পত্রপাঠ বিদায় হচ্ছে- তৎক্ষণাৎ বিদায়।
অধর্ম করা পাপ এই বোধ থেকে কুড়িয়ে পাওয়া ডবল টিনের বাক্স আত্মসাৎ না করে বাক্সের মালিককে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে গল্পের লেখক আলোচ্য কথাটি বলেন।
কালবৈশাখী ঝড়ে আম কুড়িয়ে ফেরার পথে লেখক ও তার বন্ধু একটি ডবল টিনের বাক্স কুড়িয়ে পায়। প্রথমে সেটা ভাঙার চিন্তা করলেও নৈতিকতা ও সৎ চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তারা বাক্সটিকে মালিকের কাছে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কারণ তারা বুঝতে পেরেছিলেন এটা না করলে অধর্ম করা হবে। আর অধর্ম করা মহাপাপ এ প্রসঙ্গেই লেখক আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।
উদ্দীপকের টাকা পাওয়ার ঘটনায় 'পড়ে পাওয়া' গল্পের কিশোরদের সততার দিকটি ফুটে উঠেছে।
সততা মানুষের চরিত্রের অমূল্য সম্পদ। সৎ ব্যক্তিকে সবাই সম্মানের চোখে দেখে। মানবিকবোধ মানুষকে সৎ ও ন্যায়-নিষ্ঠার পথে পরিচালিত করে। ন্যায়বোধসম্পন্ন মানুষ মিথ্যা ও লোভ থেকে দূরে থাকে। সৎ ব্যক্তি কখনো অন্যের জিনিস আত্মসাৎ করে না।
উদ্দীপকে বড় কর্তার রুমে ঝুড়িতে টাকার বান্ডিল পেয়ে পরিচ্ছন্নকর্মী রাখালের তা ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি তুলে ধরা হয়েছে। এখানে টাকা পেয়ে রাখাল প্রথমে খুশি হলেও পরে তা বড় কর্তাকে ফেরত দেওয়ার কথা ভাবে। সে বিষয়টি অফিস সহকারী উজ্জ্বলকে জানায়। তারা দুজন টাকার বান্ডিলের কথা বড়কর্তাকে জানিয়ে যে সততার পরিচয় দিয়েছে তা 'পড়ে পাওয়া' গল্পের কথক ও বাদলের সততার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। গল্পে বাদল প্রথমে ডবল টিনের ক্যাশবাক্সটি ভেঙে ভিতরের জিনিস ভাগ করে নিতে চাইলেও পরে তা করেনি। কথকের সঙ্গে সেও ভেবেছে প্রকৃত মালিকের কাছে বাক্সটি কীভাবে ফেরত দেবে। তাই তারা অন্যদের সাথে আলোচনা করে বাক্সটি প্রকৃত মালিকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। কিশোরদের নির্লোভমানসিকতা ও সততার এই দিকটি উদ্দীপকের রাখাল ও উজ্জ্বলের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে কুটে উঠেছে।
"উদ্দীপকের রাখাল ও উজ্জ্বল যেন 'পড়ে পাওয়া' গল্পের কিশোরবৃন্দ"- মন্তব্যটি যথার্থ।
সৎ ও নির্লোভ মানুষ সবার কাছে গ্রহণীয় ও সম্মানীয় ব্যক্তি। নির্লোভ মানসিকতা মানুষকে সৎ ও মহৎ করে। ব্যক্তিজীবনে সবারই সততা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া উচিত। সততার মাধ্যমে সমাজে অনেক মহৎ কর্ম সম্পাদন করা যায়। সততা মানুষের মনে শান্তি এনে দেয়।
'পড়ে পাওয়া' গল্পে কিশোররা কুড়িয়ে পাওয়া অর্থসম্পদ নিয়ে লোভের পরিচয় না দিয়ে তা যথাযথ মালিকের কাছে ফেরত দিয়ে বয়সের তুলনায় অনেক বেশি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। এ গল্পে কিশোরদের উন্নত মানবিকবোধের প্রকাশ ঘটেছে। তাদের চারিত্রিক দৃঢ়তা, তীক্ষ্ণ বিবেচনাবোধ, সিদ্ধান্ত গ্রহণে একতা ও ঐক্য চেতনা প্রভৃতি বিষয় এ গল্পে প্রতিফলিত হয়েছে। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের কিশোরদের এ নির্লোভ মানসিকতার দিকটি উদ্দীপকেও প্রতিফলিত হয়েছে। উদ্দীপকে পরিচ্ছন্নকর্মী রাখাল টাকার বান্ডিল পেয়ে বড় কর্তা ভুলে রেখেছে ভেবে অফিস সহকারী উজ্জ্বলের কাছে বিষয়টি জানায়। উজ্জ্বলও কোনোরূপ লোভ না করে বিষয়টি বড় কর্তাকে জানিয়েছে। এখানে তারা যে সততার পরিচয় দিয়েছে তা 'পড়ে পাওয়া' গল্পের কিশোরদের সততার সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা।
'পড়ে পাওয়া' গল্পে গল্পকথক ও তার বন্ধু বাদল ডবল টিনের ক্যাশ বাক্সটি কুড়িয়ে পেয়ে কোনো লোভ করেনি। তারা ঐ বাক্সটি প্রকৃত মালিকের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। এখানে তাদের যে সততা ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় পাওয়া যায় তার সঙ্গে উদ্দীপকের পরিচ্ছন্নকর্মী রাখাল ও অফিস সহকারী উজ্জ্বলের কর্মকাণ্ডের মিল আছে। এসব দিক বিচার করে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All'পড়ে পাওয়া' রচনাটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি কিশোর গল্প।
