের রক্ত রাজপথে ঝরিয়েছিল, যা পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার প্রথম সোপান তৈরি করে এবং ভবিষ্যৎ স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল প্রেরণা যুগিয়েছিল।

উদ্দীপক-১ এ বর্ণিত একাত্তরের ভয়ংকর কালো রাত্রি, পাক বাহিনীর জুলুম, রক্তপাত ও মা-বোনের ক্রন্দন ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই অর্জিত জাতীয়তাবোধের চরম পরিণতি। একুশের চেতনার পথ ধরেই বাঙালি জাতির স্বাধীন আকাঙ্ক্ষা চূড়ান্ত রূপ পায় এবং পাকিস্তানি শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। একুশের ভাষার অধিকারের সংগ্রামই ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার সংগ্রামে রূপান্তরিত হয়েছিল, যেখানে সমগ্র জাতি পরাধীনতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। উদ্দীপক-১ এ উল্লিখিত 'পবিত্র আমার ধন' বলতে মূলত স্বাধীন ভূখণ্ড ও জাতিসত্তাকে বোঝানো হয়েছে, যা একুশের পথ ধরেই অর্জিত হয়েছে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

দেশ ও জাতির ক্রান্তিকালে আত্মত্যাগ এক মহৎ ও অনন্য দৃষ্টান্ত। এই আত্মত্যাগ শুধু একটি ঘটনা হয়ে থাকে না, বরং তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার চিরন্তন উৎস হয়ে দাঁড়ায়। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের মতো ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে এই আত্মোৎসর্গের গুরুত্ব অপরিসীম।

উদ্দীপক-১ এ একাত্তরের ভয়াবহ কালো রাত্রি এবং পাকিস্তানি বাহিনীর জুলুমের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যা বাঙালির চরম আত্মত্যাগের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল। উদ্দীপক-২ এ কবি নির্ভীকভাবে প্রাণ উৎসর্গ করার যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা এই আত্মত্যাগের মহত্ত্বকেই তুলে ধরে। 'একুশের গল্প' এর তপুর আত্মত্যাগ এই কবির ভাবনারই মূর্ত প্রতীক। ভাষা আন্দোলনে নিজের জীবন উৎসর্গ করে তপু প্রমাণ করেছে যে, ভাষার অধিকার রক্ষায় বাঙালি কতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল। তপুর এই আত্মদান কেবল একটি ভাষা বা জাতির পরিচয় রক্ষার সংগ্রাম ছিল না, বরং তা ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের এক দৃপ্ত ঘোষণা।

তপুর আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশপ্রেম, ভাষাপ্রীতি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর প্রেরণা জোগায়। তারা শিখতে পারে যে, মাতৃভাষা ও সংস্কৃতির মর্যাদা রক্ষায় কত বড় মূল্য দিতে হতে পারে। উদ্দীপক-২ এর কবির ভাবনা এবং তপুর মতো আত্মোৎসর্গকারী শহিদদের দৃষ্টান্ত তরুণ প্রজন্মকে আত্মমর্যাদাশীল, প্রতিবাদী এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে। এই আত্মত্যাগ আমাদের জাতীয় চেতনাকে আরও শাণিত করে এবং দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়।

সুতরাং, উদ্দীপক-২ এ প্রকাশিত কবির নির্ভীক আত্মত্যাগের আহ্বান এবং 'একুশের গল্প' এর তপুর মতো অসংখ্য শহিদের আত্মোৎসর্গ শুধুমাত্র ইতিহাস নয়, বরং তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশপ্রেম, ন্যায়বিচার ও আত্মমর্যাদার এক আলোকবর্তিকা। এই আত্মত্যাগ আমাদের জাতীয় সত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে এবং বাঙালি জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সর্বদা অনুপ্রাণিত করবে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
56

Related Question

View All
উত্তরঃ

'পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভার'- কথাটির মধ্য দিয়ে লেখক বাষ্প্রতিবন্ধী সুভার বিয়ের বয়স হওয়া সত্ত্বেও বিয়ে দিতে না পারায় পিতা-মাতার হৃদয়ের নীরব কষ্টকে বোঝাতে চেয়েছেন।

সুভা বাণীকন্ঠের ছোট মেয়ে। সে কথা বলতে পারে না। বাণীকণ্ঠ তার বড় দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু বাষ্প্রতিবন্ধী হওয়ায় ছোট মেয়ে সুভাকে বিয়ে দিতে পারেননি। তাই সুভার ভবিষ্যৎ নিয়ে বাণীকণ্ঠ এবং তার স্ত্রী উভয়েই চিন্তিত। সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে তাদের হৃদয়ে নীরব কষ্ট সৃষ্টি হয়। লেখক সেই কষ্টকেই বলেছেন- পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভার।

