ত্রিসম্রাট লীগের সদস্য দেশগুলো হলো জার্মানি, রাশিয়া ও অস্ট্রিয়া।
দীর্ঘকাল একনাগাড়ে যুদ্ধ চলার জন্য জার্মানির শক্তি ক্রমাগতভাবে কমে গেলে পরাজয় নিশ্চিত হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের স্থায়িত্ব যত বেশি হতে থাকে, জার্মানির শক্তি ততই হ্রাস পেতে থাকে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য পেয়ে মিত্রশক্তি নতুন উৎসাহে যুদ্ধ শুরু করে। মিত্রশক্তির প্রচারের ফলে জার্মানির মনোবল ভেঙে পড়ে। জার্মানির একার পক্ষে অস্ট্রিয়া, রোমানিয়া, তুরস্কের সাথে যুদ্ধ চালনা ছিল কঠিন কাজ। জার্মানির গণতান্ত্রিক দল ও কাইজারের একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে রাষ্ট্রের আরেক অরাজকতার সৃষ্টি করে। জার্মানির কাইজার দেশ থেকে পালিয়ে যান। জার্মান নৌ-বাহিনীতে বিদ্রোহ দেখা দেয়। এসব কারণে ১৯১৮ সালের ১১ নভেম্বর জার্মানি পরাজয় বরণ করে।
উদ্দীপকে বর্ণিত চুক্তিসমূহের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের বর্ণিত 'অক্ষশক্তি চুক্তি' ও 'মিত্রশক্তি জোট' গঠনের মিল রয়েছে।
১৯১৮ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির পর 'ত্রিশক্তি আঁতাতের' অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। এ সুযোগে জার্মানি তার হারানো শক্তি সুসংহত করার সুযোগ পায়। ১৯৩৬ সালে লীগ অব নেশনস-এর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জার্মানি ইতালিকে আবিসিনীয় যুদ্ধে সমর্থন জানায়। এভাবে ইতালি-জার্মান সখ্য গড়ে ওঠে। অতঃপর উভয় রাষ্ট্রই কমিউনিস্ট বিরোধী চুক্তি সম্পাদন করে। এ বছরেই হিটলার জাপানের সাথে আরেকটি কমিউনিস্ট বিরোধী চুক্তি সম্পাদন করলে রোম-বার্লিন-টোকিও ঐক্য জোট গড়ে ওঠে। ইতিহাসে এটি অক্ষশক্তি হিসেবে পরিচিত। অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে ব্রিটেন, রাশিয়া, ফ্রান্স, চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মিলে বৃহৎ শক্তিজোট গঠন করে। এক পর্যায়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্য দিয়ে এ জোট দুটি পরস্পর সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বের ইতিহাসে দীর্ঘতম মহাযুদ্ধ তথা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবতারণা হয়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, একটি অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করার জন্য তিনটি দেশ একত্রিত হয়ে জোট গঠন করলে অন্য কয়েকটি দেশ বিপক্ষ আরেকটি জোট গঠন করে। এ ঘটনা উপরে আলোচিত 'অক্ষশক্তি চুক্তি' ও 'মিত্রশক্তি জোট' গঠনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত চুক্তিসমূহের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের 'অক্ষশক্তি চুক্তি' ও 'মিত্রশক্তি জোট'-এর মিল রয়েছে।
হ্যাঁ, উক্ত যুদ্ধ তথা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা মানবতার মহাবিপর্যয় ডেকে এনেছিল।
পৃথিবীর ইতিহাসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছিল ক্ষয়ক্ষতি, ভয়াবহতা কিংবা প্রাণহানির বিচারে যেকোনো যুদ্ধের চেয়ে মারাত্মক। ১৯৩৯ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত টানা ছয় বছর চলা এ যুদ্ধে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এ বিশ্বযুদ্ধে একদিকে ছিল জার্মানি, জাপান, ইতালি এবং তাদের মিত্রদের নিয়ে গড়া অক্ষশক্তি অন্যদিকে ছিল আমেরিকা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, রাশিয়া ও তাদের মিত্রদের নিয়ে গড়া মিত্রশক্তি জোট।
রণাঙ্গনে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের চেয়ে অনেক উন্নত অস্ত্রের ব্যবহার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রাণহানির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় বহুলাংশে। এ বিশ্বযুদ্ধ দেশ থেকে দেশ ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল 'মহাদেশ থেকে মহাদেশে। অন্যদিকে, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সাগরতল, মহাসাগর এমনকি অন্তরীক্ষেও চলেছিল প্রাণঘাতি সংঘাত। ৬১টি দেশের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ অংশগ্রহণে প্রায় ছয় বছরব্যাপী চলা এ যুদ্ধ পৃথিবীকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছিল। স্ট্যালিনগ্রাডে লক্ষ লক্ষ সৈন্যের প্রাণহানি এবং হিরোশিমা-নাগাসাকিতে যথাক্রমে লিটল বয়, ফ্যাটম্যান আণবিক বোমা। নিক্ষেপের মাধ্যমে বিশ্ব প্রত্যক্ষ করেছে মৃত্যুর তাণ্ডবলীলা। আণবিক বোমা নিক্ষেপের পাশবিকতা ও এর ধ্বংসযজ্ঞ বিশ্বমানবতাকে থমকে দিয়েছিল। আজও জামানিরা সেই রাসায়নিক ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে।
সুতরাং বলা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছিল বিশ্বমানবতার জন্য মহাবিপর্যয়।
Related Question
View Allদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে জার্মানি ও ইতালির মধ্যে পরস্পর সহযোগিতাভিত্তিক যে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল, তাই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ইতিহাসে অক্ষশক্তি চুক্তি নামে পরিচিত। মূলত এটি ছিল কমিউনিস্টবিরোধী চুক্তি। তবে কমিউনিস্টবিরোধী চুক্তি হলেও এটিকে মিত্রশক্তির বিরুদ্ধে সামরিক জোটও বলা যেতে পারে। ইউরোপীয় রাষ্ট্রবর্গের দুর্বলতা ও তাদের পারস্পরিক দুর্বলতার সুযোগে সাম্যবাদের বিরুদ্ধে ১৯৩৬ সালে জার্মানি ও জাপান কমিউনিস্টবিরোধী চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। পরবর্তী বছর ১৯৩৭ সালে ইতালি এ চুক্তিতে যোগ দেয়। এর ফলেই রোম-বার্লিন-টোকিও উদ্ভব হয়। এ চুক্তি ইউরোপে নতুন শক্তিসাম্য গড়ে তোলে।
উদ্দীপকে আমার পাঠ্যবইয়ের বেনিতো মুসোলিনীকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ফ্যাসিবাদের জনক বেনিতো মুসোলিনী ১৮৮৩ সালে ইতালির রোমানিয়া প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন একজন কর্মকার। শিক্ষা শেষে স্কুলশিক্ষক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। সামরিক প্রশিক্ষণ এড়াতে তিনি সুইজারল্যান্ডে পালিয়ে যান। সেখানে তিনি সমাজতান্ত্রিক মতবাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে সমাজতন্ত্রী দলে যোগ দিয়ে বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ড শুরু করেন। ১৯১২ সালে সমাজতন্ত্রী দলের মুখপত্র 'আভান্তি' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি ১৯১৯ সালে 'এক সম্মেলনে ফ্যাসিস্ট দল গঠন করেন। ফ্যাসিবাদ ছিল ইতালির সামাজিক অবক্ষয়ের যুগের একটি রাজনৈতিক ব্যাভিচার। গণতন্ত্রের ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদকে ফ্যাসিবাদীরা ঘৃণা করত।
উদ্দীপকে 'X' নামক ব্যক্তি পৃথিবীর বিখ্যাত ব্যক্তিদের দেশে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষকতা পেশা নিয়ে তিনি কর্মজীবন শুরু করলেও শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি নিজেই একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। গণতন্ত্রের পরিবর্তে বল প্রয়োগে ক্ষমতা গ্রহণের পক্ষে তার মত ছিল।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের 'X'-দ্বারা আমার পাঠ্যবইয়ের বেনিতো মুসোলিনীকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
উক্ত ব্যক্তির অর্থাৎ বেনিতো মুসোলিনীর পররাষ্ট্র নীতি ছিল সম্প্রসারণবাদ।
মুসোলিনীর' পররাষ্ট্র নীতির উদ্দেশ্য ছিল সম্প্রসারণবাদ। ক্ষমতা গ্রহণ করে তিনি ঘোষণা করেন, "আমি যুদ্ধ ভালোবাসি, যুদ্ধ করা আমার সহজাত প্রবণতা।" এ উপলক্ষে তিনি ইতালির পদাতিক, নৌ, বিমান বাহিনীকে ঢেলে সাজান। অস্ত্র, প্রশিক্ষণ এবং যুদ্ধের মানসিকতা প্রস্তুত করেন। তিনি যুদ্ধ-বিগ্রহের মাধ্যমে ভার্সাই সন্ধির প্রতারণার প্রতিশোধ নিতে মনস্থ করেন। তিনি বুঝেছিলেন যে, । ইতালির সাম্রাজ্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষাকে সফল করে তুলতে হলে ফ্রান্স, ব্রিটেন, রাশিয়া, জার্মানি ইত্যাদি শক্তিকে পরস্পরের বিরুদ্ধে নিয়োজিত করতে হবে। এজন্য তিনি ব্রিটেন ও ফ্রান্সকে জার্মানির বিরুদ্ধে নিয়োজিত করেন এবং ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানিকে সম্মিলিতভাবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিয়োজিত করে ইতালির প্রভাব-প্রতিপত্তি বৃদ্ধি করার কৌশল অবলম্বন করেন। মুসোলিনী তার এসব কৌশল প্রয়োগ করে বেশকিছু উপনিবেশ পুনরুদ্ধারে সফল হন। ১৯২৩ সালে গ্রিসের কফুদ্বীপ গ্রিসকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে তা ফেরত নিতে হয়। এতে নিজ দেশে মুসোলিনীর ভাবমূর্তি বেড়ে যায়। প্রতিবেশী দেশগুলোতে ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থানকে নানাভাবে সহযোগিতা প্রদান করেন। ১৯৩৬ সালে, স্পেনে জেনারেল ফ্রাঙ্কোর নেতৃত্বে অভ্যুত্থান ঘটলে মুসোলিনী ফ্রাঙ্কোকে সমর্থন করেন। মুসোলিনী নিজ শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য জার্মানির হিটলারের সাথে মৈত্রী বন্ধনে আবন্ধ হন।
পরিশেষে বলা যায়, মুসোলিনীর পররাষ্ট্র নীতির উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধের মাধ্যমে ইতালির সম্প্রসারণ ঘটানো এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতালিকে সামরিকভাবে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদন করা।
জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করে। কিন্তু মার্কিন জনগণ মিত্রপক্ষের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল। মার্কিন সরকার ১৯৪১ সালের মার্চ মাসে 'Lend-Lease Act' আইন পাস করে মিত্রশক্তিকে অস্ত্র ও রসদ সরবরাহের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ফলে জার্মান ডুবোজাহাজগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ডুবিয়ে দিতে শুরু করলে মার্কিন নৌবাহিনীও পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। অতঃপর ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর অক্ষশক্তির সদস্য জাপান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'পার্ল হারবার' আক্রমণ করলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সরাসরি যোগদান করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!