ছয় দফা দাবি উত্থাপিত হয় ১৯৬৬ সালে।
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে পরাজিত করে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে।
১৯৫৪ সালের ৮ মার্চের নির্বাচন ছিল পূর্ব বাংলায় প্রথম অবাধ ও সর্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচন। নির্বাচনে শতকরা ৩৭.১৯ ভাগ ভোটার ভোট দেয়। মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগসহ চারদলের যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯টি আসন। এছাড়া পাকিস্তান জাতীয় কংগ্রেস ২৪টি, তফসিলি ফেডারেশন ২৭টি, খেলাফতে রাব্বানী ২টি, খ্রিষ্টান ১টি, বৌদ্ধ ১টি এবং কম্যুনিস্ট পার্টি ৪টি আসন লাভ করে।
উদ্দীপকে ভাষা আন্দোলনের কথা বলা হয়েছে।
১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার দাবিতে রাজপথে নেমে সালাম, বরকত, জব্বার, রফিকসহ অনেকে শহিদ হন। এই ভাষা শহিদদের স্মরণে নির্মিত হয় শহিদ মিনার। ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আমরা প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি ভোরে খালি পায়ে হেঁটে শহিদ মিনারে গিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করি। উদ্দীপকের প্রামাণ্যচিত্রেও দেখা যায়, কিছু মানুষ খালি পায়ে একটি বেদিতে ফুল দিচ্ছে। তাদের এই ফুল দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো ৬৬ বছর আগে বাঙালির প্রাণের দাবি মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে গিয়ে আত্মত্যাগকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার এ আন্দোলনটি হলো ভাষা আন্দোলন।
ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্যসাধারণ ঘটনা। বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা ও একে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে এ আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির অধিকার হরণের চেষ্টায় লিপ্ত হয়। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর কাছ থেকে বাঙালির ওপর প্রথম আঘাতই আসে তাদের মাতৃভাষার ওপর। পুরো পাকিস্তানের মোট জনগোষ্ঠীর ৫৬ শতাংশের মুখের ভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও মাত্র ৩.২৭% জনগোষ্ঠীর ভাষা উর্দুকে তারা একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করে। বাঙালি বুদ্ধিজীবী, ছাত্র সমাজ ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর হয়। তারা বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার দাবি জানায়। ১৯৫২ সালে এই আন্দোলন সারা দেশব্যাপী ব্যাপক রূপ লাভ করে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ঢাকার রাজপথে মিছিল করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে প্রাণ দেন। তাদের প্রাণের বিনিময়ে শেষ পর্যন্ত বাংলা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পায়।
উক্ত আন্দোলন অর্থাৎ ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই বাংলাদেশ আস্তে আস্তে স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে যায়- উক্তিটি যথার্থ।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্যসাধারণ ঘটনা। পাকিস্তান রাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে এটি ছিল পূর্ব বাংলার মানুষের প্রথম প্রতিবাদ। । ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা পশ্চিম পাকিস্তানি অবাঙালি শাসকগোষ্ঠীর অবহেলা, বঞ্চনা ও শোষণের জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছিল। এ কারণে ধীরে ধীরে পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতি বাঙালিদের মোহভঙ্গ ঘটতে শুরু করে। পাকিস্তানিদের বিমাতাসুলভ আচরণের প্রথম প্রকাশ ঘটে বাংলা ভাষার প্রতি অবমাননার মাধ্যমে। বিষয়টি বাঙালির মনকে প্রবল নাড়া দিয়েছিল। ভাষা আন্দোলন বাঙালিদের কাছে নিজস্ব জাতি সৃষ্টিতে মাতৃভাষা ও সংস্কৃতির গুরুত্ব স্পষ্ট করে তোলে। এভাবে বাঙালিদের মধ্যে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বীজ বপিত হয়। সাংস্কৃতিক অধিকার আদায়ের সংগ্রাম ভাষা আন্দোলন পরবর্তীকালে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের জন্ম দেয়। এর ফলেই ষাটের দশকের স্বাধিকার আদায়ের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন সম্ভব হয়। এর হাত ধরে পর্যায়ক্রমে আসে স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতার দাবি। শেষ পর্যন্ত বাঙালি মুক্তিযুদ্ধ করে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটায়।
উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, বাঙালি জাতির মধ্যে ভাষা আন্দোলন যে ঐক্যবদ্ধ চেতনার সূচনা ঘটায় তা-ই বাংলাদেশকে ধীরে ধীরে স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
Related Question
View Allআওয়ামী মুসলিম লীগের প্রথম সভাপতি ছিলেন মওলানা ভাসানী।
মুসলিম লীগের অগণতান্ত্রিক আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে সংস্কারপন্থীরা আওয়ামী মুসলিম লীগ গড়ে তোলেন।
দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম লীগের এক অংশ যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, সংস্কারপন্থি ছিল তাদের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানি মদদপুষ্ট প্রতিক্রিয়াশীল অপর অংশ নানাভাবে দমন-নিপীড়ন চালাতে থাকে। ফলে সংস্কারবাদীরা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে স্বীকৃতি, সংবিধান প্রণয়ন, সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন ইত্যাদি দাবি নিয়ে গড়ে তোলেন আওয়ামী মুসলিম লীগ।
উদ্দীপকে সবুজনগর অঞ্চলে ছোট দলগুলো স্বাধীনতাপূর্ব ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে একতাবদ্ধ হয়।
১৯৫৪ সালের নির্বাচন ও যুক্তফ্রন্ট গঠন ছিল বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পূর্ব বাংলায় ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের শাসনের চরম ব্যর্থতার ফলে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি, নেজামে ইসলামী মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করা হয় ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর। তারা জনগণের অশা- আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৫৮ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ৩০৯টি আসনের মধ্যে ২২৩টি আসন লাভ করে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে। আর ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯টি আসন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য সবুজনগর অঞ্চলের ছোট দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হয়। এই নির্বাচন প্রক্রিয়া ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের শিক্ষারই প্রতিফলন।
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের মাধ্যমে "ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালী হলেই নির্বাচনে জয়ী হওয়া যায় না" এ বিষয়টি প্রমাণিত হয়।
১৯৫৪ সালের নির্বাচন ছিল মুসলিম লীগের অন্যায় ও বৈষম্যমূলক, ব্যর্থ শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ। বাঙালি জাতি এ নির্বাচনের মাধ্যমে মুসলিম লীগকে বুঝিয়ে দেয় যে, তারা পূর্ব বাংলার মুসলিম লীগকে আর চায় না। তারা যুক্তফ্রন্টের তরুণ নেতৃত্বের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। তারা ক্ষমতাসীন অত্যাচারীদের প্রতি ধিক্কার জানিয়েছিল তাদের ভোটের মাধ্যমে। তারা বুঝতে পারে পশ্চিম পাকিস্তানি ও তাদের এদেশীয় দোসরদের দ্বারা বাঙালির প্রকৃত মুক্ত সম্ভব নয়। ফলে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আদর্শের ভিত্তিতে পূর্ব বাংলার জনগণ স্বায়ত্তশাসনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে।
মুসলিম লীগ ক্ষমতাশীল ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল হয়েও ১৯৫৪ 'সালের নির্বাচনে পরাজিত হয়। তাই বলা যায়, ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালী হলেই নির্বাচনে জয়ী হওয়া যায় না, এ বিষয়টি ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের দ্বারা প্রমাণিত হয়।
১৯৪৮ সালের ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা দেন।
১৯৪৮ সালে করাচিতে অনুষ্ঠিত নিখিল পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলনে বাংলা ভাষা আরবি হরফে লেখার প্রস্তাব দেওয়া হয়। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ-এর প্রতিবাদ করেন। পরবর্তীতে আরবি হরফে বাংলা লেখার ষড়যন্ত্রের জাল হিসেবে বাংলা ভাষা সংস্কারের নামে ১৯৪৯ সালের মার্চে 'পূর্ব বাংলা ভাষা কমিটি' গঠন করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!