উদ্দীপক-১ : হে সূর্য তুমি তো জানো,
আমাদের গরম কাপড়ের কত অভাব।
সারারাত খড়কুটো জ্বলিয়ে
একটুকরো কাপড়ে কান ঢেকে
কত কষ্টে আমরা শীত আটকাই।

উদ্দীপক-২: মুরু, পুশি, আয়শা, শফি সবাই এসেছে
আম বাগিচার তলায় যেন তারা হেসেছে।
রাঁধুনিদের শখের রাঁধার পড়ে গেছে ধুম
বোশেখ মাসের এই দুপুরে নেইকো কারো ঘুম।

Updated: 2 months ago
উত্তরঃ দুর্গার বয়স প্রায় দশ-এগারো বছর।
Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

হরিহর তাৎক্ষণিক বামুন হিসেবে বাস করার প্রস্তাবে রাজি হননি কারণ তার মনে ছিল অর্থ উপার্জনের এবং ভাগ্যান্বেষণের প্রবল আকাঙ্ক্ষা। পৈতৃক গ্রামের বাঁধা ধরা বামুনী পেশায় তিনি নিজেকে আবদ্ধ রাখতে চাননি এবং এটি তার উচ্চাকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী ছিল।

হরিহরের এই অনিচ্ছা তার স্বাধীনচেতা মন এবং উন্নত জীবনের প্রতি তার তীব্র বাসনার বহিঃপ্রকাশ। তিনি চিরাচরিত পেশার সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেয়ে নতুন কিছু করার স্বপ্ন দেখতেন, যা তাকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিলেও তার আত্মসম্মানবোধের সঙ্গে আপস করেননি।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

‘আম-আঁটির ভেঁপু’ গল্পে গ্রামীণ পরিবেশে অপু-দুর্গার দারিদ্র্যপীড়িত জীবনের এক বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে। উদ্দীপক-১ এ বর্ণিত কনকনে শীতের কষ্ট, গরম কাপড়ের অভাব এবং খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের যে চিত্র দেখা যায়, তা গল্পে অপুদের পরিবারের শীতকালে দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রামের বিষয়টিকে মনে করিয়ে দেয়। গল্পে অপু ও দুর্গা প্রায়শই অভাব-অনটনের মধ্যে দিনাতিপাত করে, যেখানে শীতকালে উপযুক্ত বস্ত্রের অভাবে তাদের কষ্ট ভোগ করা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।

উদ্দীপক-১ এর পঙক্তিগুলো যেমন — "আমাদের গরম কাপড়ের কত অভাব", "সারারাত খড়কুটো জ্বলিয়ে" এবং "একটুকরো কাপড়ে কান ঢেকে কত কষ্টে আমরা শীত আটকাই" — সরাসরি অপুদের পরিবারের অর্থনৈতিক দৈন্যদশা এবং জীবনযাপনের কঠিন বাস্তবতাকে তুলে ধরে। গল্পে দেখা যায়, দরিদ্রতার কারণে অপু-দুর্গার বাবা হরিহর রায় সংসারে পর্যাপ্ত যোগান দিতে পারেন না, ফলে তাদের পরিবারকে প্রায়শই তীব্র শীতের মতো প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয় ন্যূনতম আশ্রয় বা বস্ত্র ছাড়াই। উদ্দীপকের এই বর্ণনা তাদের অসহায়ত্ব এবং জীবনধারণের জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টাকে সুস্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করে।

সুতরাং, উদ্দীপক-১ এ বর্ণিত শীতের তীব্রতা মোকাবিলায় গরম কাপড়ের অভাব এবং প্রথাগত উপায়ে শীত নিবারণের চেষ্টা 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের অপু-দুর্গার গ্রামীণ দারিদ্র্যপীড়িত শৈশব এবং প্রকৃতির সঙ্গে তাদের নিরন্তর সংগ্রামের চিত্রকেই উপস্থাপন করেছে। এটি শুধুমাত্র বস্তুর অভাব নয়, বরং এক ধরণের গভীর বঞ্চনার চিত্র, যা অপু-দুর্গার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

আলোচ্য মন্তব্যটি 'আম-আঁটির ভেপুঁ' গল্পের মূল সুরকে ধারণ করে এবং উদ্দীপক-২ এর মর্মার্থের সাথে সুনিপুণভাবে এর যোগসূত্র স্থাপন করেছে। 'আম-আঁটির ভেপুঁ' গল্পটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী সৃষ্টি 'পথের পাঁচালী' উপন্যাসের একটি অংশ, যেখানে গ্রাম বাংলার প্রকৃতিঘেরা নিষ্পাপ শৈশবের এক মনোমুগ্ধকর চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

