ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়ার পর আন্দোলন কর্মসূচি গতি হারাতে পারত।
সরকারের দুর্বল অবস্থান এবং স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির কারণে রাজারের ওপর স্বৈরাচারী সরকারের নিয়ন্ত্রণ ছিল না।
জনসমর্থন না থাকায় সরকার ছিল দুর্বল। ফলে সরকারকে ব্যবসায়ীদের কিছুটা ছাড় দিয়েই চলতে হয়েছে। তাছাড়া সে সময় সরকার ঘনিষ্ঠরা বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছিল এবং ব্যবসায়ীদের সাথে নিয়ে বিরাট সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিল। সরকারের পক্ষে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই সে সময় বাজারের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ ছিল না।
উদ্দীপকে 'আয়াদের নতুন গৌরবগাথা' রচনায় উঠে আসার আন্দোলনে নারীদের ভূমিকার দিকটি ফুটে উঠেছে।
স্বাধীন ও. সার্বভৌম বাংলাদেশ সৃষ্টির পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির আস্ফালনে এদেশের স্বাধীনতা বারবার ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। আর প্রতিবারই তা উদ্ধার করতে হয়েছে রক্তমূল্য দিয়ে। আর এসব আন্দোলন-সংগ্রামে নারীদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপকে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে নারীদের ভূমিকা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। সেই আন্দোলনে কবি সুফিয়া কামাল প্রায় আড়াই হাজার নারীকে সঙ্গে নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও সেদিন হাজারো পর্দানশীন নারী এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। একইভাবে 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' রচনায়ও ২০২৪-এর গণআন্দোলনে নারীদের প্রত্যক্ষ ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বলতে গেলে নারীরা এই আন্দোলনের কেন্দ্রে অবস্থান করছিলেন। উদ্দীপকে আলোচ্য রচনার এ দিকটিই ফুটে উঠেছে।
"উদ্দীপক ও 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' রচনায় নারীদের অবদানকে যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়েছে।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
অধিকারের ও ন্যায়ের জন্য বাঙালি জাতি সুদীর্ঘকাল ধরে অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। এদেশের হাজার বছরের ইতিহাসে আন্দোলন-সংগ্রামের যে চিত্র আমরা দেখতে পাই, তাতে নারী সমাজের এক তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তাদের সেই অবদানকে আড়াল করা হয়েছে।
উদ্দীপকে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়েছে। সেখানে এই আন্দোলনে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়েছে। সে সময় কবি সুফিয়া কামালের নেতৃত্বে আন্দোলনে প্রায় আড়ই হাজার নারী অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও হাজারো পর্দানশীন নারী সেই আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। এছাড়া আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র সংগ্রামেও নারীদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' রচনায় ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে উপজীব্য করা হয়েছে। এ আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশে স্বৈরশাসনের অবসান হয় এবং এদেশের মানুষ নতুন করে স্বাধীনতার স্বাদ পায়। আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। একার্থে বলা যায়, নারীরা এই আন্দোলনের অন্যতম চালিকাশক্তি ছিল। একইভাবে উদ্দীপকেও ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে নারীদের অবদানকে তুলে ধরা হয়েছে। এ বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।
Related Question
View Allকোটা সংস্কার আন্দোলনে বড়ো সাফল্য অর্জিত হয় ২০১৮ সালে।
প্রশ্নোক্ত বাক্যটির দ্বারা দেশ সংস্কারে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের একাত্মতা বোঝানো হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগদান করেন। সবাই নিজেদের অবস্থান ভুলে রাস্তায় একত্র লড়াই করেছিলেন একটা উদ্দেশ্য সামনে রেখে। এভাবে আন্দোলনের সময় এমন এক ভাষা তৈরি হয়েছিল যার মাধ্যমে সবাই সবাইকে বুঝতে পারছিলেন। মানুষের মধ্যে এমন বোধ স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পর তৈরি হয়েছিল বলে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
উদ্দীপকটি 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' প্রবন্ধের ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণই সকল ক্ষমতার উর্ধ্বে। জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করবে এটাই হওয়া উচিত। অথচ অনেক সময় দেখা যায়, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার জনগণের বিরুদ্ধাচরণ করে। তখন পরিণতি হয় মর্মান্তিক।
'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' প্রবন্ধে ছাত্রসমাজ কোটার যৌক্তিক সংস্কার চেয়ে আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলনের একপর্যায়ে সরকার সাধারণ শিক্ষার্থীর দাবি মেনে নেওয়ার পরিবর্তে চরম দমননীতি এবং হত্যাযজ্ঞ পরিচালনা করে। সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সরকারের প্রতিরোধে এগিয়ে আসে। এতে গণঅভ্যুত্থান ঘটে এবং সরকারপ্রধান দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। উদ্দীপকেও দেখা যায়, গোঁতাবায়া রাজাপাকসে বিক্ষোভকারীদের দমন করার জন্য নিপীড়ন চালায়। শেষ পর্যন্ত তার পতন হয়।
"সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটি 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' প্রবন্ধের সামগ্রিকতাকে স্পর্শ করে না।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
বাঙালি জাতি হলো বীরের জাতি। তারা যুগে যুগে বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রাণপথে লড়াই করেছে। সাম্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাঙালিরা জীবনদানেও কার্পণ্য করেনি।
'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' প্রবন্ধে কোটা সংস্কারকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলনের শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত তা সরকার পতনের আন্দোলনের রূপ নেয়। আন্দোলনকে দমিয়ে রাখার জন্য সরকার তার পোষ্য দলীয় বাহিনী ও জাতীয় বাহিনীর বিপথগামী সদস্যদের দ্বারা সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়ন চালায়। পুলিশের গুলিতে নিহত হয় শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে হাজার হাজার জনতা। ছাত্র-জনতার তোপের মুখে পড়ে সরকার পালাতে বাধ্য হয়। উদ্দীপকেও শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের পালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সরকার বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে। ফলে ডজনখানেক আহত হয়েছে। সেখানে কোনো মৃত্যুর ঘটনার কথা নেই। আবার জুলাই বিপ্লব পুরোপুরি শিক্ষার্থী দ্বারা পরিচালিত ছিল। কিন্তু উদ্দীপকে বর্ণিত বিক্ষোভে এমন কোনো আভাস নেই। উপর্যুক্ত এই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
'কারফিউ' শব্দের অর্থ সান্ধ্যআইন।
'সরকার নির্বাচন নিয়ে একের পর এক তামাশা করেছে' বলতে এখানে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রহসনের নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে।
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনে জয়ী হয় এবং সরকার গঠন করে। এর পর থেকে এই সরকারে তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত প্রতিটি নির্বাচনই ছিল বিতর্কিত। এসব নির্বাচনে সরকার লোক দেখানো ভোটের আয়োজন করে শেষ পর্যন্ত কারচুপি করে নির্বাচনে জয়ী হয়। এভাবে সরকার যে প্রহসনের নির্বাচন করে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে, প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মাধ্যমে সে কথাই বোঝানো হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!