'ওর মতো কত লোক আসবে'- বিধুর এ কথাটির অর্থ হলো লোভের বশবর্তী হয়ে বাক্সের মালিক না হয়েও অনেক লোক মালিকানা দাবি করতে আসবে।
মানুষ লোভের বশবর্তী হয়ে মিথ্যাকে সত্য করতে পারে, আর সত্যকে মিথ্যা করতে পারে। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের কিশোররা একটি টিনের বাক্স কুড়িয়ে পায় এবং সেটি প্রকৃত মালিকের হাতে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়। এই বিজ্ঞপ্তি পেয়ে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি বাক্সটির মালিকানা দাবি করে। প্রকৃতপক্ষে সে মালিক নয়- এ উপলব্ধি থেকেই বিধু কথাটি বলেছে।
উদ্দীপকের আরিফ মানিব্যাগের প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করার পদক্ষেপ নেয় এবং বিধুরা বাক্সের প্রকৃত মালিক খোঁজার পদক্ষেপ নেয়-এ দিক থেকে বিধুদের সঙ্গে উদ্দীপকের আরিফকে তুলনা করা যায়।
সততা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া প্রত্যেক মানুষের কর্তব্য। নির্লোভ মানসিকতা মানুষকে মহৎ হতে শেখায়। সততা মানুষের মনে শান্তি দেয়।
উদ্দীপকের আরিফ টেক্সি ক্যাব চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। একবার একজন আরোহীকে গন্তব্যে পৌছে দিয়ে সে বিশ্রাম নিচ্ছিল। এমন সময় গাড়ির ভেতরে একটি মানিব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে এবং ব্যাগে অনেক ডলার দেখতে পায়। কিন্তু সে লোভের বশবর্তী না হয়ে মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ছাপানোর ব্যবস্থা করে। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের বিধুরাও টাকাভর্তি একটি বাক্স পড়ে পায়। ওরা বাক্সের প্রকৃত মালিকের কাছে বাক্সটা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে বিজ্ঞপ্তি দেয়। পড়ে পাওয়া জিনিস তার প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার যে প্রচেষ্টা সেই দিক থেকে উদ্দীপকের আরিফকে বিধুদের সঙ্গে তুলনা করা যায়।
কলেবরে ক্ষুদ্র হলেও আরিফ চরিত্রটি 'পড়ে পাওয়া' গল্পের মূল সুরকেই ধারণ করে আছে। কথাটি যথার্থ।
অন্যের উপকার করার মধ্যেই প্রকৃত সুখ নিহিত। আর এজন্য প্রয়োজন সততা ও নির্লোভ মানসিকতা। নির্লোভ মানসিকতার অধিকারীরাই জীবনে জয়ী হয়।
উদ্দীপকের আরিফের মধ্যে নির্লোভ মানসিকতার ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়। কারণ আরিফ সামান্য ট্যাক্সিচালক হয়েও অন্যের টাকায় লোভ করেনি। তাই সে প্রকৃত মালিকের কাছে মানিব্যাগটি ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিল। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের বিধু, নিধু, মিঠু, বাদলরাও আরিফের মতো নির্লোভ। তারাও টাকা ভর্তি বাক্স পেয়েও লোড করেনি।
আলোচ্য গল্পের কিশোররা সৎ, বুদ্ধিমান ও দায়িত্বশীল। তাই প্রকৃত মালিককে খুঁজে পাওয়ার আগ পর্যন্ত বাক্সটিকে সযত্নে রক্ষা করেছে। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের মূল বিষয় সততা ও দায়িত্বশীলতা, যা উদ্দীপকের আরিফ চরিত্রের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়েছে। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকৃতিপ্রেমিক লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
"দুজনই হঠাৎ ধার্মিক হয়ে উঠলাম।"- কথাটি দ্বারা কিশোরদের সৎ ও নির্লোভ মানসিকতার দিকটি বোঝানো হয়েছে।
'পড়ে পাওয়া' গল্পের বাদল ও গল্পকথক একটি টিনের বাক্স কুড়িয়ে পায়। বাক্সটার মধ্যে দামি কিছু আছে বলে তারা মনে করে। তাই তারা এটি ভাঙতে চায়। কিন্তু হঠাৎ তাদের মনে আসে- 'না, বাক্সটি ভাঙা ঠিক হবে না। কারণ এই বাক্সের মালিক তো তারা নয়। যে লোকের বাক্সটি সে হয়তো বাক্সের চিন্তায় রাতে ঘুমাতে পারবে না।' এই কথা মনে আসার সঙ্গে সঙ্গে উভয়ে যেন ধার্মিক হয়ে উঠল এবং বাক্সটির প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার উপায় খুঁজতে লাগল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!