উদ্দীপক-২ এ বোশেখ মাসের এক দুপুরে আমবাগানের নিচে ছেলেমেয়েদের (মুরু, পুশি, আয়শা, শফি) উচ্ছল হাসি-খেলার যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা গ্রামীণ জীবনে প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকা সরল আনন্দের প্রতিচ্ছবি। রাঁধুনিদের শখের রান্না এবং সবার কর্মব্যস্ততা ও প্রফুল্লতা ইঙ্গিত দেয় যে, কোনো উৎসব বা সন্মিলনীর মতো এক আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে ক্লান্তি বা দুশ্চিন্তার কোনো অবকাশ নেই, শুধু নির্ভেজাল ফুর্তিই প্রাধান্য পেয়েছে।

'আম-আঁটির ভেপুঁ' গল্পে অপু ও দুর্গার দুরন্ত ও বাঁধনহারা শৈশবের বর্ণনা পাই, যেখানে তাদের আনন্দ লুকিয়ে থাকে প্রকৃতির অপার দান এবং সহজ-সরল খেলায়। আম কুড়ানো, বিলের জলে মাছ ধরা, রেলগাড়ি দেখতে যাওয়া, বকুল কুড়ানো এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আম-আঁটি দিয়ে ভেঁপু বানিয়ে বাজানোর মতো গ্রামীণ খেলাধুলা তাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। উদ্দীপকের 'আম বাগিচার তলায় যেন তারা হেসেছে' এবং 'বোশেখ মাসের এই দুপুরে নেইকো কারো ঘুম' পঙক্তিগুলো অপুকে ও দুর্গার আম কুড়ানো, রোদেলা দুপুরে মাঠেঘাটে ঘুরে বেড়ানো এবং প্রকৃতির সাথে মিশে যাওয়া স্বাধীন জীবনের কথাই মনে করিয়ে দেয়। তাদের জীবনে বৈষয়িক প্রাপ্তির চেয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্য ও সহজিয়া আনন্দই ছিল মুখ্য, যা উদ্দীপক-২ এর মর্মার্থের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।

সুতরাং, উদ্দীপক-২ এর মূলভাব—গ্রামীণ পরিবেশে প্রকৃতির সাথে একাত্ম হয়ে শৈশবের সহজ-সরল আনন্দ ও খেয়ালি জীবনের যে চিত্র—তা 'আম-আঁটির ভেপুঁ' গল্পে অপু ও দুর্গার চরিত্রের মধ্য দিয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে ফুটে উঠেছে। তাই মন্তব্যটির যথার্থতা অনস্বীকার্য।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
43

Related Question

View All
উত্তরঃ

'পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভার'- কথাটির মধ্য দিয়ে লেখক বাষ্প্রতিবন্ধী সুভার বিয়ের বয়স হওয়া সত্ত্বেও বিয়ে দিতে না পারায় পিতা-মাতার হৃদয়ের নীরব কষ্টকে বোঝাতে চেয়েছেন।

সুভা বাণীকন্ঠের ছোট মেয়ে। সে কথা বলতে পারে না। বাণীকণ্ঠ তার বড় দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু বাষ্প্রতিবন্ধী হওয়ায় ছোট মেয়ে সুভাকে বিয়ে দিতে পারেননি। তাই সুভার ভবিষ্যৎ নিয়ে বাণীকণ্ঠ এবং তার স্ত্রী উভয়েই চিন্তিত। সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে তাদের হৃদয়ে নীরব কষ্ট সৃষ্টি হয়। লেখক সেই কষ্টকেই বলেছেন- পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভার।

10.8k
উত্তরঃ

উদ্দীপকের প্রথম অংশের বক্তব্যে কল্যাণী ও সুভার শারীরিক প্রতিবন্ধিতার দিকটির সংগতি দেখানো হয়েছে।

শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে অনেকে সমাজে অবহেলার শিকার হয়। এতে সমাজের মানুষ হীনম্মন্যতার পরিচয় দেয়। প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহানুভূশীল হলে তবেই তারা বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাবে এবং সমাজে সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে পারবে।

