উদ্দীপক-২ হলো গ্রীন হাউস এফেক্ট। এর প্রভাবে সমুদ্রের উচ্চতা বেড়ে যাবে ও উপকূল অঞ্চল তলিয়ে যাবে, আবহাওয়ার পরিবর্তন হবে অর্থাৎ এর প্রভাবে পরিবেশে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে। তাই এর প্রভাব থেকে পরিবেশকে সংরক্ষণ করা জরুরি। নিচে এটি সংরক্ষণের কিছু উপায় উল্লেখ করা হলো-
পরিবেশ বিষয়ক আন্দোলনকে অতিদ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
- বৃক্ষরোপণ আন্দোলনকে কোনো নির্দিষ্ট মাস বা সপ্তাহে আটকে রাখা যাবে না। সারা বছর গাছ লাগাতে হবে।
- শিল্পকারখানা নির্মাণের পূর্বে শিল্প বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। এতে পরিবেশ বিপর্যয় রোধ করা যাবে।
- জ্বালানি কাঠের পরিবর্তে সৌরশক্তির মতো নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করতে হবে।
- জমিতে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার, কীটনাশক ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। এর পরিবর্তে জৈব সার ব্যবহার করতে হবে।
- জনসংখ্যা সীমিত রেখে সচেতন ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে হবে। এতে পরিবেশ বিপর্যয় রোধ হবে এবং আর্থসামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
- CO2, CH4, CO প্রভৃতি গ্রিন হাউজ গ্যাসের উৎপাদন হ্রাস করতে হবে।
- বায়ু দূষণ, পানি দূষণ, মাটি দূষণ, শব্দ দূষণ প্রভৃতি যাতে না হয় সে রকম ব্যবস্থা নিতে হবে।
- ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে বনায়ন করতে হবে। ফলে অনেক প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পরিবেশ বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
উপরিউক্ত উপায়সমূহ মেনে চললে গ্রিন হাউজ এফেক্ট থেকে পরিবেশকে সংরক্ষণ করা সম্ভব।
Related Question
View Allপরভোজী বা মৃতজীবী যে সকল অণুজীব জীবের মৃতদেহ থেকে বিশোষণের মাধ্যমে খাদ্য গ্রহণ করে এবং মৃতদেহকে বিয়োজিত করে সরল জৈব যৌগে পরিণত করে তাদের বলা হয় বিয়োজক।
বাস্তুতন্ত্রে একাধিক খাদ্য শিকল দেখা যায়। এ খাদ্য শিকলগুলো স্বাধীন বা পৃথকভাবে অবস্থান করে না। এসব খাদ্য শিকলগুলোর একটি শিকল অন্য এক বা একাধিক খাদ্য শিকলের সাথে সম্পর্কযুক্ত। বাস্তুতন্ত্রে এভাবে একাধিক খাদ্য শিকলগুলো আন্তঃসম্পর্কযুক্ত হয়ে একটি জালের ন্যায় গঠন তৈরি করে। জালের ন্যায় এ গঠনই হলো খাদ্যজাল।
উক্ত খাদ্যজালের সবচেয়ে বড় খাদ্যশৃঙ্খলটি হলো-
সবুজ উদ্ভিদ সবুজ পোকা মাংসাশী পতঙ্গ ছোট পাখি শেয়াল।
উদ্দীপকের খাদ্যজালটির এ খাদ্যশৃঙ্খলটিতেই রয়েছে বেশি সংখ্যক খাদ্যস্তর। বাস্তুতন্ত্রের সব ধরনের খাদ্যশৃঙ্খলেই প্রতিটি খাদ্যস্তরে কিছু শক্তির অপচয় হয়। এ শৃঙ্খলটির উৎপাদক সবুজ উদ্ভিদ থেকে সবুজ পোকা যতটা শক্তি গ্রহণ করে তার শরীরে ততটা শক্তি জমা হয় না। আবার দ্বিতীয় স্তরের খাদক মাংসাশী পতঙ্গ সবুজ পোকার দেহ থেকে যে পরিমাণ শক্তি গ্রহণ করে তার কিছুটা খরচ বা অপচয় হয়ে যায়। এ ভাবে তৃতীয় স্তরের খাদক ছোট পাখি যখন মাংসাশী পতঙ্গ থেকে খাদ্য