প্রজাসাধারণের দুঃখ-কষ্ট দূর করতে বাবুর ছদ্মবেশে রাজপথে ঘুরে বেড়ান।
বাবুরের মহত্ত্ব দেখে রাজপুত যোদ্ধা রণবীর চৌহানের প্রতিহিংসার অন্ধ মোহের ঘোর কেটে বার।
রাজপুতনার মেবার রাজ্যের রাজধানী চিতোরের তরুণ যোদ্ধা রণবীর চৌহান। তিনি বাবুরকে হত্যা করে চিতোরের অপমানের প্রতিশোধ নিতে চান। এ কারণে তিনি বাবুরের সন্ধানে পথে পথে ঘুরে বেড়ান। এ সময় বাবুরও রাজ্য জয়ের পর প্রজাসাধারণের দুঃখ- কষ্ট দূর করার মাধ্যমে তাদের হৃদয় জয় করার জন্য ছদ্মবেশে রাজপথে ঘুরে বেড়াতে শুরু করেন। একদিন চলার পথে বাবুর নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে মত্ত হাতির কবল থেকে এক মেথর শিশুকে উদ্ধার করেন। রাজপুত যুবক রণবীর চৌহান বাবুরের এ মহত্ত্বে বিস্মিত হন। এ ঘটনায় রণবীর চৌহানের প্রতিহিংসার অন্ধ মোহের ঘোর কেটে যায়।
উদ্দীপক-১-এ 'বাবুরের মহত্ত্ব' কবিতায় সম্রাট বাবুর চরিত্রের নিজের জীবন বাজি রেখে অন্যের জীবন বাঁচানোর দিকটি ফুটে উঠেছে।
জগতে মহৎ ব্যক্তিরা মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করে জীবনের প্রকৃত সার্থকতা অনুভব করেন। তাঁরা সমস্ত স্বার্থপরতা, হীনতা, দীনতা, সংকীর্ণতা পরিহার করে পরোপকারে কাজ করেন। অন্যের জীবন বাঁচাতে তাঁরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করতেও পিছপা হন না।
উদ্দীপকে থাইল্যান্ডের থাম লুয়াং গুহায় আটকে পড়া ১৩ কিশোর ফুটবলারকে নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ডুবুরি মাসেই খাদ্য ও ঔষধ সরবরাহ করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন। নিজের জীবন বিপন্ন করে তিনি আটকে পড়া ফুটবলাদের সাহায্য করেছেন। উদ্দীপক-১-এর এই বিষয়টি 'বাবুরের মহত্ত্ব' কবিতায় প্রতিফলিত নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মত্ত হাতির সামনে থেকে মেথর শিশুকে উদ্ধার করার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। মত্ত হাতির ভয়ে যখন সবাই পথ ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছিল তখন সেখানে একটি শিশু রাজপথের ধুলায় পড়ে ছিল। সবাই শিশুর জীবননাশের শঙ্কায় হায় হায় করছিল, কিন্তু কেউ এগিয়ে যায়নি। সেই অবস্থায় বাবুর ভিড় ঠেলে দৌড়ে গিয়ে তাকে মত্ত হাতির সামনে থেকে কুড়িয়ে আনেন। এই ঘটনাটি উদ্দীপক-১-এ ১৩ কিশোর ফুটবলারকে উদ্ধারের ক্ষেত্রে ডুবুরি মাসেইয়ের জীবনদানের ঘটনাটির দিকটিকে নির্দেশ করে। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপক-১ এ আলোচ্য কবিতায় সম্রাট বাবুর চরিত্রের নিজের জীবন বাজি রেখে অন্যের জীবন বাঁচানোর দিকটি ফুটে উঠেছে।
হ্যাঁ, উদ্দীপক-২-এর ওয়ার্ড মেম্বার সম্রাট বাবুরের সার্থক প্রতিনিধি। পৃথিবীতে যারা উচ্চাসন লাভ করেন, তাদের উচিত অসহায় দুর্বলদের কল্যাণ করে, তাদের মনের দুঃখ দূর করা। প্রত্যেকের প্রতি প্রত্যেকেরই দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। তাই উঁচু-নিচু ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে মানবকল্যাণে কাজ করতে হবে। আর তাহলেই জগতে সুখ-শান্তি বিরাজ করবে।
উদ্দীপক-২-এ সুবর্ণপুর গ্রামের ওয়ার্ড মেম্বারের কর্মদক্ষতা ও সাফল্যে জনগণের প্রশংসার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এখানে ভালো কাজের মাধ্যমে মেম্বার থেকে জাতীয় সংসদের সম্মানিত সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করেন সুবর্ণপুর গ্রামের মেম্বার এবং জনগণের প্রশংসা লাভ করেছেন। উদ্দীপক-২-এর এই মেম্বারের মতো জনগণের হৃদয় জয় করে প্রকৃত জয়ী হতে চেয়েছেন 'বাবুরের মহত্ত্ব' কবিতার সম্রাট বাবুর। তিনি বিভিন্ন যুদ্ধে বিভিন্ন দেশের রাজাদের পরাজিত করে রাজ্য অধিকার করে লক্ষ করেন যে ভূমির দখল পেলেও মানুষের মনে জায়গা করতে পারেননি। তাই তিনি ছদ্মবেশে পথে পথে ঘুরে প্রজাদের দুঃখ-কষ্ট দেখে তা দূর করার মাধ্যমে তাদের হৃদয় জয় করতে চাইলেন। এভাবে তিনি একসময় তাঁর রাজ্যের সমস্ত মানুষের হৃদয় জয় করেন। রাজ্য জয় শেষে একজন মানবতাবাদী শাসকে পরিণত হন। উদ্দীপক-২-এর মেম্বারও জনসাধারণের হৃদয় জয় করে মেম্বার থেকে চেয়ারম্যান, পরে মেয়র এবং জাতীয় সংসদের সম্মানিত সদস্য হয়েছেন।
'বাবুরের মহত্ত্ব' কবিতায় কবি মুঘল সম্রাট বাবুরের মানবপ্রেমের কথা তুলে ধরেছেন। বাবুর এখানে রাজ্যজয়ের পর প্রজাসাধারণের হৃদয় জয় করতে পথে বের হয়ে মত্তহাতির সামনে থেকে এক মেথর শিশুর জীবন বাঁচিয়ে তার প্রাণের শত্রু রণবীর চৌহানের কাছে একজন মহৎ মানুষ হয়ে উঠেছেন। পরিচয় পেয়ে শত্রুকে ক্ষমা করে দিয়েও মহত্ত্ব স্থাপন করেছেন সম্রাট বাবুর। প্রজাসাধারণের কাছে বাবুরের মহত্ত্বের এই পরিচয়টি উদ্দীপক-২-এর মেম্বারের প্রতি জনগণের প্রশংসার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপক-২-এর ওয়ার্ড মেম্বার সম্রাট বাবুরের সার্থক প্রতিনিধি।
Related Question
View Allরণবীর চৌহান হলেন স্বদেশপ্রেমিক রাজপুত যুবক।
প্রশ্নোক্ত কথাটি সম্রাট বাবুর রণবীরর চৌহানকে বলেছেন।
'বাবুরের মহত্ত্ব' কবিতায় ডারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট বাবুরের মহৎ আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধ তুলে ধরা হয়েছে। রাজপুত-বীর তরুণ রণবীর চৌহান বাবুরকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে রাজপথে ঘুরছিল। এমন সময় বাবুর নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে মত্ত হাতির কবল থেকে রাজপথে পড়ে থাকা একটি মেথর শিশুকে উদ্ধার করেন। রণবীর চৌহান বাবুরের এমন মহানুভবতা দেখে বিস্মিত ও মুগ্ধ হয়। সে বাবুরের পায়ে পড়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করে শাস্তি পেতে চায়। তখন বাবুর রণবীর চৌহানকে বলেন, কাউকে শাস্তি দেওয়া সহজ কিন্তু ক্ষমা করে জীবন দান দেওয়া কঠিন।
উদ্দীপকে বর্ণিত বড় মিয়ার আচরণে 'বাবুরের মহত্ত্ব' কবিতায় ফুটে ওঠা দিকটি হলো- সম্রাট বাবুবের মানবিক মূল্যবোধ ও মহানুভবতা।
পৃথিবীতে একমাত্র মানুষই একে অন্যের বিপদে-আপদে এগিয়ে এসে মানবিকতার পরিচয় দেয়। কোনো কোনো সময় নিজের জীবন দিয়ে হলেও অন্যের মঙ্গল সাধন করে। কারণ তারা বিশ্বাস করে মানুষ মানুষের জন্য।
