১৭৯৩ খ্রিষ্টাব্দে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করা হয়।
বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্ষমতাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য দ্বৈত শাসন প্রবর্তন করা হয়।
দ্বৈত শাসনের প্রবক্তা লর্ড ক্লাইভ সরাসরি শাসনক্ষমতা গ্রহণের পক্ষে না গিয়ে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যায় কোম্পানির আধিপত্যকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার দিকে দৃষ্টি দেন। আর এ উদ্দেশ্যে তিনি চুক্তির মাধ্যমে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের নিকট হতে বাংলার দেওয়ানি লাভ করেন। এ ব্যবস্থায় বাংলার নবাবের হাতে থাকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, ফৌজদারি বিচার, প্রশাসন পরিচালনা আর কোম্পানির হাতে থাকে রাজস্ব আদায় ও দেওয়ানি সংক্রান্ত বিচার। এর ফলে কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা। আর বাংলার নবাব পান ক্ষমতাহীন দায়িত্ব।
উদ্দীপকটি আমার পঠিত ইংরেজ শাসনামলের বক্সারের যুদ্ধের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করে।
পলাশি যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের পর ইংরেজ বনিক কোম্পানি মীর জাফরকে সিংহাসনে বসায়। কিন্তু মীর জাফরকে দিয়ে ইংরেজ বণিক কোম্পানির উদ্দেশ্য সফল না হওয়ায় তারা মীর জাফরকে সরিয়ে মীর কাশিমকে শর্ত সাপেক্ষে সিংহাসনে বসায়। মীর কাশিম ছিলেন স্বাধীনচেতা নবাব। তিনি ক্ষমতারোহণের পর স্বাধীনভাবে শাসনকার্য পরিচালনা করতে চেয়েছিলেন। ফলে ইংরেজদের সাথে তার যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। ইংরেজদের মোকাবিলা করার জন্য মীর কাশিম অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা এবং মুঘল সম্রাট শাহ আলমের সাথে জোট বেঁধে ১৭৬৪ সালে বিহারের বক্সার নামক স্থানে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে নবাবের সম্মিলিত বাহিনী ইংরেজ বাহিনীর কাছে পরাজিত হয়। ইতিহাসে ইংরেজদের সাথে মীর কাশিমের সম্মিলিত বাহিনীর এই যুদ্ধ বক্সারের যুদ্ধ নামে পরিচিত।
উদ্দীপকে উল্লিখিত যুদ্ধটি বক্সারের যুদ্ধের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। কেননা এই যুদ্ধেও বক্সারের যুদ্ধের ন্যায় একজন স্বাধীনচেতা নবাব ত্রিশক্তি জোট গঠন করে ইংরেজদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হন এবং পরাজিত হন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি আমার পঠিত ইংরেজ শাসনামলের বক্সারের যুদ্ধের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করে।
বাংলার ইতিহাসে বক্সারের যুদ্ধের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী। এর পূর্বে ১৭৫৭ সালে পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলায় ইংরেজদের প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম হয়। কিন্তু বক্সারের যুদ্ধে মীর কাশিমের পরাজয়ের ফলে বাংলার সার্বভৌমত্ব উদ্ধারের শেষ চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়।
বক্সারের যুদ্ধের ফলে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য স্থায়ীভাবে অস্তমিত হয়। ত্রিশক্তি জোটকে পরাজিত করায় ইংরেজদের প্রভাব, প্রতিপত্তি, মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। ইংরেজ শক্তি অপ্রতিরোধ্য গতিতে বাংলা তথা উপমহাদেশের সর্বত্র ক্ষমতার বিস্তার ঘটাতে থাকে। এ যুদ্ধে পরাজিত হয়ে অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা রোহিলাখণ্ডে পালিয়ে যান। দিল্লির সম্রাট শাহ আলম ইংরেজদের পক্ষে যোগ দেন এবং মীর কাশিম আত্মগোপন করেন। ১৭৭৭ সালে তার মৃত্যু হয়। ইংরেজরা অযোধ্যার নবাবের কাছ থেকে কারা ও এলাহাবাদ হস্তগত করতে সক্ষম হয়। এ যুদ্ধের ফলে রবার্ট ক্লাইভ দিল্লির সম্রাটের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে। ফলে বাংলায় ইংরেজ অধিকার আইনত স্বীকৃত হয় এবং তারা অসীম ক্ষমতাশালী হয়ে উঠতে থাকে।
পরিশেষে বলা যায়, বক্সারের যুদ্ধে মীর কাশিম ও তার মিত্রদের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে ইংরেজ শক্তি অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে। বিনা বাধায় তারা উপমহাদেশে আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ পায়। ফলে বাংলার স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত হয় এবং বাংলা তথা উপমহাদেশে ভারতের প্রত্যক্ষ উপনিবেশ প্রতিষ্ঠা পায়।
Related Question
View Allভাস্কো-ডা-গামা পর্তুগালের নাবিক ছিলেন।
প্রাচীনকালে বাংলা সম্পদে সমৃদ্ধ ও স্বয়সম্পূর্ণ ছিল বলে অনেকেই বাণিজ্য করতে এসছিল।
প্রাচীন বাংলার গ্রামের স্বয়ংসম্পূর্ণ কৃষকদের ক্ষেত ভরা ফসল, গোলাভরা ধান, পুকুরভরা মাছ থাকত। এদেশের তাঁতিদের হাতে বোনা কাপড় ইউরোপের কাপড়ের চেয়েও উন্নতমানের ছিল। এ অঞ্চলের নানা ধরনের বাণিজ্যিক পণ্য ও মসলার বেশ খ্যাতি ছিল। এসব পণ্যের আকর্ষণেই এদেশের সঙ্গে বাণিজ্য করতে এসেছে অনেকেই।
উদ্দীপকের ক্ষমতা ভাগাভাগির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের দ্বৈত শাসনের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
রবার্ট ক্লাইভ ১৭৬৫ সালের দেওয়ানি সনদের নামে বাংলার সম্পদ লুণ্ঠনের একচেটিয়া ক্ষমতা লাভ করে। দিল্লি কর্তৃক বিদেশি বণিক কোম্পানিকে এই অভাবনীয় ক্ষমতা প্রদানে সৃষ্টি হয় দ্বৈত শাসনের। এর মাধ্যমে কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা, আর নবাব পরিণত হয় ক্ষমতাহীন শাসকে। অথচ নবাবের দায়িত্ব থেকে যায় ষোলআনা। ফলে বাংলায় এক অভূতপূর্ব প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মামুন ও কামালের মাঝে পারিবারিক গার্মেন্টস ও সংসারের দায়িত্ব বণ্টন হয়। এতে মামুন কামালকে উপযুক্ত অর্থ প্রদান না করায় সংসারে জটিলতা দেখা দেয়। এই বিষয়টির সাথে দ্বৈত শাসনের মিল রয়েছে।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, উক্ত ঘটনা বাংলার অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিল।
দ্বৈত শাসনের ফলে বাংলার সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার দ্বারা প্রশাসনে চরম দুর্নীতি শুরু হয়েছিল। নামে বেনামে অর্থ ইংল্যান্ডে পাচার হয়েছিল। ফলে বাংলার রাজকোষ শূন্য হয়ে পড়ে। এর ফলে জনগণের ওপর অতিরিক্ত করারোপ করা হয়। এছাড়াও অনাবৃষ্টির কারণে ঐ সময় (১৭৭০ সাল) দেখা দেয় দুর্ভিক্ষ যা ইতিহাসে 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' নামে পরিচিত। এই দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুমুখে পতিত হয়। এই দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতা এমন ছিল যে, মানুষ মৃত মানুষের মাংস খেতে বাধ্য হয়েছিল। আর এই দুর্ভিক্ষেও রাজস্ব না কমিয়ে তা অব্যাহত রাখা হয়। ফলে চরম শোষণ-নির্যাতনে বাংলার মানুষ হতদরিদ্র ও অসহায় হয়ে পড়ে। তাছাড়াও কোম্পানির কর্মচারীদের দুর্নীতি বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশীয় বণিকশ্রেণি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তাই বলা যায় যে, দ্বৈত শাসনের ফলে বাংলার অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভেঙে পড়েছিল।
ভাগিরথী নদীর তীরে পলাশির যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
ইংরেজ বন্দি হলওয়েল বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে নবাবকে হেয় করার জন্য এক মিথ্যা কাহিনীর প্রচারণা চালায় যা ইতিহাসে অন্ধকূপ হত্যা নামে পরিচিত।
এতে বলা হয় যে, ১৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৪.১০ ফুট প্রশস্ত ছোট একটি ঘরে ১৪৬ জন ইংরেজকে বন্দি করে রাখা হয়। এতে প্রচণ্ড গরমে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ১২৩ জনের মৃত্যু হয়। এই মিথ্যা প্রচার মাদ্রাজ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আর এই মিথ্যা প্রচারই হলো 'অন্ধকূপ হত্যা'।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!