সম্প্রতি একটি বেসরকারি সংস্থার জরিপে দেখা যায়, 'ক' ইউনিয়নের ৪৫% এরও বেশি শিশু কম ওজন, অন্ধত্ব, বিকলাঙ্গ প্রভৃতি সমস্যা নিয়ে বেড়ে উঠছে। জরিপের ভিত্তিতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনগণের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বার্তা প্রচারের উদ্যোগ নেন। এ উদ্যোগ সফল করতে তিনি বাবা-মায়ের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন ।
উদ্বুদ্ধকরণ সমাজকর্মের একটি কৌশল।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allরাজনৈতিক অস্থিরতা বেকারত্ব সৃষ্টির অন্যতম একটি কারণ।
রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থিতিশীল হলে মানুষের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ দেখা দেয়। এর ফলে মানুষ কর্মবিমুখ হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ব্যাহত হয়। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প, বিনিয়োগ, আমদানি-রপ্তানি প্রভৃতি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি সম্ভব হয় না। এর ফলে বেকারত্ব সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে পুষ্টিহীনতা সমস্যার চিত্র পাওয়া যায়।
মৌলিক চাহিদা পূরণের ব্যর্থতা থেকেই সৃষ্টি হয় পুষ্টিহীনতা। খাদ্য তালিকায় ছয়টি পুষ্টি উপাদানের যেকোনো একটি পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকলে স্বাভাবিক পুষ্টি প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এর ফলে অপুষ্টি দেখা দেয়। বাংলাদেশের পুষ্টিহীনতার চিত্র উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' ইউনিয়নের অনুরূপ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১১ তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে ১১.৫ ভাগ শিশু স্বাভাবিক এবং ৮৮.৫ ভাগ শিশু অপুষ্টির শিকার হচ্ছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান। ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট এর তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে শতকরা ৩৬ ভাগ শিশু কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করে এবং ৯০ ভাগ শিশু রক্তশূন্যতার শিকার হয়। অপুষ্টির প্রভাবে শিশু মৃত্যু হার বৃদ্ধি, অন্ধত্ব, রাতকানা, বিকলাঙ্গতা, স্বাস্থ্যহীনতা প্রভৃতি সমস্যা দেখা দেয়।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকে 'ক' ইউনিয়নের শিশুদের মধ্যে যে লক্ষণগুলো পাওয়া যায় তা পুষ্টিহীনতাজনিত সমস্যার লক্ষণ।
আমি মনে করি, উদ্দীপকের চেয়ারম্যানের উদ্যোগ পুষ্টিহীনতাজনিত সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
পুষ্টিহীনতা বাংলাদেশের একটি মৌলিক চাহিদার অপূরণজনিত সমস্যা। মানবদেহের স্বাভাবিক অবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যের গুণগত ও পরিমাণগত অভাবজনিত অবস্থাকে অপুষ্টি বলে। খাদ্যের আমিষ, শর্করা, স্নেহ পদার্থ, পানি, খনিজ লবণ ও ভিটামিন এর অভাব হলে অপুষ্টি জনিত সমস্যা শুরু হয়। প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাবে শিশুর কম ওজন, অন্ধত্ব, বিকলাঙ্গতা, স্বাস্থ্যহীনতা প্রভৃতি সমস্যা দেখা দেয়।
উদ্দীপকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অপুষ্টি সমস্যা সমাধানে বাবা-মায়ের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে অভিভাবকদের সচেতনতা অপুষ্টি সমস্যা মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে। বাবা-মা শিশুর জন্য পুষ্টিকর বা সুষম খাদ্যের ব্যবস্থা করলে তারা কম ওজন, অন্ধত্ব প্রভৃতি সমস্যা থেকে রক্ষা পাবে। গর্ভাবস্থায় মাকে পুষ্টিকর খাদ্য তথা আয়োডিন, ক্যালসিয়াম, লৌহ ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার দিতে হবে। অপুষ্টিজনিত সমস্যা সমাধানে কমিউনিটি পর্যায়ে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করতে হবে। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের ও সন্তানের খাদ্যাভ্যাসের ব্যাপারে সচেতন হবে।
সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বাবা মার সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শিশুদের পুষ্টিহীনতা হ্রাসে চেয়ারম্যানের উদ্যোগ কার্যকর
হবে।
জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে পরিবারের ভূমিকা অপরিসীম।
সাম্প্রদায়িকতা, উগ্র ধর্মান্ধতা, মুক্ত চিন্তা-চেতনা ও সুষ্ঠু
সামাজিকীকরণের অভাব জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস সৃষ্টির অন্যতম কারণ। পরিবার মানুষকে সুষ্ঠু বিকাশ, ব্যক্তিত্ব গঠন, উদার আদর্শ, রীতি-নীতি, মূল্যবোধ, দৃষ্টিভঙ্গি ও সাংস্কৃতিক ধ্যান-ধারণা প্রদান করে সুষ্ঠু সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে যা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে ভূমিকা রাখে। পরিবার দায়িত্ব-কর্তব্য, শৃঙ্খলাবোধ, শিষ্টাচার, দেশপ্রেম, আইনের প্রতি আনুগত্য ইত্যাদি গুণ শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করে। আবার সামাজিক নিরাপত্তা বিধানসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিবার জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সামাজিক সমস্যাটি হলো যৌতুক। যার পিছনে বিভিন্ন কারণ বিদ্যমান।
যৌতুক প্রথার প্রধান কারণ হলো দারিদ্র্য। যারা অর্থের অভাবে কিছু করতে পারে না তারা বিয়ের সময় কন্যাপক্ষ থেকে যৌতুক নিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হতে চায়। অনেক সময় উচ্চবিত্ত পরিবারে দেখা যায়, বংশ মর্যাদা ও আভিজাত্য ফুটিয়ে তুলতে মেয়েপক্ষ ছেলেপক্ষকে মোটা অঙ্কের টাকা যৌতুক দেয়। এর পাশাপাশি সমাজে পুরুষদের অবস্থান এবং নারীদের নিম্ন সামাজিক মর্যাদা অনেক ক্ষেত্রে যৌতুকের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। লোভের বশবর্তী হয়েও অনেক সময় যৌতুকের আদান-প্রদান চলে। অনেক উচ্চবিত্ত পরিবারের অর্থবিত্ত থাকা সত্ত্বেও ছেলের বিয়ের সময় অযাচিতভাবে উপঢৌকন দাবি করে। এছাড়াও নারীদের পরনির্ভরশীল জীবনযাপন ও আর্থিক নিরাপত্তার অভাব, মেয়ের শারীরিক বৈশিষ্ট্য, যুব সমাজের আত্মমর্যাদার অভাব ইত্যাদি কারণে এদেশে যৌতুক আদান-প্রদান হয়।
উদ্দীপকের রিপার বিয়ের সময় তার অভিভাবক পাত্রপক্ষের দাবি অনুযায়ী আসবাবপত্র ও একটি গাড়ি দেন। আবার রিপার ননদের স্বামীকে উপহারস্বরূপ মোটরসাইকেল দেওয়ার জন্য জামালের বাবা-মা রিপার অভিভাবককেই চাপ দেয়। এ ঘটনার মাধ্যমে এদেশের যৌতুক প্রথাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। আর উপরোল্লিখিত কারণেই এদেশে যৌতুক লেন-দেন বেশি হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!