পানিভর্তি বালতিকে উল্লম্ব তলে নির্দিষ্ট বেগে ঘোরালে এর মধ্যকার পানি পড়ে যায় না, কারণ এর উপর ক্রিয়াশীল অপকেন্দ্র বল (Centrifugal force) পানির ওজনের চেয়ে বেশি বা সমান হয়।
উল্লম্ব বৃত্তাকার পথে বালতি ঘোরানোর সময়, এর সর্বোচ্চ অবস্থানে পানির ওপর দুটি বল ক্রিয়া করে: একটি হলো পানির ওজন (অভিকর্ষ বল) যা নিচের দিকে কাজ করে এবং অন্যটি হলো বৃত্তাকার গতির জন্য উৎপন্ন অপকেন্দ্র বল, যা কেন্দ্রের বিপরীত দিকে অর্থাৎ উপরের দিকে কাজ করে। যখন অপকেন্দ্র বল পানির ওজনের সমান বা তার চেয়ে বেশি হয়, তখন পানি বালতির তলা থেকে উপরের দিকে ঠেলে থাকে এবং নিচে পড়ে যায় না।
একটি ভেক্টর রাশির কার্ল (Curl) বলতে বোঝায় ওই ভেক্টর ক্ষেত্রটির ঘূর্ণন প্রবণতা। গাণিতিকভাবে, একটি ভেক্টর ক্ষেত্রের কার্ল হলো ওই ক্ষেত্রের যেকোনো বিন্দুতে ক্ষুদ্রতম লুপ বরাবর ভেক্টর ক্ষেত্রটির লাইন ইন্টিগ্রালের (Line Integral) প্রতি একক ক্ষেত্রফল সাপেক্ষে সর্বোচ্চ মান। এটি একটি ভেক্টর রাশি এবং এর দিক ঘূর্ণন অক্ষের দিক বরাবর হয়। পদার্থবিজ্ঞানে, কার্ল ইলেকট্রিক ও ম্যাগনেটিক ক্ষেত্র, তরল প্রবাহ এবং টর্ক (Torque) নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রদত্ত ভেক্টর রাশিটি হলো:
এখানে,
কার্টেসীয় স্থানাঙ্ক ব্যবস্থায় একটি ভেক্টর ক্ষেত্রের কার্ল নির্ণয়ের সূত্র হলো:
ভেক্টর ও স্কেলার ক্ষেত্র পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক ধারণা। ভেক্টর ক্যালকুলাসের বিভিন্ন অপারেটরের সাহায্যে একটি স্কেলার ক্ষেত্রকে ভেক্টর ক্ষেত্রে এবং একটি ভেক্টর ক্ষেত্রকে স্কেলার ক্ষেত্রে রূপান্তরিত করা সম্ভব। উদ্দীপকে প্রদত্ত স্কেলার ও ভেক্টর ক্ষেত্রদ্বয়ের মাধ্যমে এই রূপান্তর গাণিতিকভাবে বিশ্লেষণ করা যায়।
স্কেলার ক্ষেত্রকে ভেক্টর ক্ষেত্রে রূপান্তর (Gradient):
একটি স্কেলার ক্ষেত্র \(\phi\) কে গ্রেডিয়েন্ট (\(\nabla\phi\)) এর মাধ্যমে একটি ভেক্টর ক্ষেত্রে রূপান্তরিত করা যায়। গ্রেডিয়েন্ট একটি স্কেলার ক্ষেত্রের সর্বোচ্চ পরিবর্তনের হার এবং দিক নির্দেশ করে। উদ্দীপকে প্রদত্ত স্কেলার ক্ষেত্রটি হলো:
সুতরাং, \(\nabla\phi = (3y^2z + 3yz^2)\hat{i} + (6xyz + 3xz^2 + 6yz^3)\hat{j} + (3xy^2 + 6xyz + 9y^2z^2)\hat{k}\)
এটি একটি ভেক্টর ক্ষেত্র, যা প্রমাণ করে যে একটি স্কেলার ক্ষেত্রকে ভেক্টর ক্ষেত্রে রূপান্তর করা যায়।
ভেক্টর ক্ষেত্রকে স্কেলার ক্ষেত্রে রূপান্তর (Divergence):
একটি ভেক্টর ক্ষেত্র \(A\) কে ডাইভারজেন্স (\(\nabla \cdot A\)) এর মাধ্যমে একটি স্কেলার ক্ষেত্রে রূপান্তরিত করা যায়। ডাইভারজেন্স একটি ভেক্টর ক্ষেত্রের কোনো বিন্দুতে 'ফ্লাক্স ঘনত্ব' বা 'সোর্স-সিঙ্ক' এর পরিমাণ নির্দেশ করে। উদ্দীপকে প্রদত্ত ভেক্টর ক্ষেত্রটি হলো:
সুতরাং, \(\nabla \cdot A = 12x^2y^2 - 12x^2y^2z - 18xyz^2\)
এটি একটি স্কেলার ক্ষেত্র, যা প্রমাণ করে যে একটি ভেক্টর ক্ষেত্রকে স্কেলার ক্ষেত্রে রূপান্তর করা যায়।
উপরিউক্ত গাণিতিক বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায় যে, একটি স্কেলার ক্ষেত্রকে গ্রেডিয়েন্ট অপারেটরের সাহায্যে একটি ভেক্টর ক্ষেত্রে এবং একটি ভেক্টর ক্ষেত্রকে ডাইভারজেন্স অপারেটরের সাহায্যে একটি স্কেলার ক্ষেত্রে রূপান্তরিত করা সম্ভব। ভেক্টর ক্যালকুলাসের এই দুটি মৌলিক অপারেটর পদার্থবিজ্ঞান এবং প্রকৌশল বিদ্যার বিভিন্ন শাখায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় সুনির্দিষ্টভাবে জানতে হলে কোন বা কোন ধরনের পরিমাপের প্রয়োজন হয়। পদার্থের যে সব ভৌত বৈশিষ্ট্য পরিমাপ করা যায় তাদেরকে রাশি (quantity) বলে। যেমন, দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, আয়তন, বেগ, কাজ ইত্যাদি প্রত্যেকে এক একটি রাশি। পদার্থবিজ্ঞানের অন্তর্গত যে কোন রাশিকে ভৌত (physical) রাশি বলে।
