বরিশালের কাঠের নৌকার কাজ বেশ নিপুণতার দাবি রাখে।
কাঁথার নাম নকশিকাঁথা। কারণ এ কাঁথার প্রতিটি সুচের ফোঁড়ের মধ্যে লুকিয়ে থাকে এক-একটি পরিবারের কাহিনি, তাদের পরিবশে, তাদের জীবনের সুখ-দুঃখের নানান রং।
শুধু কতগুলো সূক্ষ্ম সেলাই আর রংবেরঙের নকশার জন্যই নকশিকাঁথাকে নকশিকাঁথা বলা হয় না। এই কাঁথার মধ্যে লুকিয়ে থাকে কাঁথা সেলাইকারীর সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার আখ্যান। কাঁথার প্রতিটি সূচের ফোঁড়ের মধ্যে লুকিয়ে আছে এক-একটি পরিবারের কাহিনি, তাদের পরিবেশ, তাদের জীবনগাথা। আর এ কারণেই এ কাঁথার নাম নকশিকাঁথা।
উদ্দীপক-১-এ 'আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধে বর্ণিত গ্রামবাংলার ঐতিহ্য নুকশিকাঁথার দিকটি ফুটে উঠেছে।
লোকশিল্প আমাদের দেশের মানুষের গর্বের বিষয়। এটি জাতীয় অর্থনীতিকে গতিশীল রাখে, মানুষকে স্বাবলম্বী করে। তবে বর্তমানে এসব লোকশিল্প হুমকির মুখে। কারণ যথাযথ সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের অপ্রতুলতা, আধুনিক প্রযুক্তির উদ্ভাবন ইত্যাদি কারণে মানুষ এসব শিল্পের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।
উদ্দীপকের প্রথম অংশে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য নকশিকাঁথার কথা প্রকাশ পেয়েছে। বুকের স্বপ্ন রঙিন কাঁথায় ভাষা পায় সুতার ফোঁড়ের মধ্যে। যেখানে সৃষ্টি হয় মায়াময় আবেশ। উদ্দীপকের এই ভাবটি 'আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধের নকশিকাঁথার বর্ণনার মাঝে পরিলক্ষিত হয়। প্রাবন্ধিক নকিশকাঁথা সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, আপন পরিবেশ থেকেই গ্রামের মেয়েরা মনের মতো করে নকশিকাঁথা সেলাইয়ের অনুপ্রেরণা 'পেত। এমনই এক একটি কাঁথা সেলাই করতে কত কথা, কত হাসি, কত কান্নার মধ্য দিয়ে শেষ হতো তা বলা যায় না। কাথার প্রতিটি সুচের ফোঁড়ের মধ্যে লুকিয়ে আছে এক একটি পরিবারের কাহিনি, পরিবেশ ও তাদের জীবনগাথা। প্রবন্ধের এ দিকটিই উদ্দীপক-১-এ ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপক-২-এর শিক্ষকের দৃষ্টিভঙ্গি 'আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধুের লেখকেরই প্রতিফলন।- মন্তব্যটি যথার্থ।
অতীত কাল থেকে লোকশিল্প বাঙালির জীবনের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে। বাঙালির মনন, রুচি, সৃজনশীলতা এ সবকিছুর মিশেলে তৈরি হয়েছে লোকশিল্পের প্রতিটি উপাদান। এগুলো সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের দায়িত্ব আমাদেরই পালন করতে হবে।
উদ্দীপক ২-এ লোকশিল্পের প্রতি গুরুত্ব ও যত্নবান হওয়ার প্রয়োজনীয়তার দিকটি উপস্থাপিত হয়েছে। উদ্দীপকের শিক্ষক সোনারগাঁওয়ে গিয়ে লোকশিল্পের বিভিন্ন উপকরণের সাথে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন- লোকশিল্প আমাদের অমূল্য সম্পদ। এগুলো ব্যবহার ও সংক্ষণে তিনি তাদের যত্নবান হওয়ার উপদেশ দেন। 'আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধেও লোকশিল্পের প্রতি গুরুত্বের দিকটি উঠে এসেছে।
'আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক কামরুল হাসান বাংলাদেশের লোকশিল্প ও লোকঐতিহ্যের বর্ণনা দিয়েছেন। এ বর্ণনায় লোকশিল্পের প্রতি তাঁর গভীর মমত্ববোধের পরিচয় রয়েছে। তিনি প্রবন্ধে বলেছেন, আমাদের দেশের লোকশিল্প সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের দায়িত্ব আমাদের সকলের। লোকশিল্পের মাধ্যমে আমরা আমাদের ঐতিহ্যকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারি। লেখকের এই প্রত্যাশার প্রতিফলন উদ্দীপকের শিক্ষকের বক্তব্যে লক্ষ করা যায়। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allখুলনা এলাকার 'মাদুর' সকলের কাছে পরিচিত।
'ঢাকাই মসলিনের কদর ছিল দুনিয়া জুড়ে' বলতে ঢাকাই মসলিনের জনপ্রিয়তার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।
