সচিবালয় হলো বাংলাদেশ প্রশাসনের স্নায়ুকেন্দ্র যা কয়েকটি মন্ত্রণালয় নিয়ে গঠিত।
অভিশংসন হলো সাংবিধানিক পদ থেকে কোনো ব্যক্তিকে অপসারণ করার একটি পদ্ধতি।
সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত কোনো ব্যক্তির সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর কোনো অভিযোগে তাকে দায়িত্ব থেকে অপসারণের জন্য অভিশংসন পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়। যেমন- রাষ্ট্রপতি সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর কোনো অভিযোগে অভিযুক্ত হলে অভিশংসনের মাধ্যমে তাকে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অপসারণ করা যায়। এজন্য সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটের প্রয়োজন হয়।
জনাব রহমানের বিভাগটি বাংলাদেশ সরকারের আইন বিভাগকে নির্দেশ করে।
সরকারের যে বিভাগ আইন প্রণয়ন, পরিবর্তন ও সংশোধন করে তাকে আইনসভা বা আইন বিভাগ বলে। বাংলাদেশের আইনসভার প্রধান কাজ হচ্ছে আইন প্রণয়ন করা। রাষ্ট্রীয় মূলনীতিগুলোকে সমুন্নত রেখে জাতীয় সংসদ প্রচলিত আইনের কিংবা প্রথাগত বিধানের সংশোধন, পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করে থাকে। জাতীয় সংসদ শাসন পরিচালনার নীতি নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপক-১ এ বলা হয়েছে, জনাব রহমান একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি। তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। তার বিভাগ নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করে) এখানে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ তথা আইন বিভাগের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। কারণ জাতীয় সংসদ দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন আইন প্রণয়ন এবং প্রচলিত আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন করে থাকে। জাতীয় সংসদ সাধারণ প্রশ্ন, বিতর্ক ও আলোচনা, নিন্দা প্রস্তাব আনয়ন, মুলতুবি প্রস্তাব উত্থাপন এবং অনাস্থা প্রস্তাব পাস করে শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে।
'ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় জনাব আহসানের কর্মরত বিভাগটির অর্থাৎ বিচার বিভাগের ভূমিকা অপরিহার্য।
আইনের শাসন অর্থ হলো আইনের প্রাধান্য স্বীকার করা এবং আইনানুযায়ী শাসন করা। এ অনুযায়ী আইনের দৃষ্টিতে সকলে সমান এবং সকলের জন্য একই প্রকার আইন প্রযোজ্য। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বিচার বিভাগ। বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন অনুসারে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করে।
বিচারকাজ পরিচালনা করতে গিয়ে বিচারকরা অনেক সময় প্রচলিত আইনকে যথেষ্ঠ স্পষ্ট মনে করেন না। তাই তারা আইনের ব্যাখ্যার মাধ্যমে নতুন আইন সৃষ্টি করেন এবং আইনের শাসনকে সুনিশ্চিত করেন। বিচার বিভাগ নাগরিকের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করে থাকে। কোনো নাগরিকের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে তিনি বিচার বিভাগের দ্বারস্থ হতে পারেন এবং রিট আবেদন করতে পারেন। কোনো নাগরিক যদি নিম্ন আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট না হন তবে তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারেন। তাছাড়া বিচার বিভাগ সুয়োমোটো রুল জারি করে নাগরিকের অধিকার রক্ষায় ভূমিকা রাখে। বিচার বিভাগের এসব কাজ আইনের শাসন রক্ষায় অপরিহার্য ভূমিকা রাখে।
পরিশেষে বলা যায়, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিচার বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
Related Question
View Allশাসন বিভাগের অপর নাম নির্বাহী বিভাগ।
মাঠ প্রশাসনের প্রথম ধাপ হলো বিভাগীয় প্রশাসন।
বিভাগের উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন ও তত্ত্বাবধান করে বিভাগীয় প্রশাসন। তবে বিভাগের সব কাজ সম্পন্ন করা হয় বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে। তিনি কেন্দ্রের প্রতিনিধি হিসেবে বিভাগের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন।
'A' চিহ্নিত স্থানটি সরকারের আইন বিভাগকে নির্দেশ করছে।
সরকারের তিনটি বিভাগের মধ্যে আইনসভা অন্যতম। বাংলাদেশের আইনসভার নাম জাতীয় সংসদ। সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় জাতীয় সংসদ যাবতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। বাংলাদেশের আইন প্রণয়নের সব ক্ষমতা জাতীয় সংসদের। সংসদ যেকোনো আইন প্রণয়ন, প্রচলিত আইনের পরিবর্তন বা সংশোধন করতে পারে।
জাতীয় সংসদ নির্বাহী বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে। প্রধানমন্ত্রী ও 'মন্ত্রিসভার সদস্যরা সংসদের কাছে দায়ী থাকে। কোনো কারণে সংসদ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনাস্থা আনলে মন্ত্রিসভা ভেঙে যায়। সংসদের অনুমতি ছাড়া কোনো কর বা খাজনা আরোপ ও আদায় করা যায় না। সংসদ প্রতি বছর জাতীয় বাজেট পাস করে। সংসদ সংবিধানে উল্লিখিত নিয়মের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করতে পারে। তবে এজন্য সংসদের মোট সদস্যের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের দরকার হয়। সুতরাং বলা যায়, আইন বিভাগের কর্মকাণ্ডের পরিধি ব্যাপক ও বিস্তৃত।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'B' চিহ্নিত বিভাগটি হলো নির্বাহী বিভাগ এবং 'A' চিহ্নিত বিভাগটি হলো আইন বিভাগ। বাংলাদেশে আইন বিভাগ নির্বাহী বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে। এ বিষয়টির সাথে আমি একমত।
সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় আইনসভার স্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সরকারের যেসব কাজ করতে হয় সেগুলো হলো- আইনসংক্রান্ত কাজ, শাসনসংক্রান্ত কাজ এবং বিচারসংক্রান্ত কাজ। এই তিন প্রকার কাজ সম্পাদন করার জন্য আইন বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ এবং বিচার বিভাগের ওপর দায়িত্ব ন্যস্ত থাকে। তবে আইন বিভাগের কাজের পরিধি ব্যাপক। এটি শুধু আইন প্রণয়নই করে না, নির্বাহী বিভাগকে নিয়ন্ত্রণও করে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা সংসদের কাছে দায়ী থাকেন। কোনো কারণে সংসদ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনাস্থা আনলে মন্ত্রিসভা ভেঙেযায়। মুলতুবি প্রস্তাব, নিন্দা প্রস্তাব, অনাস্থা প্রস্তাব, প্রশ্ন জিজ্ঞাসা, সংসদীয় বিভিন্ন কমিটি ও সংসদে সাধারণ আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাহী বিভাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
উপরের আলোচনায় সুস্পষ্ট, আইন বিভাগের সাথে নির্বাহী বিভাগের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। আইন বিভাগ তথা জাতীয় সংসদ নির্বাহী বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে।
যুদ্ধকালীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল।
রাষ্ট্রের শাসনকাজ পরিচালনা ও শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রশাসনকে রাষ্ট্রের হৃৎপিণ্ড বলা হয়।
রাষ্ট্রের শাসনকাজ পরিচালনার দায়িত্ব প্রশাসনের। রাষ্ট্রের ভিতরে শান্তি- শৃঙ্খলা রক্ষা ও রাষ্ট্রের সমৃদ্ধির লক্ষ্যে সুষ্ঠু প্রশাসনের কোনো বিকল্প নেই। তাই প্রশাসন রাষ্ট্রের হৃৎপিণ্ড হিসেবে পরিচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!