উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাহাত সাহেব কৃষকদের বালাইনাশক প্রয়োগ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেন। রাসায়নিক বালাইনাশক প্রয়োগে পরিবেশের চরম ক্ষতি হয়। তিনি নানা উদ্ভিদ উৎস হতে প্রাপ্ত বালাইনাশকের ব্যবহার কৃষকদের ভালোভাবে বুঝিয়ে দিলেন এবং জমিতে ব্যবহারের জন্য পরামর্শ দিলেন। তিনি প্রশিক্ষণ শেষে মন্তব্য করেন যে, 'বিষমুক্ত ফসল ফলানোর জন্য ও পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখার জন্য জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করা উচিত'।

Updated: 1 year ago
উত্তরঃ

রাসায়নিক বালাইনাশককে নীরব ঘাতক বলা হয়।

উত্তরঃ

যেসব বালাইনাশক বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদের রস/ নির্বাস, প্রাণিজ উপজাত এবং বিভিন্ন জৈবিক কলাকৌশল থেকে তৈরি করা হয়, তাদেরকে জৈব বালাইনাশক বলে। যেমন- রসুনের নির্যাস ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ানাশক হিসেবে ব্যবষ্কৃত হয়।

উত্তরঃ

রাহাত সাহেব কৃষকদের উদ্ভিদ উৎস থেকে প্রাপ্ত জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার বুঝিয়ে দিলেন। নিম্নে তা বর্ণনা করা হলো-
অ্যালামান্ডা গাছের নির্যাস ছত্রাকনাশক, রসুনের নির্যাস ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ানাশক এবং নিমের নির্যাস (ছাল, পাতা, ফুল ও ফল) জীবাণুনাশক হিসেবে ব্যবহার করা যায়। শুকনা নিম পাতার গুঁড়া বীজ ফসল/গুদামজাত শস্যের সাথে মিশ্রিত করলে কীটপতঙ্গের আক্রমণ হতে রেহাই পাওয়া যায়। মুরগির পচনকৃত বিষ্ঠা ও সরিষার খৈল ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন সবজি ফসলের মাটিবাহিত রোগ দমন করা যায়। এছাড়াও ট্রাইকোডারমা প্রজাতির ব্যাকটেরিয়াও ছত্রাকনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
অর্থাৎ কৃষি কর্মকর্তা রাহাত সাহেব কৃষকদের পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের কৌশল শিখিয়েছেন।

উত্তরঃ

রাহাত সাহেব মন্তব্য করলেন, 'বিষমুক্ত ফসল ফলানোর জন্য জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করা উচিত'।
ধানের পাতার লালচে রেখা রোগ থেকে মুক্ত করতে হলে ধানের বীজ ৫৪° সে তাপমাত্রায় পানিতে ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রেখে ব্যাকটেরিয়া দূর করা যায়। পরজীবী পোকা ও গ্রেইং ম্যানটিও এর সংখ্যা বাড়িয়ে ফসলের ক্ষতিকর পোকা দমন করা যায়। জমিতে সুষম সার ব্যবহার করলে পোকামাকড় ও রোগজীবাণু অনেক কম হয়। আলোক ফাঁদ পেতে পূর্ণ বয়স্ক পোকা ধরে ফেলা বা মেরে ফেলা যায়। ধানক্ষেতে মাছ চাষ করেও পোকা দমন করা যায়।
এসকল পদ্ধতি অবলম্বন করলে ফসলে বিষাক্ততা সৃষ্টি ও পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয় না। কিন্তু রাসায়নিক বালাইনাশক ব্যবহার করলে কীট পতঙ্গ বালাইনাশককে বাধাদানের ক্ষমতা অর্জন করে ফেলে। মৃত্তিকার উপকারী অণুজীব ধ্বংস হয়ে যায়। বালাইনাশকের একটা বড় অংশ ভূ-পৃষ্ঠ, ভূ-গর্ভস্থ পানিতে ও জীবের খাদ্যচক্রে ঢুকে পড়ে। মৃত্তিকার উর্বরতা নষ্ট ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে।
সুতরাং, জৈব বালাইনাশক ব্যবহার সম্পর্কে রাহাত সাহেবের মন্তব্যটি যথার্থ।

140

আমরা পূর্ববর্তী শ্রেণিতে জানতে পেরেছি মাটি হলো উদ্ভিদের অবলম্বন এবং সার হলো তার খাবার। আমরা কি জানি এ সারে কী কী উপাদান থাকে? সার হলো উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদানগুলোর আধার। আর প্রাণীর ক্ষেত্রে শর্করা, আমিষ, চর্বি, ভিটামিন ও খনিজ লবণ হলো পুষ্টি উপাদানের আধার। অন্যদিকে মাছ ও পশু-পাখির জন্য খাদ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এগুলো থেকে কাঙ্ক্ষিত ফলন পেতে সম্পূরক খাদ্যের বিকল্প নেই। আবার জমিতে সার হিসেবে জৈব সারের কার্যকারিতা ও ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই জৈব সার তৈরি ও তার ব্যবহার জানা অত্যাবশ্যক।

এ অধ্যায় শেষে আমরা-

  • প্রাণী ও উদ্ভিদের পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • মাছ ও পশু-পাখির সম্পূরক খাদ্য প্রস্তুত পদ্ধতি বর্ণনা করতে পারব;
  • সহজলভ্য উপকরণ (যেমন-বাসাবাড়ির বর্জ্য) ব্যবহার করে জৈব সার তৈরির পদ্ধতি ও এর ব্যবহার বর্ণনা করতে পারব;
  • বালাইনাশক (জৈব ও অরাসায়নিক) ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব।

Related Question

View All
উত্তরঃ

উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান বলতে বোঝায় যে উপাদানগুলোর অভাবে উদ্ভিদ সুষ্ঠুভাবে বাঁচতে পারে না এবং যথাযথভাবে শস্য উৎপাদন করতে পারে না (যেমন- নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম ইত্যাদি)।

361
উত্তরঃ

পরিখা পদ্ধতিতে কম্পোস্ট তৈরির ক্ষেত্রে একটি পরিখা ফাঁকা রাখতে হয়, কারণ নিকটবর্তী পরিখার কম্পোস্ট পার্শ্ববর্তী পরিখাতে স্থানান্তর করে উলটপালট করা হয়। ফলে উপাদানগুলো দ্রুত পচে যায় ও অল্প সময়ে কম্পোস্ট তৈরি হয়ে যায়।

304
উত্তরঃ

কৃষক হাফিজের জমিতে ধানের চারায় আশানুরূপ হারে কুশি গজায়নি এবং জমিতে পোকামাকড়ও দেখা গিয়েছিল।

ধানের চারায় কুশি কম গজানোর কারণ হলো নাইট্রোজেন নামক পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি। কৃষক হাফিজ জৈব ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করে এ সমস্যার সমাধান করতে পারতেন। সবুজ সার, কম্পোস্ট সার ইত্যাদি মাটিতে নাইট্রোজেন যোগ করে, যেগুলো কৃষক হাফিজ তার জমিতে ব্যবহার করতে পারতেন। ধানের পোকা দূর করার জন্য তিনি তামাক পাতার নির্যাস প্রয়োগ করতে পারতেন। জমিতে প্রেইং ম্যানটিড এর সংখ্যা বাড়ালে তা ক্ষতিকারক পোকা দমনে সহায়ক হতো। এছাড়া জমিতে গাছের ডাল বা বাঁশের কঞ্চি পুঁতে দিলেও সুফল পাওয়া যেত। অর্থাৎ, জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে হাফিজ উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারতেন।

169
উত্তরঃ

হাফিজ দ্বিতীয় দফায় ফসলের পুষ্টি ঘাটতি পূরণ ও রোগবালাই দমনে জৈব ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করেন।

হাফিজ সার হিসেবে গোবর সার, কম্পোস্ট সার, সবুজ সার, খৈল - ইত্যাদি ব্যবহার করেন। তিনি জানেন এতে গাছের প্রয়োজনীয় সব খাদ্য উপাদানই আছে। এছাড়াও এসব সার মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ বাড়ায়। ফলে মাটিস্থ অণুজীবের কার্যাবলি বৃদ্ধি পায়। জৈব পদার্থ মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা, মাটির উর্বরতা, ফসলের ফলন, উৎপাদন ও গুণগত মান বৃদ্ধি করে। জৈব সার ব্যবহারের পাশাপাশি তিনি কীটপতঙ্গ দমনের জন্য আলোক ফাঁদ এবং জমির বিভিন্ন জায়গায় ডালপালা পুঁতে পাখি বসার ব্যবস্থা করেন। জমিকে সবসময় আগাছামুক্ত রাখেন, যা পোকার আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে। ফলে কীটপতঙ্গ দমন ব্যবস্থা হয় পরিবেশের কোনো ক্ষতি ছাড়াই।

অর্থাৎ, হাফিজের দ্বিতীয় দফায় গৃহীত জৈব ব্যবস্থাপনা শুধু পুষ্টি ঘাটতি - পূরণই নয় বরং রোগবালাই দমনেও সহায়ক ভূমিকা রেখেছে উক্তিটি যথার্থ।

191
উত্তরঃ

রাসায়নিক বালাইনাশক মাত্রই বিষ। এ জাতীয় বালাইনাশক প্রয়োগের ফলে তা উদ্ভিদের জীবনচক্রে ঢুকে ফলনকেও বিষাক্ত করে দিচ্ছে যা খেয়ে মানুষ মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। পরিবেশেরও চরম ক্ষতি হচ্ছে। তাই এ জাতীয় বালাইনাশককে নীরব ঘাতক বলা হয়।

294
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews