হ্যাঁ, উদ্দীপক থেকে আমি মনে করি বাংলাদেশ ক্রমাগত উন্নয়নের দিকে ধাবিত হচ্ছে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
⇒ স্বাধীনতা লাভের সময় বাংলাদেশ শিল্পক্ষেত্রে খুবই পশ্চাৎপদ ছিল। শিল্পের উন্নয়নে পরামর্শ, শিল্পঋণ, ট্যাক্স হলিডে, ইপিজেড প্রতিষ্ঠা ও অন্যান্য সহযোগিতা প্রদানে সরকারের প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে; ফলে মোট দেশজ উৎপাদনে এ খাতের অবদান ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১৯৮০-৮১ সালে এ খাতের অবদান ছিল ১৭.৩১% এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ খাতের অবদান ৩২.৪৮%।
⇒ দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও অন্যান্য প্রাকৃতিক জ্বালানির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি খাতে যেমন- পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি), রেন্টাল পাওয়ার প্রডিউসার ও ইনডিপেডেন্ট পাওয়ার প্লান্ট প্রভৃতির মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে।
⇒ বিশ্বমন্দার প্রভাবে বাংলাদেশ থেকে শ্রমশক্তি কিছুটা হ্রাস পেলেও ২০১১-১২ অর্থবছর থেকে তা আবার বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময় রেমিট্যান্স প্রবাহ প্রায় ৬.০৩% বৃদ্ধি পায়। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এই রেমিট্যান্স প্রবাহ আগের অর্থবছরের তুলনায় ৭.৭০% বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলশ্রুতিতে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতি চলতি অর্থবছরে পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
→ বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো রূপকল্প-২০২১ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা। এ ধরনের মৌলিক ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য পূরণের জন্য বর্তমান সরকার ২০১০-২০২১, এ দশ বছর সময়ের জন্য একটি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে।
⇒ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ও জাতীয় কৃষিনীতির মাধ্যমে কৃষির উন্নয়নে সরকার অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে; ফলে কৃষির উৎপাদন পূর্বের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৪-০৫ অর্থবছরে যেখানে কৃষিক্ষেত্রে খাদ্যশস্যের উৎপাদন ছিল ২৬৪.৮৯ লাখ মেট্রিক টন, সেখানে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে ৩৮৪.১৯ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮৮.১৭ লাখ মেট্রিক টন।
উপরের সার্বিক আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে বাংলাদেশ ক্রমাগত উন্নয়নের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
Related Question
View Allবাংলাদেশে ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়।
দক্ষিণ এশিয়ার একটি স্বাধীন দেশ হলো বাংলাদেশ। ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বাংলাদেশের। অবস্থান বিস্তৃত। এ দেশের মধ্যভাগ দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে। সাগরের অবস্থান বাংলাদেশের দক্ষিণে হওয়ার কারণে এ দেশের অবস্থান প্রান্তীয়। বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম, পূর্বে ভারতের আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মিয়ানমার এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর ও পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ।
উদ্দীপকে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বিষয়টি উপস্থাপিত হয়েছে। নিচে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রের প্রকৃতি তুলে ধরা হলো-
দারিদ্র্য যেকোনো দেশের জন্যই অভিশাপ। সাধারণত স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে আবদ্ধ থাকে। সেই দেশগুলোর জনগণের আয় অনেক কম থাকার কারণে সেসব দেশে সঞ্চয়ের পরিমাণও কম হয়। একটি দেশে যখন সঞ্চয়ের পরিমাণ কম হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই সেই দেশে বিনিয়োগ কম হবে। বিনিয়োগ যখন কম হয়, তখন সেই দেশের জনগণ বেকার থাকে। তাদের কর্মসংস্থানের অভাব দেখা দেয়, ফলে নিয়োগ কম হয়। একটি দেশে নিয়োগ, কর্মসংস্থান কম থাকার অর্থ সে দেশের উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলো অচল থাকে অথবা উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধও থাকতে পারে। ফলে উৎপাদন কম হয়। একটি দেশের উৎপাদন কম হলে আয় কম হবে, এটাই স্বাভাবিক। এভাবেই একটি দেশ দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে আবদ্ধ থাকে।
অতএব বলা যায়, একটি দেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র।
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। অধিক জনসংখ্যা এ দেশের প্রধান বৈশিষ্ট্য। অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৭ অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রায় ২৩.৫ ভাগ লোক বর্তমানে দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করছে।
এ দেশেও তাই দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বিদ্যমান রয়েছে। এ দেশে অধিক জনসংখ্যার কারণে শ্রম সস্তা। এই সস্তা শ্রমের কারণে জনগণের আয় কম। আয় কম হওয়ার কারণে সঞ্চয় কম। ফলে বিনিয়োগ কম। তবে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ রয়েছে, যার ফলে দেশের অধিক জনসংখ্যার কিছু অংশের কর্মসংস্থান রয়েছে। তার পরও প্রায় ৩ কোটির উপরে বেকার জনগোষ্ঠী এ দেশে রয়েছে। ফলে এই নিয়োগ কম হওয়ায় আশানুরূপ উৎপাদন হচ্ছে না। আশানুরূপ উৎপাদন না হওয়ার কারণে জনগণের আয়ও কম হচ্ছে। এভাবেই দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বাংলাদেশকে ঘিরে রয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করছে। দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র যত দিন বাংলাদেশ থেকে দূর না হবে, তত দিন বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে না।
বাংলাদেশের বর্তমান মাথাপিছু আয় ১৭৫২ মার্কিন ডলার।
বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান খাত কৃষি। এদেশের মোট শ্রম শক্তির ৪৫.১% কৃষির উপর নির্ভরশীল এবং প্রায় ৭৫% মানুষ কৃষির উপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। ২০১৬-১৭অর্থবছরে দেশের জিডিপির ১৪.৭৯% আসে কৃষি থেকে। বাংলাদেশের শিল্পের কাঁচামালের বেশিরভাগই আসে কৃষি থেকে। তাই বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!