'আশা' কবিতাটি কবি সিকান্দার আবু জাফরের 'মালব কৌশিক' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।
সাধারণ মানুষের চিন্তাবিহীন জগতে কান্না-হাসির অন্তরালে কবি হারিয়ে যেতে চান।
'আশা' কবিতায় কবি মানুষের জীবনের ক্রমবর্ধমান জটিলতাকে তুলে ধরতে চেয়েছেন। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার প্রত্যাশা করেছেন। দিনমজুর, শ্রমজীবী সাধারণ মানুষেরা যা রোজগার করে তা দিয়ে কোনো রকমে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকে। তারা সমাজে অবহেলিত, নিগৃহীত হলেও তাদের এ নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই। তারা সম্পদ বাড়ানোর চিন্তায় ঘুম হারাম করে না, সোনা- রূপার পাহাড়ও বানাতে চায় না। এসব ভাবনা থেকে দূরে থাকে বলে তারা ভালো থাকে এবং সুখে দিন কাটায়। তাই কবি এসব মানুষের মাঝে হারিয়ে যেতে চান। তাদের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার অন্তরালে নিজেকে লুকাতে চান।
উদ্দীপকের মিজান সাহেবের মাধ্যমে 'আশা' কবিতায় প্রকাশিত বিত্তসুখের ভাবনায় কাতর মানুষের আচরণের সাদৃশ্য রয়েছে।
সুখ একটি আপেক্ষিক বিষয়। অর্থ-বিত্তের লোভে নিজেকে সবসময় ব্যস্ত রেখে সুখী হওয়া যায় না। নির্লোভ ও নির্ভাবনাময় জীবনই সুখের জীবন।
উদ্দীপকে ধনাঢ্য ব্যবসায়ী মিজান সাহেব সারা দিন টাকাপয়সা, বিত্ত-বৈভবের চিন্তায় বিভোর থাকেন। তাই তার শরীরে বাসা বেঁধেছে নানা ধরনের অসুখ-বিসুখ। 'আশা' কবিতায়ও কবি বলেছেন যারা বিত্ত-সুখের দুর্ভাবনায় থাকে তাদের আয়ু কমে যায়। জীবনে তারা প্রকৃত সুখী হতে পারে না। তাদের আত্মকেন্দ্রিক চিন্তাভাবনা সমাজ-সংসারে অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কবিতার এসব বিত্ত-বৈভব নিয়ে সুখ আকাঙ্ক্ষী মানুষের সঙ্গে মিজান সাহেবের সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকের গ্রামবাসীর অন্তরালেই কবি হারিয়ে যেতে চান- মন্তব্যটি যথার্থ।
পৃথিবীতে নানা মানুষ নানাভাবে সুখী হওয়ার চেষ্টা করে। কেউ ত্যাগ স্বীকার করে সুখী হতে চায় আবার কেউ ভোগের মধ্যে সুখ খোঁজে। প্রকৃতপক্ষে অধিক প্রত্যাশী ব্যক্তি কখনই প্রকৃত সুখের সন্ধান পায় না।
উদ্দীপকে মিজান সাহেবের আচরণ আত্মকেন্দ্রিক ও স্বার্থবাদী কিন্তু তার গ্রামবাসী নিতান্ত সহজ-সরল খেটে খাওয়া মানুষ। তারা মিজান সাহেবের বৃদ্ধ বাবা-মাকে আগলে রাখে কোনো কিছুর প্রত্যাশা ছাড়াই। এখানে দারিদ্র্যের মধ্যে থাকলেও সবাই সবার স্বজন। তারা প্রতিবেশীর খেয়াল রাখে। এমনই এক জগতে 'আশা' কবিতার কবি হারিয়ে যেতে চান। যেখানে লোকে বিত্ত-সুখের দুর্ভাবনায় আয়ু কমায় না, যেখানে মানুষ মানুষকে ভালোবাসতে পারে।
'আশা' কবিতায় কবি বলেছেন তিনি সেই জগতে হারিয়ে যেতে যান যেখানে বিত্ত-সুখের দুর্ভাবনায় মানুষ আয়ু কমায় না। জীর্ণ বেড়ার ঘরে নির্ভাবনায় ঘুমিয়ে থাকে। প্রতিবেশীকে সাহায্য করে, মানুষ মানুষকে ভালোবাসে। উদ্দীপকের গ্রামবাসী এমনই জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত। তারা প্রতিবেশীকে সাহায্য করে, তাদের খেয়াল রাখে। এখানেই কবি হারিয়ে যেতে চান। এসব বিচারে বলা যায়, মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!