কথিত অন্ধকূপ হত্যায় ১২৩ জনের মৃত্যু হয়।
দ্বৈত শাসন বলতে ইংরেজ কোম্পানি ও বাংলার নবাবের সমন্বয়ে ভারতীয় উপমহাদেশে রবার্ট ক্লাইভ প্রবর্তিত শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়।
১৭৬৫ সালে প্রণীত এ শাসনব্যবস্থায় নিযামত বা বাংলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ফৌজদারি বিচার, দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনার দায়িত্ব ছিল বাংলার নবাবের হাতে। অন্যদিকে রাজস্ব আদায়, দেওয়ানি সংক্রান্ত বিচার, জমিজমার বিবাদ সংক্রান্ত বিচার কোম্পানির ওপর ন্যস্ত হয়। বাংলার শাসনের দায়িত্ব এভাবে দুটি পৃথক সংস্থার হাতে চলে যাওয়াই দ্বৈত শাসন।
উদ্দীপকের ব্যবস্থার সাথে আমার পঠিত ব্রিটিশ ভারতের লর্ড কর্নওয়ালিস প্রবর্তিত চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সাদৃশ্য রয়েছে।
১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস রাজস্ব আদায়ের জন্য পাঁচসালা ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। এই ব্যবস্থায় উচ্চহারে জমির বন্দোবস্ত দেয়া হলেও সে অনুপাতে রাজস্ব আদায় হতো না। ফলে নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকার জমিদাররা কৃষকদের কাছ থেকে প্রয়োজনে নির্যাতন করে অর্থ আদায় করত। নির্যাতনের ভয়ে কৃষকরা জমি ছেড়ে পালিয়ে যেত। এ অবস্থা উপলব্ধি করে পরবর্তীতে লর্ড কর্নওয়ালিস পিটের ইন্ডিয়া অ্যাক্ট অনুযায়ী ১৭৮৯ সালে দশসালা বন্দোবস্ত চালু করেন। এই বন্দোবস্তু ১৭৯২ সালে কোম্পানির ডাইরেক্টর সভায় অনুমোদন পেলে কর্নওয়ালিস ১৭৯৩ সালের ২২ মার্চ একে চিরস্থায়ী বলে ঘোষণা করেন।
উদ্দীপকের বর্ণনায় দেখা যায়, উলিপুর মৌজার জমির আয় নির্দিষ্ট করতে কর্তৃপক্ষ কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তির নিকট জমি ইজারা দেন। জমির মালিকানা পেয়ে ইজারাদাররা প্রজাদের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপিয়ে দেয়। ফলে অনেক কৃষক ব্রিটিশ ভারতের কৃষকদের মতো জমিজমা ছেড়ে পালিয়ে যেতে শুরু করে। কর্তৃপক্ষ এ দুরবস্থা থেকে মুক্তি পেতে লর্ড কর্নওয়ালিসের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মতো সুনির্দিষ্ট রাজস্বের বিনিময়ে উত্ত ইজারাদারদের স্থায়ীভাবে ভূমি বরাদ্দ দেন।
উপরের তুলনামূলক আলোচনায় সুস্পষ্ট যে, উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যবস্থার সাথে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সাদৃশ্য রয়েছে।
উক্ত ব্যবস্থা অর্থাৎ চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলাফল ছিল সুধুভাসারী।
বাংলার আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ব্যাপক প্রভাব ছিল। এর ফলে জমিদাররা জমির স্থায়ী মালিকে পরিণত হয়। তবে তাদের প্রশাসনিক ক্ষমতা বিলুপ্ত হওয়ায় সরকার স্বয়ং শান্তি রক্ষা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব লাভ করে। আয়ের পরিমাণ নির্দিষ্ট যওয়ায় সরকারের পক্ষে বাজেট প্রণয়ন ও বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজতর হয়। এ ব্যবস্থার ফলে জমিদাররা কোম্পানির একনিষ্ঠ সমর্থকে পরিণত হয়। এভাবে ব্রিটিশ শাসন দৃঢ় ও দীর্ঘমেয়াদি হয়। এ ব্যবস্থায় পতিত জমি ও জকালাকীর্ণ জমি চাষের আওতায় আসায় উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। তবে এ ব্যবস্থায় জমির সঠিক জরিপের ব্যবস্থা না থাকায় বিবাদ দেখা দেয়। এছাড়া সূর্যাস্ত আইনের কারণে শুধু বর্ধমানের জমিদারি ছাড়া চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তনের সাত বছরের মধ্যে অন্যান্য জমিদারি ধ্বংস হয়ে যায়। এ ব্যবস্থার ফলে কৃষকরা সরাসরি জমিদার কর্তৃক শোষিত হলেও জমিদারদের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে গ্রামীণ সমাজে একটি শিক্ষিত শ্রেণি গড়ে ওঠে। এরাই পরবর্তীতে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এমনকি এই জমিদার শ্রেণির পরবর্তী প্রজন্ম পাশ্চাত্য শিক্ষা লাভ করে স্বাধীনতা আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলার ইতিহাসে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মতো অন্য কোনো আইন সমাজজীবনে এতো বেশি প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। বস্তুত ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন অবসানের পূর্ব পর্যন্ত চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রভাব বাংলার সমাজব্যবস্থায় পরিলক্ষিত হয়।
Related Question
View Allভাস্কো-ডা-গামা পর্তুগালের নাবিক ছিলেন।
প্রাচীনকালে বাংলা সম্পদে সমৃদ্ধ ও স্বয়সম্পূর্ণ ছিল বলে অনেকেই বাণিজ্য করতে এসছিল।
প্রাচীন বাংলার গ্রামের স্বয়ংসম্পূর্ণ কৃষকদের ক্ষেত ভরা ফসল, গোলাভরা ধান, পুকুরভরা মাছ থাকত। এদেশের তাঁতিদের হাতে বোনা কাপড় ইউরোপের কাপড়ের চেয়েও উন্নতমানের ছিল। এ অঞ্চলের নানা ধরনের বাণিজ্যিক পণ্য ও মসলার বেশ খ্যাতি ছিল। এসব পণ্যের আকর্ষণেই এদেশের সঙ্গে বাণিজ্য করতে এসেছে অনেকেই।
উদ্দীপকের ক্ষমতা ভাগাভাগির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের দ্বৈত শাসনের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
রবার্ট ক্লাইভ ১৭৬৫ সালের দেওয়ানি সনদের নামে বাংলার সম্পদ লুণ্ঠনের একচেটিয়া ক্ষমতা লাভ করে। দিল্লি কর্তৃক বিদেশি বণিক কোম্পানিকে এই অভাবনীয় ক্ষমতা প্রদানে সৃষ্টি হয় দ্বৈত শাসনের। এর মাধ্যমে কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা, আর নবাব পরিণত হয় ক্ষমতাহীন শাসকে। অথচ নবাবের দায়িত্ব থেকে যায় ষোলআনা। ফলে বাংলায় এক অভূতপূর্ব প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মামুন ও কামালের মাঝে পারিবারিক গার্মেন্টস ও সংসারের দায়িত্ব বণ্টন হয়। এতে মামুন কামালকে উপযুক্ত অর্থ প্রদান না করায় সংসারে জটিলতা দেখা দেয়। এই বিষয়টির সাথে দ্বৈত শাসনের মিল রয়েছে।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, উক্ত ঘটনা বাংলার অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিল।
দ্বৈত শাসনের ফলে বাংলার সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার দ্বারা প্রশাসনে চরম দুর্নীতি শুরু হয়েছিল। নামে বেনামে অর্থ ইংল্যান্ডে পাচার হয়েছিল। ফলে বাংলার রাজকোষ শূন্য হয়ে পড়ে। এর ফলে জনগণের ওপর অতিরিক্ত করারোপ করা হয়। এছাড়াও অনাবৃষ্টির কারণে ঐ সময় (১৭৭০ সাল) দেখা দেয় দুর্ভিক্ষ যা ইতিহাসে 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' নামে পরিচিত। এই দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুমুখে পতিত হয়। এই দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতা এমন ছিল যে, মানুষ মৃত মানুষের মাংস খেতে বাধ্য হয়েছিল। আর এই দুর্ভিক্ষেও রাজস্ব না কমিয়ে তা অব্যাহত রাখা হয়। ফলে চরম শোষণ-নির্যাতনে বাংলার মানুষ হতদরিদ্র ও অসহায় হয়ে পড়ে। তাছাড়াও কোম্পানির কর্মচারীদের দুর্নীতি বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশীয় বণিকশ্রেণি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তাই বলা যায় যে, দ্বৈত শাসনের ফলে বাংলার অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভেঙে পড়েছিল।
ভাগিরথী নদীর তীরে পলাশির যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
ইংরেজ বন্দি হলওয়েল বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে নবাবকে হেয় করার জন্য এক মিথ্যা কাহিনীর প্রচারণা চালায় যা ইতিহাসে অন্ধকূপ হত্যা নামে পরিচিত।
এতে বলা হয় যে, ১৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৪.১০ ফুট প্রশস্ত ছোট একটি ঘরে ১৪৬ জন ইংরেজকে বন্দি করে রাখা হয়। এতে প্রচণ্ড গরমে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ১২৩ জনের মৃত্যু হয়। এই মিথ্যা প্রচার মাদ্রাজ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আর এই মিথ্যা প্রচারই হলো 'অন্ধকূপ হত্যা'।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!