উদ্দীপকে বড় মিয়া নামের এক যুবক নিজের জীবন দিয়ে একটি ডুবন্ত শিশুর জীবন বাঁচান। বন্যায় প্রচণ্ড স্রোতের টানে নৌকা উল্টে ডুবে যাওয়া একটি শিশু উদ্ধার করতে জলে ঝাঁপিয়ে পড়েন বড় মিয়া। অল্পক্ষণের মধ্যেই শিশুটিকে নিয়ে তিনি পাড়ে ওঠেন। তিনি তখন প্রচন্ড ক্লান্ত। তার দেহ নেতিয়ে পড়ে। ডাক্তার এসে পরীক্ষার পর জানা গেল, তিনি আর বেঁচে নেই। তিনি তার জীবন উৎসর্গ করেছেন একটি মানবশিশুকে বাঁচাতে গিয়ে। উদ্দীপকে তার যে মানবতাবোধের পরিচয় পাওয়া যায় তা 'বাবুরের মহত্ত্ব' কবিতায় বাবুরের মানবিক মূল্যবোধ ও মহানুভবতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কারণ বাবুর নিজে সীমাহীন কষ্ট সহ্য করে প্রজাদের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করতে ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন। একদিন মত্ত হাতির সামনে থেকে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাতির শুঁড়ের ঘঁষা সহ্য করে একটি মেথর শিশুকে উদ্ধার করেছেন। তাকে হত্যা করতে রণবীর চৌহান রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেছে জেনেও তাকে ক্ষমা করেছেন।
উদ্দীপকটিতে 'বাবুরের মহত্ত্ব' কবিতার একটি বিশেষ দিকের প্রতিফলন ঘটলেও সমভাব ধারণ করে না- মন্তব্যটি যথার্থ।
সাম্যবাদের দৃষ্টিতে পৃথিবীর সব মানুষই সমান। ধনী-দরিদ্রের যে বৈষম্য আমাদের সমাজে বিদ্যমান তা মানুষের সুখ-শান্তির অন্তরায়। 'মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য'- এই সত্যকে সামনে রেখে মানুষ কাজ করলে পৃথিবীতে শান্তি বিরাজ করবে।
উদ্দীপকে দুর্ঘটনা কবলিত একটি শিশুর জীবন বাঁচাতে গিয়ে বড় মিয়া নামের এক মহানুভব যুবকের জীবন বিসর্জনের কথা বলা হয়েছে। এই ব্যক্তির মানবতাবোধ 'বাবুরের মহত্ত্ব' কবিতার বাবুরের মানবতাবোধের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে বাবুর যেভাবে ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং রাজ্যবিস্তারে যুদ্ধ পরিচালনায় সাহসের পরিচয় দিয়েছেন, সে ধরনের ইঙ্গিত উদ্দীপকে নেই।
'বাবুরের মহত্ত্ব' কবিতায় কবি দুটি দিক তুলে ধরেছেন। এক বাবুরের যুদ্ধবিগ্রহ, রাজ্য জয় ও রাজ্য বিস্তার এবং দুই রাজ্যের প্রজাদের মন জয় করার জন্য তাদের প্রতি মহানুভবতা ও সেবা প্রদান। এ দুটির মধ্যে প্রথম বিষয়টি উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি। উদ্দীপকটি কেবল দ্বিতীয় বিষয়টিকে নির্দেশ করেছে। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
বাবুরের আসল নাম জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ।
সঁপিনু জীবন, করুন এখন দণ্ডবিধান মোর। - রাজপুত বীর রনবীর চৌহান সম্রাট বাবুরের মহানুভবতার পরিচয় পেয়ে উক্তিটি করেছে।
রাজপুত বীর রণবীর চৌহান প্রতিশোধ নেবার জন্য সম্রাট বাবুরকে হত্যা করার সুযোগ খোঁজেন। একদিন দেখেন বাবুর মত্ত হাতির কবল থেকে এক মেথর শিশুকে বাঁচান আপন জীবন বিপন্ন করে। তার মহানুভবতার পরিচয় পেয়ে রণবীর বাবুরের কাছে তার উদ্দেশ্যের কথা স্বীকার করে ক্ষমা চান। এই প্রসঙ্গেই তিনি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!