'জীবন-সঙ্গীত' কবিতাটি A Psalm of Life শীর্ষক ইংরেজি কবিতার ভাবানুবাদ।
জগতে কল্যাণকর কাজ করে যাঁরা চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন তাঁদের পথ অনুসরণ করে কাজ করে অমরত্ব লাভ করা যায়।
'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় কবি বেঁচে থাকার জন্য প্রতিনিয়ত সাহসী যোদ্ধার মতো সংগ্রাম করে টিকে থাকতে বলেছেন। তিনি লোভ ত্যাগ করে ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা দিয়ে জীবনপথের সমস্ত প্রতিবন্ধকতা দূর করতে বলেছেন। জগতে চিরস্মরণীয় ব্যক্তিরা তাই করেছেন। তাঁরা মহামূল্যবান জীবনকে মানবকল্যাণে নিয়োজিত করে জগতের উন্নতি করেছেন। মানুষের জীবন যেহেতু চিরস্থায়ী নয়, তাই তারা নশ্বর জীবনকে হতাশায়, নিরাশায় জরাগ্রস্ত না করে তা হাসি-আনন্দে ভরিযে তুলেছেন এবং মানবকল্যাণ সাধনে স্বেচ্ছায় আত্মনিয়োগ করেছেন। তাঁরা অমর হওয়ার জন্য পৃথিবীতে মহৎ কীর্তি স্থাপন করেছেন। কবিও মনে করেন যে সেসব মহাজ্ঞানীর দেখানো পথে অগ্রসর হয়ে কাজ করে অমরত্ব লাভ করা যায়।
উদ্দীপক-১ অংশে 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতার যথাসময়ে কাজ করে জগতে কীর্তি স্থাপন করার দিকটি ফুটে উঠেছে।
সময় কারও জন্য অপেক্ষা করে না। যারা সময়ের কাজ সময়ের মধ্যে করে, তারা জগতে সফলতা অর্জন করে। আর যারা তা করে না, তারা গতিময় পৃথিবীর গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে না।
'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় কবি জীবনের প্রকৃত অর্থ ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেছেন। কবি জীবনের উন্নতি ও সার্থকতার জন্য যেসব বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন সেগুলোর মধ্যে 'সময়' অন্যতম। কবি এখানে সময়ের কাজ সময়ের মধ্যে করার ইঙ্গিত করেছেন। কারণ কালের গর্ভে সব বিলীন হয়ে গেলেও মানুষের কীর্তি টিকে থাকে। জগতের মহাজ্ঞানী-মহাজনেরা সময়ের সদ্ব্যবহার করেছেন। কবিতার এ বিষয়টি উদ্দীপকেও প্রতিফলিত হয়েছে। উদ্দীপকে সময়ের মূল্য বুঝে কাজ করার প্রতিদান এবং জগতে স্মরণীয় হয়ে থাকার কথা বলা হয়েছে। সাধারণভাবে রাতে আকাশে তারা জ্বলে, আর দিনে সূর্য আলো ও তাপ বিকিরণ করে। তাই একটির সময় অন্যটির প্রত্যাশা করে সময় নষ্ট করার কোনো মানে নেই। উদ্দীপক ও কবিতায় এ বিষয়টি পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ।
"উদ্দীপক-২ অংশের তরুণ দল যেন 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতার কবির কাঙ্ক্ষিত প্রতিনিধিদল"- মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষের জীবন নানা সমস্যা ও সংকটে পরিপূর্ণ। মানুষকে প্রতিনিয়ত প্রতিকূল অবস্থার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয়। জীবনকে হতাশায়-নিরাশায় জড়িয়ে ব্যর্থ মনে না করে জীবনে উন্নতির জন্য পরিশ্রম করার উচিত।
উদ্দীপক-২ অংশে তরুণ দলের দৃপ্ত অভিযানের কথা বলা হয়েছে। তরুণরা দেশ-বিদেশে ছুটে চলবে; অন্ধকার পথ আলোয় ভরিয়ে তুলবে। তারা তারুণ্যশক্তির যথাযথ ব্যবহার করে জীবনকে সাফল্যমণ্ডিত করে তুলবে। উদ্দীপক-২ অংশের এই চেতনা 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় প্রতিফলিত কবির দীপ্ত চেতনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় কবি সংসারে টিকে থাকার জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে বলেছেন। জীবনপথের নানা সমস্যা-সংকটের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে বলেছেন। কারণ মানবজীবন অত্যন্ত মূল্যবান। ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়েই সেই জীবনকে সার্থক করে তুলতে হয়। নানা ঘাত-প্রতিঘাত দেখে যারা ভয়ে কর্মপথ থেকে পিছিয়ে যায় তারা জীবনে কখনই সাফল্য অর্জন করতে পারে না।
'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় কবি মানবজীবনের প্রকৃত অর্থ ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেছেন। তিনি মানুষের জীবনের কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে পদ্মপাতার শিশির বিন্দুর মতো ক্ষণস্থায়ী জীবনকে সার্থক করে তুলতে বলেছেন। সংসারের দুঃখ-যন্ত্রণা, কাতরতা পিছনে ফেলে প্রচন্ড সাহস নিয়ে তারা যেন এগিয়ে যায়। কবির এ প্রত্যাশাই যেন প্রকাশ পেয়েছে উদ্দীপক-২ অংশে তরুণদের দৃপ্ত অভিযানে। তারা তরুণ আলোর মুক্তির রথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করেছে। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!