পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবসায় কার্যক্রম পরিচালনা করলে সাফল্য অর্জন সহজতর হয়।
পরিকল্পনা সুনির্দিষ্ট দিকনিদের্শনা দেওয়ার মাধ্যমে ব্যবসায়ীকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সহায়তা করে।
এটি হলো ব্যবসায়ের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের প্রতিচ্ছবি। এতে ব্যবসায়ের লক্ষ্য, প্রকৃতি, ব্যবস্থাপনার ধারা, অর্থায়নের উপায়, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য উন্নয়নের সম্পূর্ণ চিত্র তুলে ধরা হয়। ব্যবসায় কোন দিকে সম্প্রসারিত হবে এবং কীভাবে ব্যবসায়ে সফলতা অর্জন করা যাবে তার দিকনির্দেশনা পরিকল্পনায় থাকে। এ দিকনির্দেশনা ব্যবসায়ীকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে।
উদ্দীপকে গ্রুপ অব কোম্পানির নতুন ব্যবসায় স্থাপনের পূর্বানুমান হলো ব্যবসায় পরিকল্পনা।
এর মাধ্যমে ব্যবসায়ের লক্ষ্য অর্জনের জন্য কখন কী কাজ, কীভাবে এবং কত সময়ের মধ্যে করা হবে তার দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে কোন উৎস থেকে মূলধন সংগ্রহ ও বিনিয়োগ করা যাবে, তা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া ভবিষ্যৎ ব্যবসায় সম্প্রসারণ, কী পণ্য উদ্ভাবন করা প্রয়োজন প্রভৃতি সম্পর্কিত তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত থাকে।
উদ্দীপকের একটি গ্রুপ অব কোম্পানি। চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় একটি সিমেন্ট শিল্প স্থাপনের চিন্তা-ভাবনা করছে। এক্ষেত্রে কোম্পানিটির কী পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হবে, এ অর্থ কোথা থেকে সংগ্রহ করা হবে, সম্ভাব্য লাভের পরিমাণ কত হবে প্রভৃতি বিষয় পূর্বানুমান করেছে। এতে ব্যবসায়টির সম্প্রসারণে করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে। আর আগেই নির্ধারিত বিষয় অনুযায়ী দ্রুত কাজ পরিচালনা করা সম্ভব হবে। এছাড়া, যেকোনো সমস্যা সমাধানে সিদ্ধান্ত নিতেও এটি সহায়ক হবে। সুষ্ঠুভাবে প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনে এ ধরনের সুবিধা দেয় পরিকল্পনা। সুতরাং, গ্রুপ অব কোম্পানি নতুন ব্যবসায় স্থাপনের আগে ব্যবসায়ের পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে।
ব্যবসায়ের যথাযথ প্রকল্প নির্বাচনে নির্দিষ্ট কিছু ধাপ অনুসরণ করা হয়।
প্রকল্প প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রথমে প্রকল্প ধারণা চিহ্নিত করতে হয়। এরপর ম্যাক্রোস্ক্রিনিং ও মাইক্রোস্ক্রিনিং পদ্ধতির মাধ্যমে প্রকল্প ধারণা মূল্যায়ন করা হয়। পরবর্তীতে সঠিক প্রকল্প নির্বাচন ও তা বাস্তবায়ন করা হয়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, একটি গ্রুপ অব কোম্পানি সিমেন্ট শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে ব্যবসায় সম্প্রসারণ করতে চায়। এতে কী পরিমাণ অর্থসংস্থান প্রয়োজন হবে, এ অর্থ কোথা থেকে সংগৃহীত হবে, সম্ভাব্য লাভ কত হতে পারে প্রভৃতি বিষয় পূর্বানুমান করা হয়। এছাড়া ব্যবসায়ের বিভিন্ন দিকও মূল্যায়ন করা হয়।
ব্যবসায়ে প্রকল্প নির্বাচনে প্রথমেই ক্রেতাদের চাহিদা বিবেচনা করা হয়।
এতে প্রকল্প ধারণা চিহ্নিত করা হয়। এরপর প্রকল্প ধারণা মূল্যায়ন ও নির্বাচনের জন্য ম্যাক্রোস্ক্রিনিং (প্রাকৃতিক, রাজনৈতিক ও আইনগত পরিবেশ) ও মাইক্রোস্ক্রিনিং (বাজার চাহিদা ও আর্থিক দিক) পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এতে প্রকল্পের ধাপগুলো (ধারণা চিহ্নিতকরণ, ধারণা মূল্যায়ন ও প্রকল্প নির্বাচন এবং প্রণয়ন) যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হয়।
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটিও নতুন প্রকল্প নির্বাচনে এসব ধাপ অনুসরণ করে। এতে বিভিন্ন দিক যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সঠিক প্রকল্প প্রণয়ন সম্ভব হয়। সুতরাং, প্রকল্প নির্বাচনে প্রকল্প ধারণা চিহ্নিতকরণ থেকে তা মূল্যায়ন পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপ অনুসরণের প্রয়োজন হয়।
Related Question
View Allপণ্যের বাজার চাহিদা জানার উপায়কে বাজার জরিপ বলে।
ব্যবসায়ের যান্ত্রিক দিক বলতে মূলত কারিগরি দিককে বোঝায়।
প্রযুক্তিগত ও যান্ত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রকল্পের কারিগরি দিক যাচাই করা হয়। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কীরূপ যন্ত্র ব্যবহার করা হবে, কী ধরনের প্রযুক্তি নির্ধারণ করা হবে ও তার ব্যয় কেমন হবে প্রভৃতি বিষয় নিয়ে ব্যবসায়ের যান্ত্রিক দিক আলোচনা করে। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সঠিকভাবে যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা গেলে প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজ হয়।
জনাব আরিফদের প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থায়ী ও চলতি মূলধন সংগ্রহ করা প্রয়োজন।
স্থায়ীভাবে বা দীর্ঘদিন কোনো সম্পত্তি ব্যবহার করার জন্য স্থায়ী মূলধনের প্রয়োজন হয়। এ জাতীয় খরচ ব্যবসায় শুরুর সময়ে করতে হয়। আর চলতি মূলধনের মাধ্যমে ব্যবসায়ের দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা করা হয়।
প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য উভয় ধরনের মূলধন আবশ্যক।
উদ্দীপকের জনাব আরিফ কয়েকজন বন্ধুকে সাথে নিয়ে একটি সিমেন্ট ফ্যাক্টরি স্থাপনের প্রকল্প নেন। প্রাথমিক ব্যয় নির্বাহের জন্য যথেষ্ট অর্থ
না থাকায় তারা মূলধন সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেন। সাধারণত জমি, দালান, আসবাবপত্র কেনার জন্য প্রাথমিক ব্যয় নির্বাহ করতে হয়। প্রকল্প প্রণয়নের শুরুতেই এই ব্যয় নির্বাহ করতে হয়। আবার প্রকল্প চালু
হওয়ার পর উৎপাদন কাজ চালু রাখার জন্য প্রতিনিয়ত কাঁচামাল ক্রয়, অফিস পরিচালনা ও শ্রমিকদের মজুরি দেওয়ার জন্যও অর্থের প্রয়োজন। এই ব্যয়গুলোর জন্য চলতি মূলধনের প্রয়োজন হয়। তাই বলা যায়, প্রকল্প বাস্তবায়নে জনাব আরিফদের স্থায়ী ও চলতি দুই ধরনের মূলধনই প্রয়োজন।
জনাব আরিফ ও তার বন্ধুরা ব্যবসায়ের প্রকল্প প্রণয়নে যথার্থ পথ অনুসরণ করেছেন-এ বিষয়ে আমি একমত।
একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো প্রকল্পের লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পিত ও সুচিন্তিত পদ্ধতিতে কাজ করা হয়। ব্যবসায় প্রকল্প নেওয়ার প্রথমে পণ্য বা সেবা সামগ্রীর চাহিদা নির্ধারণ করতে হয়। এরপর এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি, লাভ-ক্ষতির দিক নির্ণয় করতে হয়।
উদ্দীপকের জনাব আরিফ ও তার বন্ধুরা নির্মাণ ও হাউজিং শিল্পের ব্যাপক চাহিদা বিবেচনা করে একটি সিমেন্ট ফ্যাক্টরি স্থাপনের প্রকল্প নেন। তারা প্রকল্প নেওয়ার আগে পুরো কর্মকাণ্ডের দীর্ঘমেয়াদি একটি ছক তৈরি করেন। ছকে তারা প্রকল্পের পণ্যের বাজার চাহিদা, বাণিজ্যিক ও আর্থিক দিক প্রভৃতি তুলে ধরেন। ছকটির মাধ্যমে পুরো প্রকল্পটির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা যায়। তাই আমি মনে করি, জনাব আরিফ ও তার বন্ধুরা প্রকল্প প্রণয়নে যথাযথ পথ অনুসরণ করেছেন।
শিল্পের কাঁচামাল প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে আসে।
ব্যবসায়ের দৈনন্দিন কাজ সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন হলো চলতি মূলধন।
এ ধরনের মূলধনের মেয়াদ এক বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে। এ মূলধনের সাহায্যে কোনো স্থায়ী সম্পত্তি অর্জন করা বা কেনা যায় না। সাধারণত ব্যবসায়িক কাজ চালু রাখার জন্য এ মূলধনের প্রয়োজন হয়। কাঁচামাল কেনা, মজুবি দেওয়া, ভাড়া ও পরিবহন খরচ প্রভৃতি হলো চলতি মূলধনের উদাহরণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
