১৯৫৭ সালে সমাজবিজ্ঞানী Greenwood সমাজকর্মকে পূর্ণাঙ্গ পেশা হিসেবে দাবি করেন।
পেশাদার সমাজকর্ম সমাজের সামগ্রিক ও সুষম উন্নয়নে বিশ্বাসী। অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, মানসিক এবং পরিবেশগত সকল দিকের সুষম উন্নয়ন নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে পরিকল্পিত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ টেকসই উন্নয়নে সমাজকর্ম প্রয়াসী। এক্ষেত্রে পেশাদার সমাজকর্মী তার পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতার সাহায্যে সমাজের প্রকৃত চাহিদা নির্ণয় করে পরিকল্পিত উপায়ে সমাজের সামগ্রিক ও সুষম উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখে।
উদ্দীপকে বর্ণিত সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে সমাজকর্মীদের কাজে সমাজকর্ম পেশার গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা যেমন- পেশাগত দায়িত্ব পালন, সাহায্যার্থীদের প্রতি নৈতিক দায়িত্ব পালন, প্রতিষ্ঠানের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রভৃতি দিক ফুটে উঠেছে।
সমাজকর্ম আধুনিক বিশ্বের একটি সাহায্যকারী পেশা। সেবা প্রদান করতে গিয়ে সমাজকর্মীরা যাতে আচার-আচরণগত কোনো ত্রুটি না করে এজন্য তাদের পেশাগত আচার-আচরণ এবং কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণের জন্য NASW কতিপয় নৈতিক মানদণ্ড বা নীতিমালা নির্ধারণ করেছে। এসব নীতিমালা মেনেই সমাজকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে হয়।
উদ্দীপকের সমাজকর্মীরা পেশাদার ব্যক্তি হিসেবে সমাজকর্ম পেশার জ্ঞান, দক্ষতা, নৈপুণ্য প্রদর্শন করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন। সমাজের অবহেলিত শ্রেণির একদল নারীকে সমাজের মূল স্রোতধারায় নিয়ে আসতে তারা পেশাগত সততার পরিচয় দিয়েছে। তাছাড়া সাহায্যার্থীদের স্বার্থের প্রতি খেয়াল রেখে এবং তাদের মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি দিয়ে তাদেরকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করেছে। সমাজকর্মীদের এসব কাজ বিশ্লেষণ করলে সমাজকর্ম পেশা, সাহায্যার্থী ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি নৈতিক দায়িত্ববোধ সংক্রান্ত দিকগুলো সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সমাজকর্ম পেশা অনুশীলনের ক্ষেত্রে যেসব নৈতিক মানদণ্ডের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সমস্যা সমাধান করতে হয় তার কতিপয় দিক উদ্দীপকের সমাজকর্মীদের কাজে ফুটে উঠেছে বিধায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি সঠিক।
সমাজকর্ম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিনির্ভর একটি সাহায্যকারী পেশা। এ পেশা অনুশীলনের সময় সমাজকর্মীদের NASW কর্তৃক ঘোষিত কতিপয় নৈতিক মানদন্ড মেনে চলতে হয়। এসব মানদণ্ড সমাজকর্মীদের আচার-আচরণ এবং কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে তাদেরকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে পরিচালিত করে।
উদ্দীপকের সমাজকর্মীদের কার্যাবলি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তারা সমাজকর্মের কতিপয় নৈতিক মানদণ্ড অনুসরণ করেছে। তবে উদ্দীপকে ফুটে ওঠা এসব নীতিমালা ছাড়াও সমাজকর্মীরা আরও নানা ধরনের নীতিমালা অনুসরণ করে সাহায্যার্থীদের সেবা প্রদান করে থাকে। যেমন- সহকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা, সৌজন্যবোধ, সততা ও বিশ্বস্ততা বজায় রেখে আচরণ প্রদর্শন করা ইত্যাদি। সহকর্মীদের কাছে আগত সাহায্যার্থীদের প্রতিও পেশাগত দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতে হয়। তাছাড়া পেশা অনুশীলনের ক্ষেত্রে পেশাগত স্বকীয়তা, পেশার উন্নয়ন ও জ্ঞানের পরিপূর্ণ প্রয়োগ ঘটাতে হয়। পারিশ্রমিক নির্ধারণের ক্ষেত্রে সমাজকর্মীকে সম্পূর্ণ সততা ও যৌক্তিকতা প্রদর্শন করতে হয়। সর্বোপরি, সমাজের সার্বিক কল্যাণের কথা মাথায় রেখে সমাজকর্মীদের সেবা প্রদান করতে হয়। উদ্দীপকে সমাজকর্মের উল্লিখিত নীতিমালাগুলো সুস্পষ্টভাবে উঠে আসেনি।
উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সমাজকর্মীরা সমাজকর্ম পেশার পরিপূর্ণ নীতিমালা তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে- মন্তব্যটি সঠিক।
Related Question
View Allমূল্যবোধ হলো একটি মানদণ্ড, যা মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
আর্থ-সামাজিক জীবনে শিল্পবিপ্লবের প্রভাব অপরিসীম এবং এ প্রভাবের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুটি দিকই আছে।
