"উদ্দীপক এবং 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের প্রত্যাশা একই ধারায় প্রবাহিত।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
বাস্তবতার নিরিখে স্বপ্ন দেখলে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়। বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্কহীন স্বপ্ন আমাদের অন্ধকারে নিমজ্জিত করে। এ ধরনের স্বপ্ন দেখা সময়ের অপব্যয়েরই নামান্তর।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা শ্রমবিমুখ অলস বাঙালি নর-নারীদের কর্মকান্ডের প্রতি তীব্র কটাক্ষ করেছেন। ব্যাবসায় পরিশ্রম আবশ্যক বলে সকল পণ্যের ব্যাবসাকে বাঙালি আয়ত্তে নিয়েছে। কর্কশ অনুর্বর মাটিকে কর্ষণ করে চাষ করার চেয়ে কৃষি বিষয়ে ডিগ্রি অর্জনকে বেছে নিয়েছে তারা। বাঙালি নারীরাও কোমল অঙ্গের অধিকারিণী। আর এসব বিষয় উল্লেখ করার মধ্য দিয়ে লেখিকা রাঙালিকে পরিশ্রমী হওয়ার উপদেশ দিয়েছেন। উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি অবাস্তব কল্পনার মায়াজাল ছিঁড়ে বাস্তবের জগতে পা রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন।
উদ্দীপকের কবি মানবসংগ্রামের বন্যার সঙ্গে তাল মিলিয়ে মিথ্যা স্বপ্নকে ভাসিয়ে দিতে বলেছেন। অবাস্তব কল্পনার ভেতরে ডুবে থাকলে মুক্তি অসম্ভব। 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালির আলস্যপ্রিয়তার বিরুদ্ধে কটাক্ষ করেছেন। অনায়াসলব্ধ পরিশ্রমহীন কাজকর্ম ত্যাগ করে ভাগ্যকে সুপ্রসন্ন করতে কর্মঠ হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allশেমিজ জ্যাকেট জাতীয় পোশাককে ইংরেজ ললনাদের নির্লজ্জ পরিচ্ছদ বলা হয়েছে।
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বাঙালিকে 'মূর্তিমান কাব্য' বলেছেন তাদের আলস্য বা অলসতার জন্য।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালির জীবনাচরণের নানা অসংগতিকে কটাক্ষ করেছেন। পুরুষরা আলস্যপ্রিয়। আর নারী অহেতুক রূপচর্চা, পরনিন্দা এবং নিজেকে হীনবল মনে করে গৃহকোণে বন্দি জীবনযাপন করতে বেশি পছন্দ করে। ফলে তাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে উন্নতি নেই। তাই লেখিকা বাঙালিকে 'মূর্তিমান কাব্য' বলেছেন।
নন্দলালের বৈশিষ্ট্য 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে আলোচিত অলস বাঙালির কার্যক্রমকে ইঙ্গিত করে।
পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি। পরিশ্রম না করে কেউ উন্নতির শিখরে আরোহণ করতে পারে না। বাঙালির অনগ্রসরতার মূলে রয়েছে তাদের শ্রমবিমুখতা। বাঙালির এ স্বভাব তাদের উন্নতির প্রধান অন্তরায়।
উদ্দীপকে নন্দলালের শ্রমবিমুখতা এবং তার আলস্যভরা জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। বাড়ির বাইরে গেলে কোথায় কোন সমস্যায় পড়ে এই ভয়ে সে সব কাজ ফেলে শুয়ে শুয়ে দিন কাটাতে পছন্দ করে। তার এই মূল্যহীন যুক্তি ও অলসতা 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের বাঙালির কার্যক্রমের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালি পুরুষদের আলস্যপ্রিয়তা, শারীরিক পরিশ্রমে অনীহা প্রভৃতি নেতিবাচক দিক তুলে ধরেছেন। পরিশ্রম না করা ও ভোজনপ্রিয়তার ফলে বাঙালি পুরুষদের ভুঁড়িটি সজিনার মতোই স্কুল দেখায়। এভাবে উদ্দীপকের নন্দলালের বৈশিষ্ট্য 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের অলস বাঙালির কার্যক্রমকে ইঙ্গিত করে।
উদ্দীপকে 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের উপেক্ষিত দিকটি হলো বাঙালির আলস্যের প্রতি লেখিকার কঠোর সমালোচনা।
বাঙালি শ্রমবিমুখ, অলস। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কেবল আরামপ্রিয়তার কারণেই তারা পৃথিবীর বিভিন্ন জাতি থেকে পিছিয়ে আছে। অন্যদিকে বাঙালি জাতি পরিশ্রম অপেক্ষা তোষামোদ করতে বেশি পছন্দ করে।
উদ্দীপকে নন্দলালের অজানা কোনো একটা সমস্যা-সংকটের ভয় এবং অলসতাকে তুলে ধরা হয়েছে। তার এই ভয়, কর্মবিমুখতা বাঙালির মজ্জাগত স্বভাববৈশিষ্ট্য। উদ্দীপকে নন্দলালের আলস্যকে সবাই সমর্থন করলেও 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা তাদের কঠোর সমালোচনা ও কটাক্ষ করেছেন। লেখিকা বাঙালির এমন আরামপ্রিয়তা ও পরিশ্রম না করার দিকগুলোকে নির্বুদ্ধিতা ও অনুচিত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যা উদ্দীপকে উপেক্ষিত।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা হাস্যরসের মাধ্যমে বাঙালি পুরুষের কর্মবিমুখতা এবং বাঙালি নারীর দুর্বলচিত্ত ও অহেতুক রূপচর্চা সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন। লেখিকা দেখিয়েছেন বাঙালির এই নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যগুলো তাদেরকে কতটা নিচুস্তরে নামিয়ে দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ব্যাঙ্গাত্মক এ প্রবন্ধটির মাধ্যমে লেখিকা বাঙালিকে সত্যিকার সামাজিক, পারিবারিক ও জাতীয় কাজে প্রণোদিত করতে চেয়েছেন। অথচ উদ্দীপকে সকলে নন্দলালের উদ্ভট কাজগুলোকে সমর্থন করছে, তার আচরণগুলো পরিবর্তনের জন্য কিছুই বলছে না। ফলে 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের উল্লিখিত দিকগুলো উদ্দীপকে উপেক্ষিত হতে দেখা যায়।
মূলত যৌতুক প্রথা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে প্রাবন্ধিক উক্তিটি করেছেন।
বাঙালিরা আরামপ্রিয় হওয়ার কারণে বর অর্থাৎ ছেলেরা পরিশ্রম করে টাকা উপার্জনের চেয়ে পাশ বিক্রয় করে শ্বশুরের কাছ থেকে টাকা গ্রহণকে বেশি প্রাধান্য দেয়। যার কারণে ছেলের যত পড়াশোনা যৌতুকের বাজারে তার মূল্য তত বেশি, এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাঙালি বরেরা পাশ বিক্রয় করতে ইচ্ছুক।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!