উদ্দীপক-১: কেউবা রঙিন কাঁথায় মেলিয়া

বুকের স্বপন খানি

তারে ভাষা দেয় দীঘল সূতায়

মায়াবী আখর টানি।

উদ্দীপক- ২: মিলু তার বিদ্যালয় থেকে শিক্ষাসফরে সোনারগাঁও যায়। সেখানে লোকশিল্পের নানা উপকরণ দেখে সে মুগ্ধ। তার শিক্ষক তাকে ও তার সহপাঠীদেরকে দেশীয় ঐতিহ্যের বিভিন্ন শিল্পের পরিচয় দেন এবং বলেন এসব আমাদের লোকশিল্পের অমূল্য সম্পদ। এ সম্পদগুলোর ব্যবহার ও সংরক্ষণে তোমরা যত্নবান হবে।

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

বরিশালের কাঠের নৌকার কাজ বেশ নিপুণতার দাবি রাখে।

উত্তরঃ

কাঁথার নাম নকশিকাঁথা। কারণ এ কাঁথার প্রতিটি সুচের ফোঁড়ের মধ্যে লুকিয়ে থাকে এক-একটি পরিবারের কাহিনি, তাদের পরিবশে, তাদের জীবনের সুখ-দুঃখের নানান রং।

শুধু কতগুলো সূক্ষ্ম সেলাই আর রংবেরঙের নকশার জন্যই নকশিকাঁথাকে নকশিকাঁথা বলা হয় না। এই কাঁথার মধ্যে লুকিয়ে থাকে কাঁথা সেলাইকারীর সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার আখ্যান। কাঁথার প্রতিটি সূচের ফোঁড়ের মধ্যে লুকিয়ে আছে এক-একটি পরিবারের কাহিনি, তাদের পরিবেশ, তাদের জীবনগাথা। আর এ কারণেই এ কাঁথার নাম নকশিকাঁথা।

উত্তরঃ

উদ্দীপক-১-এ 'আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধে বর্ণিত গ্রামবাংলার ঐতিহ্য নুকশিকাঁথার দিকটি ফুটে উঠেছে।

লোকশিল্প আমাদের দেশের মানুষের গর্বের বিষয়। এটি জাতীয় অর্থনীতিকে গতিশীল রাখে, মানুষকে স্বাবলম্বী করে। তবে বর্তমানে এসব লোকশিল্প হুমকির মুখে। কারণ যথাযথ সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের অপ্রতুলতা, আধুনিক প্রযুক্তির উদ্ভাবন ইত্যাদি কারণে মানুষ এসব শিল্পের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

উদ্দীপকের প্রথম অংশে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য নকশিকাঁথার কথা প্রকাশ পেয়েছে। বুকের স্বপ্ন রঙিন কাঁথায় ভাষা পায় সুতার ফোঁড়ের মধ্যে। যেখানে সৃষ্টি হয় মায়াময় আবেশ। উদ্দীপকের এই ভাবটি 'আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধের নকশিকাঁথার বর্ণনার মাঝে পরিলক্ষিত হয়। প্রাবন্ধিক নকিশকাঁথা সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, আপন পরিবেশ থেকেই গ্রামের মেয়েরা মনের মতো করে নকশিকাঁথা সেলাইয়ের অনুপ্রেরণা 'পেত। এমনই এক একটি কাঁথা সেলাই করতে কত কথা, কত হাসি, কত কান্নার মধ্য দিয়ে শেষ হতো তা বলা যায় না। কাথার প্রতিটি সুচের ফোঁড়ের মধ্যে লুকিয়ে আছে এক একটি পরিবারের কাহিনি, পরিবেশ ও তাদের জীবনগাথা। প্রবন্ধের এ দিকটিই উদ্দীপক-১-এ ফুটে উঠেছে।

উত্তরঃ

উদ্দীপক-২-এর শিক্ষকের দৃষ্টিভঙ্গি 'আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধুের লেখকেরই প্রতিফলন।- মন্তব্যটি যথার্থ।

অতীত কাল থেকে লোকশিল্প বাঙালির জীবনের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে। বাঙালির মনন, রুচি, সৃজনশীলতা এ সবকিছুর মিশেলে তৈরি হয়েছে লোকশিল্পের প্রতিটি উপাদান। এগুলো সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের দায়িত্ব আমাদেরই পালন করতে হবে।

উদ্দীপক ২-এ লোকশিল্পের প্রতি গুরুত্ব ও যত্নবান হওয়ার প্রয়োজনীয়তার দিকটি উপস্থাপিত হয়েছে। উদ্দীপকের শিক্ষক সোনারগাঁওয়ে গিয়ে লোকশিল্পের বিভিন্ন উপকরণের সাথে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন- লোকশিল্প আমাদের অমূল্য সম্পদ। এগুলো ব্যবহার ও সংক্ষণে তিনি তাদের যত্নবান হওয়ার উপদেশ দেন। 'আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধেও লোকশিল্পের প্রতি গুরুত্বের দিকটি উঠে এসেছে।

'আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক কামরুল হাসান বাংলাদেশের লোকশিল্প ও লোকঐতিহ্যের বর্ণনা দিয়েছেন। এ বর্ণনায় লোকশিল্পের প্রতি তাঁর গভীর মমত্ববোধের পরিচয় রয়েছে। তিনি প্রবন্ধে বলেছেন, আমাদের দেশের লোকশিল্প সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের দায়িত্ব আমাদের সকলের। লোকশিল্পের মাধ্যমে আমরা আমাদের ঐতিহ্যকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারি। লেখকের এই প্রত্যাশার প্রতিফলন উদ্দীপকের শিক্ষকের বক্তব্যে লক্ষ করা যায়। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

169

খাদ্যশস্যের পরেই বাংলাদেশের মানুষের জীবনের সঙ্গে যে জিনিসটি অতি নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে, তা হলো এখানকার কুটিরশিল্প। এক সময়ে ঘর-গৃহস্থালির নিত্য ব্যবহারের প্রায় সব পণ্যই এদেশের গ্রামের কুটিরে তৈরি হতো। আজও অনেক কিছুই হয়। এগুলো কুটিরশিল্পের মাধ্যমে তৈরি হলেও শিল্পগুণ বিচারে এ ধরনের সামগ্রী লোকশিল্পের মধ্যে গণ্য।

আমাদের দেশের বিভিন্ন লোকশিল্পের কতকগুলো এক সময়ে এমন উচ্চমানের ছিল যে, আজও আমরা সেসব জিনিসের কথা স্মরণ করে গর্ববোধ করি।
প্রথমে বলতে হয় ঢাকাই মসলিনের কথা। ঢাকা শহরের অদূরে ডেমরা এলাকার তাঁতিদের এ অমূল্য সৃষ্টি এককালে দুনিয়া জুড়ে তুলেছিল প্রবল আলোড়ন। ঢাকার মসলিন তৎকালীন মোগল বাদশাহদের বিলাসের বস্তু ছিল। মসলিন কাপড় এত সূক্ষ্ম সুতা দিয়ে বোনা হতো যে, ছোট্ট একটি আংটির ভিতর দিয়ে অনায়াসে কয়েকশ গজ মসলিন কাপড় প্রবেশ করিয়ে দেয়া সম্ভব ছিল। শুধু কারিগরি দক্ষতায় নয়, এ ধরনের কাপড় বুনবার জন্য শিল্পী মন থাকাও প্রয়োজন। আজ সেই মসলিন নেই। তবে মসলিন যারা বুনত, তাদের বংশধররা যুগ যুগ ধরে এ শিল্পধারা বহন করে আসছে বলে জামদানি শাড়ি আমরা আজও দেখতে পাই। বর্তমান যুগে জামদানি শাড়ি দেশে-বিদেশে শুধু পরিচিতই নয়, গর্বের বস্তু।
এমনি আর একটি গ্রামীণ লোকশিল্প আজ লুপ্তপ্রায় হলেও কিছু কিছু নমুনা পাওয়া যায়। এটি হলো নকশিকাঁথা। এক সময় বাংলাদেশের গ্রামে গ্রামে এ নকশিকাঁথা তৈরির রেওয়াজ ছিল। এক একটি সাধারণ আকারের নকশিকাঁথা সেলাই করতেও কমপক্ষে ছয় মাস লাগত। বর্ষাকালে যখন চারদিকে পানি থৈ থৈ করে, ঘর থেকে বাইরে বের হওয়া যায় না, এমন মৌসুমই ছিল নকশিকাঁথা সেলাইয়ের উপযুক্ত সময়। মেয়েরা সংসারের কাজ সাঙ্গ করে দুপুরের খাওয়া-দাওয়া সেরে পাটি বিছিয়ে পানের বাটাটি পাশে নিয়ে পা মেলে বসতেন এ বিচিত্র নকশা তোলা কাঁথা সেলাই করতে। পড়শিরাও সুযোগ পেলে আসত গল্প করতে। আপন পরিবেশ থেকেই মেয়েরা তাঁদের মনের মতো করে কাঁথা সেলাইয়ের অনুপ্রেরণা পেতেন। এমনি এক একটি কাঁথা সেলাই কত গল্প, কত হাসি, কত কান্নার মধ্যে দিয়ে শেষ হতো তা বলা যায় না। শুধু কতকগুলো সূক্ষ্ম সেলাই আর রং-বেরঙের নকশার জন্যই নকশিকাঁথা বলা হয় না বরং কাঁথার প্রতিটি সুচের ফোঁড়ের মধ্যে লুকিয়ে আছে এক-একটি পরিবারের কাহিনি, তাদের পরিবেশ, তাদের জীবনগাথা।

আমাদের দেশের লোকশিল্প বিভিন্ন রূপে ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলে প্রাধান্য পেয়েছে। তাঁতশিল্প বাংলাদেশের সব এলাকাতেই আছে; তবে ঢাকা, টাংগাইল, শাহজাদপুর, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এলাকায় তাঁতশিল্পের মৌলিক বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।

জামদানি শাড়ির কথা আমরা আলোচনা করেছি। নারায়ণগঞ্জ জেলার নওয়াপাড়া গ্রামেই জামদানি কারিগরদের বসবাস। শতাব্দীকাল ধরে এ তাঁতশিল্প বিস্তার লাভ করেছে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী এ এলাকায়। বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ শীতলক্ষ্যা নদীর পানির বাষ্প থেকে যে আর্দ্রতার সৃষ্টি হয় তা জামদানি বোনার জন্য শুধু উপযোগীই নয়, বরং এক অপরিহার্য বস্তু বলা চলে। ভৌগোলিক অবস্থান, আবহাওয়া এবং পরিস্থিতির জন্য শুধু অতীতের তাঁতিদের তাঁতশিল্পই নয়, বর্তমানের বড় বড় কাপড়ের কারখানাও শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে গড়ে উঠেছে।
কুমিল্লা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামে প্রস্তুত খাদি বা খদ্দরের সমাদর শুধু গ্রামজীবনেই নয়, শহরের আধুনিক সমাজেও যথেষ্ট রয়েছে। খাদি কাপড়ের বিশেষত্ব হচ্ছে, এর সবটাই হাতে প্রস্তুত। তুলা থেকে হাতে সুতা কাটা হয়। গ্রামবাসীরা অবসর সময়ে সুতা কাটে। এদের বলা হয় কাটুনি। গ্রামে বাড়ির আশেপাশে তুলার গাছ লাগানোর রীতি আছে। সেই গাছের তুলা দিয়ে সুতা কাটা ও হস্ত চালিত তাঁতে এসব সুতায় যে কাপড় প্রস্তুত করা হয়, সেই কাপড়ই প্রকৃত খাদি বা খদ্দর। স্বদেশি আন্দোলনের যুগে বিদেশি কাপড় বর্জন করে দেশি কাপড় ব্যবহারের যে আদর্শ প্রবর্তিত হয়েছিল তারই সাফল্যের স্বাক্ষর এই খাদি।

পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, বান্দরবান, রামগড় এলাকার চাকমা, কুকি ও মুরং মেয়েরা এবং সিলেটের মাছিমপুর অঞ্চলের মণিপুরি মেয়েরা তাদের নিজেদের ও পুরুষদের পরিধেয় বস্ত্র বুনে থাকে। এ কাপড়গুলো সাধারণত মোটা ও টেকসই হয়। নকশা, রং ও বুনন কৌশল সবই তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য অনুযায়ী হয়।

বাংলাদেশের গ্রামে গ্রামে কাঁসা ও পিতলের বাসনপত্র এককালে বেশ প্রচলিত ছিল। আজও শত শত গ্রাম্য কারিগর তৈরি করে বিচিত্র ধরনের তৈজসপত্র। প্রথমে মাটির ছাঁচ করে তার মধ্যে ঢেলে দেয় গলিত কাঁসা। ধীরে ধীরে এ গলিত ধাতু ঠান্ডা হয়ে আসে। তখন ওপর থেকে মাটির ছাঁচটি ভেঙে ফেললেই ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে বদনা, বাটি, গ্লাস, থালা ইত্যাদি। তারপর এগুলো পালিশ করা হয়। এ ধরনের বাসনে নানারকম ফুল পাতার নকশা বা ফরমাশকারীর নাম খোদাই করা থাকে। এমনকি আজকাল অতি আধুনিক গৃহসজ্জার সামগ্রী হিসেবে তামা-পিতলের ঘড়া, থালা, ফুলদানি ব্যবহৃত হতে দেখা যায়।
পোড়ামাটির কাজের ঐতিহ্য এদেশে বহু যুগের। মাটির কলস, হাঁড়ি, পাতিল, সানকি, ফুলদানি, দইয়ের ভাঁড়, রসের ঠিলা সন্দেশ ও পিঠার ছাঁচ, টেপা পুতুল, হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী ইত্যাদির মূর্তি গড়বার কাজে বাংলাদেশের পালপাড়া ও কুমোরপাড়ার অধিবাসীরা সারা বছরই ব্যস্ত থাকে। আধুনিক রুচির ফুলদানি, ছাইদানি, চায়ের সেট, কৌটা, বাক্স বা ঘর সাজাবার নানা ধরনের শৌখিন সামগ্রী সব কিছুই মাটি দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে। এ ছাড়া পুরাকালের মসজিদ বা মন্দিরের গায়ে যেসব নকশাদার ইট দেখা যায় তা এদেশের লোকশিল্পের এক অতুলনীয় নিদর্শন।

প্রতীকধর্মী মাটির টেপা পুতুলগুলোর মধ্যে শত শত বছর পূর্বের পাল বা কুমোরদের যে কারিগরিবিদ্যা এবং শিল্পীমনের পরিচয় পাওয়া যায়, তা অভাবনীয়।
কাঠের কাজের খুব বেশি শিল্পগুণ আজকাল দেখা না গেলেও অতীতের কিছু কিছু নমুনা যা দেখতে পাওয়া যায় তা থেকে অনুমান করা যায় যে, এ দেশে এক সময় গৃহনির্মাণের কাজে কারুকার্যে ভূষিত কাঠের ব্যবহার ছিল। বিশেষ করে পুরাতন খাট-পালঙ্ক, খুঁটি-দরজা ইত্যাদির নমুনা আজও দেখা যায়। এ ধরনের কাজকে বলা হয় হাসিয়া। বরিশালের কাঠের নৌকার কাজও বেশ নিপুণতার দাবি রাখে।
খুলনার মাদুর এবং সিলেটের শীতলপাটি সকলের কাছে পরিচিত। গ্রীষ্মকালে ব্যবহারে আরামদায়ক বলেই নয়, শীতলপাটির নকশা একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্যের পরিচায়ক। অতীতে শীতলপাটির বহু দক্ষ কারিগর ছিল। এ শিল্পীদের দিয়ে এককালে ঢাকার নবাব পরিবার হাতির দাঁতের শীতলপাটি তৈরি করিয়েছিলেন। ঢাকার জাদুঘরে তা সংরক্ষিত আছে। এটি আমাদের লোকশিল্পের এক অতুলনীয় নিদর্শন।
আমাদের গ্রামের ঘরে ঘরে যে শিকা, হাতপাখা, ফুলপিঠা তৈরি করা হয়, তা মোটেই অবহেলার জিনিস নয়। এদের বিচিত্র নকশা, রং এবং কারিগরি সৌন্দর্যের যে নিদর্শন চোখে পড়ে তা শুধু আমাদের অতি আপন বস্তুই নয়, সৌন্দর্যের দিক দিয়েও এদের স্থান বহু উচ্চে। সাধারণ সামগ্রী হলেও যাঁরা এগুলো তৈরি করেন তাঁদের সৌন্দর্যপ্রিয়তার প্রকাশ ঘটে এসব জিনিসের মধ্য দিয়ে। শিকা গৃহস্থালির জিনিসপত্র ঝুলিয়ে রাখার জন্য তৈরি, একথা সকলেই জানে। শুধু শুধু প্রয়োজন মিটলেই মন ভরে না বলে সৌন্দর্যপ্রিয় মানুষ নানা নকশা জুড়ে দিয়ে তাকেও একটি বিশেষ শিল্পবস্তুতে পরিণত করেছে।
আমাদের দেশে বাঁশ অপ্রতুল নয়। বাঁশের নানারকম ব্যবহার ছাড়া আমাদের চলতেই পারে না। ছোটখাটো সামান্য হাতিয়ারের সাহায্যে আমাদের কারিগররা বাঁশ দিয়ে আজকাল আধুনিক রুচির নানা ব্যবহারিক সামগ্রী তৈরি করছে যা শুধু আমাদের নিজেদের দেশেই নয়, বিদেশেও বহুল পরিমাণে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ ছাড়া সোলাশিল্পের উৎকৃষ্ট সৃজনশীল নমুনাও দেখা যায় পুতুল, টোপর ইত্যাদির মধ্যে।
কাপড়ের পুতুল তৈরি করা আমাদের দেশের মেয়েদের একটি সহজাত শিল্পগুণ। অনেকাংশে এসব পুতুল প্রতীকধর্মী। অবশ্য আজকাল বাস্তবধর্মী কাপড়ের পুতুল তৈরিও শুরু হয়েছে। এগুলো যেমন আমাদের দেশের ঐতিহ্য ও জীবনের প্রতিনিধিত্ব করে, তেমনি বিদেশি পয়সাও উপার্জন করে।
লোকশিল্প সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের দায়িত্ব আমাদের সকলের। বাংলাদেশের বিভিন্ন শহর, শহরতলি এবং গ্রামের হাজার হাজার নারী-পুরুষ আছে, যারা কাজ করতে চায় অথচ কাজের অভাবে দিন দিন দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে। সুপরিকল্পিত উপায়ে এবং সুরুচিপূর্ণ লোকশিল্প প্রস্তুতির দিকে মনোযোগ দিলে তাদের সমস্যার কিছুটা সমাধান হবে।
আমাদের সকলকেই আজ আপন পরিবেশ এবং পরিস্থিতির দিকে শুধু চোখ দিয়ে তাকালে হবে না, হৃদয় দিয়েও তাকাতে হবে। লোকশিল্পের ভিতর দিয়ে হৃদয়-মনের প্রকাশ হলে তা বিদেশিদের হৃদয়ে সাড়া জাগাবে। এভাবে দেশে দেশে হৃদয়ের সম্পর্ক গড়ে তোলার কাজেও আমাদের লোকশিল্প সাহায্য করতে পারে।

Related Question

View All
উত্তরঃ

'ঢাকাই মসলিনের কদর ছিল দুনিয়া জুড়ে' বলতে ঢাকাই মসলিনের জনপ্রিয়তার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।

একসময় ঢাকা শহরের অদূরে ডেমরা এলাকার তাঁতিদের দ্বারা ঢাকাই মসলিন তৈরি হতো। মসলিন তৎকালীন মোগল বাদশাহদের বিলাসের বস্তু ছিল। এ কাপড়টি অতি সূক্ষ্ম সুতা দিয়ে বোনা হতো বলে ছোট্ট একটি আংটির ভিতর দিয়ে অনায়াসে কয়েকশ গজ মসলিন কাপড় প্রবেশ করানো সম্ভব ছিল। কারিগরি দক্ষতা নয়, কাপড় বোনার জন্য শিল্পীমন থাকা প্রয়োজন।

674
উত্তরঃ

স্বামীর মৃত্যুর পর রহিমার কাজটি 'আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধের 'নকশিকাঁথা'র প্রতিনিধিত্ব করে।

আমাদের লোকশিল্পের একটি অন্যতম উপাদান হলো নকশিকাঁথা। নকশিকাঁথা একদিকে যেমন আমাদের ঐতিহ্যের পরিচয় দেয় অন্যদিকে তেমনই অনেক মানুষের জীবিকার উপায় হিসেবে কাজ করে।

উদ্দীপকে রহিমা স্বামী মারা যাওয়ার পর উপায়ান্তর না দেখে নকশিকাঁথা সেলাইয়ের কাজ শুরু করে। সে নকশি তোলা কাঁথার মধ্যে নিজের জীবনের সুখ-দুঃখের স্মৃতি, নানা রকম ফুল ও নকশার মধ্যে দিয়ে সাজিয়ে তোলে। একটি বেসরকারি সংগঠনের মাধ্যমে সেগুলো বিদেশে পাঠানোর সুযোগ পেয়ে সে অনেক টাকা আয় করে। 'আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধটিতে যা বলা হয়েছে তা হলো- বর্ষাকালে যখন চারদিকে পানি থৈ থৈ করে, ঘর থেকে বাইরে বের হওয়া যায় না, এমন মৌসুমে নকশিকাঁথা সেলাই করা হতো। মেয়েরা সংসারে কাজ শেষ করে দুপুরের খাওয়া-দাওয়া সেরে পাটি বিছিয়ে পানের বাটাটি পাশে নিয়ে পা মেলে বসতেন এ বিচিত্র নকশা তোলা কাঁথা সেলাইয়ের জন্য।

258
উত্তরঃ

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে রহিমার অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কর্মমুখী শিক্ষা গ্রহণ এবং হাতে-কলমে কাজের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রাখা প্রয়োজন। তা হলে নিজের উন্নতির পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন হয়।

আলোচ্য প্রবন্ধে বলা হয়েছে, আমাদের লোকশিল্প শুধু আমাদের বিলাসিতা বা শৌখিনতার জন্যই নয়। বিশ্বের বহু উন্নত দেশের কাছে এ শিল্প সমাদৃত। অতীতে মোগল বাদশাহরা এ ধরনের শিল্পকে সাদরে গ্রহণ করতেন। বর্তমানেও বহু উন্নত জাতি-গোষ্ঠীর মানুষ আমাদের লোকশিল্প অনেক মূল্য দিয়ে কিনে নিচ্ছে। 'আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধের এদিক বিবেচনায় উদ্দীপকের রহিমা একজন লোকশিল্প সংরক্ষণ ও উন্নয়নের প্রতিনিধি। রহিমার মতো হাজারো নারী এ শিল্পের সাথে জড়িত থেকে বিদেশি মুদ্রা নিয়ে আসছে দেশে। তারা দেশের অর্থনীতিকে শক্তি পার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধে শিল্পী কামরুল হাসান নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার এবং দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য যেসব কুটিরশিল্পের কথা বলেছেন নকশিকাঁথা সেগুলোর মধ্যে অন্যতম। উদ্দীপকের রহিমা ছোটবেলা থেকেই বাঁশ-বেত দিয়ে সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তৈরি করত। আচমকা স্বামী মারা গেলে নকশিকাঁথা সেলাইয়ের কাজই তার সংসারে আয় করার সুযোগ করে দিয়েছে। তাই বলা যায়, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে রহিমার অব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

330
উত্তরঃ

বর্ষাকাল নকশিকাঁথা তৈরির উপযুক্ত সময়। কারণ এ সময় বৃষ্টি থাকায় ঘর থেকে বাইরে বের হওয়া যায় না এবং কৃষকবধূরা অবসর থাকে।

নকশিকাঁথা লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ লোকশিল্প। এক সময় বাংলাদেশের গ্রামে গ্রামে এ নকশিকাঁথা তৈরির রেওয়াজ ছিল। বর্ষাকালে যখন চারদিকে পানি থৈ থৈ করে, ঘর থেকে বের হওয়া যায় না, এমন মৌসুমই ছিল নকশিকাঁথা সেলাইয়ের উপযুক্ত সময়। মেয়েরা সংসারের কাজ শেষ করে পাটি বিছিয়ে পানের বাটাটি পাশে নিয়ে পা মেলে বসতেন, মনের মতো করে নকশিকাঁথা সেলাই করতেন।

387
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews