কোনো দ্রব্যের অতিরিক্ত এক একক উৎপাদনের জন্য মোট ব্যয় যতটা বাড়ে তাকে MC অর্থাৎ Marginal Cost বলে।
কোনো দ্রব্য ক্রয় করতে গিয়ে ক্রেতা দাম (P) হিসেবে যে অর্থ প্রদান করে তাই বিক্রেতা গড় আয় (AR) হিসেবে গ্রহণ করে।
যেমন, X দ্রব্যের ১ এককের দাম হিসেবে ক্রেতা বিক্রেতাকে ১০ টাকা দিলে ঐ টাকাই হয় বিক্রেতার গড় আয়। বাজার অবস্থাভেদে এ অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয় না। এজন্যই বলা হয়, যেকোনো বাজারেই P = AR হয়।
উদ্দীপক হতে MR তথা প্রান্তিক আয় রেখা অঙ্কনের জন্য প্রথমে তার ভিত্তিতে নিম্নরূপ একটি আয় সূচি তৈরি করা হলো
বিক্রয়ের পরিমাণ (Q) [এককে] | মোট আয় (TR) (টাকায়) | প্রান্তিক আয় (MR) (টাকায়) |
১ | ১০ | ১০ |
২ | ২০ | ১০ |
৩ | ৩০ | ১০ |
৪ | ৪০ | ১০ |
৫ | ৫০ | ১০ |
এখন তৈরিকৃত আয় সূচির ভিত্তিতে পাশে একটি MR রেখা অঙ্কন করা হলো।

রেখাচিত্রে ভূমি অক্ষে বিক্রয়ের পরিমাণ ও লম্ব অক্ষে প্রান্তিক আয় (MR) পরিমাপ করা হয়েছে। বিক্রেতা বিক্রয়কৃত পণ্যের ১ম একক থেকে ১০ টাকার সমান (বিন্দু a দ্বারা নির্দেশিত) প্রান্তিক আয় পায়। বিক্রয় বৃদ্ধির সাথে সাথে সে ২য়, ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম- এসব একক থেকে ১০ টাকার সমান (বিন্দু b, c, d ও e দ্বারা নির্দেশিত) প্রান্তিক আয় পায়। এখন বিক্রয়কৃত পণ্যের একক ও প্রান্তিক আয় নির্দেশক বিন্দুগুলো যুক্ত করে MR রেখাটি টানি। এটিই হলো উদ্দীপকের তথ্য ব্যবহার করে অঙ্কিত MR রেখা।
পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বিক্রয়ের পরিমাণ বৃদ্ধির সাথে সাথে মোট আয় (TR) সমহারে বৃদ্ধি পায়, এজন্য গড় আয় (AR) তথা দাম (P) স্থির ও একই থাকে। কিন্তু অপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে - বিক্রয়ের পরিমাণ বৃদ্ধির সাথে সাথে দাম তথা গড় আয় হ্রাস পেলে মোট আয় ক্রমহ্রাসমান হারে বৃদ্ধি পায়। এজন্য এ দুধরনের বাজারের মধ্যে পার্থক্যের সৃষ্টি হয়। নিচে তা রেখাচিত্রের সাহায্যে আলোচনা করা হলো।
মোট আয় (TR) রেখা ক্ষেত্রে পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বিক্রয়ের পরিমাণ বৃদ্ধির সাথে সাথে মোট আয় সম তথা স্থির হারে বৃদ্ধি পায়।
এজন্য TR রেখা 'ক' চিত্রের অনুরূপ মূল বিন্দু থেকে সরল রৈখিকভাবে ডানদিকে ঊর্ধ্বগামী হয়।
অপরদিকে অপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বিক্রয় বৃদ্ধি করতে গেলে মোট আয় ক্রমহ্রাসমান হারে বৃদ্ধি পায়। এজন্য এখানে TR রেখা খ চিত্রের অনুরূপ মূল বিন্দু থেকে ক্রমহ্রাসমান হারে ডানদিকে ঊর্ধ্বগামী হয়।

গড় আয় (AR) রেখা ক্ষেত্রে পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বিক্রয়ের পরিমাণ বৃদ্ধির সাথে গড় আয় বা দাম সর্বদা স্থির থাকে। এজন্য এ বাজারে গড় আয় তথা দাম রেখা 'গ' চিত্রের অনুরূপ AR = P রেখার মতো হয়।