'সুভা' গল্পে সুভা কথা বলতে পারে না। আনন্দের বার্তা নিয়ে পৃথিবীতে এলেও কথা বলতে না পারার বিষয়টি কিছুটা সুভার বাবা- মায়ের মনে নীরব হৃদয়ভারের জন্ম দেয়। উদ্দীপকের কল্যাণীর জন্মও পরিবারে আনন্দ নিয়ে আসে। কিন্তু তার মানসিক প্রতিবন্ধিতার দিকটি সবাইকে চিন্তিত করে তোলে। তার মানসিক বিকাশ কিছুটা কম হয়েছে। 'সুভা' গল্পের সুভাও বাষ্প্রতিবন্ধী হওয়ায় তার পরিবারের সবার দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে উদ্দীপকের বক্তব্যে কল্যাণী ও সুভার প্রতিবন্ধিতার দিকটি সংগতিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

7.7k
উত্তরঃ

কল্যাণী ও সুভা একই পরিস্থিতির শিকার হলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট ও পরিণতি ভিন্ন- মন্তব্যটি যথার্থ।

শারীরিক প্রতিবন্ধীরা আমাদের সমাজে বিভিন্নভাবে অবহেলার সম্মুখীন হয়। তারা আমাদের সমাজেরই অংশ, আমাদের মতোই মানুষ। তাই তাদের কল্যাণে এগিয়ে আসা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমাদের সহানুভূতি পেলে তারা জীবনের পূর্ণতা লাভ করবে।

উদ্দীপকে কল্যাণীর মানসিক বিকাশ ঠিকভাবে ঘটেনি। বিয়ের কথাবার্তায় তার বাবা পলাশ বাবু বরপক্ষের কাছে সে সব কথা খুলে বলেন। তারা সব শুনে উদারতার পরিচয় দেন। বরের বাবা সুবোধ বাবু মহত্ত্বের পরিচয় দিয়ে কল্যাণীকে ঘরে নিয়ে যেতে চান। অন্যদিকে 'সুভা' গল্পের সুভা বাষ্প্রতিবন্ধী। সে কথা বলতে পারে না। সবার কাছ থেকে অবহেলা পেলেও সুভা তার বাবার ভালোবাসা পেয়েছে। সুভার সাথে কেউ মেশে না বলে সে পোষা প্রাণীদের মাঝে নিজের একটি বিশাল জগৎ তৈরি করেছে।

উদ্দীপকের কল্যাণী ও 'সুভা' গল্পের সুভা একই পরিস্থিতির শিকার হলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট ও পরিণতি ভিন্ন। কল্যাণী সুবোধ বাবুর উদারতায় পেয়েছে সুন্দর ভবিষ্যতের সন্ধান। অথচ 'সুভা' গল্পের সুভার পরিণতি এতটা মানবিকতায় সিক্ত হয়নি। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

5.9k
উত্তরঃ

শঙ্খের মধ্যে যেমন সমুদ্রের শব্দ শুনা যায়, তেমনি এই লাইব্রেরির মধ্যে কি হৃদয়ের উত্থানপতনের শব্দ শুনিতেছ

8.1k
উত্তরঃ

‘জীবিত ও মৃত ব্যক্তির হৃদয় পাশাপাশি এক পাড়ায় বাস করিতেছে’ – উক্তিটির মাধ্যমে গ্রন্থাগার বা বইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। বইয়ের পাতায় মৃত বা বিগত প্রজন্মের জ্ঞানী-গুণী মানুষের চিন্তা, দর্শন, অভিজ্ঞতা ও সৃষ্টিশীলতা সংরক্ষিত থাকে। যখন একজন জীবিত পাঠক সেই বই পড়েন, তখন যেন মৃত লেখকের হৃদয় বা মননের সাথে জীবিত পাঠকের মনের নিবিড় সংযোগ ঘটে।

এভাবে বইয়ের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা জীবিত প্রজন্মের মধ্যে প্রবাহিত হয়, যা মানবজাতির নিরন্তর জ্ঞানচর্চাকে সম্ভব করে তোলে। লেখক এবং পাঠকের এই আত্মিক মিলনকে তুলনা করা হয়েছে একই পাড়ায় বসবাস করা হৃদয়ের সাথে, যেখানে সময় ও স্থানের বাধা অতিক্রম করে জ্ঞান ও উপলব্ধির এক নিরন্তর বিনিময় ঘটে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
6.1k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews