উপসর্গ কাকে বলে? যে কোনো চারটি বিদেশি উপসর্গের সাহায্যে একটি করে শব্দ গঠন কর।

Updated: 1 year ago
উত্তরঃ

যেসব অব্যয় বা অব্যয়সূচক শব্দাংশ আলাদাভাবে অর্থপূর্ণ শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয় না, কিন্তু ধাতু বা ধাতুনিষ্পন্ন শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে তাদেরকে উপসর্গ বলে। যেমন: 'আড়' একটি উপসর্গ, যার নিজস্ব কোন অর্থ নেই। কিন্তু এটি যখন ‘চোখ' এর আগে বসবে তখন একটি নতুন শব্দ ‘আড়চোখ' তৈরি করে, যার অর্থ ‘বাঁকা চোখে’।

বাংলা ভাষায় উপসর্গের চারটি কাজ নিম্নরূপঃ 
১. শব্দের অর্থের পূর্ণতা সাধিত হয়। যেমন: ভাত (আলোকিত) থেকে প্রভাত (যখন প্রচুর পরিমাণে আলোকিত হয়)। পুষ্টি থেকে পরিপুষ্টি ইত্যাদি ।
২. নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয়। যেমন: হার থেকে প্রহার, আহার, বিহার ইত্যাদি । 
৩. শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ ঘটে। যেমন: তাপ থেকে প্রতাপ, প্রভাব ইত্যাদি।
৪. শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটে। যেমন: কাজ থেকে অকাজ, কুকাজ ইত্যাদি ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
191

বাংলা ভাষায় এমন কতগুলো অব্যয়সূচক শব্দাংশ রয়েছে, যা স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে না। এগুলো অন্য শব্দের আগে বসে। এর প্রভাবে শব্দটির কয়েক ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়। যেমন-

১. নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয়।

২. শব্দের অর্থের পূর্ণতা সাধিত হয় ।

৩. শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ ঘটে।

৪. শব্দের অর্থের সংকোচন ঘটে। এবং

৫. শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটে।

ভাষায় ব্যবহৃত এসব অব্যয়সূচক শব্দাংশেরই নাম উপসর্গ। যেমন ‘কাজ' একটি শব্দ । এর আগে ‘অ’ - অব্যয়টি যুক্ত হলে হয় ‘অকাজ’ যার অর্থ নিন্দনীয় কাজ। এখানে অর্থের সংকোচন হয়েছে। -

‘পূর্ণ’ (ভরা) শব্দের আগে ‘পরি’ যোগ করায় ‘পরিপূর্ণ' হলো। এটি পূর্ণ শব্দের সম্প্রসারিত রূপ (অর্থে ও আকৃতিতে)। ‘হার’ শব্দের পূর্বে ‘আ’ যুক্ত করে ‘আহার’ (খাওয়া), ‘প্র’ যুক্ত করে ‘প্রহার’ (মারা), 'বি' যুক্ত করে ‘বিহার' (ভ্রমণ), 'পরি' যোগ করে ‘পরিহার' (ত্যাগ), ‘উপ’ যোগ করে ‘উপহার’ (পুরস্কার), ‘সম’ যোগ করে ‘সংহার’ (বিনাশ) ইত্যাদি বিভিন্ন অর্থে বিভিন্ন শব্দ তৈরি হয়েছে।

এ উপসর্গগুলোর নিজস্ব কোনো অর্থবাচকতা নেই, কিন্তু অন্য শব্দের আগে যুক্ত হলে এদের অর্থদ্যোতকতা বা নতুন শব্দ সৃজনের ক্ষমতা থাকে।

বাংলা ভাষায় তিন প্রকার উপসর্গ আছে : বাংলা, তৎসম (সংস্কৃত) এবং বিদেশি উপসর্গ।

Related Question

View All
উত্তরঃ অপ: অপমান, অপচয়, অপকার, অপবাদ, অপমৃত্যু
বি: বিজ্ঞান, বিরল, বিষাদ, বিফল, বিদেশ

উপসর্গ হলো কিছু অব্যয়সূচক শব্দাংশ যা স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হতে পারে না, কিন্তু কোনো শব্দের আগে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে এবং শব্দের অর্থের পরিবর্তন, সম্প্রসারণ বা সংকোচন ঘটায়। বাংলা ভাষায় তিন প্রকার উপসর্গ দেখা যায়: বাংলা উপসর্গ (যেমন: অ, অজ, অনা), তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ (যেমন: প্র, পরা, অপ, সম, নি, বি, সু, অতি, অধি, অনু, অভি, প্রতি, পরি, উপ), এবং বিদেশি উপসর্গ (যেমন: আম, খাস, গড়, হাফ)। ‘অপ’ এবং ‘বি’ উভয়ই তৎসম উপসর্গ। ‘অপ’ উপসর্গটি সাধারণত মন্দ, বিপরীত, অভাব, বা দূরীকরণ অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন: ‘মান’ শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে ‘অপমান’ (হীনতা) বা ‘ব্যয়’ শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে ‘অপচয়’ (নষ্ট হওয়া) বোঝায়। অন্যদিকে, ‘বি’ উপসর্গটি বিশেষ, অভাব, গতি, বিপরীত, বা বিসর্গ অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন: ‘জ্ঞান’ শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে ‘বিজ্ঞান’ (বিশেষ জ্ঞান) অথবা ‘ফল’ শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে ‘বিফল’ (ফলহীন) বোঝায়।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
415
উত্তরঃ

বি' উপসর্গ:

অভাব - বিনিদ্র, বিবর্ণ, বিশৃঙ্খল, বিফল ।
গতি - বিচরণ, বিক্ষেপ
অপ্রকৃতস্থ - বিকার, বিপর্যয়
বিশেষ রূপে- বিধৃত, বিশুদ্ধ, বিজ্ঞান

‘নি' উপসর্গ 

নিষেধ- নিবৃত্তি
নিশ্চয় - নির্ধারণ, নির্ণয়
আতিশয্য - নিদাঘ, নিদারুণ
অভাব - নিষ্কলুষ, নিষ্কাম

1.6k
উত্তরঃ

যেসব অব্যয় বা অব্যয়সূচক শব্দাংশ আলাদাভাবে অর্থপূর্ণ শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয় না, কিন্তু ধাতু বা ধাতুনিষ্পন্ন শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে তাদেরকে উপসর্গ বলে। যেমন: 'আড়' একটি উপসর্গ, যার নিজস্ব কোন অর্থ নেই। কিন্তু এটি যখন ‘চোখ' এর আগে বসবে তখন একটি নতুন শব্দ ‘আড়চোখ' তৈরি করে, যার অর্থ ‘বাঁকা চোখে’।

বাংলা ভাষায় উপসর্গের চারটি কাজ নিম্নরূপঃ 
১. শব্দের অর্থের পূর্ণতা সাধিত হয়। যেমন: ভাত (আলোকিত) থেকে প্রভাত (যখন প্রচুর পরিমাণে আলোকিত হয়)। পুষ্টি থেকে পরিপুষ্টি ইত্যাদি ।
২. নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয়। যেমন: হার থেকে প্রহার, আহার, বিহার ইত্যাদি । 
৩. শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ ঘটে। যেমন: তাপ থেকে প্রতাপ, প্রভাব ইত্যাদি।
৪. শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটে। যেমন: কাজ থেকে অকাজ, কুকাজ ইত্যাদি ।

497
উত্তরঃ

উপসর্গ হলো কিছু অব্যয়সূচক শব্দাংশ যা ধাতু বা শব্দের পূর্বে যুক্ত হয়ে নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি করে এবং শব্দ বা ধাতুর অর্থের পরিবর্তন, সম্প্রসারণ বা সংকোচন ঘটায়।


উপসর্গের প্রয়োজনীয়তা বা গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলা ভাষায় নতুন শব্দ গঠন এবং অর্থের বৈচিত্র্য আনয়নে উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর প্রধান প্রয়োজনীয়তাগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

        
  • নতুন শব্দ গঠন: উপসর্গের প্রধান কাজ হলো ধাতু বা শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ তৈরি করা। যেমন: 'হার' শব্দের পূর্বে 'প্র' যুক্ত হয়ে 'প্রহার', 'বি' যুক্ত হয়ে 'বিহার', 'আ' যুক্ত হয়ে 'আহার', 'উপ' যুক্ত হয়ে 'উপহার' ইত্যাদি ভিন্ন অর্থবোধক শব্দ গঠন করে।
  •     
  • শব্দের অর্থের পরিবর্তন: উপসর্গ মূল শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটায়। একটি মূল শব্দ বিভিন্ন উপসর্গের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে। যেমন: 'পূর্ণ' শব্দের পূর্বে 'পরি' যুক্ত হয়ে 'পরিপূর্ণ', 'অ' যুক্ত হয়ে 'অপূর্ণ' হয়ে অর্থের সম্পূর্ণ পরিবর্তন ঘটায়।
  •     
  • অর্থের সম্প্রসারণ: কিছু উপসর্গ মূল শব্দের অর্থের ব্যাপকতা বা সম্প্রসারণ ঘটায়। যেমন: 'তাপ' শব্দের পূর্বে 'প্র' যুক্ত হয়ে 'প্রতাপ' (মহিমা বা তেজ) অর্থে অর্থের সম্প্রসারণ ঘটায়।
  •     
  • অর্থের সংকোচন: অনেক সময় উপসর্গ মূল শব্দের অর্থের সংকোচন ঘটিয়ে নির্দিষ্ট অর্থ প্রদান করে। যেমন: 'বাস' (থাকা) শব্দের পূর্বে 'উপ' যুক্ত হয়ে 'উপবাস' (না খেয়ে থাকা) অর্থে অর্থের সংকোচন ঘটায়।
  •     
  • অর্থের পূর্ণতা দান: অনেক সময় মূল শব্দের অর্থ অসম্পূর্ণ মনে হলে উপসর্গ যুক্ত হয়ে সে অর্থকে পূর্ণতা দান করে। যেমন: 'গতি' শব্দের পূর্বে 'প্র' যুক্ত হয়ে 'প্রগতি' (উন্নতি) অর্থে অর্থের পূর্ণতা আনে।

এভাবে উপসর্গ বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করে, বাক্য গঠনে নতুনত্ব আনে এবং অর্থ প্রকাশে সূক্ষ্মতা ও গভীরতা প্রদান করে।

Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
737
উত্তরঃ

উপসর্গ হলো কিছু অব্যয়সূচক শব্দাংশ, যা স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হতে পারে না, কিন্তু কোনো শব্দের আগে বসে সেই শব্দের অর্থের পরিবর্তন, সম্প্রসারণ বা সংকোচন ঘটায়। বাংলা ব্যাকরণে এদের গুরুত্ব অপরিসীম।

উপসর্গের অর্থবাচকতা নেই বলতে বোঝায় যে, কোনো উপসর্গকে এককভাবে ব্যবহার করলে তার নিজস্ব কোনো অর্থ প্রকাশ পায় না। যেমন – 'প্র', 'পরা', 'অপ', 'সম' ইত্যাদি শব্দাংশগুলোকে যদি আলাদাভাবে উচ্চারণ করা হয়, তবে এদের কোনো নির্দিষ্ট বা স্বাধীন অর্থ পাওয়া যায় না। এদের দ্বারা কোনো বস্তু, ব্যক্তি, গুণ বা ক্রিয়ার ধারণা পাওয়া যায় না। তারা নিজেরা কোনো পূর্ণাঙ্গ অর্থ বহন করে না।

কিন্তু উপসর্গের অর্থদ্যোতকতা আছে। এর অর্থ হলো, উপসর্গগুলো স্বাধীনভাবে অর্থহীন হলেও, যখন তারা কোনো মূল বা ধাতুর পূর্বে বসে, তখন সেই মূল শব্দের অর্থে নতুনত্ব সৃষ্টি করে, অর্থের সম্প্রসারণ, সংকোচন বা পরিবর্তন ঘটায়। অর্থাৎ, তারা মূল শব্দের অর্থের একটি দ্যোতনা বা ইঙ্গিত প্রদান করে। উপসর্গ যোগে একটি শব্দের অর্থ একাধিক রূপ ধারণ করতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ, 'হার' একটি মূল শব্দ যার অর্থ পরাজয়, গলার অলংকার ইত্যাদি। এর পূর্বে বিভিন্ন উপসর্গ যোগ করলে এর অর্থে ভিন্নতা আসে:

        
  • প্র + হার = প্রহার (মারধর করা)
  •     
  • পরি + হার = পরিহার (ত্যাগ করা)
  •     
  • + হার = আহার (খাওয়া)
  •     
  • বি + হার = বিহার (ভ্রমণ করা)
  •     
  • উপ + হার = উপহার (ভেট, বকশিশ)

লক্ষ্য করা যায়, 'হার' শব্দের পূর্বে 'প্র', 'পরি', 'আ', 'বি', 'উপ' ইত্যাদি উপসর্গ যুক্ত হয়ে প্রতিটি ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করছে। এখানে উপসর্গগুলো মূল শব্দ 'হার'-এর অর্থে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বা অর্থের দ্যোতনা ঘটিয়েছে।

সুতরাং, এই আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, উপসর্গগুলোর নিজস্ব কোনো স্বাধীন অর্থ না থাকলেও, অন্য শব্দের পূর্বে বসে তারা সেই শব্দের অর্থকে প্রভাবিত করে এবং নতুন অর্থ তৈরিতে সহায়তা করে। এজন্য বলা হয়, উপসর্গের অর্থবাচকতা নেই, কিন্তু অর্থদ্যোতকতা আছে।

Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
865
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews