মাটিতে উপস্থিত হাইড্রোজেন আয়নের ঘনত্বের ঋণাত্মক লগারিদমকে মাটির অম্লমান বলে।
পশু ও পাখির প্রয়োজনীয় পুষ্টি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ও উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সম্পূরক খাদ্য সরবরাহ করা হয়। শুধু প্রাকৃতিক খাদ্য পশুপাখির দ্রুত বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক উৎপাদন পাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। এজন্য প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশাপাশি পশুপাখিকে বাহির থেকে অতিরিক্ত খাদ্য দিতে হয় যা সম্পূরক খাদ্য। এসব সম্পূরক খাদ্যে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান যেমন- আমিষ, শর্করা, স্নেহ, খনিজ লবণ ও ভিটামিন মাত্রানুযায়ী থাকে। ফলে পশুপাখির মাংস, ডিম ও দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। তাই পশুপাখি পালনে সম্পূরক খাদ্যের প্রয়োজন।
উদ্দীপকে একটি পুকুরে কার্প জাতীয় মাছের ১০০০টি পোনা ছাড়া হয়েছিল।
আমরা জানি, FCR = মাছকে প্রদানকৃত খাদ্য / দৈহিক বৃদ্ধি
আবার, দৈহিক বৃদ্ধি = আহরণকালীন মোট ওজন-মজুদকালীন মোট ওজন
= (৮০০ - ১০) কেজি = ৭৯০ কেজি
সুতরাং
অতএব, পুকুরে প্রয়োগকৃত সম্পূরক খাদ্যের FCR হলো ১.৫২।
মাছের আহরণকালীন মোট ওজন থেকে মজুদকালীন মোট ওজন বিয়োগ করে মাছের দৈহিক বৃদ্ধি নির্ণয় করা হয়। প্রাপ্ত দৈহিক বৃদ্ধির সাথে মজুদকালীন ওজন যোগ করে মাছের ওজন নির্ণয় করা যায়।। পোনা ছাড়ার পর পুকুরে বিদ্যমান মাছের ওজন নিম্নোক্ত উপায়ে নির্ণয় করা যেতে পারে-
পোনা পুকুরে ছাড়ার পূর্বে নির্দিষ্ট সংখ্যক (যেমন- ৫০টি) মাছের মোট ওজন নির্ণয় করে তার গড় বের করে নিতে হবে। দুই মাস পর জাল টেনে ৫০টি মাছ ধরে পুনরায় ওজন নিয়ে গড় বের করে নিতে হবে। এই দুই ওজনের পার্থক্য থেকে মাছের দৈহিক বৃদ্ধি পাওয়া যাবে। প্রাপ্ত দৈহিক বৃদ্ধির সাথে মজুদকালীন গড় ওজন যোগ করলে একটি মাছের ওজন পাওয়া যাবে। এই ওজনের সাথে পুকুরে বিদ্যমান বা মজুদকৃত মাছের সংখ্যা গুণ করে (যদি কোনো মাছ মারা যায় তবে মৃত মাছের সংখ্যা মোট মজুদকৃত মাছ থেকে বিয়োগ করে নিতে হবে) পুকুরে বিদ্যমান মাছের ওজন নির্ণয় করা যাবে।
অতএব, উল্লিখিত উপায়ে সহজেই পোনা ছাড়ার দুই মাস পর পুকুরে বিদ্যমান মাছের ওজন নির্ণয় করা যাবে।
Related Question
View Allভূ-পৃষ্ঠের নরম স্তর যেখানে ফসল জন্মায়, বন সৃষ্টি হয়, গবাদিপশু বিচরণ করে তাকে মাটি বলে।
FCR (Food Conversion Ratio) হলো প্রয়োগকৃত খাদ্য ও খাদ্য গ্রহণের ফলে জীবের দৈহিক বৃদ্ধির অনুপাত। অর্থাৎ, ১ কেজি মাছ পেতে যত কেজি খাবার খাওয়াতে হয়, তাই FCR। FCR-এর মান কম হওয়ার অর্থ অল্প পরিমাণ খাদ্য প্রয়োগ করে অধিক উৎপাদন। যদি কম খাবার খেয়েও মাছের দ্রুত বৃদ্ধি হয় তবে বুঝতে হবে খাদ্যের গুণগত মান ভালো। সুতরাং, FCR-এর মান যত কম খাদ্যের গুণগত মান তত ভালো।
বীজ থেকে আর্দ্রতা বের করে দিয়ে তাতে কতটুকু আর্দ্রতা আছে তা নির্ণয় করার পদ্ধতিকে বীজের আর্দ্রতা পরীক্ষা বলে।
সফিক সাহেবের সংগ্রহকৃত নমুনা বীজের ওজন = ১০০ গ্রাম। আর্দ্রতা বের করার পর ওজন = ৯০ গ্রাম।
সুতরাং, সফিক সাহেবের বীজের আর্দ্রতার হার
= নমুনা বীজের ওজন – নমুনা বীজ শুকানোর পর ওজন/নমুনা বীজের ওজন × ১০০
অতএব, সফিক সাহেবের বীজের আর্দ্রতার হার ছিল ১০%।
সফিক সাহেব গমের আবাদ করার জন্য বীজের আর্দ্রতা, অঙ্কুরোদগম ও সতেজতা পরীক্ষা করেন।
সফিক সাহেবের বীজ পরীক্ষার কার্যক্রমটি তার সচেতনতার পরিচয় বহন করে। এই সচেতনতার কারণেই তিনি ভালো মানের বীজ বপন করে কাঙ্ক্ষিত ফলন পান। মূল জমিতে বপনের পূর্বে তিনি বীজের আর্দ্রতা পরীক্ষা করে নেন। গমের ক্ষেত্রে বীজের আর্দ্রতা ১২-১৩% রাখা ভালো। বীজের আর্দ্রতার হার যত বেশি হবে বীজের গজানোর ক্ষমতা ও তেজ ততই হ্রাস পাবে। তাই বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা ও জীবনীশক্তি বাড়াতে উপযুক্ত আর্দ্রতায় শুকিয়ে নিতে হবে। এরপর তিনি বীজের অঙ্কুরোদগম ও সতেজতা পরীক্ষা করেন। নমুনা বীজের শতকরা যতটি বীজ গজায় তাই বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা। ভালো বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা থাকে প্রায় ৮০% এর উপরে। অপরদিকে বীজের সতেজতা হলো প্রতিকূল পরিবেশে বীজের অঙ্কুরিত হওয়ার ক্ষমতা।
বীজের সতেজতা ও অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা কাঙ্ক্ষিত মানের না হলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে না।
পরিশেষে বলা যায়, সফিক সাহেব উল্লিখিত পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে বীজের মান নির্ধারণ করে উন্নত বীজ ব্যবহার করতে সক্ষম হন এবং কাঙ্ক্ষিত ফলন পান। অর্থাৎ, তার বীজ পরীক্ষার কার্যক্রমটি যথার্থ ছিল।
প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশাপাশি মাছের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য যে অতিরিক্ত খাদ্য দেওয়া হয় তাকে সম্পূরক খাদ্য বলে।
দেহের বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকার জন্য মাছ পুকুরের প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে ফাইটোপ্লাংকটন (উদ্ভিদকণা) ও জু-প্লাংকটন (প্রাণীকণা) খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। কিন্তু, মাছ চাষের ক্ষেত্রে অধিক উৎপাদন পাওয়ার জন্য পুকুরে অধিক ঘনত্বে পোনা ছাড়া হয়। এ অবস্থায় শুধু প্রাকৃতিক খাদ্য মাছের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটাতে পারে না। এমনকি সার প্রয়োগ করে প্রাকৃতিক খাদ্য বৃদ্ধি করলেও তা যথেষ্ট হয় না।
মাছকে প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশপাশি সম্পূরক খাদ্য দিতে হয়। সম্পূরক খাদ্যে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের মাত্রা চাহিদা অনুযায়ী থাকে। যা মাছের দ্রুত দৈহিক বৃদ্ধি ঘটিয়ে অধিক মুনাফা অর্জনে সহযোগিতা করে। অর্থাৎ, মাছ চাষে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক উৎপাদন পাওয়ার জন্য প্রাকৃতিক খাদ্য যথেষ্ট নয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!