'খাণ্ডবদাহন' শব্দের অর্থ হলো- ভীষণ অগ্নিকাণ্ড।
'সিঁথির সিঁদুর মুছে গেল' বলতে হিন্দু ধর্মাবলম্বী বিবাহিত নারীদের স্বামীর মৃত্যুবরণকে বোঝানো হয়েছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীরা বিয়ে করলে তার চিহ্ন হিসেবে সিঁথিতে সিঁদুর পরে। দাম্পত্য জীবন যতদিন স্থায়ী হয়, ততদিন এই সিঁদুরও স্থায়ী হয়। যদি স্বামী মারা যায়, তাহলে স্ত্রীকে সিঁথির সিঁদুর মুছে ফেলতে হয়। হরিদাসীর স্বামী যুদ্ধে গিয়েছিল। সে শত্রুর হাতে প্রাণ দিয়েছে। ফলে হরিদাসী হয়েছে বিধবা। প্রশ্নোক্ত লাইনে 'সিঁথির সিঁদুর মুছে গেল' বলতে হরিদাসীর স্বামী হারানোকে বোঝানো হয়েছে।
উদ্দীপকের লাইনগুলোর সঙ্গে 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় অমিল রয়েছে।
১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এদেশের নিরীহ মানুষের ওপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায়। তারা জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছিল গ্রাম-গঞ্জ-শহর। অবশেষে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয় বাংলার স্বাধীনতা।
উদ্দীপকের কবিতাংশে শত্রুসেনার বর্বরোচিত অত্যাচার ও হত্যাযজ্ঞের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। একটি বধূর সংসার উজাড়ের হাহাকার থামতে না থামতেই আর এক বধূর বুক খাঁ খাঁ গোরস্তান হয়ে যায়। একজন পিতার হাত থেকে কবরের কাঁচামাটি ঝরে পড়তে না পড়তেই আরেক পিতার বুকে আশ্রয় নেওয়া সন্তানের গুলিবিদ্ধ লাশ নামাতে হয় কবরে। এই বর্ণনার সঙ্গে 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতার অমিল রয়েছে। এ কবিতায় কবি স্পষ্টভাবে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের ছবি তুলে ধরেছেন। এখানে স্বাধীনতাকে পাওয়ার জন্য এদেশের মানুষের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য সাকিনা বিবির সম্ভ্রম হারানো, হরিদাসীর সিঁথির সিঁদুর মুছে যাওয়া, ছাত্রাবাস-বস্তি উজাড় হওয়া, মুক্তিসেনাদের প্রতিরোধ ইত্যাদি বিষয় প্রতিফলিত হয়েছে এ কবিতায় এসব বর্ণনা উদ্দীপকে নেই। এখানেই উদ্দীপক ও 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতার অমিল রয়েছে।
উদ্দীপক ও 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় বাঙালির আত্মত্যাগের অনন্য দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে।
স্বাধীনতা মানুষের জন্মগত অধিকার। অথচ বাঙালি জাতিকে সেই অধিকার অর্জনে অনেক ত্যাগ করতে হয়েছে। অসংখ্য মায়ের বুক খালি হয়েছে। অনেক নারী বিধবা হয়েছে। অবশেষে বীরের রক্তে অর্জিত হয়েছে এ দেশের স্বাধীনতা।
উদ্দীপকের কবিতাংশে স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগের যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে তা 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় প্রতিফলিত এদেশের সর্বস্তরের মানুষের আত্মত্যাগের দিকটি নির্দেশ করে। এখানে একটি বধূর হাহাকার থামতে না থামতে আরেকটি বধূর বুক খাঁ খাঁ হয়ে যায়। এক পিতা নিজের হাতে পুত্রের লাশ কবরে নামানোর পরক্ষণেই আর এক পিতার বুক খালি করা সন্তানের গুলিবিদ্ধ লাশ আসে কবরস্থানে। আত্মত্যাগের এমন হৃদয়বিদারক বর্ণনা 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায়ও রয়েছে। সাকিনা বিবির কপাল ভাঙে, সিঁথির সিঁদুর মুছে যায় হরিদাসীর, এক বধূ দগ্ধ ঘরের খুঁটি ধরে দাঁড়িয়ে থাকে। এসব বর্ণনায় পাকিস্তানিদের বর্বরতা এবং বাঙালির আত্মত্যাগের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় স্বাধীনতাকে পাওয়ার জন্য বাঙালি যে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করছে তা তুলে ধরা হয়েছে। সম্ভ্রম হারানো সাকিনা বিবি, স্বামীহারা হরিদাসী, বাবা-মা হারা নবজাতক, ছাত্রাবাস-বস্তি উজাড় হওয়া, গণহত্যা, গ্রাম-শহর পুড়িয়ে দেওয়া ইত্যাদি বিষয় প্রতিফলিত হয়েছে কবিতায়। উদ্দীপকেও স্বামীহারা বধূ, সন্তানহারা পিতার বেদনাময় চিত্র উঠে এসেছে।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!