'আশা' কবিতায় উল্লিখিত মানুষ প্রতিবেশীর আঁধার ঘরে আলো জ্বালতে পারে।
আশা' কবিতার কবির মতে বিত্ত-সুখের দুর্ভাবনা মানুষের আয়ু কমিয়ে দিতে পারে ।
'আশা' কবিতায় কবি মানুষের জীবনের ক্রমবর্ধমান সংকট ও জটিলতা তুলে ধরেছেন। তিনি এখানে মানুষের সুখী হওয়ার জন্য বিত্তবৈভব অর্জনের বিষয়টির সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন, বিত্ত-সুখের দুর্ভাবনা মানুষকে অসুখী করে তোলে এবং তাতে আয়ু কমে যায়। বিত্ত-সুখের দুর্ভাবনা মানুষের অশান্তির মূলে। কারণ অতিরিক্ত বিত্ত-বৈভবের প্রত্যাশায় মানুষ অন্যায় পথে পা বাড়ায় এবং জীবনে নানা অসংগতির মাধ্যমে অশান্তি ডেকে আনে। অর্থসম্পদের ভাবনায় মানুষ লোভী হয়ে ওঠে। অন্যায় কাজের ভাবনায় অস্থির থাকে বলে তাদের জীবনীশক্তি কমে যায়।
দুর্লভ সুখ প্রত্যাশার দিক থেকে উত্তীপক-১ 'আশা' কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সুখ আপেক্ষিক বিষয়। পৃথিবীতে নানা জন নানাভাবে সুখী হওয়ার চেষ্টা করে। প্রকৃত সুখী মানুষ অল্পে তুষ্ট থাকে।
'আশা' কবিতায় কবি মানুষের জন্য নির্ভাবনাময় সুখের জীবন প্রত্যাশা করেছেন। যে জীবনে মানুষ অল্পে তুষ্ট থাকবে। বিত্ত-সুখের ভাবনায় আয়ু কমাবে না। প্রতিবেশীর সঙ্গে মিলেমিশে থাকবে। সেখানে জীর্ণবেড়ার ঘরেও মানুষ সুখে ঘুমিয়ে থাকবে। উদ্দীপকের কবিতাংশের কবিও সুখ প্রত্যাশা করেছেন। কবি জানেন সবাই সুখী হতে চায়। কিন্তু সুখী হওয়া সহজ বিষয় নয়। তবুও কবি আশা করেন একদিন সেই সুখ পাখি কবির জীবনে ধরা দেবে। উভয় জায়গায় সুখের প্রত্যাশা প্রকাশ পাওয়ায় বলা যায় যে দুর্লভ সুখ প্রত্যাশার দিক থেকে উদ্দীপক-১ আলোচ্য কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
হ্যাঁ, এটা বলা যায় যে, উদ্দীপক-২ এর বক্তব্য 'আশা' কবিতায় বর্ণিত কবির প্রত্যাশাকে তুলে ধরেছে।
মানুষ যা চায় তা সব সময় পায় না। না পাওয়া মানুষের মনে হতাশার জন্ম দেয়। কিন্তু অনেকেই আছে যারা হতাশ না হয়ে নতুন উদ্যমে জীবন পরিচালনা করে।
'আশা' কবিতায় কবি মানুষকে বিত্ত-বৈভব অর্জনের লোভ ত্যাগ করতে বলেছেন। গরিব-দুঃখী মানুষকে ভালোবেসে মনুষ্যত্বসম্পন্ন মানুষ হওয়ার কথা বলেছেন। কবি সেসব মানুষের কাছে যেতে চান যারা প্রকৃত অর্থেই মানুষ। যাদের সম্পদ না থাকলেও তারা প্রতিবেশীকে সাহায্য করে, যা জোটে তাই খায়। কোনো দুরাশা বা গ্লানি তাদের গ্রাস করে না। দরিদ্রতার মাঝে থেকেও তারা মানুষকে ভালোবাসতে পারে। উদ্দীপক ২-এ এমনই বক্তব্য প্রকাশ পেয়েছে। এখানে কবি মানুষকে মুখের হাসি আর প্রাণ ভরা ভরসা দিতে চেয়েছেন। সুখে-দুঃখে মানুষের পাশে থাকতে চেয়েছেন।
'আশা' কবিতায় কবি হীন ভেদাভেদ ভুলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে বাস করতে চেয়েছেন। সুখে-দুঃখে এক সঙ্গে বাঁচতে চেয়েছেন। মূলত তিনি প্রকৃত মানুষের মাঝে হারিয়ে যেতে চেয়েছেন। উদ্দীপক-২ এর কবিতাংশের কবিও সুখের মাঝে দুঃখের মাঝে আনন্দময় গান হয়ে মুখে হাসি নিয়ে থাকতে চেয়েছেন। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপক-২ এর বক্তব্য 'আশা' কবিতায় বর্ণিত কবির প্রত্যাশাকে তুলে ধরেছে।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!