'১৯৭১' হুমায়ূন আহমেদ রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধের আখ্যান। এই উপন্যাসে লেখক হানাদার বাহিনীর আক্রমণে নীলগঞ্জ গ্রামের মানুষের জীবনের বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরেছেন। নীলগঞ্জ প্রত্যন্ত একটি অঞ্চল। সেই গ্রামে সহজ-সরল সব মানুষের বসবাস। হানাদার বাহিনীর মেজর এজাজ তার সেনাবাহিনী নিয়ে নীলগঞ্জ গ্রামে আসে। তার ধারণা, নীলগঞ্জ গ্রামের পাশে কৈবর্তপাড়ায় মুক্তিবাহিনীর একটি দল আশ্রয় নিয়েছে। সেই মুক্তিবাহিনীর ব্যাপারে বিভিন্ন তথ্য পাওয়ার জন্য মেজর এজাজ গ্রামের বিভিন্ন মানুষের প্রতি অমানবিক অত্যাচার চালায়।
উপন্যাসে দেখে যায়, মেজর এজাজ গ্রামের ইমাম ও স্কুল মাস্টার আজিজকে স্কুলে বন্দি করে রাখে। মেজর এজাজ সন্দেহ করে যে, ইমাম অথবা মাস্টার আজিজ মুক্তিবাহিনীর বিষয়ে তথ্য জানে। এজন্য সে ওদের দুজনের উপর নানাভাবে অত্যাচার করে। মেজর এজাজ ঘটনাক্রমে জানতে পারে যে, আজিজ মাস্টার জয়নালের মেয়ে মালাকে পছন্দ করে। এই বিষয়টি কেন্দ্র করে সে আজিজ মাস্টারকে ভীষণভাবে অপমান করে।
মেজর এজাজ আসলে বাঙালিদের প্রতি নির্যাতন করে পৈশাচিক আনন্দ পেত। সে এমনসব অত্যাচারের কৌশল উদ্ভাবন করে যা মানুষের মৃত্যুর সমান। একপর্যায়ে মেজর এজাজ তার সঙ্গী রফিককে বলে বাঙালিদের কোনো সম্মান নেই। তারা বেঁচে থাকার জন্য যেকোনো কিছু করতে পারে। এরপর সে আজিজ মাস্টারকে বলে বেঁচে থাকতে চাইলে উলঙ্গ হতে হবে। ভয়ে তটস্থ আজিজ মাস্টার বেঁচে থাকার জন্য প্রথমত বিষয়টিতে সম্মতি জানায়। ঠিক একারণেই মেজর এজাজ প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করে। কিন্তু তার এ মন্তব্য মিথ্যা প্রমাণিত হয়। আজিজ মাস্টারের অপমান যখন মাত্রা ছাড়িয়ে যায় তখন সে মৃত্যুকে বেছে নেয়। আর কোনো প্রকার দ্বিধা ছাড়াই সে পুকুরে নামে এবং মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে। বাঙালির চরিত্র আসলে এমনই। তারা নিজের মান রাখার জন্য হয় লড়বে, না হয় মরবে। মেজর এজাজ আজিজ মাস্টারকে কেন্দ্র করেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছিল। আর সেই আজিজ মাস্টারই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে কথাটি মিথ্যা প্রমাণিত করল। তাই বলা যায়, "একটা কুকুরেরও আত্মসম্মান থাকে, এদের তাও নেই"-এজাজের এই উক্তি ভিত্তিহীন।
Related Question
View All'১৯৭১' উপন্যাসে মেজর এজাজ তার পাকিস্তানি বাহিনী নিয়ে নীলগঞ্জ গ্রামে আসে। তাদের ধারণা নীলগঞ্জ গ্রামের কৈবর্তপাড়ায় একদল মুক্তিবাহিনী লুকিয়ে আছে। 'মেজর এজাজ গ্রামের মসজিদের ইমাম ও আজিজ মাস্টারকে নানাভাবে নির্যাতন করে। তারপরেও তারা কোনো তথ্য দেয় না। অবশেষে উপন্যাসের আরেক চরিত্র জালাল মিয়া ভয়ে এজাজকে তথ্য দিয়ে দেয়। যদিও তথ্যগুলো সত্য কি না তা স্পষ্ট নয়। জালাল মিয়া মুক্তিবাহিনী সম্পর্কে যেসব তথ্য দেয় সেগুলো হলো- কৈবর্তপাড়ার জেলেপাড়ায় প্রায় একশ মুক্তিবাহিনী আছে। তারা পরশুদিন থেকে এ গ্রামে আশ্রয় নিয়েছে। জয়নালদের গ্রাম থেকে তিনবার খাবার পাঠানো হয়েছে। মুক্তিবাহিনীর মধ্যে আহত রয়েছে ছয়-সাতজন। বনে মুক্তিবাহিনীর জন্য খাবার নিয়ে যেত কৈবর্তরা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!