নবান্ন হলো 'নব' (নতুন) এবং 'অন্ন' (ধান বা চাল) এই দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত একটি উৎসব। এটি মূলত নতুন ধান বা শস্য ঘরে তোলার আনন্দে পালিত বাঙালির এক প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী কৃষিভিত্তিক উৎসব। এই উৎসবে কৃষকেরা নতুন ধানের চাল দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পিঠা, পায়েস, ক্ষীর ইত্যাদি তৈরি করে এবং আত্মীয়-স্বজনদের সাথে ভাগ করে নেয়। নবান্ন গ্রাম বাংলার একটি প্রধান উৎসব, যা কৃষিভিত্তিক সমাজ ও বাঙালি সংস্কৃতিতে গভীর তাৎপর্য বহন করে।
"পড়ে" শব্দটি এখানে "লোভে পড়ে" বাগধারাটিকে সম্পূর্ণ করেছে।
- "লোভে পড়ে" একটি বহুল প্রচলিত বাংলা বাগধারা, যার অর্থ হলো লোভের বশবর্তী হওয়া, লোভের ফাঁদে পা দেওয়া বা অতিরিক্ত লোভের কারণে কোনো ভুল বা অনৈতিক কাজ করা।
- এই বাক্যটিতে "লোভে পড়ে জীবনটা মাটি করাে না" এর মাধ্যমে লোভের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। অর্থাৎ, লোভের বশবর্তী হয়ে এমন কিছু করা উচিত নয় যাতে নিজের জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা নষ্ট হয়ে যায়।
- এটি একটি নীতিমূলক উপদেশ, যা মানুষকে লোভ পরিহার করে সৎ পথে জীবন পরিচালনার গুরুত্ব বোঝায়।
শিউলি
“শরতে শিউলি ধরাতল ঝলমল” হলো একটি পরিচিত বাক্য যা শরৎকালের (autumn) প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরে। এখানে শিউলি ফুল শরৎ ঋতুর অন্যতম প্রতীক। শরৎকালে শিউলি ফুল ফোটে এবং সকালে ঝরে পড়ে মাটি ঢেকে দেয়, যা এক মনোহর দৃশ্যের সৃষ্টি করে এবং মনে হয় যেন সমগ্র ভূপৃষ্ঠ (ধরাতল) ঝলমল করছে। এটি বাংলার শরৎ ঋতুর এক চিরাচরিত ও মনকাড়া ছবি, যা বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বহুলভাবে ব্যবহৃত হয়।
প্রদত্ত বাক্যটিতে একটি বাগধারা প্রয়ােগ করে শূন্যস্থান পূরণ করতে হবে। এখানে উপযুক্ত শব্দটি হলো 'ঘোড়া'। বাক্যটি পূর্ণাঙ্গ রূপ নিলে দাঁড়ায়: "গরিবের ঘোড়া রোগ ভাল নয়।"
এটি একটি প্রচলিত বাংলা বাগধারা। এই বাগধারার অর্থ হলো, যে ব্যক্তির সামর্থ্য কম, তার পক্ষে ব্যয়বহুল বা বিলাসিতার বিষয় গ্রহণ করা উচিত নয়। 'ঘোড়া রোগ' বলতে আক্ষরিক অর্থে ঘোড়ার কোনো রোগ বোঝায় না, বরং ব্যয়বহুল কোনো সখ বা শখকে বোঝায় যা পূরণ করা কঠিন এবং যার পেছনে অনেক খরচ হয়।
এই প্রবাদ বাক্যটির মাধ্যমে বোঝানো হয় যে, একজন দরিদ্র বা সীমিত আয়ের মানুষের এমন কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা শখ থাকা উচিত নয় যা তার সামর্থ্যের বাইরে এবং যা তাকে আরও আর্থিক সংকটে ফেলতে পারে। এটি বাস্তবসম্মত জীবনযাপন এবং নিজ সামর্থ্যের মধ্যে থাকার একটি উপদেশমূলক উক্তি।
"ওর বয়সের তুলনা নেই" – এটি একটি প্রচলিত বাগধারা। এই বাক্যের মাধ্যমে বোঝানো হয় যে, কোনো ব্যক্তির জ্ঞান, বুদ্ধি বা প্রতিভা তার বয়স অনুযায়ী এতটাই ব্যতিক্রমী ও উন্নত যে, তার সমবয়সী অন্য কারও সাথে তার তুলনা চলে না। অর্থাৎ, সে তার বয়সের তুলনায় অসাধারণ কিছু করেছে বা তার মধ্যে অসাধারণ গুণাবলী বিদ্যমান। চাকরির পরীক্ষায় বাংলা ভাষার প্রবাদ-প্রবচন বা বাগধারার সঠিক প্রয়োগ এবং অর্থের গভীরতা যাচাই করার জন্য এমন শূন্যস্থান পূরণ প্রশ্ন প্রায়শই আসে। এই ক্ষেত্রে "তুলনা" শব্দটি বাক্যটিকে সঠিক ও অর্থপূর্ণ একটি বাগধারায় রূপান্তরিত করে।
প্রদত্ত বাক্যে 'শ্রেষ্ঠ' শব্দটি একটি বিশেষণ যা কোনো গুণের চরম অবস্থা নির্দেশ করে। এই চরম অবস্থাকে আরও জোরালো বা নিশ্চিতভাবে প্রকাশ করার জন্য 'সবচেয়ে' শব্দটি ব্যবহার করা হয়। 'সবচেয়ে' শব্দের প্রয়োগে বাক্যটি অতিশয়োক্তি বা সুপারলেটিভ ডিগ্রিতে রূপান্তরিত হয়, যার অর্থ 'সবার মধ্যে সেরা' বা 'সর্বোত্তম'।
উদাহরণস্বরূপ:
- সে সবচেয়ে ভালো ছাত্র।
- এটি আমার দেখা সবচেয়ে সুন্দর ফুল।
এক্ষেত্রে 'সবচেয়ে' শব্দটি 'শ্রেষ্ঠ' বিশেষণের মাত্রাটিকে পূর্ণাঙ্গতা দান করে বাক্যটিকে অর্থপূর্ণ ও ব্যাকরণসম্মত করে তোলে।
প্রদত্ত বাক্যটি একটি প্রচলিত বাক্যাংশ বা ইডিয়মের অংশ। এখানে "চলার পথ" বলতে জীবনের গতিপথ বা যাত্রাকে বোঝানো হয়েছে। "এই তো জীবন চলার পথ" বাক্যটি দ্বারা বোঝানো হয় যে, এটাই হলো জীবনের স্বাভাবিক ধারা বা পথ, যেখানে সুখ-দুঃখ, ভালো-মন্দ সবকিছুই বর্তমান। শূন্যস্থানে "জীবন" শব্দটি বসিয়ে বাক্যটিকে অর্থপূর্ণ করা হয়েছে, যা বাংলা ভাষায় অত্যন্ত প্রচলিত একটি অভিব্যক্তি।
"পাখির" শব্দটি শূন্যস্থানে বসালে বাক্যটি অর্থপূর্ণ হয়: "পাখির রবে বনভূমি মুখরিত হয়।"
এখানে "রবে" শব্দটি 'রব' থেকে এসেছে, যার অর্থ শব্দ বা ডাক। "পাখির রবে" বলতে বোঝায় পাখির শব্দে বা ডাকে। এটি একটি প্রচলিত বাক্য গঠন যা প্রকৃতির সৌন্দর্য এবং পাখির উপস্থিতিতে বনের প্রাণবন্ত অবস্থা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। এই ধরনের শূন্যস্থান পূরণ বাক্য গঠনে সঠিক শব্দ নির্বাচন এবং তার প্রয়োগের ক্ষমতা যাচাই করে।
এখানে 'ঘুষ' শব্দটি উপযুক্ত, কারণ এটি 'খোর' প্রত্যয়ের সাথে যুক্ত হয়ে একটি নেতিবাচক বৈশিষ্ট্য বা অভ্যাসকে নির্দেশ করে। 'ঘুষখোর' বলতে বোঝায় এমন ব্যক্তি যিনি নিয়মিত বা অভ্যাসবশত ঘুষ গ্রহণ করেন।
কর্মক্ষেত্রে এবং সমাজে 'ঘুষখোর' একটি নিন্দনীয় ও অপরাধমূলক শব্দ। বাংলাদেশে ঘুষ গ্রহণ দুর্নীতি দমন আইনসহ বিভিন্ন আইনের অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সরকারি-বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং মেধার ভিত্তিতে কাজ নিশ্চিত করার জন্য ঘুষ পরিহার করা অত্যন্ত জরুরি। এই ধরনের শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডার এবং সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে শিক্ষার্থীর জ্ঞান যাচাই করা হয়, যা একজন চাকরিপ্রত্যাশীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ তাকে কর্মক্ষেত্রে নীতি ও নৈতিকতা সম্পর্কে সচেতন থাকতে হয়।
পরিযায়ী পাখি হলো সেইসব পাখি যারা বছরের নির্দিষ্ট সময়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে যায়। সাধারণত চরম আবহাওয়া, খাদ্যের অভাব বা প্রজননের উদ্দেশ্যে তারা এই পরিযান করে থাকে। শীতকালে বাংলাদেশের জলাভূমি ও হাওর অঞ্চলে এমন অনেক পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটে। সাইবেরিয়া, হিমালয় এবং অন্যান্য শীতপ্রধান অঞ্চল থেকে এরা উষ্ণতর পরিবেশে আসে। এদের মধ্যে বালিহাঁস, সরাল, পাতিহাঁস, ডুবুরি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
"সাধ আছে, সাধ্য নেই" একটি বহুল প্রচলিত বাংলা বাগধারা। এই বাগধারাটি এমন একটি পরিস্থিতিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয় যেখানে কোনো ব্যক্তির কোনো কাজ করার বা কোনো কিছু পাওয়ার তীব্র ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা (সাধ) থাকে, কিন্তু সেই ইচ্ছা পূরণ করার জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষমতা, সামর্থ্য, বা আর্থিক সংস্থান (সাধ্য) তার থাকে না।
এটি আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতার মধ্যেকার বৈষম্যকে নির্দেশ করে। অর্থাৎ, ব্যক্তির ইচ্ছা থাকলেও তা বাস্তবায়ন করার ক্ষমতা বা উপায়ের অভাব। দৈনন্দিন জীবনে এবং সাহিত্যে এই বাগধারাটি প্রায়শই ব্যবহৃত হয় যখন কেউ তার সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো স্বপ্ন বা লক্ষ্য পূরণ করতে পারে না বা পিছিয়ে পড়ে।
এই শূন্যস্থানে 'শনি' শব্দটি বসালে বাক্যটি অর্থপূর্ণ হয়: "তার এখন শনি দশা চলছে।"
বাংলা ভাষায় 'শনি দশা' একটি প্রচলিত বাগধারা, যা দ্বারা কোনো ব্যক্তির জীবনে প্রতিকূল সময়, দুর্ভাগ্য বা দুর্দশার দীর্ঘস্থায়ী পর্যায়কে বোঝানো হয়। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, শনি গ্রহের প্রতিকূল প্রভাবে সৃষ্ট খারাপ সময়কেই মূলত 'শনি দশা' বলা হয়ে থাকে। তবে সাধারণ কথাবার্তায় এটি কোনো দুর্ভাগ্যের সময় বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যেখানে জ্যোতিষশাস্ত্রীয় ব্যাখ্যার প্রয়োজন নাও হতে পারে। এটি বোঝায় যে ব্যক্তিটি বর্তমানে কঠিন বা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
প্রদত্ত বাক্যটি একটি বাগধারা ব্যবহারের দৃষ্টান্ত। শূন্যস্থানে 'আকাশের' শব্দটি বসিয়ে বাক্যটিকে অর্থপূর্ণ ও সঠিক বাগধারা অনুসারে সম্পূর্ণ করা হয়েছে।
বাগধারা: আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়া।
- অর্থ: অসম্ভবকে সম্ভব করা, অতি আকাঙ্ক্ষিত বস্তু লাভ করা অথবা অপ্রত্যাশিতভাবে অত্যন্ত মূল্যবান কোনো কিছু প্রাপ্তি ঘটলে এই বাগধারাটি ব্যবহৃত হয়। এর দ্বারা সীমাহীন আনন্দ বা পরম তৃপ্তি বোঝানো হয়।
- প্রয়োগ: আলোচ্য বাক্যে, হারানো সন্তান ফিরে পাওয়ার মতো অত্যন্ত আনন্দদায়ক ও মূল্যবান ঘটনাকে 'আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়া'-এর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। সন্তানের পুনঃপ্রাপ্তি একজন মায়ের কাছে জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দের কারণ, যা শত কষ্ট বা প্রার্থনার পর প্রাপ্ত অমূল্য বস্তুর সমতুল্য।
Related Question
View Allমাছের মায়ের কান্না বাগধারার অর্থ মিথ্যাশোক।
বাক্য: খেলার সময় একটু আঘাত পেয়েই সে মাছের মার কান্না করছে।
কান পাতলা অর্থ যে সব বিশ্বাস করে
>সে একজন কান পাতলা মানুষ তাকে সব কথা বলতে নেই।
কলির সন্ধ্যা বাগধারাটির অর্থ দুর্দিন বা দুঃখের সূত্রপাত।
বাক্য: চাকরি চলে যাওয়ায় তার জীবনে কলির সন্ধ্যা নেমে এসেছে।
লম্বা দেওয়া বাগধারাটির অর্থ: চম্পট দেওয়া
বাক্য: সে অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়ে লম্বা দিয়েছে।
চম্পট দেওয়া
সোনায় সোহাগা
অর্থ: উপযুক্ত মিলন
বাক্য: তার সুন্দর চোখ আবার মিষ্টি হাসি যেন সোনায় সোহাগা।
মিছরির ছুরি বাগধারাটির অর্থ হল মুখে মধু অন্তরে বিষ।
বাক্য: সে মিছরির ছুরি দিয়ে অনেকের সাথে প্রতারণা করেছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!