যে সাংকেতিক চিহ্নের মান পরিবর্তনশীল অর্থাৎ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মান ধারণ করে তাকে চলক বলে।
কাগজ ও কলম এ দুটি দ্রব্যের সম্পর্ক পরিপূরক।
দুটি দ্রব্যের মধ্যে একটির ভোগ বৃদ্ধির জন্য যদি অন্যটির ভোগ বৃদ্ধির প্রয়োজন হয় তবে দুটিকে একে অন্যের পরিপূরক বলে। পরিপূরক দ্রব্য সাধারণত যুগ্মভাবে ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ একটির প্রয়োজন হলে অন্যটির প্রয়োজন হয়। কলম দিয়ে কিছু লিখতে হলে কাগজের প্রয়োজন হয়। আবার কলম ছাড়াও কাগজের ব্যবহার অর্থহীন। সুতরাং কাগজ ও কলমের সম্পর্ক পরিপূরক।
উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে প্রয়োজনীয় পরিমাপ গ্রহণ করে নিচে যোগান রেখা অঙ্কন করা হলো:
যোগান রেখা বলতে এমন একটি রেখাকে বোঝায়, যার প্রতিটি বিন্দুতে কোনো দ্রব্যের দাম ও যোগানের পরিমাপের সমমুখী সম্পর্ক দেখানো হয়।

উদ্দীপকের যোগান সূচিতে লক্ষ করা যায়, 'X' দ্রব্যের দাম কেজি প্রতি ১০ টাকা হলে যোগানের পরিমাণ ২০ কেজি। যা উপরের চিত্রে বিন্দু দ্বারা নির্দেশিত হয়েছে। একইভাবে দ্রব্যটির দাম বৃদ্ধি পেয়ে ১৫ টাকা ও ২০ টাকা হলে যোগানের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ৩০ কেজি ও ৪০ কেজি হয়। যা চিত্রে যথাক্রমে ৮ ও বিন্দু দ্বারা দেখানো হয়েছে। এখন প্রাপ্ত a, b ও বিন্দুগুলো যোগ করে SS' যোগান রেখা পাওয়া যায়।
উদ্দীপক হতে প্রাপ্ত তথ্য থেকে অঙ্কিত যোগান রেখা ঊর্ধ্বগামী হয়েছে। এরূপ আকৃতির পিছনে যুক্তিসংগত কারণ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।
সাধারণত সরলরৈখিক বা একমাত্রিক যোগান রেখার ঢাল ধনাত্মক হয়। অর্থাৎ dQs dp = f'(P) > ০ হয় তথা বিবেচ্য দ্রব্যের দাম ও যোগানের পরিমাপের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক বিদ্যমান।
উদ্দীপকের সূচিতে লক্ষ করা যায়, 'X' দ্রব্যের দাম ১০ টাকা হতে বেড়ে ১৫ টাকা হলে যোগানের পরিমাণ ২০ কেজি হতে বেড়ে ৩০ কেজি হয়। অর্থাৎ দাম বাড়লে যোগানের পরিমাণ বাড়ে তথা দাম ও যোগানের পরিমাণের মধ্যে ধনাত্মক বা সমমুখী সম্পর্ক পরিলক্ষিত হয়। এজন্যই মূলত প্রাপ্ত যোগান রেখা বামদিক থেকে ডানদিকে ঊর্ধ্বগামী হয়েছে।
যোগানের পরিমাণ সেই হারে বাড়ে বা কমে। যেমন- 'স' দ্রব্যের দাম ১৫ টাকা হতে ২০ টাকা হলে যোগানের পরিমাণ ৩০ কেজি থেকে
বেড়ে ৪০ টাকা হয়। এক্ষেত্রে দামের শতাংশিক পরিবর্তন =
১০০% বা ৩৩.৩৩% এবং যোগানের শতাংশিক পরিবর্তন =
× ১০০% বা ৩৩.৩৩%। তাই যোগানের স্থিতিস্থাপকতা এককের সমান হয় এবং যোগান রেখা মূল বিন্দু হতে ডানদিকে ঊর্ধ্বগামী হয়। পরিশেষে বলা যায়, উপরে উল্লিখিত কারণগুলোর জন্য যোগান রেখা বামদিক থেকে ডানদিকে উর্ধ্বগামী হয়েছে।
Related Question
View Allউপযোগ বলতে কোনো দ্রব্য বা সেবার ঐ বিশেষ গুণকে বোঝায়, যা দ্বারা মানুষের বিশেষ অভাব মেটানো সম্ভব হয়।
মোট উপযোগ যখন সর্বোচ্চ হয় প্রান্তিক উপযোগ তখন শূন্য হয়।
ভোক্তা কোনো একটি বিশেষ দ্রব্য অধিক পরিমাণে ভোগ করতে থাকলে তার নিকট উক্ত দ্রব্যের প্রান্তিক উপযোগ ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে। এক পর্যায়ে সে আর ঐ দ্রব্যটি ভোগ করতে চায় না। এমতাবস্থায় ভোক্তার নিকট ঐ দ্রব্যের প্রান্তিক উপযোগ শূন্য হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, একজন ভোক্তার লিচু খাওয়ার ইচ্ছা হলো। প্রথম লিচুর তুলনায় দ্বিতীয় লিচু থেকে সে কম উপযোগ পায়। তৃতীয় লিচুর ক্ষেত্রে উপযোগ আরও হ্রাস পায়। এভাবে এক পর্যায়ে তার লিচু খাওয়ার আর কোনো আগ্রহ থাকবে না। ফলে সে আর লিচু গ্রহণ করবে না। এ অবস্থায় ভোক্তার নিকট লিচুর মোট উপযোগ সর্বোচ্চ হলেও প্রান্তিক উপযোগ হয় শূন্য।
উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে প্রয়োজনীয় পরিমাপ গ্রহণ করে নিচে মোট উপযোগ রেখা অঙ্কন করা হলো-

উপরের চিত্রে OX অক্ষে পেয়ারার একক এবং OY অক্ষে পেয়ারার ভোগ হতে প্রাপ্ত মোট উপযোগ দেখানো হয়েছে। উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, সাহানা ১ম পেয়ারা ভোগ করে ৮ একক মোট উপযোগ লাভকরে। যা চিত্রের এ বিন্দু দ্বারা নির্দেশিত হয়েছে। একইভাবে ২য়, ৩য়, ৪র্থ এবং ৫ম পেয়ারা থেকে সাহানা যথাক্রমে ১০ একক, ১২ একক, ১২ একক এবং ১০ একক মোট উপযোগ লাভ করে। যা চিত্রে যথাক্রমে ৮, c. d এবং e বিন্দু দ্বারা দেখানো হয়েছে। প্রাপ্ত a, b, c, d এবং e বিন্দুগুলো যোগ করে TU মোট উপযোগ রেখা পাওয়া যায়।
উদ্দীপকের তথ্য হতে প্রান্তিক উপযোগ (MU) নির্ণয় করে মোট উপযোগ (IU) এবং প্রান্তিক উপযোগের মধ্যে সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা যায়-কোনো একক হতে প্রাপ্ত মোট উপযোগ (IU) থেকে তার পূর্ববর্তী একক হতে প্রাপ্ত মোট উপযোগ (TU) বাদ দিলে প্রান্তিক উপযোগ (MU) পাওয়া যায়। অর্থাৎ MU, TU-TU প্রদত্ত তথ্যের আলোকে উপযোগ সূচি:
পেয়ারার একক | মোট উপযোগ (TU)একক | প্রান্তিক উপযোগ (MU) একক |
১ম | ৮ | ৮ |
২য় | ১০ | ২ |
৩য় | ১২ | ২ |
৪র্থ | ১২ | ০ |
৫ম | ১০ | -২ |
উপরের উপযোগ সূচিতে লক্ষ করা যায়, সাহানার ভোগের পরিমাণ বৃদ্ধির সাথে সাথে মোট উপযোগ ক্রমহ্রাসমান হারে বাড়লেও একসময়ে তা সর্বোচ্চ ১২ একক হয় এবং পরে তা হ্রাস পায়। অন্যদিকে প্রান্তিক উপযোগ প্রথম থেকেই হ্রাস পায়, একসময় শূন্য হয়ে যায় এবং পরে তা ঋণাত্মক (-২ একক) হয়ে পড়ে।
উপরের সূচিতে মোট উপযোগ ও প্রান্তিক উপযোগ পরিবর্তনের প্রবণতা লক্ষ করলে দেখা যায়, প্রান্তিক উপযোগ হলো মোট উপযোগের একটি অংশ। ভোগের পরিমাণ বৃদ্ধির সাথে সাথে মোট উপযোগ কী হারে বৃদ্ধি পায় তা প্রান্তিক উপযোগ দ্বারা নির্ধারিত হয়। কোনো দ্রব্যের ভোগ বৃদ্ধি পেলে মোট উপযোগ ক্রমহ্রাসমান হারে বৃদ্ধি পায়; কিন্তু প্রান্তিক উপযোগ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়। এছাড়া, মোট উপযোগ সর্বাধিক হলে প্রান্তিক উপযোগ শূণ্য হয় এবং
চাহিদা ও যোগানের প্রধান নির্ধারক হলো দাম।
চা ও কফি পরিবর্তক দ্রব্য। হওয়ায় কফির দাম কমে গেলে চায়ের চাহিদা কমবে।
সাধারণত যদি দুটি দ্রব্যের মধ্যে একটির পরিবর্তে অন্যটি ভোগ করা যায় এবং প্রায় সমান উপযোগ লাভ করা যায়, তবে দ্রব্য দুটিকে পরস্পর পরিবর্তক বলা হয়। এ ধরনের দ্রব্যের ক্ষেত্রে একটির দাম বৃদ্ধি পেলে অপরটির চাহিদা বেড়ে যায়। কফি ও চা এর মধ্যে যদি কফির দাম কমে যায়, তবে চায়ের চাহিদা তথা ভোগ কমবে। এজন্য পরিবর্তক দ্রব্যের দাম ও চাহিদার মধ্যে সমমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!