হিসেবে শক্তি গ্রহণ করে সেখানেও কিছু শক্তির অপচয় ঘটে এবং সর্বোচ্চ খাদক শেয়াল যখন ছোট পাখিকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণের মাধ্যমে শক্তি নেয় সেখানেও কিছু শক্তি ব্যয় হয়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে এ খাদ্যশৃঙ্খলটিতে খাদ্যস্তরের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সর্বোচ্চ খাদকে শক্তি পৌঁছাতে মোট শক্তির অপচয় বা ব্যয় সবচেয়ে বেশি হয়।
উপরোক্ত খাদ্যজালের ছোট পাখিটি বাস্তুতন্ত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। উদ্দীপকের ছোট পাখিটির বিলুপ্তি ঘটলে স্থলজ বাস্তুতন্ত্রে এক বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিবে। বাস্তুতন্ত্র তার জীববৈচিত্র্য হারাবে। পরিবেশ থেকে কোন প্রজাতি বিলুপ্ত হলে বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়ে যায়, অর্থাৎ বাস্তুতন্ত্র তার ভারসাম্য হারায়।
উদ্দীপকের খাদ্যজাল থেকে ছোট পাখিটি বিলুপ্ত হলে পরিবেশ তথা বাস্তুতন্ত্রে যা ঘটবে-
বাস্তুতন্ত্রে সবুজ পোকা ও মাংসাশী পতঙ্গের সংখ্যা বেড়ে যাবে। কারণ ছোট পাখি সবুজ পোকা ও মাংসাশী পতঙ্গ খেয়ে বেঁচে থাকে। পরিবেশ তথা বাস্তুতন্ত্রে সবুজ পোঁকার সংখ্যা বেড়ে গেলে সবুজ উদ্ভিদের সংখ্যা কমতে থাকবে। কারণ সবুজ পোকা সবুজ উদ্ভিদ খেয়ে বেঁচে থাকে। এসকল পোকার আক্রমণে উদ্ভিদে বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা দিবে ফলে ফসলী উদ্ভিদের ফলন কমে যাবে। এতে বাস্তুতন্ত্রের প্রাণিকূলের বেঁচে থাকার জন্য যে খাবার প্রয়োজন তাতে ঘাটতি দেখা দিবে। অন্যদিকে বাস্তুতন্ত্রে উদ্ভিদের সংখ্যা কমে গেলে পরিবেশে অক্সিজেনের অভাব দেখা দিবে। কারণ সবুজ উদ্ভিদই সালোকসংশ্লেষণের সময় অক্সিজেন নির্গত করে। সুতরাং পরোক্ষভাবে ছোট পাখিটি বাস্তুতন্ত্রে গ্যাসীয় ভরসাম্য রক্ষা করে চলেছে। আবার খাদ্যজাল থেকে ছোট পাখি বিলুপ্ত হলে খাদ্যজালের সর্বোচ্চ খাদক শেয়াল তার খাবার না পেয়ে বাস্তুতন্ত্র থেকে বিলুপ্ত হবে।
সুতরাং সবশেষে বলা যায় যে উক্ত খাদ্যজাল থেকে ছোট পাখির বিলুপ্তি ঘটলে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যতা নষ্ট হবে, পরিবেশ দূষিত হবে, বাস্তুতন্ত্র থেকে বিলীন হবে অনেক জীবপ্রজাতি, পরিবেশে দেখা দিবে খাদ্যভাব- যা বাস্তুতন্ত্রের প্রাণিকূল ধ্বংসের প্রথম পদক্ষেপ।
পৃথিবীতে বিরাজমান জীবসমূহের প্রাচুর্য ও ভিন্নতাই হলো জীববৈচিত্র্য।
কখনও কখনও দুটি জীব একসঙ্গে বসবাসের সময় এদের একটি জীব অন্যের দ্বারা উপকৃত হয় কিন্তু অন্যটি উপকৃত না হলেও কখনও ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। দুটি জীবের এ ধরনের সহাবস্থানকে বলা হয় কমেনসেলিজম। যেমন- রোহিনী উদ্ভিদ অন্য বড় উদ্ভিদকে আরোহন করে উপরে উঠে। এক্ষেত্রে রোহিনী উদ্ভিদটি উপকৃত হয় কিন্তু বড় উদ্ভিদ উপকৃত হয় না। আবার রোহিনী উদ্ভিদ দ্বারা ক্ষতিগ্রস্তও হয় না। এই সহাবস্থানই হলো কমেনসেলিজমের একটি প্রকৃত উদাহরণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