শিল্পবিপ্লবের প্রভাব বিবেচনায় ইতিবাচক দিকই আর্থ-সামাজিক জীবনে আধুনিক সভ্যতার দ্বার উন্মোচন করেছে। উৎপাদন প্রক্রিয়ার পরিবর্তন, যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নিত্য নতুন ভোগ্যপণ্যের আবিষ্কার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অকল্পনীয় সুযোগ সৃষ্টি করেছে। আবার শিল্পবিপ্লব সৃষ্ট শিল্পায়ন ও নগরায়ণের ফলে সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটেছে, আর্থ-সামাজিক জটিলতাসহ অনেক সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে
উক্ত সংস্থাটি অর্থাৎ উদ্দীপকে বর্ণিত 'সেভ দ্য চিলড্রেন' নামক সংস্থাটির কার্যক্রম সমাজকর্মের পরিধির আওতাভুক্ত।
সমাজকর্মের পরিধি বলতে মূলত এর ব্যবহারিক দিকের প্রয়োগক্ষেত্র বা প্রয়োগ উপযোগিতাকে বোঝানো হয়। সমাজকর্মের পরিধির মধ্যে সমাজকল্যাণ কর্মসূচি বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক নীতিকে জনগণের সেবা উপযোগী করে তোলার জন্য বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে বিশেষ বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। যেমন- শিশুদের কল্যাণে শারীরিক প্রতিবন্ধী কর্মসূচি, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ শিশুকল্যাণমূলক অনেক কর্মসূচি সমাজকর্মের পরিধির মধ্যে রয়েছে। এ সব কর্মসূচির সুষ্ঠু ও কার্যকরী বাস্তবায়নে অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে, 'সেভ দ্য চিলড্রেন' নামক সংস্থাটি শিশুনীতি বাস্তবায়নে কাজ করে এবং শিশুর বিকাশ, অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সুরক্ষার বিষয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত 'সেভ দ্য চিলড্রেন' নামক সংস্থাটির কার্যক্রম সমাজকর্মের পরিধির অন্তর্ভুক্ত।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, উদ্দীপকের সোহান তার কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাজকর্মের মূল্যবোধকে ফুটিয়ে তুলেছেন।
মূল্যবোধ হলো একটি আদর্শ বা মানদণ্ড যার ভিত্তিতে মানুষের আচরণের ভালো মন্দ বিচার করা হয়। যেসব নীতিমালা, বিশ্বাস, দর্শন, ধ্যান-ধারণা সংকল্প প্রভৃতি বিভিন্ন পেশাগত আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে সেগুলোর সমষ্টিকে পেশাগত মূল্যবোধ বলে। এ মূল্যবোধের প্রেক্ষিতেই পেশাদার কর্মীদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও আচার-আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। শিশুকল্যাণমূলক কাজে নিয়োজিত সমাজকর্মীরা সমাজের অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া শিশুদের সেবায় নিয়োজিত থাকে। শিশুদের বিকাশ ও সুরক্ষার বিষয়ে নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, 'সেভ দ্য চিলড্রেন' নামক আন্তর্জাতিক সেবামূলক, একটি সংস্থায় কাজ করেন সোহান।। আন্তর্জাতিক সেবামূলক এ সংস্থাটি শিশুকল্যাণমূলক কাজ করে। শিশুনীতি বাস্তবায়ন এবং শিশুর বিকাশ, অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সুরক্ষার বিষয়ে এটি কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এক্ষেত্রে সোহান আন্তরিকতা ও দক্ষতার সাথে কাজ করছেন। অর্থাৎ তিনি শিশুর চাহিদা, সম্পদ, সুযোগ-সুবিধা প্রভৃতি বিষয়কে মাথায় রেখে শিশুর সর্বাধিক কল্যাণ সাধনের চেষ্টা করছেন। এগুলো সমাজকর্মের মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত। আলোচনার পরিশেষে বলা যায় যে, উল্লিখিত কার্যক্রমের সাথে জড়িত থাকার মধ্য দিয়ে সোহান সমাজকর্মের মূল্যবোধকে ফুটিয়ে তুলেছেন।
ব্যক্তি সমাজকর্ম পদ্ধতি হচ্ছে সমাজকর্মের এমন একটি মৌলিক পদ্ধতি যাঁর মাধ্যমে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিকে সমস্যা সমাধানে সক্ষম করে তোলা হয়।
স্যার উইলিয়াম বিভারিজ ইংল্যান্ডের দারিদ্র্য সমস্যা মোকাবিলার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর মত দেন। তাই তার প্রদত্ত রিপোর্টটিকে কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ভিত্তি বলা হয়।
ইংল্যান্ডের দারিদ্র্য ও ভবঘুরে সমস্যা মোকাবিলায় ১৯৪২ সালে বিভারিজ রিপোর্ট প্রদান করা হয়। এ রিপোর্টে সুপারিশকৃত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিই ইংল্যান্ডে কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ভিত তৈরি করে। বিভারিজ রিপোর্টের ভিত্তিতেই ইংল্যান্ড সরকার আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে কল্যাণমূলক আইন প্রণয়নের প্রয়াস পেয়েছিল, যা কল্যাণ রাষ্ট্রের ভিত্তি তৈরি করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!