উদ্দীপক-১: কৃষ্ণকলি আমি তারেই বলি

কালো তারে বলে গাঁয়ের লোক

মেঘলা দিনে দেখেছিলাম মাঠে

কালো মেয়ের কালো হরিণ চোখ।

ঘোমটা মাথায় ছিল না তার মোটে

উদ্দীপক-২: ময়মনসিংহের অজপাড়াগাঁয়ের কলসিন্দুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কিশোরী ফুটবল দল বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ চ্যাম্পিয়ন হলে সারাদেশে কলসিন্দুরের নাম ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তাদের কারণে ওই গ্রামে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে। এখন কলসিন্দুর একটি আদর্শ গ্রাম। এখানকার মেয়েরা এখন বিশ্ব অঙ্গনে বাংলাদেশের নাম ছড়াচ্ছে। গ্রামবাসী এখন তাদের জন্য গর্ববোধ করে।মুক্ত বেণি পিঠের 'পরে লোটে।

Updated: 7 months ago
উত্তরঃ

জসীমউদ্দীন তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

উত্তরঃ

"কালো মুখে, কালো ভ্রমর, কীসের রঙিন ফুল!" বলতে কৃষকের কালো ছেলের বাহ্যিক সৌন্দর্য ও গুণের দিকটিকে বোঝানো হয়েছে।

রূপাই' কবিতায় কবি কৃষকের ছেলে রূপাইয়ের শারীরিক সৌন্দর্য বর্ণনায় গ্রামীণ প্রকৃতিকে অনুষঙ্গ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। গ্রামীণ জীবনে কৃষকদের শরীরের গড়ন ও কালো গায়ের রং সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। কৃষকের ছেলেটি কালো; কিন্তু সে কর্মে নিপুণ। কবির কাছে সেই কৃষকের ছেলের গায়ের কালো রং কালো ভ্রমরের মতো। সেটা কবির কাছে রঙিন ফুলের চেয়েও অনেক বেশি আকৃষ্টের বিষয়। আলোচ্য লাইনটিতে এ বিষয়টিকেই নির্দেশ করা হয়েছে।

উত্তরঃ

উদ্দীপক-১-এ 'রূপাই' কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হলো রূপাইয়ের কালো রূপের বর্ণনা।

কালো-বরন হলেই যে অবহেলার পাত্র, তা নয়। জগতে বহু জিনিস কালো আছে। কালো বলে যদি তাদের দূরে সরিয়ে রাখা হয় তাহলে প্রকৃতির সৌন্দর্য যেমন নষ্ট হবে তেমনই মানুষের অস্তিত্বও সংকটে পড়বে। মেঘ কালো, আঁধার কালো, চোখ কালো, কালি কালো প্রভৃতি আমাদের জীবন ও প্রকৃতিরই অংশ।

উদ্দীপকের কবিতাংশে একটি কালো বরন মেয়ের রূপসৌন্দর্য তুলে ধরা হয়েছে। কবি এখানে ঘোমটাহীন মুক্ত বেণি পিঠে দুলিয়ে মেঘলা দিনে মাঠের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাওয়া এক কালো মেয়ের অপরূপ কালো হরিণ চোখের কথা বলেছেন। গাঁয়ের লোকে মেয়েটিকে কালো বললেও কবি তাকে কৃষ্ণকলি বলে আখ্যায়িত করেছেন। উদ্দীপকের কালো বরন এই মেয়েটির প্রতি কবির অনুরাগ এবং ভালোবাসা 'রূপাই' কবিতার কালো বরণ চাষার ছেলের প্রতি কবির অনুরাগের দিকটিকে নির্দেশ করে। উদ্দীপকের মেয়েটিকে গাঁয়ের লোকেরা কালো বললেও তার কালো হরিণ চোখ আর কালো চুলের বেণি কবির হৃদয় জয় করেছে। 'রূপাই' কবিতায় রোদে পেড়া কালো-বরণ চাষির ছেলে কবির হৃদয় জুড়িয়েছে। রূপাই মূলত রোদে পোড়া, বৃষ্টিতে ভেজা বাংলাদেশের কালো বরন কৃষকের প্রতিনিধি। উভয়ের রূপ কালো হলেও উভয়েই তাদের কালো রূপ দিয়ে কবিদের মন জয় করেছে। কেননা কবিরা মনে করেন কালো রঙের গুরুত্ব অনেক। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপক-১ এ আলোচ্য কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হলো রূপাইয়ের কালো রূপের বর্ণনা।

উত্তরঃ

হ্যাঁ, উদ্দীপক-২ 'রূপাই' কবিতার মূলভাবকে তুলে ধরে।

শ্রমজীবী মানুষের শ্রম দ্বারাই সভ্যতার জয়যাত্রা অব্যাহত থাকে। অথচ তারাই সমাজে নানাভাবে অবহেলার শিকার হয়। সুযোগ পেলে তারা সবার জন্য কল্যাণকর কাজে আত্মনিয়োগ করে সুনাম বয়ে আনতে পারে। কারণ তারা পরিশ্রমী ও কল্যাণকামী।

উদ্দীপক-২-এ ময়মনসিংহের অজপাড়াগাঁয়ের কলসিন্দুর বিদ্যালয়ের কিশোরী ফুটবল দলের কৃতিত্ব তুলে ধরা হয়েছে। এখানে কর্ম ও আত্মবিশ্বাস দিয়ে কিশোরী ফুটবল দল তাদের প্রিয় গ্রাম কলসিন্দুর এবং কলসিন্দুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে বাংলাদেশের সবার কাছে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে সম্মানিত করেছে। তাদের নামেই আজ তাদের গ্রাম ও বিদ্যালয় সবার কাছে নামি। উদ্দীপকের এই বিষয়টি 'রূপাই' কবিতার রূপাই সম্পর্কে কবির ইতিবাচক মন্তব্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কবি আলোচ্য কবিতায় রূপাই সম্পর্কে করে বলেছেন 'এক কালেতে ওরই নামে সব গাঁ হবে নামি।' এ কথার মাধ্যমে চাষির কালো বরণ ছেলের মহিমা জগতে ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত করেছেন। যা উদ্দীপকের কলসিন্দুর গ্রামের কিশোরী ফুটবল দলের বিশ্বজোড়া পরিচিতিকে নির্দেশ করে।

'রূপাই' কবিতায় কবি বাংলাদেশের গ্রামীণ প্রকৃতিকে সামনে রেখে গাঁয়ের চাষির ছেলে রূপাইয়ের বাহ্যিক রূপ-সৌন্দর্য ও কর্মগুণের বর্ণনা দিয়েছেন। রূপাইয়ের গায়ের রং কালো, কিন্তু কর্ম দিয়ে সে সব জয় করেছে। সারাদিন রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে কৃষকরা সবার জন্য খাদ্য জোগায়। কালো-বরন চাষার ছেলে রূপাই সেই কৃষকদের প্রতিনিধি। উদ্দীপকের অজপাড়াগাঁয়ের কিশোরী ফুটবলাররাও রূপাইয়ের মতো সবার জন্য সুনাম বয়ে এনেছে তাদের পরিচয়েই তাদের গ্রাম ও বিদ্যালয় নুতন করে পরিচিতি পেয়েছে। তাই বলা যায় যে, কল্যাণ, সুনাম ও অবদানের দিক দিয়ে উদ্দীপক-২ 'রূপাই' কবিতার মূলভাবকে তুলে ধরে।

83

এই গাঁয়ের এক চাষার ছেলে লম্বা মাথার চুল,

কালো মুখেই কালো ভ্রমর, কিসের রঙিন ফুল!

কাঁচা ধানের পাতার মতো কচি-মুখের মায়া,

তার সাথে কে মাখিয়ে দেছে নবীন তৃণের ছায়া।

জালি লাউয়ের ডগার মতো বাহু দুখান সরু,

গা খানি তার শাওন মাসের যেমন তমাল তরু।

বাদল-ধোয়া মেঘে কে গো মাখিয়ে দেছে তেল,

বিজলি মেয়ে পিছলে পড়ে ছড়িয়ে আলোর খেল।

কচি ধানের তুলতে চারা হয়তো কোনো চাষি,

মুখে তাহার জড়িয়ে গেছে কতকটা তার হাসি।

 

কালো চোখের তারা দিয়েই সকল ধরা দেখি,

কালো দতের কালি দিয়েই কেতাব কোরান লেখি।

জনম কালো, মরণ কালো, কালো ভুবনময়;

চাষিদের ওই কালো ছেলে সব করেছে জয়।

সোনায় যে-জন সোনা বানায়, কিসের গরব তার

রং পেলে ভাই গড়তে পারি রামধনুকের হার।

কালোয় যে-জন আলো বানায়, ভুলায় সবার মন,

তারির পদ-রজের লাগি লুটায় বৃন্দাবন।

সোনা নহে, পিতল নহে, নহে সোনার মুখ

কালো-বরন চাষির ছেলে জুড়ায় যেন বুক।

যে কালো তার মাঠের ধান, যে কালো তার গাঁও!

সেই কালোতে সিনান করি উজল তাহার গাও।

 

আখড়াতে তার বাঁশের লাঠি অনেক মানে মানী,

খেলার দলে তারে নিয়েই সবার টানাটানি।

জারির গানে তাহার গলা উঠে সবার আগে,

শাল-সুন্দি-বেত' যেন ও, সকল কাজেই লাগে।

বুড়োরা কয়, ছেলে নয় ও, পাগাল লোহা যেন,

রূপাই যেমন বাপের বেটা কেউ দেখেছ হেন?

যদিও রূপা নয়কো রুপাই, রূপার চেয়ে দামি,

এক কালেতে ওরই নামে সব গাঁ হবে নামি।

Related Question

View All
উত্তরঃ

চাষির ছেলের 'গা-খানি' দেখতে শাওন মাসের তমাল তরুর মতো।

309
উত্তরঃ

আলোচ্য চরণটির মধ্য দিয়ে কবি বোঝাতে চেয়েছেন সভ্যতা নির্মাণে চাষির ছেলের কৃতিত্ব।

কৃষক সভ্যতার নির্মাতা। দেশের অর্থনীতির চালক। কালো কৃষকরা সারা দিন রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে ফসল ফলিয়ে পৃথিবীকে এগিয়ে নিয়ে যান। চাষির ওই কালো ছেলে রূপাইও তার শ্রম দিয়ে সবকিছু জয় করেছে।

329
উত্তরঃ

উদ্দীপক ও 'রূপাই' কবিতার আলোকে বলতে পারি আমার দেখা পল্লিগ্রামটি অতি মনোরম।

বাংলাদেশ গ্রামপ্রধান দেশ। এদেশের মানুষ প্রকৃতির নিবিড় বন্ধনে জড়িয়ে রয়েছে। বাংলার মাটে-ঘাটে ছড়ানো অবারিত সৌন্দর্য আমাদের মুগ্ধ করে।

'রূপাই' কবিতায় শস্য-শ্যামল বাংলার অপরূপ রূপের প্রকাশ ঘটেছে রূপাইয়ের শারীরিক বর্ণনার মধ্য দিয়ে। অন্যদিকে উদ্দীপকেও গ্রাম বাংলার ছায়াময় মায়াময় অবস্থার কথা প্রকাশ পায় গ্রাম্য বালক ছমির শেখের কাজে-কর্মে ও অবস্থায়। আমার নানাবাড়ির গ্রামটি ঠিক একই রকম। চারদিক সবুজে ঘেরা। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে নদী। সোনালি ফসল মাঠে বাতাসে দোল খায়। কৃষকরা সারা দিন মাঠে পরিশ্রম করে ফসল ফলান। এককথায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর গ্রামটি।

143
উত্তরঃ

"উদ্দীপকটি 'রূপাই' কবিতার মূলভাবের খন্ডাংশ মাত্র"-মন্তব্যটি যথার্থ।

বাংলাদেশের গ্রামীণ প্রকৃতি মনোমুগ্ধকর। এদেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বাস করে। পেশাজীবীদের মধ্যে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ হচ্ছে কৃষিজীবী। কৃষকরা সরাসরি উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। তারা এ দেশের খাদ্য চাহিদা পূরণে নিরলস পরিশ্রম করেন।

উদ্দীপকে গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা একজন দুরন্ত বালকের কর্মতৎপরতা ও মানবিক গুণের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। এ বিষয়টি 'রূপাই' কবিতায় প্রতিফলিত গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রূপাইয়ের কর্মতৎপরতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে তা সব দিক থেকে সমানভাবে নয়। কারণ কবিতায় রূপাইয়ের বাহ্যিক গড়ন ও মানসিক গঠনের যে পরিচয় দেওয়া হয়েছে অনুরূপ পরিচয় উদ্দীপকের বালকটির বেলায় দেওয়া হয়নি। রুপাইকে নিয়ে খেলার দলে টানাটানির বিষয়টিও অনুপস্থিত। কবিতায় কবি 'কালো' রঙের কৃষকের বিশেষত্বের কথাও প্রকাশ করেছেন যা উদ্দীপকে নেই।

'রূপাই' কবিতায় কবি গ্রাম-বাংলার প্রকৃতি, কৃষকের রূপ ও কর্মোদ্যোগ অসাধারণ ভাষায় প্রকাশ করেছেন। গ্রাম-বাংলার প্রকৃতির মধ্যে কালো ভ্রমর, রঙিন ফুল, কাঁচা ধানের পাতা, জালি লাউয়ের ডগার মতো চাষার ছেলের বাহু ইত্যাদি বিষয় আছে, যা আলোচ্য উদ্দীপকে নেই। উদ্দীপকে বর্ণিত বালকটি ফসলের বীজ বোনা ও যাত্রাদলায় অভিনয় করায় দক্ষ। তবে তা কবিতায় বর্ণিত কালো চাষার ছেলের মানবিকতা, পরিশ্রমী মনোভাব ও আখড়ায় লাঠি খেলায় বা জারির গানের দক্ষতাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো নয়। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

258
উত্তরঃ

কর্মদক্ষ এবং সাহসী বলে কবিতায় রূপাইকে 'বাপের বেটা' বলা হয়েছে।

'রূপাই' কবিতায় রূপের বর্ণনাসহ রূপাইয়ের স্বভাব বৈশিষ্ট্যের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। কৃষকের ছেলে রূপাইয়ের গায়ের রং কালো। সে বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে পুড়ে মাঠে সোনার ফসল ফলায়। এ কাজে তার ক্লান্তি নেই। শুধু কৃষিকাজই নয়, রূপাই খেলার মাঠেও দূরন্ত খেলোয়াড়। সবাই তাকে দলে নিতে টানাটানি করে। রূপাই আখড়াতে বাঁশের বাঁশি বাজায়, জারির গান গায়। গাঁয়ের বৃদ্ধরা রূপাইকে অনেক ভালোবাসেন। তারা রূপাইয়ের মঙ্গল কামনা করেন। রূপাইয়ে কর্মদক্ষতা ও সাহসে তারা মুগ্ধ। এ মুগ্ধতা থেকেই তারা প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।

142
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews