উদ্দীপক-১: ঘরহীন ওরা ঘুম নেই চোখে, যুদ্ধে ছিন্ন ঘর-বাড়ি দেশ,
মাথার ভিতরে বোমারু বিমান, এই কালোরাত কবে হবে শেষ?

উদ্দীপক-২: কথা ছিলো একটি পতাকা পেলে
ভূমিহীন মনুমিয়া গাইবে তৃপ্তির গান জ্যৈষ্ঠে-বোশেখে,
বাঁচবে যুদ্ধের শিশু সসম্মানে সাদা দুধে-ভাতে।
কথা ছিলো একটি পতাকা পেলে
আমাদের সব দুঃখ জমাদেবো যৌথ-খামারে,
সম্মিলিত বৈজ্ঞানিক চাষাবাদে সমান সুখের ভাগ
সকলেই নিয়ে যাবো নিজের সংসারে।

Updated: 2 months ago
উত্তরঃ

জলপাই রঙের ট্যাঙ্ককে দানবের সাথে তুলনা করা হয়েছে কারণ এই ট্যাঙ্কগুলো ছিল হানাদার বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞ ও নির্মমতার প্রতীক। যুদ্ধের সময় এই ট্যাঙ্কগুলো নিরীহ মানুষের ঘরবাড়ি ধ্বংস করে দিত, মানুষকে হত্যা করত এবং ত্রাস সৃষ্টি করত, যা এক ভয়াবহ ও অমানবিক চিত্র তুলে ধরে।

দানবের সাথে এই তুলনার মাধ্যমে সামরিক ট্যাঙ্কের ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা, নিষ্ঠুরতা এবং মানবতাবিরোধী আচরণকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এটি যুদ্ধের বীভৎসতা এবং আগ্রাসী শক্তির অশুভ ভূমিকাকে নির্দেশ করে, যা সাধারণ মানুষের চোখে এক দানবীয় শক্তির প্রতিচ্ছবি হিসেবে ধরা দিত।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

উদ্দীপক-১ এ বর্ণিত যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতি, ঘরহারা মানুষের দুর্ভোগ এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা শামসুর রাহমানের 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতার মূল সুরের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। উভয় ক্ষেত্রেই যুদ্ধের ভয়াবহতা, মানুষের যন্ত্রণা ও মুক্তির তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে।

উদ্দীপক-১ এ 'ঘরহীন ওরা ঘুম নেই চোখে, যুদ্ধে ছিন্ন ঘর-বাড়ি দেশ' পঙক্তিগুলোর মাধ্যমে যুদ্ধের কারণে মানুষের বাস্তুচ্যুতি ও অসহায়ত্বের চিত্র ফুটে উঠেছে। বোমারু বিমানের ত্রাস এবং 'এই কালোরাত কবে হবে শেষ?' পঙক্তিটিতে যুদ্ধের অন্ধকারময় পরিস্থিতি থেকে মুক্তির আর্তি প্রকাশ পেয়েছে। এটি মুক্তিযুদ্ধকালীন সাধারণ মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের এক করুণ প্রতিচ্ছবি।

'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় কবি স্বাধীনতাকে পাওয়ার জন্য অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ, রিকশাচালক ও কৃষকের আত্মাহুতি, বিধ্বংসী আগুনের কুণ্ডলী এবং রক্তাক্ত পঙক্তিমালা উল্লেখ করেছেন। উদ্দীপক-১ এর 'যুদ্ধবিধ্বস্ত ঘর-বাড়ি', 'বোমারু বিমান' এবং 'কালোরাত'-এর বর্ণনা সরাসরি কবিতার 'অগ্নিঝরা দিনগুলো', 'বিধ্বস্ত গ্রাম' এবং 'রক্তাক্ত প্রান্তরে' স্বাধীনতার জন্য সাধারণ মানুষের সীমাহীন ত্যাগের কথা মনে করিয়ে দেয়। উভয় ক্ষেত্রেই স্বাধীনতার তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং এর জন্য চাওয়া মূল্যকে মহিমান্বিত করা হয়েছে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

"তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা" শামসুর রাহমানের একটি কালজয়ী কবিতা, যেখানে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা এবং এর মাধ্যমে একটি উন্নত সমাজের স্বপ্ন বিধৃত হয়েছে। উদ্দীপক-২-এর বক্তব্যটি এই কবিতার মূল চেতনাকে যথার্থভাবে ধারণ করে।

উদ্দীপক-২ এ দেখা যায়, একটি পতাকা লাভের মধ্য দিয়ে ভূমিহীন মনুমিয়ার তৃপ্তির গান গাওয়া, যুদ্ধশিশুদের সম্মানের সাথে সাদা দুধে-ভাতে বাঁচার প্রত্যাশা এবং যৌথ-খামার ও সম্মিলিত বৈজ্ঞানিক চাষাবাদের মাধ্যমে সকলের সমান সুখের ভাগ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এই প্রতিটি অনুষঙ্গই 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় বর্ণিত স্বাধীনতার স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষারই প্রতিচ্ছবি। কবিতাটিতে যেমন স্বাধীনতাকে পাওয়ার জন্য কৃষকের লাঙল, মজুরের হাত, গণিকার সুস্থ জীবন, শিশুর হাসির মতো বিষয়গুলো জড়িত ছিল, তেমনি উদ্দীপকেও সামগ্রিক মুক্তির চিত্র আঁকা হয়েছে।

কবিতার মূল চেতনা হলো, স্বাধীনতা কেবল ভৌগোলিক মুক্তি নয়, বরং অর্থনৈতিক মুক্তি, সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা এবং প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা। উদ্দীপক-২ এই গভীর চেতনাকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। "একটি পতাকা পেলে" বাক্যটি রাজনৈতিক স্বাধীনতার প্রতীক হলেও, এর পরের অংশে বর্ণিত স্বপ্নগুলো (তৃপ্তির গান, সাদা দুধে-ভাতে বাঁচা, সমান সুখের ভাগ) ইঙ্গিত দেয় যে প্রকৃত স্বাধীনতা তখনই অর্জিত হবে যখন সমাজের প্রতিটি স্তরে সাম্য ও সমৃদ্ধি আসবে। যুদ্ধের বিভীষিকা পেরিয়ে একটি নতুন, শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন কবিতার ছত্রে ছত্রে বিদ্যমান, উদ্দীপক-২ সেই স্বপ্নকেই বাস্তবতার নিরিখে তুলে ধরেছে।

সুতরাং, একথা বলা যায় যে, উদ্দীপক-২ কেবল বাহ্যিক স্বাধীনতার কথাই বলেনি, বরং এটি শামসুর রাহমানের 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতার গভীরতর অর্থে অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকেই ধারণ করেছে। স্বাধীনতার যে মহৎ উদ্দেশ্য — একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা — উদ্দীপক-২ সেই চেতনারই এক অনবদ্য প্রকাশ। তাই, মন্তব্যটি সম্পূর্ণ প্রাসঙ্গিক ও যথার্থ।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
82

Related Question

View All
উত্তরঃ

'পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভার'- কথাটির মধ্য দিয়ে লেখক বাষ্প্রতিবন্ধী সুভার বিয়ের বয়স হওয়া সত্ত্বেও বিয়ে দিতে না পারায় পিতা-মাতার হৃদয়ের নীরব কষ্টকে বোঝাতে চেয়েছেন।

সুভা বাণীকন্ঠের ছোট মেয়ে। সে কথা বলতে পারে না। বাণীকণ্ঠ তার বড় দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু বাষ্প্রতিবন্ধী হওয়ায় ছোট মেয়ে সুভাকে বিয়ে দিতে পারেননি। তাই সুভার ভবিষ্যৎ নিয়ে বাণীকণ্ঠ এবং তার স্ত্রী উভয়েই চিন্তিত। সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে তাদের হৃদয়ে নীরব কষ্ট সৃষ্টি হয়। লেখক সেই কষ্টকেই বলেছেন- পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভার।

10.8k
উত্তরঃ

উদ্দীপকের প্রথম অংশের বক্তব্যে কল্যাণী ও সুভার শারীরিক প্রতিবন্ধিতার দিকটির সংগতি দেখানো হয়েছে।

শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে অনেকে সমাজে অবহেলার শিকার হয়। এতে সমাজের মানুষ হীনম্মন্যতার পরিচয় দেয়। প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহানুভূশীল হলে তবেই তারা বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাবে এবং সমাজে সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে পারবে।

'সুভা' গল্পে সুভা কথা বলতে পারে না। আনন্দের বার্তা নিয়ে পৃথিবীতে এলেও কথা বলতে না পারার বিষয়টি কিছুটা সুভার বাবা- মায়ের মনে নীরব হৃদয়ভারের জন্ম দেয়। উদ্দীপকের কল্যাণীর জন্মও পরিবারে আনন্দ নিয়ে আসে। কিন্তু তার মানসিক প্রতিবন্ধিতার দিকটি সবাইকে চিন্তিত করে তোলে। তার মানসিক বিকাশ কিছুটা কম হয়েছে। 'সুভা' গল্পের সুভাও বাষ্প্রতিবন্ধী হওয়ায় তার পরিবারের সবার দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে উদ্দীপকের বক্তব্যে কল্যাণী ও সুভার প্রতিবন্ধিতার দিকটি সংগতিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

7.7k
উত্তরঃ

কল্যাণী ও সুভা একই পরিস্থিতির শিকার হলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট ও পরিণতি ভিন্ন- মন্তব্যটি যথার্থ।

শারীরিক প্রতিবন্ধীরা আমাদের সমাজে বিভিন্নভাবে অবহেলার সম্মুখীন হয়। তারা আমাদের সমাজেরই অংশ, আমাদের মতোই মানুষ। তাই তাদের কল্যাণে এগিয়ে আসা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমাদের সহানুভূতি পেলে তারা জীবনের পূর্ণতা লাভ করবে।

উদ্দীপকে কল্যাণীর মানসিক বিকাশ ঠিকভাবে ঘটেনি। বিয়ের কথাবার্তায় তার বাবা পলাশ বাবু বরপক্ষের কাছে সে সব কথা খুলে বলেন। তারা সব শুনে উদারতার পরিচয় দেন। বরের বাবা সুবোধ বাবু মহত্ত্বের পরিচয় দিয়ে কল্যাণীকে ঘরে নিয়ে যেতে চান। অন্যদিকে 'সুভা' গল্পের সুভা বাষ্প্রতিবন্ধী। সে কথা বলতে পারে না। সবার কাছ থেকে অবহেলা পেলেও সুভা তার বাবার ভালোবাসা পেয়েছে। সুভার সাথে কেউ মেশে না বলে সে পোষা প্রাণীদের মাঝে নিজের একটি বিশাল জগৎ তৈরি করেছে।

উদ্দীপকের কল্যাণী ও 'সুভা' গল্পের সুভা একই পরিস্থিতির শিকার হলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট ও পরিণতি ভিন্ন। কল্যাণী সুবোধ বাবুর উদারতায় পেয়েছে সুন্দর ভবিষ্যতের সন্ধান। অথচ 'সুভা' গল্পের সুভার পরিণতি এতটা মানবিকতায় সিক্ত হয়নি। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

5.9k
উত্তরঃ

শঙ্খের মধ্যে যেমন সমুদ্রের শব্দ শুনা যায়, তেমনি এই লাইব্রেরির মধ্যে কি হৃদয়ের উত্থানপতনের শব্দ শুনিতেছ

8.1k
উত্তরঃ

‘জীবিত ও মৃত ব্যক্তির হৃদয় পাশাপাশি এক পাড়ায় বাস করিতেছে’ – উক্তিটির মাধ্যমে গ্রন্থাগার বা বইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। বইয়ের পাতায় মৃত বা বিগত প্রজন্মের জ্ঞানী-গুণী মানুষের চিন্তা, দর্শন, অভিজ্ঞতা ও সৃষ্টিশীলতা সংরক্ষিত থাকে। যখন একজন জীবিত পাঠক সেই বই পড়েন, তখন যেন মৃত লেখকের হৃদয় বা মননের সাথে জীবিত পাঠকের মনের নিবিড় সংযোগ ঘটে।

এভাবে বইয়ের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা জীবিত প্রজন্মের মধ্যে প্রবাহিত হয়, যা মানবজাতির নিরন্তর জ্ঞানচর্চাকে সম্ভব করে তোলে। লেখক এবং পাঠকের এই আত্মিক মিলনকে তুলনা করা হয়েছে একই পাড়ায় বসবাস করা হৃদয়ের সাথে, যেখানে সময় ও স্থানের বাধা অতিক্রম করে জ্ঞান ও উপলব্ধির এক নিরন্তর বিনিময় ঘটে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
6.1k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews