রুশ বিপ্লব সংঘটিত হয় ১৯১৭ সালে।
স্নায়ুযুদ্ধ মূলত দুটি দেশের ভিন্ন বিশ্বাস আর মতাদর্শের সংঘর্ষ। এটি কোনো রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ নয়। যুদ্ধ কথাটি ব্যবহার করা হচ্ছে অথচ কোনো যুদ্ধ নেই। এ যুদ্ধের কৌশল হলো একটা উত্তেজনা বা উদ্বেগ বিরাজমান থাকে, যা স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টি করে। যারা যুদ্ধের সাথে জড়িত তারা সরাসরি যুদ্ধে ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না; কিন্তু আচার-আচরণের মাধ্যমে যুদ্ধের একটা আবহ তৈরি হয়েছে। সংক্ষেপে বলা যায়, এটা যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়, আবার যুদ্ধের অনুপস্থিতিও নয়।
উদ্দীপকের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের ঐতিহাসিক রুশ বিপ্লবের মিল রয়েছে।
ঐতিহাসিক রুশ বিপ্লব ছিল ১৯১৭ সালে সংঘটিত পরপর দুটি বিপ্লবের মিলিত নাম। এ বিপ্লবের মাধ্যমে রাশিয়ার জার শাসনের অবসান হয় এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের উত্থান হয়। হঠাৎ করেই বা একক কোনো কারণে এ বিপ্লব সংঘটিত হয়নি, বরং এর পিছনে ছিল বহুবিধ কারণ। যেমন-
১. সামাজিক: অষ্টাদশ শতকের ইউরোপীয় সমাজ বিকাশের গতি
থেকে তৎকালীন রাশিয়া ছিল বহু পশ্চাতে। তাই রাশিয়ান সচেতন জনসমাজ বিপ্লবের আঘাত দ্বারা পুরাতন জীর্ণ ভূমিদাস প্রথার সমাজ কাঠামোকে ভাঙতে বদ্ধপরিকর হয়েছিল।
২.অর্থনৈতিক বিপ্লব-পূর্ব রাশিয়ার অর্থনীতি ছিল শোচনীয় ও পশ্চাৎপদ। উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে রাশিয়ায় শিল্পের বিকাশ ঘটলেও বিংশ শতাব্দীর শুরুতে অর্থনীতিতে পুনরায় মন্দা শুরু হয়, যা রুশ জনজীবন, সর্বোপরি বিপ্লবকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে।
৩. রাজনৈতিক অবস্থা তৎকালীন জার শাসনাধীনে শ্রমিক
অসন্তোষ ও আন্দোলন, সমাজতান্ত্রিক মতবাদের উদ্ভব ও বিকাশ, জারতন্ত্রের অযোগ্যতা, সাংবিধানিক ত্রুটি প্রভৃতি কারণ ও সেগুলোকে কেন্দ্র করে জনগণের ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়েছিল তৎকালীন ঘুণে ধরা রাশিয়ান জার শাসনতন্ত্রের বিরুদ্ধে। যার অনিবার্য পরিণতি ছিল ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব। উদ্দীপকের আলোচনায় ঐতিহাসিক এ রুশ বিপ্লবের প্রতিই আলোকপাত করা হয়েছে।
হ্যাঁ, অন্যান্য বহুবিধ কারণ থাকা সত্ত্বেও আমি মনে করি, অর্থনৈতিক বৈষম্যই উক্ত ঘটনা অর্থাৎ রুশ বিপ্লব সংঘটনের পিছনে বড় কারণ ছিল।
কেননা, বিপ্লব-পূর্ব রাশিয়ার অর্থনীতি ছিল শোচনীয় এবং বহু পশ্চাৎপদ। ১৮৬১ সালে জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার কৃষিতে ভূমিদাসপ্রথা রহিত করলেও সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার সম্পূর্ণ উচ্ছেদ হয়নি। সংস্কারের পরও গ্রামাঞ্চলে ভূস্বামীদের প্রাধান্য থেকে যায়। এছাড়া বিভিন্ন প্রদেশে বসতি ও চাষাবাদের জন্য যে সকল কৃষককে জোর করে পাঠানো হয়েছিল, ১৯১১ সালের মধ্যে তাদের শতকরা ৬০ ভাগ নিজ নিজ স্থানে ফিরে আসে। কৃষকদের মুক্তির পরও এসময় রাশিয়ায় তাদের অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয় থেকে যায়।
ঊনবিংশ শতাব্দীতে রাশিয়ায় শিল্পের বিকাশ শুরু হয়, রাশিয়ায় রেলপথের দৈর্ঘ্য বাড়ে, দেশি-বিদেশি প্রচুর বিনিয়োগ ঘটে, ভারী শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। শিল্প বিপ্লবের দরুন রাশিয়ায় এসময় পুঁজিবাদের বিকাশ ঘটলেও এর মাথাপিছু শিল্প উৎপাদন ছিল জার্মানি থেকে ১৩ গুণ, ইংল্যান্ড থেকে ১৪ গুণ ও আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২১.৪ গুণ কম। তাছাড়া প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে রাশিয়ার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের বিশেষত শ্রমিক শ্রেণির জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল, যা বিপ্লবকে ত্বরান্বিত করে। সুতরাং অন্যান্য কারণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক বৈষম্যই যে এ বিপ্লবের প্রধান কারণ ছিল তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়।
Related Question
View AllUtopia গ্রন্থের লেখক হলেন টমাস ম্যুর।
রাশিয়ার সমাজ বরাবরই দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল। অভিজাত শ্রেণি ও ভূমিহীন শ্রেণি। আর এ অভিজাত শ্রেণির প্রধান ছিলেন জার। তিনি অনেকটা স্বৈরাচারী শাসকের বেশে আবির্ভূত হন। দেশের সকল জমিই থাকত জারের অধীন। তিনি সকল ক্ষেত্রে অবস্থান অধিপতি হিসেবে পরিগণিত হন।
উদ্দীপকে যে বিপ্লবের কথা বলা হয়েছে তা ইতিহাসে বলশেভিক বিপ্লবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
বিশ শতকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো ১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লব। এ বিপ্লবের আগে রাশিয়ার সাধারণ মানুষ সম্রাট তথা জার ও অভিজাতদের হাতে শোষণের শিকার হয়ে আসছিল। বিশেষ করে শ্রমিক ও কৃষক শ্রেণি এবং সাধারণ সৈনিক শ্রেণির মানুষের ন্যূনতম সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার ছিল না। এই অবস্থা থেকে ১৮৯৮ সালে বিপ্লবী দল সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি গঠন করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে রাজনৈতিক এ সংগঠনকে কাজে লাগিয়ে লেনিন বিপ্লবের জন্য তার দলকে প্রস্তুত করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণে সৃষ্ট আর্থিক ও সামরিক দুর্ভোগ রাশিয়ার কৃষক, শ্রমিক ও সৈনিকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দানা বাঁধতে থাকে। এরই ফলশ্রুতিতে লেনিনের নেতৃত্বে শ্রমিক, কৃষক ও সেনাবাহিনীর একটা বড় অংশ বিপ্লবে অংশগ্রহণ করে এবং অবশেষে ১৯১৭ সালে বলশেভিক বা বুশ বিপ্লব সংঘটিত হয়।
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রে দেখা যায়, শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি বিপ্লব সংঘটিত হয়। এ বিপ্লবের পিছনে অনেক মহান নেতার অবদান ছিল। 'ক' রাষ্ট্রের মতো বলশেভিক বিপ্লবেও অনেক মহান নেতা অবদান রেখেছেন। বলশেভিক বিপ্লবের সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করেছিল কার্ল মার্কসের লেখনি। এছাড়া লেনিন ট্রটস্কি, লিও টলস্টয়, দস্তয়ভস্কি প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।
সুতরাং বলা যায়, 'ক' রাষ্ট্রের বিপ্লবের সাথে বলশেভিক বিপ্লবের সাদৃশ্য রয়েছে।
হ্যাঁ, উক্ত বিপ্লব তথা বলশেভিক বিপ্লব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভার বিস্তার করেছিল।
সারা পৃথিবীর নির্যাতিত, অবহেলিত ও নিপীড়িত মানুষের মুক্তি সংগ্রামে বলশেভিক বিপ্লব একটি আদর্শ হিসেবে পরিগণিত। 1 বলশেভিক বিপ্লবের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে উপনিবেশের জনগণ স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের জন্য লড়াই শুরু করে। এ বিপ্লব এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার পরাধীন দেশগুলোতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। ক্রমান্বয়ে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম। বিশ শতকের সারা পৃথবীর স্বাধীনতার লড়াই আর জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে বলশেভিক বিপ্লব ছিল অফুরন্ত প্রেরণার উৎস। মূলত গোটা পৃথিবীর কৃষক ও শ্রমিক সমাজকে শোষণ ও বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে বিপ্লবের মাধ্যমে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে উৎসাহিত করে বলশেভিক বিপ্লব। এ বিপ্লবের - ধারাবাহিকতায় ১৯৪৯ সালে চীনে সংঘটিত হয় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সারা পৃথিবীতে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন একটি প্রধান রাজনৈতিক স্রোতে পরিণত হয়। পৃথিবীব্যাপী সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের কাছে মডেল হিসেবে বিবেচিত ছিল বলশেভিক বিপ্লব।
সুতরাং বলা যায়, এই বিপ্লব শুরু রাশিয়াতেই নয় সারা পৃথিবীর রাজনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি ও অর্থনীতিতে বিশাল প্রভাব বিস্তার করেছিল।
Mein Kampf এডলফ হিটলারের রচিত গ্রন্থ।
কার্ল মার্কসকে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের জনক বলা হয়। সমাজতন্ত্রকে একটি বিজ্ঞানসম্মত রাজনৈতিক আদর্শে পরিণত করার জন্য তিনি তার জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। রাষ্ট্রীয় নির্যাতন, চরম দারিদ্র্য কিছুই তাকে তার সংগ্রাম থেকে নিবৃত্ত করতে পারেনি। কার্ল মার্কসের সর্বাপেক্ষা বিখ্যাত গ্রন্থের নাম Das Kapital. এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। তার লেখনীতে উদ্বুদ্ধ হয়ে ১৯১৭ সালে সংঘটিত হয় রুশ বিপ্লব বা বলশেভিক বিপ্লব। পৃথিবীর প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে যাত্রা শুরু করে সোভিয়েত ইউনিয়ন। আর এসব কারণেই - কার্ল মার্কস বিশ্ব বিখ্যাত হয়ে আছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!