কিছু কিছু ভৌত রাশিকে শুধুমাত্র মান দ্বারা সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা যায়। আবার অনেক ভৌত রাশি রয়েছে যাদেরকে সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করার জন্য মান ও দিক উভয়ই প্রয়োজন হয়। তাই ধর্ম বা বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে আমরা দুই ভাগে বিভক্ত করতে পারি ; যথা—
(ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি (Scalar quantity)।
(খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বা সদিক রাশি (Vector quantity)।
(ক) স্কেলার রাশি :
যে সব ভৌত রাশির শুধু মান আছে, কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলে। যেমন দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, জনসংখ্যা, তাপমাত্রা, তাপ, বৈদ্যুতিক বিভব, দ্রুতি, কাজ ইত্যাদি কেলার বা অদিক রাশি।
(খ) ভেক্টর রাশি :
যে সব ভৌত রাশির মান এবং দিক দুই-ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলে। যেমন সরণ, বেগ, ত্বরণ, মন্দন, বল, ওজন ইত্যাদি ভেক্টর বা দিক রাশি।
১.২ ভেক্টর রাশির নির্দেশনা
Representation of a vector
কোন একটি ভেক্টর রাশিকে দুভাবে প্রকাশ করা হয়ে থাকে, যথা- (১) অক্ষর দ্বারা এবং (২) সরলরেখা দ্বারা।
১। অক্ষর দ্বারা কোন একটি ভেক্টর রাশিকে চারভাবে প্রকাশ করা হয়, যথা-
(ক) কোন অক্ষরের উপর তীর চিহ্ন দ্বারা রাশিটির ভেক্টর রূপ এবং এর দুই পাশের দুটি খাড়া রেখা দ্বারা এর মান নির্দেশ করা হয়। সাধারণভাবে শুধু অক্ষর দ্বারাও রাশিটির মান নির্দেশ করা হয়।
A অক্ষরের ভেক্টর রূপ Ā এবং মান রূপ | A | বা A
(খ) কোন অক্ষরের উপর রেখা চিহ্ন দ্বারা রাশিটির ভেক্টর রূপ এবং এর দুই পাশের দুটি খাড়া রেখ দ্বারা এর মান নির্দেশ করা হয়।
A অক্ষরের ভেক্টর রূপ Ā এবং মান রূপ । A
(গ) কোন অক্ষরের নিচে রেখা চিহ্ন দ্বারা রাশিটির ভেক্টর রূপ এবং এর দুই পাশের দুটি খাড়া রেখ দ্বারা এর মান নির্দেশ করা হয়।
A অক্ষরের ভেক্টর রূপ এবং মান রূপ | |
(ঘ) মোটা হরফের অক্ষর দিয়ে ভেক্টর রাশি প্রকাশ করা হয়। যেমন A অক্ষরের ভেক্টর রূপ এবং এর মান A ভেক্টর রাশি নির্দেশের ক্ষেত্রে (ক)-এ ব্যবহৃত চিহ্নই শ্রেয়। তাই এই বই-এ আমরা এই পদ্ধতিই ব্যবহার করব।
২। সরলরেখা দ্বারা ভেক্টর রাশি নির্দেশ করতে হলে রাশিটির দিকে বা সমান্তরালে একটি সরলরেখা অংকন করে সরলরেখাটির শেষ প্রান্তে একটি তীর চিহ্ন দ্বারা রাশিটির দিক এবং কোন স্কেলে উত্ত সরলরেখাটির দৈর্ঘ্য দ্বারা এর মান নির্দেশ করা হয়। এ পদ্ধতিকে জ্যামিতিক উপায়ে ভেক্টরের নির্দেশনাও বলে।
চিত্র :১.১
মনে করি, একটি ভেক্টর রাশির মান 5 এবং এর দিক পূর্ব দিক। একে সরলরেখা দ্বারা প্রকাশ করতে হবে। এখন AC একটি সরলরেখা পূর্ব- পশ্চিম দিক বরাবর অংকন করে AC সরলরেখা হতে সুবিধামত দৈর্ঘ্যকে একক ধরে এর 5 গুণ দৈর্ঘ্য AB কেটে নিই এবং AB-এর শেষ প্রান্তে পূর্ব দিকে তীর চিহ্ন যুক্ত করি [চিত্র ১:১]। এই তীর চিহ্নিত সরলরেখাই ভেক্টর রাশিটি নির্দেশ করবে। ভেক্টর রাশি নির্দেশী সরলরেখার তীর চিহ্নিত প্রান্ত B-কে শীর্ষবিন্দু বা অন্ত বিন্দু এবং অপর প্রান্ত A-কে আদিবিন্দু বা মূলবিন্দু বা পাদবিন্দু বলে।
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!