চরের খুব কাছে এসে খেয়ানৌকাগুলো লেগেছে।
প্রকৃতি তাঁর রূপ-রস-গন্ধ কখনই হারিয়ে ফেলবে না বলে সেই দিন এই মাঠ স্তব্ধ হবে না।
'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবি প্রকৃতির চিরকালীন সৌন্দর্যের এবং মানুষের স্বপ্নের অমরত্বের দিকটি তুলে ধরেছেন। কবি জানেন বিচিত্রভাবে বিবর্তনের মধ্যেও প্রকৃতি আপন বৈশিষ্ট্য নিয়ে সমুজ্জ্বল থাকে। আর মানুষের মৃত্যুতে প্রকৃতি জগতের কোনো পরিবর্তন হয় না। কারণ মানুষের সাধারণ মৃত্যু পৃথিবীর বহমানতায় কোনো প্রভাব ফেলে না। প্রকৃতি তার আপন ছন্দেই চলতে থাকে। ছন্দপতন হয় কেবল মানুষের। কবি যখন পৃথিবীতে থাকবেন না সেই দিনও প্রকৃতির সবকিছুই ঠিকঠাক চলবে, কোথাও কোনোকিছু থেমে থাকবে না, স্তব্ধ হবে না। প্রশ্নোক্ত বাক্যে এটাই বোঝানো হয়েছে।
উদ্দীপক-১ এর সঙ্গে 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার মানুষের গড়া পৃথিবীর সভ্যতা বিলীন হওয়ার দিকের সাদৃশ্য রয়েছে।
পৃথিবীতে মানুষ এবং মানুষের তৈরি সভ্যতা চিরস্থায়ী নয়। সময়ের বিবর্তনে মানুষ এবং মানুষের তৈরি সভ্যতা বিলীন হয়ে যায়। মানুষের গড়া পৃথিবীর অনেক সভ্যতাই আজ বিলীন হয়ে গেছে। কিন্তু প্রকৃতি তার বিচিত্র বিবর্তনের মধ্যেও রূপ-রস-গন্ধ নিয়ে অম্লান। প্রকৃতির এ বহমানতা চিরকালীন।
উদ্দীপক-১-এ শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে মানুষের তৈরি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। ভূমিকম্পের ফলে নেপালের প্রসিদ্ধ ভবন 'দারাহারা', কাঠমান্ডুর দরবার স্কয়ারের অট্টালিকা এবং এর সৌধগুলো ধ্বংস হয়েছে। মানুষের তৈরি এই স্থাপনগুলোর ধ্বংসের বিষয়টি 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার মানুষের তৈরি সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার বিষয়টির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ভূমিকম্পের আঘাতে ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়ে অনেক মানুষেরও মৃত্যু হয়েছে। এতে প্রকৃতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। এই দিকটি 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় ব্যক্তি মানুষের ধ্বংস বা মৃত্যুতে বিলীন হয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে নির্দেশ করে। কবি বলেছেন 'এশিরিয়া ধুলো আজ, বেবিলন ছাই হয়ে আছে।' এ কবিতায় মানুষ এবং মানুষের তৈরি সভ্যতা ধ্বংসের যে কথা কবি বলেছেন তা উদ্দীপক-১-অভিন্নভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
"উদ্দীপক-২ এ 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার অবিনশ্বরতার রূপ ফুটে উঠেছে"- মন্তব্যটি যথার্থ।
পৃথিবীতে মানুষ ও মানুষের তৈরি সভ্যতা নশ্বর। কিন্তু মানুষের স্বপ্ন টিকে থাকে। প্রকৃতির অবিনশ্বরতার সঙ্গে মানুষের স্বপ্ন ও স্বপ্নের গল্প মিলেমিশে অবিনশ্বর হয়ে ওঠে। মানুষের সেসব স্বপ্ন প্রকৃতির মধ্যে বেঁচে থাকে।
উদ্দীপক-২ এ মানুষের স্বপ্নের আশা, অবিনশ্বরতা তুলে ধরা হয়েছে। মানুষের সৃষ্টি ধ্বংস হয়ে গেলেও আশা ও স্বপ্ন ধ্বংস হয় না। জীবনের প্রতিকূল স্রোতে ভেসে যাওয়া মানুষকে আশাই বেঁচে থাকার প্রেরণা দান করে। আশায় ভর করেই মানুষ ভবিষ্যতের স্বপ্নে বিভোর হয়। মানুষের স্বপ্নের এই অবিনশ্বরতার দিকটি 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায়ও প্রতিফলিত হয়েছে। কবিতায় কবি বলেছেন তিনি যখন এই পৃথিবীতে থাকবেন না তখনও এখানকার প্রকৃতি তার অফুরন্ত ঐশ্বর্য নিয়ে মানুষের স্বপ্ন-সাধ ও কল্পনাকে তৃপ্ত করে যাবে। তার সঙ্গে মানুষের স্বপ্নও বেঁচে থাকবে।
'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবি প্রকৃতির চিরকালীন সৌন্দর্যের এবং মানুষের স্বপ্নের অবিনশ্বরতার দিকটি তুলে ধরেছেন। জাগতিক নিয়মে অবিনশ্বর প্রকৃতির বিপরীতে চলে নশ্বর মানবজীবনস্রোত। মানুষ মরে গেলেও প্রকৃতির প্রবহমানতা থামে না। সময়ের ব্যবধানে তা কেবল ধারা বদলায়, কিন্তু মরে যায় না। এই দিক বিচারে উদ্দীপক-২ এ আশা-স্বপ্নের প্রবহমান ধারার মধ্যে 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার অবিনশ্বরতার রূপ ফুটে উঠেছে।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!