সমাজ থেকে কুসংস্কার ও অনৈসলামিক কর্মকাণ্ড দূর করে সঠিক ধর্মীয় বিধান প্রচলনের উদ্দেশ্য হাজি শরীয়তউল্লাহ পরিচালিত আন্দোলনকে ফরায়েজি আন্দোলন বলে।
দরিদ্র কৃষকদের উচ্চ হারের সুদ মওকুফ করে তাদের ঋণ পরিশোধের সুযোগ করে দিতে 'ঋণ সালিশি বোর্ড' গঠন করা হয়। ১৯৩৭ সালে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ঋণ সালিশি বোর্ড গঠন করেন। কারণ তিনি জানতেন কৃষক কুলের মুক্তি ব্যতীত বাংলার উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই এ বোর্ড গঠন করে তিনি কৃষকদের ঋণের দায়ভার থেকে মুক্ত করেন।
উদ্দীপকের সাথে আমার পঠিত ১৯৬৬ সালের ছয় দফা কর্মসূচির সাদৃশ্য আছে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ঐতিহাসিক ৬ দফা একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। এর মাধ্যমে বাঙালির স্বাধিকারের দাবি একটি পরিণতি পায় এবং তাদেরকে স্বাধীনতার পথে চালিত করে। উদ্দীপকটি এই অসাধারণ কর্মসূচিরই ইঙ্গিত বহন করে। উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' রাষ্ট্রের স্বাধীনতার পর থেকেই এর একটি অঞ্চলের জনগণ শাসকগোষ্ঠীর কাছ থেকে বিভিন্ন বৈষম্যের শিকার হয়। ফলে তাদের মনে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তারা বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলে। এক পর্যায়ে তাদের জনপ্রিয় নেতা শাসকগোষ্ঠীর কাছে কিছু দাবি পেশ করেন। বঙ্গবন্ধুর উত্থাপিত ৬ দফা কর্মসূচির ক্ষেত্রে উদ্দীপকের এ ঘটনারই প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী পূর্ব বাংলার (পূর্ব পাকিস্তানের) জনসাধারণের ওপর নানা অত্যাচার, অবিচার, শোষণ, বণ্যনা ও নির্যাতন শুরু করে। তারা বেসামরিক ও সামরিক চাকরি, কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, অর্থনীতিসহ সব ক্ষেত্রে পাহাড়সম বৈষম্য সৃষ্টি করে। বাঙালিরা একসময় এ বৈষম্য অবসানের দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠে। তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধিকারের দাবিকে সামনে রেখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে এক রাজনৈতিক সম্মেলনে ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি পেশ করেন। এককথায় এটি ছিল বাঙালির নায্য অধিকার আদায়ের সনদ। সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের শাসকদের কাছে উত্থাপিত কর্মসূচিটি মূলত ৬ দফা দাবিরই প্রতিচ্ছবি।
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কর্মসূচি অর্থাৎ ছয় দফা কর্মসূচি ছিল বাঙালির মুক্তির সনদ।
পাকিস্তানের স্বৈরশাসকদের শোষণ, নির্যাতন ও অবিচারের বিরুদ্ধে ছয় দফা ছিল একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। শোষিত বাঙালিদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ই ছিল এ আন্দোলনের লক্ষ্য। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর ছয় দফার মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা প্রথম লিখিতভাবে স্বায়ত্তশাসনের দাবি পেশ করে। পাকিস্তান সরকার এ দাবিকে কোনো গুরুত্ব দেয়নি। তবে এ অঞ্চলের জনগণ ক্রমেই ছয় দফার প্রতি সহানুভূতিশীল হতে থাকে। এর ফলে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত যা ছিল স্বায়ত্তশাসনের দাবি, ১৯৭১ সালে এসে তা স্বাধীনতার দাবিতে পরিণত হয়। ছয় দফা দাবিতে উজ্জীবিত হয়েই বাঙালি শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এর ধারাবাহিকতায়ই আমরা চূড়ান্ত মুক্তি বা স্বাধীনতা অর্জন করতে পেরেছিলাম।
পরিশেষে বলা যায়, ছয় দফাকেন্দ্রিক আন্দোলনের পথ ধরেই জন্ম নিয়েছে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। এ কারণেই এ আন্দোলন বা কর্মসূচিকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয়।
Related Question
View Allবাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের দ্বারা অর্থাৎ পরোক্ষ পদ্ধতিতে নির্বাচিত হন।
শাসন বিভাগ বলতে বোঝায় সরকারের সে বিভাগকে যে বিভাগ দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাসনকার্য পরিচালনা করে।
সরকারের তিনটি বিভাগের মধ্যে শাসন বিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শাসন বিভাগই সরকারের আসল চালিকা শক্তি। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীদের নিয়ে শাসন বিভাগ গঠিত হয়। শাসন বিভাগের কাজ হলো আইনসভা কর্তৃক প্রণীত আইনের বাস্তবায়ন করা।
উদ্দীপকের নির্বাচনের সাথে আমার পঠিত ১৯৭০ সালের নির্বাচনের সাদৃশ্য বৃয়েছে।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান স্বাধীন হলেও দেশটির জাতীয় পরিষদের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭০ সালের ৭ ও ৮ ডিসেম্বর। উত্ত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানে সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ জাতীয় পরিষদের মোট ৩১৩টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। অন্যদিকে, পশ্চিম পাকিস্তানের ৪টি প্রদেশের মধ্যে পিপিপি মোট ৮৩টি আসন পায়। আওয়ামী লীগের এ বিজয় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতা হারানোর ভীতি ছড়িয়ে দেয়। ফলে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকে তারা নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাদের ষড়যন্ত্র বুঝতে পেরে স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ঘ' রাষ্ট্রের স্বাধীনতার দুই যুগ পর প্রথম সাধারণ নির্বাচনে একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভকরে। কিন্তু সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় বিজয়ী দলের নেতা স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। যা আমার পঠিত ১৯৭০ সালের নির্বাচনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নির্বাচন অর্থাৎ ১৯৭০ সালের নির্বাচন বস্তুতপক্ষে পাকিস্তান রাষ্ট্রটির রাজনৈতিক মৃত্যু ঘটায়।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালির স্বতন্ত্র জাতীয়তাবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অভূতপূর্ব বিজয় পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীর সুদীর্ঘ ২৫ বছরের অত্যাচার, নিপীড়ন ও শোষণের হাত থেকে বাঙালির স্বাধিকার এবং মুক্তি লাভের দাবিরই বহিঃপ্রকাশ।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে টালবাহানা শুরু করে। জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করেও তা আবার অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়। এর প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২ মার্চ ঢাকায় এবং ৩ মার্চ সমগ্র পূর্ব বাংলায় হরতালের ডাক দেন। ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে তার ভাষেেণ তিনি স্বাধীনতার ডাক দেন। ১৯৭১ সালের ২ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানে অসহযোগ আন্দোলন চলে। ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকাসহ অন্যান্য শহরগুলোতে হাজার হাজার নিরীহ, নিরস্ত্র বাঙালিকে নির্মমভাবে হত্যা করে। ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এ ঘোষণার সাথে সাথে বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। উপরের আলোচনা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নির্বাচন অর্থাৎ ১৯৭০ সালের নির্বাচন প্রকৃতই পাকিস্তান রাষ্ট্রের রাজনৈতিক মৃত্যু ঘটায়।
ছয়দফা হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ঘোষিত বাঙালির অধিকার আদায়ের ৬টি দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি।
যুক্তফ্রন্ট বলতে ১৯৫৪ সালে অনুষ্ঠিত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদের সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী একটি রাজনৈতিক জোটকে বোঝায়।
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে পরাজিত করার লক্ষ্যে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করে। এরই প্রেক্ষিতে ১৯৫৩ সালের নভেম্বর মাসে ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে 'যুক্তফ্রন্ট' জোট গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এ জোট চারটি রাজনৈতিক দল নিয়ে গঠিত হয়। দলগুলো হলো- আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, নেজাম-ই-ইসলামি পার্টি এবং গণতন্ত্রী দল। নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল নৌকা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!