১ গ্রাম ফ্যাট হতে ৯ কিলোক্যালরি তাপশক্তি উৎপন্ন হয়।
প্রোটিন অণুকে সম্পূর্ণভাবে বিশ্লেষিত করলে কার্বন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন পাওয়া যায়।
এছাড়াও প্রেটিনে সালফার, ফসফরাস ও লৌহ থাকে। প্রোটিন অণুতে এসব মৌলগুলো অ্যামাইনো এসিডরূপে থাকে। এমাইনো এসিড বিভিন্ন অনুপাতে একে অন্যের সাথে পেপটাইড বন্ধনী দ্বারা যুক্ত হয়ে প্রোটিন অণু গঠন করে। বহু সংখ্যক বিভিন্ন প্রকার এমাইনো এসিড দ্বারা বিরাট প্রোটিন অণু গঠিত হয়।
ছকে উল্লিখিত খাদ্য উৎসগুলো প্রোটিনের অন্তর্ভুক্ত।
প্রোটিন গ্রিক শব্দ 'প্রোটিওস' থেকে এসেছে। এর অর্থ হলো সর্বপ্রথম গুরুত্বপূর্ণ বা প্রধান। প্রোটিন ছাড়া কোনো জীবের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। প্রতিটি জীবকোষ প্রোটিনের সমন্বয়ে গঠিত।
দেহ গঠনে প্রোটিনের প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি। মাংসপেশি, অস্থি এমনকি রক্তেরও প্রধান উপাদান প্রোটিন। প্রোটিনসমূহ প্রভাবকরূপে কাজ করে, যা সকল জৈবিক বিক্রিয়ার হার নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন- প্রাণিদেহের এনজাইমসমূহ। উৎস অনুসারে প্রোটিনকে প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ এ দুই ভাগে ভাগ করা যায়। প্রাণি থেকে যেসব প্রোটিন পাওয়া যায় তাকে প্রাণিজ প্রোটিন বলে। যেমন- মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, কলিজা ইত্যাদি। আর উদ্ভিদ থেকে যেসব প্রোটিন পাওয়া যায় তাকে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন বলে। যেমন-গম, ডাল, সিমের বীচি, বাদাম, সয়াবিন ও অন্যান্য তৈলবীজ। ছকে আমরা যে খাদ্য উৎসগুলো দেখতে পাই তা প্রোটিনের খাদ্য উৎসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, ছকে প্রোটিনের খাদ্য উৎস তুলে ধরা হয়েছে।
শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সকলের জন্যই প্রোটিন প্রয়োজন।
প্রোটিনের অভাবে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। প্রোটিনের অভাবে শিশুদের দেহের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, দেহ খর্বাকার হয় ও ওজন হ্রাস পায়, মেজাজ খিটখিটে থাকে। প্রোটিনের অভাবে প্রোটিন পরিপাককারী এনজাইম ঠিকমতো নিঃসৃত হয় না। ফলে পরিপাক ও পরিশোষণ ব্যাহত হয়।
প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের অভাবে দেহের রক্তে হিমোগ্লোবিনের অভাব ঘটে, ফলে এনিমিয়া হয়। যকৃতের স্বাভাবিক কার্যক্রমের বিঘ্ন ঘটে প্রোটিনের অভাবে। এর ফলে যকৃতের স্থানে স্থানে চর্বি জমে। বয়স্কদের শরীরে শোথ বা ইডিমা দেখা যায়, ফলে হাত পায়ে পানি আসে, শরীর ফুলে যায়, হাঁটাচলায় অসুবিধা হয়। প্রোটিনের অভাবে শিশুদের কোয়াশিয়রকর রোগ হয়। এর ফলে শিশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হয় ও ওজন হ্রাস পায়। মাংসপেশি শুকিয়ে শরীর জীর্ণ হয়ে যায়। চামড়া ঢিলে হয়ে যায় ও কুঁচকে যায়। পায়ে শোথ দেখা যায়। মাথার চুল হালকা বাদামি রঙের হয় এবং চুল উঠে পাতলা হয়ে যায়। যকৃতের আকার বৃদ্ধি পায়, ক্ষুধামন্দা দেখা যায়। এ রোগে আক্রান্ত হলে শিশু উদাসীন হয়, কাজে কোন উৎসাহ থাকে না। ছোট শিশুদের খাদ্যে প্রোটিন ক্যালরিজনিত অপুষ্টির কারণে ম্যারাসমাস রোগ হয়। সাধারণত এক বছরের শিশুদের মধ্যে এই রোগ বেশি হতে দেখা যায়। এ রোগে দেহের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় ও ওজন হ্রাস পায়। দেহ হাড্ডিসার হয়, দেহের সঞ্চিত স্নেহ পদার্থ নিঃশেষ হয়ে যায় এবং মাংসপেশি শীর্ণ হয়। হাত-পা সরু ও পেট অপেক্ষাকৃত বড় দেখায়। এ রোগে আক্রান্ত শিশুর মধ্যে রক্তস্বল্পতা দেখা যায়। শিশু ঘন ঘন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। চুলের রং বদলে যায় এবং চুল উঠে যেতে থাকে।
উপরের আলোচনা হতে বলা যায় যে, প্রোটিনের অভাবে উপরোক্ত সমস্যাগুলোই দেখা দেয়।
Related Question
View Allশরীর গঠন, বর্ধন ও রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান প্রোটিন।
আমিষ দেহকোষের গঠন ও বৃদ্ধিসাধন করে। তাই দেহ গঠনের জন্য আমাদের আমিষ খেতে হয়। এছাড়া আমাদের কোষগুলো প্রতিনিয়তই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এই ক্ষয়পূরণ করে নতুন কোষ গঠন করে আমিষ তাই দেহের ক্ষয়পূরণ করতে আমরা আমিষ জাতীয় খাদ্য খেয়ে থাকি।
মালিহার পছন্দকৃত খাদ্য কার্বোহাইড্রেট উপাদান সমৃদ্ধ। কার্বোহাইড্রেট প্রাণিদেহের মূল শক্তির উৎস। আমাদের খাদ্যের ৬০% - ৭০% তাপশক্তি এ জাতীয় খাদ্য থেকে পেয়ে থাকি। কার্বোহাইড্রেটের প্রধান উৎস চাল, গম, আলু, মিষ্টি আলু, সাগু, সুজি, বার্লি ইত্যাদি।
উদ্দীপকে মালিহার পছন্দের খাবার হচ্ছে সুজি, বার্লি, আলু। এ খাদ্যগুলো কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য। কার্বোহাইড্রেটের প্রথম ও প্রধান কাজ তাপ ও শক্তি উৎপাদন। প্রোটিন, ভিটামিন ও ধাতব লবণ প্রভৃতি খাদ্যদ্রব্য গ্রহণে সহায়তা করে কার্বোহাইড্রেট। স্নেহ পদার্থের দহনে সহায়তা করে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য। দেহে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট গ্লাইকোজেনরূপে যকৃতে জমা থাকে এবং প্রয়োজনবোধে দেহের কাজে ব্যবহৃত হয়। মস্তিষ্কের একমাত্র জ্বালানি হিসেবে কার্বোহাইড্রেটের ভূমিকা অপরিসীম। সেলুলোজ নামক কার্বোহাইড্রেট দেহের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
মিসেস তানিয়ার দুই মেয়েকে নিয়ে উদ্বিগ্নের কারণ হলো তাদের পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণে অনীহা।
দেহের সঠিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য সবধরনের খাদ্য উপাদান অপরিহার্য। কারণ খাদ্যের ছয়টি উপাদানের কার্যকারিতা ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই সবধরনের খাদ্য উপাদান গ্রহণ না করলে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
স্বাস্থ্যকে সুস্থ, সবল, সচল ও রোগমুক্ত রাখার জন্য আমাদের খাদ্যগ্রহণ করা প্রয়োজন। তবে এ খাদ্য সকল পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ হতে হবে। কারণ কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য দেহে শক্তি উৎপাদন করে। প্রোটিন দেহ গঠন, বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ করে। স্নেহজাতীয় খাদ্য তাপ ও শক্তি সরবরাহ করে, ভিটামিন জাতীয় খাদ্য দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। খনিজ উপাদানসমূহ প্রধানত দেহ গঠন, দেহের জৈবিক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের কাজে সহায়তা করে। খাদ্য উপাদানগুলো অর্থাৎ প্রতিটি খাদ্য উপাদান ভিন্ন ভিন্ন কাজ করে থাকে। তাই দেহে সঠিক পুষ্টি উপদান নিশ্চিত করতে প্রয়োজন সবধরনের খাদ্য গ্রহণ। তা না হলে পুষ্টি উপাদানের অভাবজনিত বিভিন্ন রোগ দেখা দিতে পারে। মিসেস তানিয়ার দুই মেয়ে সাবিহা ও মালিহা সব ধরনের খাবার খেতে চায় না। সাবিহা মাছ, মাংস ছাড়া অন্য কিছু খেতে চায় না। মাছ, মাংস থেকে সাবিহা শুধুমাত্র প্রোটিন লাভ করবে। কিন্তু অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থেকে সে বঞ্চিত হবে। এর ফলে সে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তার শারীরিক গঠন বাঁধাগ্রস্ত হবে। অন্যদিকে, মালিহা সুজি, বার্লি, আলু খেতে পছন্দ করে। এগুলো থেকে সে কার্বোহাইড্রেট পাবে। কিন্তু অন্যান্য উপাদানের জন্য তাকে সবধরনের খাবারই খেতে হবে। মিসেস তানিয়ার মেয়েরা খাদ্য থেকে সবধরনের পুষ্টি চাহিদা মিটাতে পারছে না। তাই তিনি তাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন কারণ এভাবে চলতে থাকলে তারা বিভিন্ন রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে পড়বে।
পরিশেষে বলা যায়, শরীরকে সুস্থ সবল রাখার জন্য আমাদের সব ধরনের খাদ্যই গ্রহণ করতে হবে।
খাদ্যে অবস্থিত জৈব রাসায়নিক উপাদান যা ঐ খাদ্যের গুণাগুণের জন্য দায়ী সেই উপাদানগুলোকে পুষ্টি উপাদান বলে।
বয়স্ক ব্যক্তিদের ভিটামিন 'ডি' এর অভাব হলে যে রোগের সৃষ্টি হয় তাকে অস্টিওম্যালেসিয়া বলে।
অস্টিওম্যালেসিয়া রোগে অস্থির ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের সঞ্চয় সম্পূর্ণই নিঃশেষ হয়ে যায়। দেহের হাড় খুব নরম, ঝাঁঝরা ও ভঙ্গুর প্রকৃতির হয়। অল্পতেই ভেঙে যায়। হাত-পা, কোমর, মেরুদণ্ডের হাড়ের গঠনে এরকম ত্রুটি থাকলে ব্যথা হয়। শেষ অবস্থায় পায়ের হাড় ও মেরুদণ্ড বেঁকে যেতে পারে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!