দুই বা ততোধিক নদীর মিলনস্থলকে নদী সংগম বলে। যেমন- পদ্মা ও যমুনার মিলনস্থল দৌলতদিয়া।
বাংলাদেশের প্রধান নদীগুলোর গতিপথ দক্ষিণমুখী হওয়ার কারণ ভূমির ঢাল।
বাংলাদেশ উত্তর থেকে দক্ষিণে ক্রমশ ঢালু। এদেশের অধিকাংশ নদীর উৎপত্তিস্থল উজান দেশে (নেপাল, ভারত) যা উত্তর ও উত্তর পূর্বাখালে আর দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। তাই উত্তরের পর্বতগুলো (হিমালয়, আরাকান) থেকে নদীগুলো উৎপত্তি হয়ে দক্ষিণমুখী হয়ে বাংলাদেশের উপর দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
ছকের 'A' নির্দেশিত ঋতুটি গ্রীষ্মকাল। কেননা এ ঋতুর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮০ এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২১° সেন্টিগ্রেড দেখানো হয়েছে, যা গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রাকেই নির্দেশ করে।
গ্রীষ্মকালে উত্তর গোলার্ধে সূর্যের উত্তরায়নের জন্য বায়ুচাপের পরিবর্তন ঘটে। এসময় বাংলাদেশের দক্ষিণ দিক থেকে আগত উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুপ্রবাহ অধিক উত্তাপে উপরে উঠে যায়। এটি তখন উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আগত শীতল ও শুষ্ক বায়ুপ্রবাহের সঙ্গে সংঘর্ষে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত ঘটায়। কালবৈশাখী ঝড় গ্রীষ্মকালীন বায়ুপ্রবাহের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এই ঝড় বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবলবেগে মার্চ-এপ্রিল মাসে প্রবাহিত হয়। এছাড়া গ্রীষ্মকালীন বায়ুপ্রবাহের ফলে বাংলাদেশে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের প্রায় ২০ ভাগ এ সময়ে হয়।
উদ্দীপকে "A" দ্বারা গ্রীষ্ম ও "B" দ্বারা শীতকালকে নির্দেশ করা হয়েছে।
এ দুই ঋতুর মধ্যে বৃষ্টিপাতের ক্ষেত্রে বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান। বাংলাদেশের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ২০ শতাংশ গ্রীষ্মকালে হলেও শীতকালে বৃষ্টিপাত হয় না বললেই চলে (১০ সে.মি. এর কম)।
গ্রীষ্মকালে এদেশে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৫১ সে.মি.। পক্ষান্তরে শীতকালে বৃষ্টিপাত হয় না বললেই চলে। উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ু এ সময় বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। বায়ুপ্রবাহটি স্থলভাগের উপর দিয়ে আসে বলে শুষ্ক থাকে। তাই বৃষ্টিপাত হয় না। তবে এ সময় উপকূলীয় ও পাহাড়ি এলাকায় সামান্য বৃষ্টিপাত (স্থানীয়ভাবে) হয়। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ এ সময়ে ১০ সে.মি. এর কম।
সুতরাং বলা যায় যে, বাংলাদেশে গ্রীষ্মকাল বৃষ্টিবহুল হলেও শীতকালে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুবই নগণ্য।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!