এডলফ হিটলার কর্তৃক ইহুদি নিধনকে হলোকাস্ট বলে।
১৯২৩ সালে হিটলার জার্মানির ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি ক্ষমতা দখল করতে পারেনি। ফলে বিচারে তার ৫ বছরের জেল হয়। জেলে অবস্থানকালে হিটলার ১৯২৪ সালে মেইন ক্যাম্প (Mein Kampf) নামক একটি বই রচনা করেন। এ বইটিতে নাৎসিবাদের আদর্শ মতাদর্শ লিপিবদ্ধ করা হয়। মেইন ক্যাম্প গ্রন্থটি নাৎসিবাদের বাইবেল বলে অভিহিত করা হয়।
উদ্দীপকে আন্তর্জাতিক সংস্থা জাতিসংঘের কথা বলা হয়েছে।
যুদ্ধ বন্ধ করে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘ এর প্রতিষ্ঠা করা হয়। জাতিসংঘের মূল অঙ্গসংগঠন ৬টি। যথা- সাধারণ এর পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ, অছি পরিষদ, আন্তর্জাতিক আদালত ও সচিবালয়। এছাড়াও কিছু বিশেষায়িত সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থা রয়েছে। বিশেষায়িত সংস্থার মধ্যে FAO, IFAD, ILO, IMO, IMF, UNESCO, World Bank উল্লেখযোগ্য। জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহকে নিয়ে প্রতিবছর একটি সাধারণ পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা হয়। এখানে জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্রগুলো তাদের বিভিন্ন প্রস্তাব উত্থাপন করে এবং অভিযোগ পেশ করতে পারে। নিরাপত্তা পরিষদের কাজ হচ্ছে যুদ্ধ বন্ধ করে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। আন্তর্জাতিক আদালতের কাজ হচ্ছে বিশ্বে বিবাদমান বিভিন্ন সমস্যার আইনি সমাধান করা। অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ জাতিসংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ। বিশ্বের সর্বত্র মানবজাতির জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষার প্রসার, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত এবং মানবাধিকারসমূহ কার্যকর করার জন্য এ সংস্থা গঠিত হয়। আর নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যবর্গ ও সাধারণ পরিষদ কর্তৃক নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে অছি পরিষদ গঠিত হয়। তাছাড়া বিশেষায়িত সংস্থার মধ্যে FAO-এর কাজ হচ্ছে বিশ্বে কৃষি উন্নতির মাধ্যমে খাদ্যের নিশ্চয়তা বিধান করা। ILO শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে কাজ করে এবং শিশুশ্রম দূরীভূত করার চেষ্টা চালায়। IMF ও World Bank বিশ্বের অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের জন্য স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করে।
পরিশেষে বলা যায়, জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠনসমূহ নির্দিষ্ট কয়েকটি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে বিশ্বে শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালায়।
বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় উক্ত বৃহৎ সংস্থাটি অর্থাৎ জাতিসংঘ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে- উক্তিটি যথার্থ।
১৯৪৫ সাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত জাতিসংঘ বিশ্বের অনেক। সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান দিয়েছে। লেবানন-সিরিয়ার অভিযোগের মীমাংসা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়
সিরিয়া ও লেবাননে ইংরেজ ও ফরাসি সৈন্য মোতায়েন করা হয়। কিন্তু যুদ্ধ শেষ হলে ইংরেজ-ফরাসি সৈন্য অপসারিত না হলে সিরিয়া ও লেবানন জাতিসংঘের কাছে অভিযোগ উত্থাপন করে। ফলে জাতিসংঘের সহায়তায় ইংরেজ ও ফরাসি সৈন্য অপসারণ করা হয়।
কাশ্মীর সমস্যার সমাধান: ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ১৯৪৮ সালে নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব পাশের মাধ্যমে এর সাময়িক অবসান ঘটে কোরিয়া সমস্যার সমাধান: ১৯৫০ সালে উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপে খুব দ্রুত এ | যুদ্ধের অবসান হয়।
সুয়েজ সংকট সমাধান: ১৯৫৬ সালে মিশরের প্রেসিডেন্ট গামাল আবদেল নাসের সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করলে ব্রিটেন মিশর আক্রমণ করে। কিন্তু জাতিসংঘের সহায়তায় অচিরেই এর সমাধান হয়।
ইরাক-কুয়েত দ্বন্দ্বের অবসান: ইরাক ১৯৯১ সালে কুয়েত আক্রমণ করলে জাতিসংঘ ইরাককে সৈন্য-প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়। কিন্তু ইরাক তাতে কর্ণপাত না করলে জাতিসংঘের প্রচেষ্টায় সম্মিলিত বাহিনী কুয়েত থেকে ইরাকি সৈন্য হটিয়ে দেয়।
আফগান সমস্যার সমাধান: ১৯৭৯ সালে আফগানিস্তানে সোভিয়েত সৈন্য অবতরণ করলে জাতিসংঘের প্রচেষ্টায় সোভিয়েত সৈন্য অপসারণ করা হয়।
পরিশেষে বলা যায়, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের কার্যকরী পদক্ষেপ না থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে জাতিসংঘ অনেক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথকে সুগম করেছে।
Related Question
View All১৯৪৭ সালের ৫ জুন মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব জর্জ সি. মার্শাল হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউরোপের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন সম্পর্কে মার্কিন নীতি ব্যাখ্যা করেন। মার্শালের এ নীতি ক্ষুধা, দারিদ্রদ্র্য, হতাশা ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে কোনো দেশ বা মতাদর্শের বিরুদ্ধে নয়। তিনি বলেন, ইউরোপকে অর্থনৈতিক দিক থেকে স্বাবলম্বী করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে কর্মসূচি গ্রহণ করবে। মার্শালের এ পুনরুজ্জীবনের পরিকল্পনা বিশ্ব ইতিহাসে 'মার্শাল পরিকল্পনা' নামে অভিহিত।
উদ্দীপকে বর্ণিত সংগঠনটির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের যে আন্তর্জাতিক সংগঠনের সাদৃশ্য রয়েছে তা হলো জাতিসংঘ।
বিশ্ব ইতিহাসে এক দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার আশার আলো প্রজ্বলিত করে জাতিসংঘ জন্মলাভ করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বশান্তি রক্ষা ও আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির জন্য ১৯১৯ সালে লীগ অব নেশনস গঠিত হয়। কিন্তু ১৯৩৮ সালের মধ্যেই লীগের রাজনৈতিক অস্তিত্ব এক প্রকার বিলুপ্ত হয়ে যায়। একদিকে জাপান, ইতালি ও জার্মানির আক্রমণাত্মক কার্যকলাপ এবং অপরদিকে যৌথ নিরাপত্তার দায়বদ্ধতা পালনে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের ব্যর্থতা, যুক্তরাষ্ট্রর বিচ্ছিন্ন থাকার নীতি এবং সোভিয়েত রাশিয়ার আন্তর্জাতিক সংগঠন থেকে বাইরে থাকার নীতি প্রভৃতি কারণে লীগের সমাধি হয়। ১৯৩৯ সালের মধ্যে বৃহৎ শক্তিবর্গ বিভিন্ন জোট গঠন করে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। স্বাভাবিকভাবেই এ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অধিকতর ধ্বংসলীলা প্রত্যক্ষ করে মানুষ আরও বেশি শঙ্কিত হয়ে ওঠে এবং ভবিষ্যৎ শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য চিন্তান্বিত হয়ে পড়ে। ফলে বিশ্ববাসী একটি সুসংগঠিত ও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভব করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যেই মিত্রশক্তির নেতারা একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গঠনের কথা ভাবতে থাকেন। তারা ১৯৪৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইয়াল্টায় অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে নিরাপত্তা পরিষদের গঠন ও তার ভোটদান পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন। এ আলোচনার ভিত্তিতে ১৯৪৫ সালের ২৫ এপ্রিল আমেরিকার সানফ্রান্সিসকো শহরে এক বিশ্ব সম্মেলনে জাতিসংঘের সনদ উত্থাপিত হয়। পরিশেষে ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর ৫১টি দেশ জাতিসংঘের সনদ স্বাক্ষর করে এবং এ চার্টার স্বাক্ষরিত হওয়ার সাথে সাথে জাতিসংঘ কার্যকরী রূপ লাভ করে। উদ্দীপকে এমন ঘটনারই ইঙ্গিত রয়েছে।
বাংলাদেশের স্বীকৃতি প্রদানে উক্ত সংগঠনটির অর্থাৎ জাতিসংঘের ভূমিকা ছিল নীরব বা নেতিবাচক।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ছাড়া কোনো রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় না। এজন্য মুজিবনগর সরকার তার ঘোষণাপত্রে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণাকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশের স্বীকৃতি আদায়ের জন্য তৎপর হয়। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের এই স্বীকৃতির দাবি অযৌক্তিক ছিল না। কেননা, একটি নতুন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির জন্য যেসব শর্ত পূরণ করা প্রয়োজন, তার সবই বাংলাদেশ পূরণ করেছিল। তবে বাংলাদেশের স্বীকৃতি প্রসঙ্গে জাতিসংঘ কার্যকর কোনো ভূমিকা নিতে পারেনি। বাংলাদেশের জনগণকে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর সশস্ত্র যুদ্ধে বিজয় অর্জনের মাধ্যমেই তার স্বীকৃতি আদায় করে নিতে হয়েছিল। বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দেওয়ার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সামনে যে সমস্যাটি ছিল তা - হলো এর সনদের ২/৭ ধারা। এই ধারায় কোনো রাষ্ট্রের জনগণের মানবাধিকার বা আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ও রাষ্ট্রীয় অখন্ডতার নীতির মধ্যে সীমারেখা নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। এই দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও মুসলিম দেশগুলোর পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় অখন্ডতার প্রশ্নে বাংলাদেশের স্বীকৃতির বিরোধিতা করে। অন্যদিকে, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ভারত, পোল্যান্ড ইত্যাদি রাষ্ট্র পাকিস্তানি বর্বরতা ও গণহত্যার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের পক্ষে অবস্থান নেয়। কিন্তু জাতিসংঘ রাষ্ট্রীয় অখন্ডতার যুক্তির প্রশ্নে বিজয় অর্জনের পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম সদসা হিসেবে যোগদান করে।
১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করা হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৪১ সালে যখন হিটলার সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং জাপান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পার্ল হারবার আক্রমণ করে তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট এবং ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী চার্চিল আটলান্টিক মহাসাগরে যুদ্ধ জাহাজে এক গোপন বৈঠকে মিলিত হন। উভয় নেতা একটি সনদে স্বাক্ষর করেন, যা ইতিহাসে আর্টলান্টিক সনদ বা আটলান্টিক চার্টার নামে পরিচিত। যুদ্ধ সংক্রান্ত বিষয়ে বৈঠক হলেও যুদ্ধ বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পায়, যা পরবর্তী পর্যায়ে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!