কোনো নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত একটি আর্থিক বছরে) কোনো দেশের নাগরিকগণ কর্তৃক যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবা উৎপন্ন হয় তার বাজারমূল্যের সমষ্টিকে জাতীয় আয় বলে।
কোনো অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বাড়লে উৎপাদন বৃদ্ধি পায় ফলে মোট জাতীয় উৎপাদন বা GNP বাড়ে।
একটি দেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ থাকলে জনগণের সঞ্চিত অর্থ উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত হয় তথা বিনিয়োগ বাড়ে। এতে দেশের উৎপাদনের গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়। ফলশ্রুতিতে দেশটির উৎপাদন বৃদ্ধির দ্বারা GNP বাড়ে। এছাড়া, জাতীয় আয় পরিমাপের ব্যয় পদ্ধতিতে তিন খাতবিশিষ্ট বদ্ধ অর্থনীতির ক্ষেত্রে মোট জাতীয় উৎপাদন বা GNP ভোগ, বিনিয়োগ ও সরকারি ব্যয়ের সমষ্টির সমান হয়। অর্থাৎ, GNP = C +1+ G। এক্ষেত্রে বিনিয়োগ (1) বাড়লে GNPও বাড়বে।
উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে নিচে দেশটির GNP এবং GDP নির্ণয় করা হলো:
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো অর্থনীতিতে চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবার আর্থিক মূল্যের সমষ্টি (GNP) থেকে মূলধনসামগ্রীর ব্যবহারজনিত ব্যয় বা অবচয় ব্যয় (DC) বাদ দিলে নিট জাতীয় উৎপাদন (NNP) পাওয়া যায়।
অর্থাৎ NNP = GNP - DC
বা, GNP = NNP + DC
বা, GNP = (১০,০০০ + ১,৫০০)
= ১১,৫০০ কোটি টাকা
উদ্দীপক হতে,
NNP = ১০,০০০
কোটি টাকা
DC = ১,৫০০
কোটি টাকা
আবার, দেশে উৎপাদিত দ্রব্যসামগ্রী ও বিদেশ হতে প্রাপ্ত নিট আয় (X
= X - M) এর সমষ্টি যোগ করলে GNP পাওয়া যায়। অর্থাৎ,
GNP = GDP + X
বা, GDP = GNP - X
[ এখানে X = ২,০০০ কোটি টাকা ]
GNP = ১১,৫০০ কোটি টাকা
= (১১,৫০০ – ২,০০০) কোটি টাকা
= ৯,৫০০ কোটি টাকা।
সুতরাং উদ্দীপকের দেশটির GNP ও GDP যথাক্রমে ১১,৫০০ ও ৯,৫০০ কোটি টাকা।
(X - M) = 0 হলে বিবেচ্য দেশটির GNP ও GDP পরস্পর সমান হবে। নিচে আমার মতামত বিশ্লেষণ করা হলো:
সাধারণত GNP হলো কোনো দেশের জনগণ কর্তৃক উৎপাদিত পণ্য ও সেবার আর্থিক মূল্যের সমষ্টি। আর, GDP হলো দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত পণ্য ও সেবার আর্থিক মূল্যের সমষ্টি। এজন্য নিট রপ্তানি বা নিট আয় (X_{n}) ধনাত্মক হলে GDP-এর চেয়ে GNP বেশি এবং X ঋণাত্মক হলে GDP এর চেয়ে GNP কম হয়। অন্যদিকে x =0 হলে - GDP = GNP হয়।
উদ্দীপকে নিট জাতীয় উৎপাদন, NNP ১০,০০০ কোটি টাকা, অবচয় ব্যয়, DC = ১,৫০০ কোটি টাকা এবং নিট রপ্তানি, x = (X - M) = ২,০০০ কোটি টাকা। এখন প্রশ্নানুসারে, Xa = 0 হলে GDP এর পরিমাণ হবে-
GNP = NNP + DC-Xa
= (১০.০০০ + ১.৫০০ - ২০০০) কোটি টাকা
= ৯.৫০০ কোটি টাকা।
এখানে,
Xn = 0
আবার,
GNP = GDP + X
বা, GNP = GDP
বা, GDP = ৯,৫০০ কোটি টাকা
অর্থাৎ, (X - M) = 0 হলে অথবা অর্থনীতি বন্ধ বিবেচিত হলে GNP = GDP = G হবে। এক্ষেত্রে তার পরিমাণ হবে ৯,৫০০ কোটি টাকা। যা পূর্বের GDP এর সমান হলেও পূর্বের GNP এর চেয়ে (১১,৫০০ - ৯,৫০০) বা ২,০০০ কোটি টাকা কম। পরিশেষে বলা যায়, (X - M) = 0 হলে GNP ও GDP সমান হবে।
Related Question
View Allকোনো নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছরে) একটি দেশের ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে যেসব দ্রব্য ও সেবাকর্ম উৎপন্ন হয় তার আর্থিক মূল্যকে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বলে।
ব্যক্তি তার আয়ের সম্পূর্ণ অংশ ভোগ করতে পারে না, বরং ব্যয়যোগ্য আয় থেকে সে ভোগ করে।
একটি নির্দিষ্ট সময়ে ব্যক্তি তার আয়ের যে অংশটুকু ব্যয় করতে সক্ষম হয়, তাকে ব্যয়যোগ্য আয় বলে। সাধারণত, ব্যক্তিগত আয় থেকে সরকারকে প্রদেয় কর ও নিট ব্যবসায় সঞ্চয় বাদ দিয়ে হস্তান্তর পাওনা যোগ করলে তার ব্যয়যোগ্য আয় পাওয়া যায়। আর দেশের একজন নাগরিক হিসেবে কর প্রদান বাধ্যতামূলক হওয়ায় ব্যক্তি তার আয়ের সম্পূর্ণ অংশ ভোগ করতে পারে না। তাই বলা হয়, ব্যক্তির ভোগ তার আয় নয়, বরং ব্যয়যোগ্য আয়ের ওপর নির্ভর করে।
উদ্দীপকের তথ্য ব্যবহার করে ভোগ সূচি তৈরি করে প্রয়োজনীয় পরিমাপ গ্রহণ করে নিচে ভোগ অপেক্ষকটির রেখা অঙ্কন করা হলো
জাতীয় আয় (Y) | ভোগ ব্যয়বিন্দু (Y, C) | বিন্দু (Y, C) |
০ | ১০০ | a |
১০০ | ১৯০ | b |
২০০ | ২৮০ | c |
৩০০ | ৩৭০ | d |
৪০০ | ৪৬০ | e |

উপরের সূচিতে লক্ষ করা যায়, জাতীয় আয় (Y) শূন্য হলে ভোগ ব্যয় (C) 100 একক হয় যা বিন্দু নির্দেশ করে। একইভাবে, জাতীয় আয় 100, 200, 300 ও 400 একক হলে ভোগ ব্যয় যথাক্রমে 190, 280, 370 ও 460 একক হয়। যা চিত্রে যথাক্রমে b, c, d ও বিন্দু দ্বারা নির্দেশিত হয়েছে। এখন প্রাপ্ত এই বিন্দুগুলো যোগ করলে পাওয়া যায় ভোগ রেখা। এটি হলো প্রদত্ত ভোগ অপেক্ষকের চিত্ররূপ।
উদ্দীপকে আয়স্তর শূন্য হলেও স্বয়ম্ভূত ভোগ ব্যয় বিদ্যমান থাকায় ভোগস্তর হবে 100 একক। নিচে তা উদ্দীপক অনুযায়ী বিশ্লেষণ করা হলো:
যে ভোগ ব্যয় আয়ের ওপর নির্ভর করে না তাকে স্বয়ম্ভূত ভোগ ব্যয় বলে। অর্থাৎ, আয় শূন্য হলেও এ ভোগ ব্যয় বজায় থাকে। সাধারণত, একটি নির্দিষ্ট বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যে আয় হয় তা থেকে ভোগ ব্যয় সম্পন্ন হয়। এখন বিবেচ্য বছরের পূর্বে কোনো সময়ে জমানো অর্থ থেকে ভোক্তা কিছু ভোগ ব্যয় করে থাকে। এই ভোগ ব্যয়কেই বিবেচ্য বছরের স্বয়ম্ভূত ভোগ বলে।
প্রদত্ত ভোগ অপেক্ষকে Y = 0 হলে,
C = ১০০ + ০.৯Y
বা, C =১০০ +০.৯ ০ [*: Y = ০ ]
বা, C = ১০০ + ০
বা, C = ১০০
C = ১০০একক।
এটিই হলো চলতি বছরের স্বয়ম্ভূত ভোগ ব্যয়। আর যেহেতু স্বয়ম্ভূত ভোগ ব্যয় আয়ের ওপর নির্ভর করে না, তাই আয়স্তর শূন্য হলেও ভোগ ব্যয় ১০০ এককে বজায় থাকে।
একটি দেশে একটি নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণত একটি আর্থিক বছরে অসংখ্য দ্রব্যসামগ্রী ও সেবাকর্ম উৎপাদিত হয়, এগুলোর জন্য ভোক্তা সাধারণ, বিনিয়োগকারী ও সরকার যে ব্যয় করতে প্রস্তুত থাকে তার সমষ্টিই হলো সামগ্রিক ব্যয়।
প্রবাসীরা নিজ দেশের ভৌগোলিক সীমার বাইরে কর্মরত থাকে বিধায় তাদের আয় নিজ দেশের GDP-তে অন্তর্ভুক্ত হয় না।
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একটি দেশের ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে দেশি-বিদেশি জনগণ মিলে যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন করে তার আর্থিক মূল্যের সমষ্টিকে মোট দেশজ উৎপাদন বা GDP বলে। আর প্রবাসীরা দেশের ভৌগোলিক সীমারেখার বাইরে কর্মরত থাকে বিধায় GDP-এর সংজ্ঞা অনুসারে তাদের আয় GDP-তে অন্তর্ভুক্ত হয় না। বরং তাদের আয় GNP-তে অন্তর্ভুক্ত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!