একসময় ঢাকা শহরের অদূরে ডেমরা এলাকার তাঁতিদের দ্বারা ঢাকাই মসলিন তৈরি হতো। মসলিন তৎকালীন মোগল বাদশাহদের বিলাসের বস্তু ছিল। এ কাপড়টি অতি সূক্ষ্ম সুতা দিয়ে বোনা হতো বলে ছোট্ট একটি আংটির ভিতর দিয়ে অনায়াসে কয়েকশ গজ মসলিন কাপড় প্রবেশ করানো সম্ভব ছিল। কারিগরি দক্ষতা নয়, কাপড় বোনার জন্য শিল্পীমন থাকা প্রয়োজন।
স্বামীর মৃত্যুর পর রহিমার কাজটি 'আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধের 'নকশিকাঁথা'র প্রতিনিধিত্ব করে।
আমাদের লোকশিল্পের একটি অন্যতম উপাদান হলো নকশিকাঁথা। নকশিকাঁথা একদিকে যেমন আমাদের ঐতিহ্যের পরিচয় দেয় অন্যদিকে তেমনই অনেক মানুষের জীবিকার উপায় হিসেবে কাজ করে।
উদ্দীপকে রহিমা স্বামী মারা যাওয়ার পর উপায়ান্তর না দেখে নকশিকাঁথা সেলাইয়ের কাজ শুরু করে। সে নকশি তোলা কাঁথার মধ্যে নিজের জীবনের সুখ-দুঃখের স্মৃতি, নানা রকম ফুল ও নকশার মধ্যে দিয়ে সাজিয়ে তোলে। একটি বেসরকারি সংগঠনের মাধ্যমে সেগুলো বিদেশে পাঠানোর সুযোগ পেয়ে সে অনেক টাকা আয় করে। 'আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধটিতে যা বলা হয়েছে তা হলো- বর্ষাকালে যখন চারদিকে পানি থৈ থৈ করে, ঘর থেকে বাইরে বের হওয়া যায় না, এমন মৌসুমে নকশিকাঁথা সেলাই করা হতো। মেয়েরা সংসারে কাজ শেষ করে দুপুরের খাওয়া-দাওয়া সেরে পাটি বিছিয়ে পানের বাটাটি পাশে নিয়ে পা মেলে বসতেন এ বিচিত্র নকশা তোলা কাঁথা সেলাইয়ের জন্য।
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে রহিমার অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কর্মমুখী শিক্ষা গ্রহণ এবং হাতে-কলমে কাজের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রাখা প্রয়োজন। তা হলে নিজের উন্নতির পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন হয়।
আলোচ্য প্রবন্ধে বলা হয়েছে, আমাদের লোকশিল্প শুধু আমাদের বিলাসিতা বা শৌখিনতার জন্যই নয়। বিশ্বের বহু উন্নত দেশের কাছে এ শিল্প সমাদৃত। অতীতে মোগল বাদশাহরা এ ধরনের শিল্পকে সাদরে গ্রহণ করতেন। বর্তমানেও বহু উন্নত জাতি-গোষ্ঠীর মানুষ আমাদের লোকশিল্প অনেক মূল্য দিয়ে কিনে নিচ্ছে। 'আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধের এদিক বিবেচনায় উদ্দীপকের রহিমা একজন লোকশিল্প সংরক্ষণ ও উন্নয়নের প্রতিনিধি। রহিমার মতো হাজারো নারী এ শিল্পের সাথে জড়িত থেকে বিদেশি মুদ্রা নিয়ে আসছে দেশে। তারা দেশের অর্থনীতিকে শক্তি পার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধে শিল্পী কামরুল হাসান নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার এবং দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য যেসব কুটিরশিল্পের কথা বলেছেন নকশিকাঁথা সেগুলোর মধ্যে অন্যতম। উদ্দীপকের রহিমা ছোটবেলা থেকেই বাঁশ-বেত দিয়ে সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তৈরি করত। আচমকা স্বামী মারা গেলে নকশিকাঁথা সেলাইয়ের কাজই তার সংসারে আয় করার সুযোগ করে দিয়েছে। তাই বলা যায়, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে রহিমার অব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শিল্পগুণ বিচারে আমাদের কুটিরশিল্প লোকশিল্পের মধ্যে পড়ে।
বর্ষাকাল নকশিকাঁথা তৈরির উপযুক্ত সময়। কারণ এ সময় বৃষ্টি থাকায় ঘর থেকে বাইরে বের হওয়া যায় না এবং কৃষকবধূরা অবসর থাকে।
নকশিকাঁথা লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ লোকশিল্প। এক সময় বাংলাদেশের গ্রামে গ্রামে এ নকশিকাঁথা তৈরির রেওয়াজ ছিল। বর্ষাকালে যখন চারদিকে পানি থৈ থৈ করে, ঘর থেকে বের হওয়া যায় না, এমন মৌসুমই ছিল নকশিকাঁথা সেলাইয়ের উপযুক্ত সময়। মেয়েরা সংসারের কাজ শেষ করে পাটি বিছিয়ে পানের বাটাটি পাশে নিয়ে পা মেলে বসতেন, মনের মতো করে নকশিকাঁথা সেলাই করতেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!