এজন্য এ বাজারে গড় আয় তথা দাম রেখা 'গ' চিত্রের অনুরূপ AR = P রেখার মতো হয়। রেখাটি লম্ব অক্ষে O a দূরত্বে ভূমি অক্ষের সাথে সমান্তরাল হয়েছে। অন্যদিকে, অপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বিক্রয় বৃদ্ধির সাথে সাথে গড় আয় বা দাম কমতে থাকে বলে AR রেখা 'ঘ' চিত্রের অনুরূপ AR = P রেখার মতো হয়।
Related Question
View Allঅর্থনীতিতে সমজাতীয় দ্রব্য বা সেবা উৎপাদনকারী কোনো একক প্রতিষ্ঠানকে ফার্ম বলা হয়।
একচেটিয়া কারবারে বিবেচ্য দ্রব্যের কোনো নিকট পরিবর্তক না থাকায় বিক্রেতা ইচ্ছা অনুযায়ী দ্রব্যটির দাম নির্ধারণ করতে পারে।
একচেটিয়া কারবারে ফার্মকে দাম সৃষ্টিকারী বলা হয়। সাধারণত একচেটিয়া কারবারে বিক্রয়যোগ্য দ্রব্য কেবল একটিমাত্র ফার্ম দ্বারা উৎপাদিত হয়। তাই একচেটিয়া কারবারি দ্রব্যের যোগান বাড়িয়ে বা কমিয়ে দ্রব্যটির দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এভাবে একচেটিয়া কারবারি তার ইচ্ছা অনুযায়ী দ্রব্যের যোগান পরিবর্তন করে দামের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী প্রাথমিক অবস্থায় ফার্মটির গড় ব্যয় (AC) এর চেয়ে গড় আয় (AR) বেশি হওয়ায় অস্বাভাবিক মুনাফা অর্জিত হয়। নিচে ফার্মটির ভারসাম্য উৎপাদন ও মুনাফার পরিমাণ নির্ণয় করা হলো-

উদ্দীপকে উল্লিখিত তথ্য অনুসারে অঙ্কিত উপরের চিত্রে লক্ষ করা যায়, E বিন্দুতে MC = MR এবং MR এর ঢাল অপেক্ষা MC-এর ঢাল বেশি হয়। ফলে E বিন্দুতে ভারসাম্য অর্জিত হয়। এ অবস্থায় ভারসাম্য উৎপাদনের পরিমাণ OQ, এবং ভারসাম্য দাম OP,। OQ, পরিমাণ উৎপাদনে ফার্মটির গড় ব্যয় হয় OP।। ফলে ফার্মটির
মোট আয়, TR = OPOX OQo
= OPEQO
এবং মোট ব্যয়, TC = OP₁× OQD
= OPFQo
সুতরাং মুনাফা, π = TR – TC
= OPEQ- OPFQo
= POEFP1
অর্থাৎ, প্রাথমিক অবস্থায় ফার্মটির ভারসাম্য উৎপাদন OQ০ এবং মুনাফার পরিমাণ PoEFP, যা পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারের অস্বাভাবিক মুনাফাকে নির্দেশ করে।
বর্ষার সময় ফার্মটির গড় ব্যয় (AC)-এর চেয়ে গড় আয় (AR) কম হওয়ায় ফার্মটি ক্ষতির সম্মুখীন হবে। নিচে তা উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো-

উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, বর্ষার পানিতে ঘাস ডুবে যাওয়ায় ফার্মটির গড় ব্যয় রেখা AC থেকে উপরে AC, এ স্থানান্তরিত হয়। এতে গড় ব্যয় OP হতে বেড়ে OP₂ হয়। এ অবস্থায় গড় ব্যয় OP: তে ভারসাম্য দাম OP, এর চেয়ে বেশি হয়। ফলে বর্ষার সময় ফার্মটির উৎপাদন OQ, দাম OP, এবং গড় ব্যয় OP₂। সুতরাং-
মোট আয়, TROQX OP
=OPEQ
এবং মোট ব্যয়, TC-OQ OP
x= OPGQ
সুতরাং, মুনাফা, TR-TC
OPEQOP GQ
=-POPGE
সুতরাং ফার্মটির ক্ষতির পরিমাণ PP-GE হবে। এমতাবস্থায় ফার্মটির গড় পরিবর্তনশীল ব্যয় (AVC) যদি গড় আয়ের চেয়ে কম হয়। তবে ফার্মটি ক্ষতি স্বীকার করেও উৎপাদন চালিয়ে যাবে। আর যদি AVC > AR হয়, তবে ফার্মটি উৎপাদন বন্ধ করে দিবে। পরিশেষে বলা যায়, উল্লিখিত ফার্মটি বর্ষার সময় POP-GE পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
অর্থনীতিতে বাজার বলতে নির্দিষ্ট কোনো পণ্যকে বোঝায়, যা ক্রেতা ও বিক্রেতার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ দরকষাকষির মাধ্যমে নির্ধারিত দামে ক্রয়-বিক্রয় হয়।
পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতা একটি সমজাতীয় পণ্য একটি নির্দিষ্ট দামে অবাধে ক্রয়-বিক্রয় করে এবং প্রচলিত দামের ওপর কেউ প্রভাব বিস্তার করতে পারে না বলে একে দামগ্রহীতা বলে। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে চাহিদা ও যোগানের পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে পণ্যের দাম নির্ধারিত হয়। এই দামকে মেনে নিয়ে একটি ফার্ম বাজারের মোট যোগানের সামান্য অংশ উৎপাদন ও সরবরাহ করে। বাজারের প্রচলিত দামের ওপর এককভাবে কোনো ফার্ম প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। তাই পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে একটি ফার্মকে দামগ্রহীতা বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!