10.8k
উত্তরঃ

উদ্দীপকের প্রথম অংশের বক্তব্যে কল্যাণী ও সুভার শারীরিক প্রতিবন্ধিতার দিকটির সংগতি দেখানো হয়েছে।

শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে অনেকে সমাজে অবহেলার শিকার হয়। এতে সমাজের মানুষ হীনম্মন্যতার পরিচয় দেয়। প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহানুভূশীল হলে তবেই তারা বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাবে এবং সমাজে সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে পারবে।

'সুভা' গল্পে সুভা কথা বলতে পারে না। আনন্দের বার্তা নিয়ে পৃথিবীতে এলেও কথা বলতে না পারার বিষয়টি কিছুটা সুভার বাবা- মায়ের মনে নীরব হৃদয়ভারের জন্ম দেয়। উদ্দীপকের কল্যাণীর জন্মও পরিবারে আনন্দ নিয়ে আসে। কিন্তু তার মানসিক প্রতিবন্ধিতার দিকটি সবাইকে চিন্তিত করে তোলে। তার মানসিক বিকাশ কিছুটা কম হয়েছে। 'সুভা' গল্পের সুভাও বাষ্প্রতিবন্ধী হওয়ায় তার পরিবারের সবার দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে উদ্দীপকের বক্তব্যে কল্যাণী ও সুভার প্রতিবন্ধিতার দিকটি সংগতিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

7.7k
উত্তরঃ

কল্যাণী ও সুভা একই পরিস্থিতির শিকার হলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট ও পরিণতি ভিন্ন- মন্তব্যটি যথার্থ।

শারীরিক প্রতিবন্ধীরা আমাদের সমাজে বিভিন্নভাবে অবহেলার সম্মুখীন হয়। তারা আমাদের সমাজেরই অংশ, আমাদের মতোই মানুষ। তাই তাদের কল্যাণে এগিয়ে আসা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমাদের সহানুভূতি পেলে তারা জীবনের পূর্ণতা লাভ করবে।

উদ্দীপকে কল্যাণীর মানসিক বিকাশ ঠিকভাবে ঘটেনি। বিয়ের কথাবার্তায় তার বাবা পলাশ বাবু বরপক্ষের কাছে সে সব কথা খুলে বলেন। তারা সব শুনে উদারতার পরিচয় দেন। বরের বাবা সুবোধ বাবু মহত্ত্বের পরিচয় দিয়ে কল্যাণীকে ঘরে নিয়ে যেতে চান। অন্যদিকে 'সুভা' গল্পের সুভা বাষ্প্রতিবন্ধী। সে কথা বলতে পারে না। সবার কাছ থেকে অবহেলা পেলেও সুভা তার বাবার ভালোবাসা পেয়েছে। সুভার সাথে কেউ মেশে না বলে সে পোষা প্রাণীদের মাঝে নিজের একটি বিশাল জগৎ তৈরি করেছে।

উদ্দীপকের কল্যাণী ও 'সুভা' গল্পের সুভা একই পরিস্থিতির শিকার হলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট ও পরিণতি ভিন্ন। কল্যাণী সুবোধ বাবুর উদারতায় পেয়েছে সুন্দর ভবিষ্যতের সন্ধান। অথচ 'সুভা' গল্পের সুভার পরিণতি এতটা মানবিকতায় সিক্ত হয়নি। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

5.9k
উত্তরঃ

শঙ্খের মধ্যে যেমন সমুদ্রের শব্দ শুনা যায়, তেমনি এই লাইব্রেরির মধ্যে কি হৃদয়ের উত্থানপতনের শব্দ শুনিতেছ

8.1k
উত্তরঃ

‘জীবিত ও মৃত ব্যক্তির হৃদয় পাশাপাশি এক পাড়ায় বাস করিতেছে’ – উক্তিটির মাধ্যমে গ্রন্থাগার বা বইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। বইয়ের পাতায় মৃত বা বিগত প্রজন্মের জ্ঞানী-গুণী মানুষের চিন্তা, দর্শন, অভিজ্ঞতা ও সৃষ্টিশীলতা সংরক্ষিত থাকে। যখন একজন জীবিত পাঠক সেই বই পড়েন, তখন যেন মৃত লেখকের হৃদয় বা মননের সাথে জীবিত পাঠকের মনের নিবিড় সংযোগ ঘটে।

এভাবে বইয়ের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা জীবিত প্রজন্মের মধ্যে প্রবাহিত হয়, যা মানবজাতির নিরন্তর জ্ঞানচর্চাকে সম্ভব করে তোলে। লেখক এবং পাঠকের এই আত্মিক মিলনকে তুলনা করা হয়েছে একই পাড়ায় বসবাস করা হৃদয়ের সাথে, যেখানে সময় ও স্থানের বাধা অতিক্রম করে জ্ঞান ও উপলব্ধির এক নিরন্তর বিনিময় ঘটে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
6.1k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews