অর্থহীন অথচ অর্থদ্যোতক যেসব অব্যয় নাম শব্দ বা কৃদন্ত শব্দের আগে বসে শব্দগুলোর অর্থ সংকোচন, প্রসারণ বা অন্য কোনো পরিবর্তন সাধন করে থাকে, তাদের বাংলায় উপসর্গ বলে। যেমন : আগমন, পরিদর্শন, উপবন ইত্যাদি।
উপসর্গের কোন অর্থবাচকতা নেই, অর্থদ্যোতকতা আছে মাত্র। এগুলো নাম শব্দ বা কৃদন্ত শব্দের সঙ্গে যুক্ত না হয়ে যদি স্বাধীনভাবে থাকে, তাহলে এদের কোনো অর্থ হয় না। আর যদি নাম শব্দ বা কৃদন্ত শব্দ কোনো একটির সঙ্গে যুক্ত হয়, তবেই এগুলো আশ্রিত শব্দকে অবলম্বন করে বিশেষ বিশেষ অর্থদ্যোতকতা সৃষ্টি করতে পারে। যেমন : বি + হার = বিহার, আ + হার = আহার, উপ + হার = উপহার ইত্যাদি।
তবে বাংলায় 'অতি' ও 'প্রতি' এ দুটো উপসর্গ কখনো কখনো স্বাধীনভাবেও প্রয়োগ হতে পারে। যেমন : অতি লোভে তাঁতি নষ্ট, মাথাপ্রতি এক টাকা করে দাও ইত্যাদি।
Related Question
View Allবি' উপসর্গ: অভাব - বিনিদ্র, বিবর্ণ, বিশৃঙ্খল, বিফল । | ‘নি' উপসর্গ নিষেধ- নিবৃত্তি |
যেসব অব্যয় বা অব্যয়সূচক শব্দাংশ আলাদাভাবে অর্থপূর্ণ শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয় না, কিন্তু ধাতু বা ধাতুনিষ্পন্ন শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে তাদেরকে উপসর্গ বলে। যেমন: 'আড়' একটি উপসর্গ, যার নিজস্ব কোন অর্থ নেই। কিন্তু এটি যখন ‘চোখ' এর আগে বসবে তখন একটি নতুন শব্দ ‘আড়চোখ' তৈরি করে, যার অর্থ ‘বাঁকা চোখে’।
বাংলা ভাষায় উপসর্গের চারটি কাজ নিম্নরূপঃ
১. শব্দের অর্থের পূর্ণতা সাধিত হয়। যেমন: ভাত (আলোকিত) থেকে প্রভাত (যখন প্রচুর পরিমাণে আলোকিত হয়)। পুষ্টি থেকে পরিপুষ্টি ইত্যাদি ।
২. নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয়। যেমন: হার থেকে প্রহার, আহার, বিহার ইত্যাদি ।
৩. শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ ঘটে। যেমন: তাপ থেকে প্রতাপ, প্রভাব ইত্যাদি।
৪. শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটে। যেমন: কাজ থেকে অকাজ, কুকাজ ইত্যাদি ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!