বাংলাদেশে উৎপাদন পদ্ধতি ও ব্যয় পদ্ধতি ব্যবহার করে GDP ও GNP গণনা করে।
দ্বৈত গণনার সমস্যা এড়ানোর জন্য জাতীয় আয় হিসাবের সময় কেবল চূড়ান্ত দ্রব্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
যে পদ্ধতিতে শুধু চূড়ান্তভাবে উৎপাদিত পণ্য ও সেবার বাজার দাম জাতীয় আয় গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তাকে চূড়ান্ত উৎপাদন পদ্ধতি বলে। এ পদ্ধতি গ্রহণের ফলে জাতীয় আয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক দ্রব্যের দাম অন্তর্ভুক্ত থাকে না। এর ফলে দ্বৈত গণনার সমস্যাও উদ্ভব হয় না। সুতরাং দ্বৈত গণনার সমস্যা এড়ানোর জন্যই জাতীয় আয় পরিমাপে শুধু চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবার দাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
লাউদ্দীপকে উল্লিখিত ৫০ বিলিয়ন ডলারকে অর্থনীতির ভাষায় মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) বলা হয়।
একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত একটি আর্থিক বছরে) একটি দেশের অভ্যন্তরে তথা তার ভৌগোলিক সীমানার ভেতর যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্যসামগ্রী ও সেবাকর্ম উৎপাদিত হয় তার অর্থমূল্যের সমষ্টিকে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি বলে। জিডিপি হিসাবের সময় দেশের অভ্যন্তরে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ দ্বারা উৎপাদিত সবরকম দ্রব্যসামগ্রী ও সেবাকর্মকে ধরা হয়। কিন্তু বিদেশে অবস্থানরত দেশীয় নাগরিকদের দ্বারা সৃষ্ট উৎপাদন বা আয় জিডিপির হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না।
উদ্দীপকে রুবির দেশে একটি নির্দিষ্ট অর্থবছরে সমগ্র জনগোষ্ঠী ও অন্য সংস্থাসমূহ দ্বারা চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবার বাজার দামের সমষ্টির কথা বলা হয়েছে। এখানে বিদেশে অবস্থানরত দেশীয় নাগরিকের সৃষ্ট আয়ের কথা বলা হয়নি। তাই উদ্দীপকের উল্লিখিত ৫০ বিলিয়ন ডলারকে GDP বা মোট দেশজ উৎপাদন বলা হয়।
না, উক্ত উৎপাদন তথা মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) সর্বদা মোট জাতীয় আয় (GNP বা GNI) থেকে কম হয় না। নিচে তা যুক্তিসহকারে বিশ্লেষণ করা হলো-
একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত একটি আর্থিক বছরে) দেশের জনগণ দেশের ভেতর ও বাইরে নিযুক্ত থেকে যে পরিমাণ দ্রব্য ও সেবাকর্ম উৎপাদন করে তাকে GNP বলে। GNP এর আর্থিক মূল্যকে GNI- বলে। অন্যদিকে, একটি নির্দিষ্ট সময়ে কেবল দেশের ভেতরে প্রাপ্ত সম্পদ ব্যবহার করে যে পরিমাণ দ্রব্য ও সেবাকর্ম উৎপাদিত হয় তার আর্থিক মূল্যকে GDP বলে। তাই GNP-তে দেশের সকল নাগরিকের ভোগ ব্যয় (C), বিনিয়োগ ব্যয় (1), সরকারি ব্যয় (G) এবং নিট রপ্তানি (XM) অন্তর্ভুক্ত থাকে। অন্যদিকে, GDP তে দেশে অবস্থানরত সকল জনগণ ও সরকারের ব্যয় C, 1 ও G অন্তর্ভুক্ত হয়।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, রুবির দেশে একটি নির্দিষ্ট অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) হলো ৫০ বিলিয়ন ডলার। আর উক্ত সময়ে নিট রপ্তানি আয় ধনাত্মক হওয়ায় মোট জাতীয় আয় (GNP) হলো ৬০ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ রুবির দেশে বিবেচ্য অর্থবছরে GDP < GNP হয়েছে।
কিন্তু, আমদানি ও রপ্তানি মূল্যের ব্যবধানের কারণে GNP ও GDP-এর মধ্যে কখনও সমতা আবার কখনও অসমতা দেখা দেয়। যেমন- যদি
অর্থনীতি বন্ধ হয় তবে X, XM0 হওয়ার কারণে GNP = GDP হয়। আর মুক্ত অর্থনীতিতে X < M হলে অর্থাৎ রপ্তানি আমদানির চেয়ে কম হলে GNP < GDP হয়। এবং X > M হলে অর্থাৎ রপ্তানি আমদানির চেয়ে বেশি হলে GNP > GDP হয়। তাই বলা যায়, GNP থেকে GDP সর্বদা কম হয় না।
Related Question
View Allকোনো দেশের মোট জাতীয় আয় থেকে মূলধন ব্যবহারজনিত অবচয় ব্যয় (Capital Consumption Allowance) বাদ দিলে যা থাকে, তাকে নিট জাতীয় আয় বলে।
আয় পদ্ধতি অনুযায়ী সাধারণত একটি আর্থিক বছরে একটি দেশের উৎপাদন কাজে নিয়োজিত উপাদানসমূহের পারিতোষিক বা আয় যোগ করলে মোট জাতীয় আয় পাওয়া যায়।
উৎপাদনের মৌলিক উপাদান হলো ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন। এই উপাদানগুলো থেকে প্রাপ্ত আয় হলো যথাক্রমে খাজনা, মজুরি, সুদ ও মুনাফা। সুতরাং, আয় পদ্ধতিতে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মোট খাজনা, মোট মজুরি, মোট সুদ ও মোট মুনাফার যোগফলকে জাতীয় আয় হিসেবে গণ্য করা হয়।
শিহাব বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ায় তার উপার্জন রেমিটেন্স হিসেবে এদেশের মোট জাতীয় আয়ের (Gross National Income বা GNI) অন্তর্ভুক্ত হবে।
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত একটি আর্থিক বছরে) কোনো দেশের নাগরিক কর্তৃক যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবা উৎপন্ন হয় তার বাজার মূল্যের সমষ্টিকে মোট জাতীয় আয় বলে। GNI হিসাব করার সময় মোট দেশজ উৎপাদনের (GDP) সাথে নিট উপাদান আয় যোগ করতে হয়। এক্ষেত্রে নিট উপাদান আয় বলতে একটি দেশের নাগরিকগণ বৈদেশিক বিনিয়োগ ও শ্রম থেকে যে আয় করে এবং বিদেশি নাগরিকগণ আলোচ্য দেশে বিনিয়োগ ও শ্রম থেকে যে আয় করে এ দু'য়ের বিয়োগফলকে বোঝায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, শিহাব বাংলাদেশের নাগরিক। সে উপার্জনের প্রয়োজনে দীর্ঘদিন ধরে বাহরাইনে থাকে। সে তার উপার্জিত অর্থের কিছু অংশ দেশে প্রেরণ করে, যা মূলত রেমিটেন্স হিসেবে আমাদের দেশের জাতীয় আয়ের সাথে যুক্ত হয়। কাজেই বলা যায়, শিহাবের প্রেরিত অর্থ এদেশের জাতীয় আয় পরিমাপ করার সময় রেমিটেন্স হিসেবে যোগ হয়।
মিসেস ব্রাউনি ব্রিটেনের নাগরিক হওয়ায় তার আয় বাংলাদেশের জিডিপি (Gross Domestic Product বা GDP)-তে অন্তর্ভুক্ত হলেও মোট জাতীয় আয়ে (Gross National Income বা GNI) অন্তর্ভুক্ত হবে না।
মোট জাতীয় আয় হলো কোনো নির্দিষ্ট সময়ে দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবার বাজার মূল্য এবং বিদেশে কর্মরত তথা প্রবাসীদের আয়ের সমষ্টি থেকে দেশে কর্মরত বিদেশিদের আয় বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট আর্থিক মূল্য। সুতরাং মোট জাতীয় আয়=কোনো নির্দিষ্ট সময়ে দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবার বাজার মূল্য + বিদেশে কর্মরত দেশীয়দের আয়- দেশে কর্মরত বিদেশিদের আয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, মিসেস ব্রাউনি ব্রিটেনের নাগরিক। তিনি বাংলাদেশে একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। তিনি তার আয়ের কিছু অংশ ব্রিটেনে পাঠান। এ কারণে তার আয় বাংলাদেশের GNI তে অন্তর্ভুক্ত হয় না
বরং ব্রিটেনের GNI তে যুক্ত হয়। অর্থাৎ তার আয় এদেশের জাতীয় আয়কে
প্রভাবিত করে না।
তবে, বিদেশিদের আয় '(বিনিয়োগ ও শ্রম থেকে আয়) বিবেচ্য দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। যা পরবর্তীতে দেশের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে দেশীয়দের আয় বৃদ্ধি করে। কাজেই বলা যায়, মিসেস ব্রাউনির আয় বাংলাদেশের জাতীয় আয়কে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত না করলেও পরোক্ষভাবে কিছুটা প্রভাবিত করে।
CCA-এর পূর্ণরূপ হলো Capital Consumption Allowance.
একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত একটি আর্থিক বছরে) কোনো দেশের অভ্যন্তরে যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্যসামগ্রী ও সেবা উৎপাদিত হয়, তার অর্থমূল্যের সমষ্টিকে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বলে।
মনে করি, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বছরে তিনটি দ্রব্য উৎপাদিত হয়। যেমন- ১০০ কুইন্টাল ধান, ১০০০টি জামা এবং ১০০০টি কলম উৎপাদিত হয়। এক্ষেত্রে, জিডিপি ১০০ কুইন্টাল ধান ধানের বাজার দাম + ১০০০টি জামা জামার বাজার দাম ১০০০টি কলম কলমের বাজার দাম।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!