একজন সাইকেল আরোহী বেগে একটি রাস্তার বাঁক অতিক্রম করার সময় উলম্বের সাথে 20° কোণে হেলে যায়। এ সময় সাইকেলের উপর রাস্তার মোট প্রতিক্রিয়া বলের মান ছিল 1147.18 N, সাইকেলের ভর 35 kg এবং অভিকর্ষজ ত্বরণ 9.8 ms-2। উপরোক্ত তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে একজন শিক্ষার্থী মন্তব্য করলেন সাইকেল আরোহীর ভর 75 kg।
ভিন্ন তলে অবস্থিত তিনটি ভেক্টর রাশির লব্ধি কখনোই শূন্য হতে পারে না। কারণ, তিনটি ভেক্টরের লব্ধি শূন্য হওয়ার জন্য ভেক্টরগুলোকে অবশ্যই সমতলীয় (coplanar) হতে হয়। যদি ভেক্টরগুলো ভিন্ন ভিন্ন তলে (non-coplanar) থাকে, তবে তাদের উপাংশগুলো সকল দিকে একে অপরের প্রভাবকে সম্পূর্ণভাবে বাতিল করতে পারে না।
দুটি ভেক্টরের লব্ধি সর্বদা তাদের দ্বারা গঠিত তলের উপর অবস্থিত হবে। তৃতীয় ভেক্টরটি যদি এই তল থেকে ভিন্ন কোনো তলে থাকে, তবে এটি প্রথম দুটি ভেক্টরের লব্ধির সঙ্গে একই সমতলে না থাকায় কখনোই লব্ধি শূন্য করতে পারবে না। লব্ধি শূন্য হওয়ার জন্য প্রতিটি ভেক্টরের উপাংশগুলোর যোগফল শূন্য হওয়া আবশ্যক, যা ভিন্ন তলে অবস্থিত ভেক্টরগুলোর ক্ষেত্রে সম্ভব নয়।
রাস্তার বাঁকে সাইকেল আরোহী বাঁক নেওয়ার সময় উলম্বের সাথে হেলে থাকলে, তার বেগ, অভিকর্ষজ ত্বরণ এবং হেলে থাকার কোণের উপর ভিত্তি করে রাস্তার বক্রতার ব্যাসার্ধ নির্ণয় করা যায়। এই পরিস্থিতিতে, আরোহীর উপর রাস্তার মোট প্রতিক্রিয়া বলের অনুভূমিক উপাংশ প্রয়োজনীয় কেন্দ্রমুখী বল যোগান দেয়, যা তাকে বাঁক অতিক্রম করতে সাহায্য করে।
বাঁকা পথে সাইকেল আরোহীর হেলে থাকার ক্ষেত্রে, রাস্তার বক্রতার ব্যাসার্ধ \(r\), আরোহীর বেগ \(v\), অভিকর্ষজ ত্বরণ \(g\) এবং উলম্বের সাথে হেলে থাকার কোণ \(\theta\) এর মধ্যে সম্পর্কটি হলো:
\( \tan\theta = \frac{v^2}{rg} \)
বা, \( r = \frac{v^2}{g \tan\theta} \)
উদ্দীপক থেকে প্রাপ্ত মানগুলো হলো:
আরোহীর বেগ, \(v = 15 \, \text{m/s}\)
উলম্বের সাথে হেলে থাকার কোণ, \(\theta = 20^\circ\)
উদ্দীপকে প্রদত্ত তথ্যানুযায়ী, একজন সাইকেল আরোহী একটি বাঁকে হেলে পড়ার সময় সাইকেলের উপর রাস্তার মোট প্রতিক্রিয়া বল, সাইকেলের বেগ, উল্লম্বের সাথে কোণ এবং সাইকেলের ভর দেওয়া আছে। একজন শিক্ষার্থী মন্তব্য করেছেন যে সাইকেল আরোহীর ভর 75 kg। এই মন্তব্যের যথার্থতা যাচাই করার জন্য গাণিতিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিটি বৃত্তাকার পথে গতির (Circular Motion) ক্ষেত্রে অনুভূমিকের সাথে একটি নির্দিষ্ট কোণে হেলান (Banking) এর ধারণার সাথে সম্পর্কিত।
যখন একজন সাইকেল আরোহী একটি বাঁক অতিক্রম করার জন্য হেলে পড়েন, তখন রাস্তার মোট প্রতিক্রিয়া বলের একটি উল্লম্ব উপাংশ (Vertical Component) আরোহী ও সাইকেলের মোট ওজনকে ভারসাম্য করে।
গাণিতিক বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, সাইকেল আরোহীর ভর 75 kg। উদ্দীপকে শিক্ষার্থী যে মন্তব্যটি করেছেন, তা এই গাণিতিক বিশ্লেষণের ফলাফলের সাথে সম্পূর্ণ মিলে যায়। অর্থাৎ, শিক্ষার্থী প্রদত্ত তথ্যগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করে সাইকেল আরোহীর ভর নির্ণয় করতে সক্ষম হয়েছেন।
সুতরাং, উপরের গাণিতিক বিশ্লেষণ থেকে এটি স্পষ্ট যে, সাইকেল আরোহীর ভর 75 kg হওয়ার বিষয়ে শিক্ষার্থীর মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় সুনির্দিষ্টভাবে জানতে হলে কোন বা কোন ধরনের পরিমাপের প্রয়োজন হয়। পদার্থের যে সব ভৌত বৈশিষ্ট্য পরিমাপ করা যায় তাদেরকে রাশি (quantity) বলে। যেমন, দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, আয়তন, বেগ, কাজ ইত্যাদি প্রত্যেকে এক একটি রাশি। পদার্থবিজ্ঞানের অন্তর্গত যে কোন রাশিকে ভৌত (physical) রাশি বলে।
কিছু কিছু ভৌত রাশিকে শুধুমাত্র মান দ্বারা সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা যায়। আবার অনেক ভৌত রাশি রয়েছে যাদেরকে সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করার জন্য মান ও দিক উভয়ই প্রয়োজন হয়। তাই ধর্ম বা বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে আমরা দুই ভাগে বিভক্ত করতে পারি ; যথা—
(ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি (Scalar quantity)।
(খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বা সদিক রাশি (Vector quantity)।
(ক) স্কেলার রাশি :
যে সব ভৌত রাশির শুধু মান আছে, কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলে। যেমন দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, জনসংখ্যা, তাপমাত্রা, তাপ, বৈদ্যুতিক বিভব, দ্রুতি, কাজ ইত্যাদি কেলার বা অদিক রাশি।
(খ) ভেক্টর রাশি :
যে সব ভৌত রাশির মান এবং দিক দুই-ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলে। যেমন সরণ, বেগ, ত্বরণ, মন্দন, বল, ওজন ইত্যাদি ভেক্টর বা দিক রাশি।
১.২ ভেক্টর রাশির নির্দেশনা
Representation of a vector
কোন একটি ভেক্টর রাশিকে দুভাবে প্রকাশ করা হয়ে থাকে, যথা- (১) অক্ষর দ্বারা এবং (২) সরলরেখা দ্বারা।
১। অক্ষর দ্বারা কোন একটি ভেক্টর রাশিকে চারভাবে প্রকাশ করা হয়, যথা-
(ক) কোন অক্ষরের উপর তীর চিহ্ন দ্বারা রাশিটির ভেক্টর রূপ এবং এর দুই পাশের দুটি খাড়া রেখা দ্বারা এর মান নির্দেশ করা হয়। সাধারণভাবে শুধু অক্ষর দ্বারাও রাশিটির মান নির্দেশ করা হয়।
A অক্ষরের ভেক্টর রূপ Ā এবং মান রূপ | A | বা A
(খ) কোন অক্ষরের উপর রেখা চিহ্ন দ্বারা রাশিটির ভেক্টর রূপ এবং এর দুই পাশের দুটি খাড়া রেখ দ্বারা এর মান নির্দেশ করা হয়।
A অক্ষরের ভেক্টর রূপ Ā এবং মান রূপ । A
(গ) কোন অক্ষরের নিচে রেখা চিহ্ন দ্বারা রাশিটির ভেক্টর রূপ এবং এর দুই পাশের দুটি খাড়া রেখ দ্বারা এর মান নির্দেশ করা হয়।
A অক্ষরের ভেক্টর রূপ এবং মান রূপ | |
(ঘ) মোটা হরফের অক্ষর দিয়ে ভেক্টর রাশি প্রকাশ করা হয়। যেমন A অক্ষরের ভেক্টর রূপ এবং এর মান A ভেক্টর রাশি নির্দেশের ক্ষেত্রে (ক)-এ ব্যবহৃত চিহ্নই শ্রেয়। তাই এই বই-এ আমরা এই পদ্ধতিই ব্যবহার করব।
২। সরলরেখা দ্বারা ভেক্টর রাশি নির্দেশ করতে হলে রাশিটির দিকে বা সমান্তরালে একটি সরলরেখা অংকন করে সরলরেখাটির শেষ প্রান্তে একটি তীর চিহ্ন দ্বারা রাশিটির দিক এবং কোন স্কেলে উত্ত সরলরেখাটির দৈর্ঘ্য দ্বারা এর মান নির্দেশ করা হয়। এ পদ্ধতিকে জ্যামিতিক উপায়ে ভেক্টরের নির্দেশনাও বলে।
চিত্র :১.১
মনে করি, একটি ভেক্টর রাশির মান 5 এবং এর দিক পূর্ব দিক। একে সরলরেখা দ্বারা প্রকাশ করতে হবে। এখন AC একটি সরলরেখা পূর্ব- পশ্চিম দিক বরাবর অংকন করে AC সরলরেখা হতে সুবিধামত দৈর্ঘ্যকে একক ধরে এর 5 গুণ দৈর্ঘ্য AB কেটে নিই এবং AB-এর শেষ প্রান্তে পূর্ব দিকে তীর চিহ্ন যুক্ত করি [চিত্র ১:১]। এই তীর চিহ্নিত সরলরেখাই ভেক্টর রাশিটি নির্দেশ করবে। ভেক্টর রাশি নির্দেশী সরলরেখার তীর চিহ্নিত প্রান্ত B-কে শীর্ষবিন্দু বা অন্ত বিন্দু এবং অপর প্রান্ত A-কে আদিবিন্দু বা মূলবিন্দু বা পাদবিন্দু বলে।
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!