উপসর্গের সংজ্ঞা দাও। উপসর্গ ব্যবহার করে পাঁচটি শব্দ গঠন কর।

Updated: 10 months ago
উত্তরঃ

যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে। অজানা (অজানা), অভিযোগ (অভিযোগ), বেতার (বে+তার) প্রভৃতি শব্দের 'অ', 'অভি', 'বে' হলো উপসর্গ।

অনেক সময়ে শব্দের শুরুতে একসঙ্গে একাধিক উপসর্গ বসতে পারে। যেমন, 'সম্প্রদান' শব্দে 'দান'-এর আগে 'সম্' এবং 'প্র' - এই দুটি উপসর্গ যুক্ত হয়েছে। একইভাবে 'বিনির্মাণ' শব্দে 'মান'-এর আগে বসেছে 'বি' এবং 'নির্' উপসর্গ।

উপসর্গের নিজের অর্থ নেই; কিন্তু নতুন নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরিতে উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এজন্য বলা হয়- উপসর্গের অর্থ নেই, কিন্তু অর্থের দ্যোতনা তৈরি করার ক্ষমতা আছে।

বাংলা ভাষায় অর্ধশতাধিক উপসর্গ রয়েছে।

উপসর্গের কাজ

নতুন শব্দ তৈরি করা উপসর্গের কাজ। যেমন সম্+বাদ সংবাদ, বি+বাদ বিবাদ। 'বাদ' শব্দের সঙ্গে 'সম্' এবং 'বি' উপসর্গ যোগ করে নতুন শব্দ 'সংবাদ' ও 'বিবাদ' তৈরি হলো।

উপসর্গের আর একটি কাজ শব্দের অর্থ পরিবর্তন করা। যেমন সু-নজর = সুনজর (অর্থের সংকোচন); সম্+পূর্ণ = সম্পূর্ণ (অর্থের সম্প্রসারণ); গর+হাজির = গরহাজির (বিপরীত অর্থ) ইত্যাদি।

নিচে কয়েকটি সুপরিচিত উপসর্গের অর্থদ্যোতনা, সাধিত শব্দ ও বিশ্লেষণ দেখানো হলো।

উপসর্গশব্দ গঠনসাধিত শব্দদ্যোতনা
অ-অ+কাজঅকাজঅনুচিত
 অ+বোধঅবোধঅল্প
অতি- অতি+কায়অতিকায়বৃহৎ
 অতি+আচারঅত্যাচারঅতিরিক্ত
অধি-অধি+কারঅধিকারকর্তৃত্ব
 অধি+বাসীঅধিবাসীমধ্যে
অনা-অনা+বৃষ্টিঅনাবৃষ্টিঅভাব
 অনা+সৃষ্টিঅনাসৃষ্টিবাজে
অনু-অনু+গমনঅনুগমনপিছনে
 অনু+রূপঅনুরূপতুল্য
অপ-অপ+কর্মঅপকর্মমন্দ
 অপ-সংস্কৃতিঅপসংস্কৃতিবিকৃত
অব-অব+দানঅবদানবিশেষ
 অব+গুণ্ঠনঅবগুণ্ঠনঅল্প
অভি -অভি+জ্ঞঅভিজ্ঞসম্যক
 অভি+জাতঅভিজাতউত্তম
আ-আ+রক্তআরক্তঈষৎ
 আ+খাম্বাআখাম্বাসদৃশ
উৎ-উৎক্ষেপণউৎক্ষেপণঊর্ধ্বে
 উৎ+বাস্তুউদ্বাস্তুপরিত্যক্ত
উপ-উপ+কূলউপকূলনিকট
 উপ+ভোগউপভোগসম্যক
কদ-কদ+বেলকদবেলগৌণ
কু-কু+কাজকুকাজনিন্দনীয়
 কু+পথকুপথঅসৎ
গর-গর+হাজিরগরহাজিরবিপরীত
 গর+ঠিকানাগরঠিকানাভিন্ন
দর-দর+দালানদরদালানমধ্যস্থ
 দর+কাঁচাদরকাঁচাসামান্য
দুঃ- (দুর্‌/দুস্)দুঃ+শাসনদুঃশাসনমন্দ
 দুর্+মূল্যদুর্মূল্যঅধিক
 দুস্+প্রাপ্যদুষ্প্রাপ্যঅল্প
 দুর্+দিনদুর্দিনমন্দ
না-ন+লায়েকনালায়েকঅপূর্ণ
 না-হকনাহকনেতি
নি-নি+দারুণনিদারুণঅতিশয়
 নি+খাদনিখাদনেই এমন
নিঃ-(নির্‌/নিস)নিঃ+শেষনিঃশেষপুরোপুরি
 নির্+ধননির্ধননেই এমন
 নির্+গমননির্গমনবাইরে
 নিস্+তরঙ্গনিস্তরঙ্গনেই এমন
নিম-নিম+খুননিমথুনপ্রায়
 নিম+রাজিনিমরাজিঅর্ধেক
পরা-পরা+জয়পরাজয়বিপরীত
 পরা+বাস্তবপরাবাস্তবঅতিশয়
পরি-পরি+ত্যাগপরিত্যাগসম্পূর্ণ
 পরি+পন্থীপরিপন্থীবিরুদ্ধ
পাতি-পাতি+হাঁসপাতিহাঁসছোটো
প্র-প্র+গতিপ্রগতিপ্রকৃষ্ট
 প্র+কোপপ্রকোপপ্রচণ্ড
প্রতি-প্রতি+ধ্বনিপ্রতিধ্বনিতুল্য
 প্রতি+হিংসাপ্রতিহিংসাপালটা
বদ-বদ+মেজাজবদমেজাজউগ্র
 বদ+জাতবজ্জাতনিন্দনীয়
বি-বি+ভুঁইবিভুঁইভিন্ন
 বি+জ্ঞানবিজ্ঞানবিশেষ
বে-বে+দখলবেদখলহৃত
 বে+আইনবেআইনবহির্ভূত
ভর-ভর+পেটভরপেটপূর্ণ
 ভর+জোয়ারভরজোয়ারচূড়ান্ত
স-স+ঠিকসঠিকসম্পূর্ণ
সম্ -সম্+মুখসম্মুখঅভিমুখে
 সম্+যোজনসংযোজনএকত্র
সু-সু+দিনসুদিনভালো
 সু+কৌশলসুকৌশলচমৎকার
হা-হা+ভাতহাভাতঅভাব
Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
352

বাংলা ভাষায় এমন কতগুলো অব্যয়সূচক শব্দাংশ রয়েছে, যা স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে না। এগুলো অন্য শব্দের আগে বসে। এর প্রভাবে শব্দটির কয়েক ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়। যেমন-

১. নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয়।

২. শব্দের অর্থের পূর্ণতা সাধিত হয় ।

৩. শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ ঘটে।

৪. শব্দের অর্থের সংকোচন ঘটে। এবং

৫. শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটে।

ভাষায় ব্যবহৃত এসব অব্যয়সূচক শব্দাংশেরই নাম উপসর্গ। যেমন ‘কাজ' একটি শব্দ । এর আগে ‘অ’ - অব্যয়টি যুক্ত হলে হয় ‘অকাজ’ যার অর্থ নিন্দনীয় কাজ। এখানে অর্থের সংকোচন হয়েছে। -

‘পূর্ণ’ (ভরা) শব্দের আগে ‘পরি’ যোগ করায় ‘পরিপূর্ণ' হলো। এটি পূর্ণ শব্দের সম্প্রসারিত রূপ (অর্থে ও আকৃতিতে)। ‘হার’ শব্দের পূর্বে ‘আ’ যুক্ত করে ‘আহার’ (খাওয়া), ‘প্র’ যুক্ত করে ‘প্রহার’ (মারা), 'বি' যুক্ত করে ‘বিহার' (ভ্রমণ), 'পরি' যোগ করে ‘পরিহার' (ত্যাগ), ‘উপ’ যোগ করে ‘উপহার’ (পুরস্কার), ‘সম’ যোগ করে ‘সংহার’ (বিনাশ) ইত্যাদি বিভিন্ন অর্থে বিভিন্ন শব্দ তৈরি হয়েছে।

এ উপসর্গগুলোর নিজস্ব কোনো অর্থবাচকতা নেই, কিন্তু অন্য শব্দের আগে যুক্ত হলে এদের অর্থদ্যোতকতা বা নতুন শব্দ সৃজনের ক্ষমতা থাকে।

বাংলা ভাষায় তিন প্রকার উপসর্গ আছে : বাংলা, তৎসম (সংস্কৃত) এবং বিদেশি উপসর্গ।

Related Question

View All
উত্তরঃ

বি' উপসর্গ:

অভাব - বিনিদ্র, বিবর্ণ, বিশৃঙ্খল, বিফল ।
গতি - বিচরণ, বিক্ষেপ
অপ্রকৃতস্থ - বিকার, বিপর্যয়
বিশেষ রূপে- বিধৃত, বিশুদ্ধ, বিজ্ঞান

‘নি' উপসর্গ 

নিষেধ- নিবৃত্তি
নিশ্চয় - নির্ধারণ, নির্ণয়
আতিশয্য - নিদাঘ, নিদারুণ
অভাব - নিষ্কলুষ, নিষ্কাম

1.6k
উত্তরঃ

যেসব অব্যয় বা অব্যয়সূচক শব্দাংশ আলাদাভাবে অর্থপূর্ণ শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয় না, কিন্তু ধাতু বা ধাতুনিষ্পন্ন শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে তাদেরকে উপসর্গ বলে। যেমন: 'আড়' একটি উপসর্গ, যার নিজস্ব কোন অর্থ নেই। কিন্তু এটি যখন ‘চোখ' এর আগে বসবে তখন একটি নতুন শব্দ ‘আড়চোখ' তৈরি করে, যার অর্থ ‘বাঁকা চোখে’।

বাংলা ভাষায় উপসর্গের চারটি কাজ নিম্নরূপঃ 
১. শব্দের অর্থের পূর্ণতা সাধিত হয়। যেমন: ভাত (আলোকিত) থেকে প্রভাত (যখন প্রচুর পরিমাণে আলোকিত হয়)। পুষ্টি থেকে পরিপুষ্টি ইত্যাদি ।
২. নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয়। যেমন: হার থেকে প্রহার, আহার, বিহার ইত্যাদি । 
৩. শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ ঘটে। যেমন: তাপ থেকে প্রতাপ, প্রভাব ইত্যাদি।
৪. শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটে। যেমন: কাজ থেকে অকাজ, কুকাজ ইত্যাদি ।

464
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews